ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস

    বিডিনিউজ ডেক্স : দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও আশপাশের এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে আরও ঘনীভূত হতে পারে।

    এদিকে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ বিস্তৃত হয়ে পৌঁছে গেছে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আগামীকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

    বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

  • রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ:  ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার কী পরিণতি হতে পারে, তারই যেন আভাস দিয়ে গেল সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প না হলেও কম্পনের ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে গতকালের ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ঘনিয়ে আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, গতকালেরটি তার মধ্যে একটি। পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূতত্ত্ব ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

    তারা বলছেন, ঢাকার এত কাছে এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প এর আগে কখনো ঘটেনি। কম্পনের স্থায়িত্ব আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বেশি হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল। ভূমিকম্পে প্রাণক্ষয় কমাতে মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেব জোর দিতে হবে।

    আরো জানেত পড়ুন

    রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নগর সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশিরভাগই নির্মাণ হয়েছে নিয়ম-কানুন না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্প ঢাকা থেকে খুব কাছে ও কয়েক দশকের মধ্যে মাত্রা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকা এবং পুরান ঢাকা। তিনি বলেন, ‘এখনকার বিল্ডিংগুলো কোড মেনে চললেও রাজউকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রচুর বিল্ডিং হয়ে গেছে যেগুলোর ৯০ শতাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর কী হবে, যদি এরকম ভূমিকম্প রিপিট (পুনরাবৃত্তি) করতে থাকে?’

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার এক যৌথ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান প্লেটে এবং এই প্লেট উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। সিলেটের উত্তরে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট, যেটি দক্ষিণমুখী। এই দুই প্লেট একটি অন্যটিকে চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পূর্ব দিকে মিয়ানমার সাবপ্লেটেও সাবডাক্ট হয়েছে, উত্তরে ডাউকি ফল্ট আছে এবং পূর্বে মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট, মধুপুর ফল্ট থাকায় ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে কাছেই ছিল, ফলে অনুভূত হয়েছে অনেক বেশি। চট্টগ্রামের রাঙামাটি বা খাগড়াছড়িতে যদি ৭ মাত্রার ওপরেও ভূমিকম্প হয়, তাহলে আমরা ঢাকায় এতটা ঝাঁকুনি অনুভব করি না। তবে এই ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল আর ৫-৭ সেকেন্ড বেশি হলেই ঢাকার অনেক ভবনই ধসে পড়ত। এ ধরনের ভূমিকম্পের সম্মুখীন ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আগে কখনো হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে হতে পারে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মাত্র এক পয়েন্ট বেশি; কিন্তু বিষয়টি এমন না। ৫ মাত্রার চেয়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পনের প্রবণতা ১০ গুণ বেশি। এখানে প্রতিটি ভগ্নাংশ মানে এর তীব্রতা তত গুণ বেশি। ফলে এই ভূমিকম্পের প্রবণতা বা তীব্রতা অন্তত ১০০ কিলোমিটার রেডিয়াসে থাকে।’

    ঢাকা ও এর আশপাশে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থাকার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, তবে মাত্রা ছিল কম। এর মধ্যে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ৪ দশমিক ৫ মাত্রা, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪ দশমিক ৮ মাত্রা এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

    ঐতিহাসিকভাবেও এ অঞ্চল বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী। ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ (৮ দশমিক ০ মাত্রা) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এ ছাড়া ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প (৭ দশমিক ৬ মাত্রা) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভূমিকম্প হলে হতাহতের সংখ্যাও ভিন্ন হতে পারে: সকালে হলে মৃত্যু হতে পারে ২ দশমিক ১ লাখ থেকে ৩ দশমিক ১ লাখ মানুষের; বিকেলে হলে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ লাখ থেকে ৪ লাখ হতে পারে এবং রাতে হলে নিহতের সংখ্যা ৩ দশমিক ২ লাখ থেকে ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের লিনিয়ামেন্টে (ডাউকি ফল্ট লাইন) ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ হাজার ৯৩৫টি থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ভবন (১ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণও হবে ভয়াবহ। এতে প্রধান সড়কগুলোর ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শহরের ভেতরের সড়কগুলোর ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ ধসে যেতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো, প্রধান সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শহরের সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসাবে, পরিবহন খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে ৮৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ২৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ২১ দশমিক ৫ লাখের বেশি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৫ দশমিক ১৪ লাখ কনক্রিটের স্থাপনা। সমীক্ষায় ৩ হাজার ২৫২টি ভবন পরীক্ষা করে ৪২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে এবং আরও দেড় লাখ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা বহু পুরোনো ভবন এবং বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা ছয়তলার বেশি উঁচু ভবনগুলোই হবে প্রধান শিকার।

    বিশেষজ্ঞরা ঢাকার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তাগুলো বড় বাধা। অনেক ভবনই ভূমিকম্প সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি, যা এগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটির গঠনগত দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। দেশের বড় অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটির ওপর গঠিত। শক্তিশালী কম্পনে এই মাটি তরলীকৃত হয়ে যেতে পারে, যা ভবন ধসের কারণ হতে পারে।

    জাপান বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা, জরুরি মহড়া এবং কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ঢাকা শহরের ২১ লাখ ভবন এখনই পরীক্ষা করা দরকার। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না, রাজউককে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানান দেবে, সব ভবন চেক করে সার্টিফিকেট দিয়ে দেবে যে বিল্ডিংগুলো বিল্ডিং কোড অনুযায়ী হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের (গতকাল) ভূমিকম্পটা বলতে পারি একটা ফোরশক। অর্থাৎ বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। ১৯৩০ সালের পর এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি; কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা রয়েছে।’

    বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের অনেক বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভবন দেবে গেছে, ফাটল হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে ভবন, হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ২-৩ লাখ মানুষ হতাহত হবে, ঢাকা শহরের ৩৫ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়ার শঙ্কা আছে, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

    সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে জানিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আজকের (গতকাল) এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। আমরা সরকারকে বারবার বলে আসছি ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়ার বিকল্প নেই। সরকার ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে, সেখান থেকে দুর্নীতি করতে পারে; কিন্তু যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’

    আরো পড়ুন

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালবেলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরে জনসাধারণের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও খোলা জায়গার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যখন হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে একটু নিরাপদ বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন অধিকাংশ এলাকায়ই সেই খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঢাকা শহর এমনভাবে তৈরি ও সম্প্রসারিত হয়েছে যে, অধিকাংশ এলাকাতেই ফাঁকা জায়গা নেই। যেগুলো ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে কনভার্ট (পরিবর্তিত) হয়ে গেছে। ফলে ভূমিকম্প বা বড় কোনো বিপর্যয়ের সময় যেখানে গিয়ে মানুষ দাঁড়াতে পারবে, তেমন জায়গা অধিকাংশ এলাকায়ই অনুপস্থিত।’

    এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘ঢাকায় শত শত খোলা জায়গা তৈরি করা দরকার ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্যোগ না থাকায় বেসরকারি উদ্যোগে কখনোই এটা করা হবে না। এই উদাসীনতা দুর্যোগের সময় ঢাকাবাসীর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খেলার মাঠগুলোকে শুধু খেলাধুলা নয়, দুর্যোগেও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

    বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেও আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০০৭ সাল থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে ঢাকার আশপাশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এটাই সর্বোচ্চ। সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পর আফটার শক বা পরাঘাতের শঙ্কা থাকে, যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি।’

    বি/এ

    (বিস্তারিত…)

  • ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ডেস্ক নিউজ:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। গত ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হয়নি। যতদিন ইনসাফ কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। এদেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এবার সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলার বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

    সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে, তারা রাজনীতি নিয়ে ব্যাবসা করে। ক্ষমতায় বসলে আর সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ করে না। এমনকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করার দৃষ্টান্তও রয়েছে। আমরা রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই। যে রাজনীতি হবে গরিবের জন্য, সমতার জন্য, মুক্তির জন্য, ইসলামের জন্য। চিকিৎসা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তন দরকার। হাসপাতালের সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটা রাজনীতিক দল নির্বাচন হওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছে তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। কেউ যদি আবার নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চান, আবার কেন্দ্র দখল করে ম্যাকানিজম করতে চান, তাহলে তাদের অবস্থাও ভয়াবহ হবে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এখনো শেখ হাসিনাকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনি হাসিনার রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর হবে না। একইসঙ্গে খুনি হাসিনার দোসরদের বাংলাদেশে রাজনীতি করবে তারাই, যারা বাংলাদেশপন্থি।
    ডাকসুর ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। আমরা যখন যৌক্তিক আন্দোলন করেছিলাম খুনি হাসিনা আমাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পরও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়, সেসময়ও সহযোগিতা করেছেন মসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি জুলাইয়ে যোদ্ধা। সত্যকে বিজয় করার জন্য, স্বপ্নের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা করার জন্য আমাদের মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ভাইকে দরকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

    ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরমান হোসেন, যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের, যশোর-১ (শার্শা) আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান ও যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।

    সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা উপজেলা আমির আব্দুল আলিম। বক্তব্য দেন যশোর জেলা পশ্চিমের মো. ইসমাইল হোসেন। সঞ্চালনা করেন ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম ও শিবির নেতা খালিদ বিন খলিল।
    বি/এ

  • বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    ডেস্ক নিউজ:

    যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এবং ২৪-এর অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান ও চলমান রাষ্ট্র সংস্কারে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে যাচ্ছে। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও বৈশ্বিক সহবস্থানে বিশ্বাসী। তবে যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

    নির্বাচন আনন্দ ও উৎসবমুখর করতে সবাইকে মিলিতভাবে চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করবো।

    এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন দরকার। ফ্যাসিস্ট আমলে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে ১০টি মিশনে সেনা সদস্যরা কাজ করছেন। বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশও আমরা, কাতার আমাদের থেকে জনবল নেবে, এসব আমাদের গৌরবের স্বীকৃতি।

    ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দিনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙালি জনগণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন।

    তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সমন্বিত অভিযান আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের অতুলনীয় ত্যাগের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    ড. ইউনূস শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদেরও স্মরণ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে বাঙালি সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা-সাধারণ মানুষ যার যা ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। এভাবে যুদ্ধটি একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধে রূপ নেয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাংগঠনিক রূপ দেয়ার জন্য একপর্যায়ে যুদ্ধরত সব বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে একীভূত করা হয় এবং সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে অসামান্য সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালিত হয়।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার ও নাবিকদের সমন্বয়ে গঠিত নৌকমান্ডো দল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নদীবন্দরে খাদ্য ও রসদবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘কিলোফ্লাইট’ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলা চালায়। এসব দুঃসাহসী অভিযান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণ সমাজকে সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মেধাভিত্তিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে দেশগঠনে অবদান রাখতে সক্ষম করতে হবে। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত ও জীবিত ছাত্র-জনতার প্রতি আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকব যেন তাদের দেয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি।
    বি/এ

  • বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে

    বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে

    ডেস্ক নিউজঃ

    কতবার যে ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই, তবে এবার সেই ভারতকে ধরাশায়ী করে স্বপ্ন সত্যি করার পথে বাংলাদেশ। রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে ভারতকে বিদায় করে ফাইনালে আকবর আলীর দল।অবশ্য সেমিফাইনালে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৯৪ রানের বিশাল পুঁজি নিয়েও জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে সুপার ওভার পর্যন্ত। তবে সেখানে আর ভারতকে পাত্তাই দেননি রিপন মণ্ডলরা।

    এম কে

  • ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ভূমিকম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক

    ডেস্ক নিউজ :

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন রাজধানীর বংশালে ভবনের রেলিং ধসে নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদীতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মঈনুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

    নারায়ণগঞ্জে শিশুর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমকে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    নরসিংদীতে শিশু ও বৃদ্ধ নিহত

    নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
    নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার শোক

    ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন।
    বি/এ

  • ঢাকার ভুমিকম্পে এটম বোমার মতো আঘাত করেছে

    ঢাকার ভুমিকম্পে এটম বোমার মতো আঘাত করেছে

    ডেস্ক নিউজ :

    দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী।

    এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির।

    তিনি বলেন, এক ভয়াবহ হিরোসিমা, নাগাসাকিতে ফেলা একটি বোমা যে শক্তি রিলিজ করে, আজকের ভূমিকম্প সেই মাত্রার শক্তি রিলিজ করেছে।

    আজকের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৩ জন ঢাকায়। আর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ আহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্টসংখ্যা জানা যায়নি। এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

    শুক্রবার দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে নেমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বার্তায় আরো বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

    বি/এ

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

     

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সোয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপে ছয় বিভাগের আবেদন চলছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এতে আবেদন করেছেন ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থী।স্কুল সাপ্লাই

     

    এদিকে, অনলাইনে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এরপর আর আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র।

     

     

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ১০ হাজার ২১৯টি পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শূন্য এসব পদের বিপরীতে গত ৮ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব পদে সফলভাবে আবেদন ও ফি জমা দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার প্রার্থী।

     

    আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এরপর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের ফি পরিশোধের সময় থাকবে। আবেদনের আরও একদিন সময় থাকায় এবং অনেকে ফি জমা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকায় আবেদনকারীর এ সংখ্যা আরও এক লাখ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

     

    জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এসএম মাহবুব আলম বলেন, ৫ লাখ ৭৬ হাজারের মতো প্রার্থী আবেদন করে ফি জমা দিয়েছেন। অনেকে এমন আছেন, যারা আবেদন করেছেন কিন্তু এখনো ফি জমা দেননি। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে আরও প্রায় এক লাখ আবেদন বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মোট আবেদন পৌনে ৭ লাখ অথবা সাড়ে ৭ লাখ হতে পারে।

     

    গত ৫ নভেম্বর প্রথম ধাপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপের বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর। এরপর ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ দুই বিভাগে শূন্যপদ রয়েছে ৪ হাজার ১৬৬টি।

  • গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু: অ্যাটর্নি জেনারেল

    ডেস্ক নিউজ:

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবে না। এ রকম একটি গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু বলে আমরা মনে করি।’

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রুটিপূর্ণ বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়টি আজ বাতিল করা হয়েছে। আগের রায়টি লিখার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও তার সহযোগী যারা ছিলেন, তারা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধ করেছেন বলে আমরা শুনানিতে বলেছি।

    নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের নির্বাচন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে বাতিল ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন।

    আপিল বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    বহুল আলোচিত এই আপিলে বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

    পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।

    ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে, তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

    ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

    তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তি আবেদন করেন।

    সে রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন। পরবর্তী ১০ দিন এই আপিল শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।
    সুত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি, আমাদের বিপ্লব গত বছর শেষ হয়ে গেছে, তাহলে ভুল করছি। এটি চলমান আছে। এ বিপ্লব ততদিন চলমান থাকবে, যতদিন না জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন হবে।’

    বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সফলতা ও ব্যর্থতা : ৭ নভেম্বর থেকে ৫ আগস্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো হতে হবে। ভোট সময়মতো না হলে যে অস্থিরতা তৈরি হবে, সেটাকে দিল্লি কাজে লাগাবে। এজন্য নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হতে হবে।

    ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযান না চালানোয় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দৃশ্যমান। আওয়ামী দোসরদের তৎপরতার কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট শঙ্কা আছে। এর একটি বড় কারণ হলো, জুলাই বিপ্লবকে অনেকেই বিপ্লব বলতে চাই না। এমনকি বর্তমান সরকারও বিপ্লবকে বিপ্লব বলতে দ্বিধাবোধ করে। তা না হলে তারা বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করত। এ সরকার বিপ্লবকে ধারণ করতে পারেনি বলেই শুদ্ধি অভিযান চালাতে পারেনি।

    জুলাই বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘গুলি খেতে যাওয়ার সময় কেউ মন্ত্রী হতে চাইনি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আবু সাঈদ হতে চেয়েছে বলেই বিপ্লব সফল হয়েছে। যারা এ বিপ্লব করেছে তারাই বাংলাদেশকে সঠিক পথে আনতে পারবে। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকো। তোমরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আজহারুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ প্রমুখ।

    আর আই খান