ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজ

    টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

    একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

    উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    ডেস্ক নিউজ:

    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০শে এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এ মামলায় যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন আসামি। এর মধ্যে তিনজন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।

    পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

    প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে গুলি করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

    বি/ এ

  • মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    বিডি নিউজ:

    সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সেই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    মাসদার হোসেন মামলার জন্য খ্যাত এই সাবেক বিচারকের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে আসে। প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী মাসদার হোসেন টাকা আত্মসাতের এই বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকারও করে নিয়েছেন। ‘পেশাগত অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের’ এই অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্নটি’ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল জরুরি সভায় বসে। সভায় অভিযোগের প্রাথমিক উপাদান ও প্রামাণিক ভিত্তি বিদ্যমান থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে মাসদার হোসেনের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসদার হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তিনি এবং তার সহকর্মী বিচারকরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার বিষয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। বিচার বিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর আইন পেশায় ফেরেন মাসদার হোসেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • চৌগাছায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    • উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      যশোরের চৌগাছায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ।

      ধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের কপোতাক্ষ ব্রিজঘাট এলাকা থেকে থেকে পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি উদ্ধার করা হয়
    • পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে কয়েকজন ব্রিজের নিচে গাছের ছায়ায় বসেছিলেন। এ সময় লোহার একটি বস্তু তাদের চোখে পড়ে। পরে তারা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করেন। বস্তুটি মর্টারশেল বুঝতে পেরে তারা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

      স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্ত সরকার বলেন, ‘আমি ব্রিজঘাট এলাকায় পারবাজারে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করি। দুপুরের দিকে আমরা কয়েকজন বসে কথা বলছিলাম। হঠাৎ লোহার এই জিনিসটি আমাদের চোখে পড়ে। আমরা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করি। পুলিশ খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

    • উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আমিন শিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করেছে। এটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাটির ভেতরে থাকায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।

    • এ/ আর

  • ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

     

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই পত্র পাঠানো হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

    চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ওই পাঁচটি দেশ আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের নিতে হবে।

    একইসঙ্গে এই ধরনের অন্যায় তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বানও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    বিডি ডেস্ক নিউজ:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

     

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

    একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি) ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

    ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে- তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।

    প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে

  • চৌগাছায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

    ডেস্ক নিউজঃ

    চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস/২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’–এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুঃ আহসানুল মিজান রুমি। আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আর এম ও ডাঃ সুরাইয়া পারভিন, শিশু কনসাল্টটেন্ট ডাঃ সুমাইয়া জেসমিন, ডেন্টাল কনসাল্টটেন্ট ডাঃ তানজিম সাবিহা, পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম, নাসিং সুপারভাইজার ঝুমুর হালদার, মফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ,প্রেসক্লাব চৌগাছার সাংবাদিক বৃন্দ।

    ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ। একই বছরের জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন। সেই সঙ্গে গৃহীত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় এই আইন। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে নির্ধারিত হয় দিনটি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়, আর সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।দিবসটি ঘিরে প্রতিবছর সংস্থাটি এমন একটি স্বাস্থ্য ইস্যু বেছে নেয়, যা বিশেষ করে সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় দিবসটি।

    এম কে

    ০১৭১৩৯১৮৬৫৯

  • টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    নিউজ ডেস্ক :

    একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।

    শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।

    এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।

    অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।

    হলুদ রঙের আপনার শিশুকে টিকা দিন ব্যানার

    সরকারি টিকা

    সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
    • পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।
    • ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়।
    • পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়
    • এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না।
    • ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেয়া হয়।
    • র‍্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে।

    এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।

    সরকারি এসব টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র , কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে সরকার এর খরচ বহন করবে।

    এর বাইরে নিজের সুবিধামতো সময়ে টিকা নিতে গেলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে একটা খরচ দিতে হতে পারে।

    একটি শিশু হা করে ক্যাপসুল খাচ্ছে

    বেসরকারি টিকা

    বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে।

    • রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া যেতে পারে।
    • ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা ব্যবহার হয়।
    • হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।
    • টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    • ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
    • এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
    • এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
    • মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।
    • ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।

    টিকা ভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।

    শিশুর পায়ে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে, শিশু কাঁদছে।

    কখন কোন টিকা দিতে হবে

    শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অনেক পরিবার শুধু সরকারি টিকাগুলো দিয়ে থাকে আবার অনেকে সরকারি বেসরকারি দুই ধরনের টিকাই দেয়।

    অনেকেই প্রশ্ন করেন, সব টিকা কি নেওয়া জরুরি, নাকি সরকারি টিকাই যথেষ্ট?।

    এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ জানান, “সরকারি টিকা কিছু রোগ থেকে শিশুর জীবন রক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি আর বেসরকারি টিকা আরো অন্যান্য কিছু রোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে”।

    তবে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস

    বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

    ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

    বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

    সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারি বিসিজির এক ডোজ টিকা নিতে হয়। এটার আর কোন বাড়তি ডোজ নেই।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টিকার একটি করে মোট তিনটি ডোজ দেয়া হয়। পোলিওর ওপিভি দু’ফোঁটা করে মুখে এবং বাকি দুই ডোজ আইপিভি টিকা শিশুর উরুর মাংসপেশিতে দেয়া হয়।

    এর চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ শিশুর ১০ সপ্তাহ বয়সে তিনটি টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। আরো চার সপ্তাহ পর শিশুর ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পোলিওর তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। ১৮তম সপ্তাহে দেয়া হয় পিসিভির তৃতীয় ডোজ।

    মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পরে বেসরকারি মেনিনজোকোক্কাল টিকা দেয়া যেতে পারে। এর তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হবে।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রোটা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেয়া যেতে পারে। দুটি ডোজের মাঝখানে চার সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে হবে।

    শিশুর ছয় মাস বয়সে বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রথম ডোজ। এর চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ। তারপর প্রতি বছর ফ্লু এর মৌসুমের আগে এক ডোজ করে টিকা দেয়া যেতে পারে।

    নয় মাস থেকে দুই বছর

    শিশুর জন্মের নয় মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি এমআর টিকা দিতে হয় সেইসাথে পোলিওর চতুর্থ ডোজের বুস্টার টিকা নিতে হবে। এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয় ১৫ মাস বয়সে।

    যদি সরকারি এমআর টিকা দেয়া না যায়, তাহলে শিশুর এক বছর বয়সে চাইলে বেসরকারি এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এর চার থেকে ছয় বছর পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।

    এমএমআর টিকা প্রাপ্ত বয়স্করাও নিতে পারেন।

    শিশুর এক বছর বয়সের পর বেসরকারি হেপাটাইটিস এ টিকার প্রথম ডোজ এবং এর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া যেতে পারে।

    শিশুর ১৫ মাস বয়সে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে সরকারি টিটি টিকা এবং সরকারি এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয়। এই ডোজটি প্রথম টিকার কার্যকারিতা আরও বাড়ায়।

    শিশুর এক থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে যেকোন সময় জলবসন্ত প্রতিরোধে দুই ডোজ বেসরকারি ভারিসেলা টিকা নেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজ নেয়ার চার থেকে আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে শিশুর যদি ইতিমধ্যেই জলবসন্ত হয়ে যায় তাহলে টিকার দরকার নেই।

    শিশুর ১৮ মাস বয়সে দেয়া হয় সরকারি ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস) বুস্টার ডোজ এবং সরকারি ওপিভি (পোলিও) বুস্টার ডোজ।

    মূলত প্যান্টাভেলেন্ট ও পোলিওর তিন ডোজ নেওয়ার পরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই দুটো বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেসরকারি ইটিইসি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এরপর এক সপ্তাহ অন্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর বেসরকারি টাইফয়েডের প্রথম ডোজ টিকা। এরপর প্রতি তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হয়।

    কিশোরীর বাহুতে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে। সে মুখ ফিরিয়ে আছে।

    পাঁচ থেকে ১৬ বছর

    পাঁচ বছর বয়সে শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস) টিকা দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ে শিশুর সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

    ১০ বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুদের তিন ডোজে বেসরকারি এইচপিভি টিকা দেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজের পর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ, এরও ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    পরে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের সরকারি টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়। কিশোরীদের এই টিকা দেয়া হলে সে এবং তার ভবিষ্যত প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকতে পারে।

    অন্যদিকে শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর এবং মা হওয়ার আগে পাঁচ ডোজ সরকারি টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, এর ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এক বছর পর চতুর্থ ডোজ, আরো এক বছর পর পঞ্চম ডোজ টিকা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদের মতে, প্রতিটি টিকা সময়সূচি মেনে পূর্ণ ডোজ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে আসতে পারে।এজন্য বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। বুস্টার ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরায় সক্রিয় বা শক্তিশালী করে।

    ডোজ মিস হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, ফলে যেকোনো সময় ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    তাই কোনো কারণে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকাটি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

    তিনি বলেন, “টিকা দেয়ার একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখানে জরুরি হলো কোন টিকা সময়ের আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু কোন ডোজ দেয়ার সময় পেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেরিতে হলেও দেয়া যাবে”।

    টিকাদান কর্মসূচি।

    টিকা দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রচলিত ভুল ধারণা

    অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভয় পোষণ করেন বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

    যেমন অনেকেই টিকা দিতে ভয় পান কারণ টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো টিকা নেয়ার পর শিশুর হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, শিশু ছটফট করে কান্নাকাটি করতে পারে, টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য ফুলে বা লাল হয়ে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    এসব লক্ষণ সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত জ্বর বা খিঁচুনি হলে, শিশু শকে চলে গেলে, শরীরের কোন অঙ্গ অবশ হয়ে গেলে, টিকা দেয়ার স্থানে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    আরেকটি ধারণা রয়েছে যে একসাথে এতো টিকা দিলে ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীর সময়সূচি মেনে সব টিকা সামলাতে সক্ষম।

    অনেকেই মনে করেন সরকারি টিকাই যথেষ্ট, বাকি দরকার নেই। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, চাইলে যে কেউ যথাযথ সময়সূচি মেনে বেসরকারি টিকা নিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

    অনেকে আবার মনে করেন, আমার বাচ্চা বাসায় থাকে, টিকার দরকার নেই। তবে বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে থেকে আসে না, পরিবার, অতিথি, এমনকি বাতাসেও ছড়াতে পারে।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ, একটি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে পুরো সমাজই সুরক্ষিত থাকে।

    সেক্ষেত্রে শিশুর টিকাদান শুধু কোন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব।

    কারণ একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তার নিজের সুরক্ষা নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম এবং সমাজ সুরক্ষিত থাকে। তাই একটি শিশুর টিকা নেওয়া মানে অন্যদেরও রক্ষা করা।

  • লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    নিউজ ডেস্ক :
    ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
    এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা।
    এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ফার্নেস অয়েল মূলত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি/বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে এবং শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহক ব্যবহার করে।