ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    ডেস্ক নিউজ :

     

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আইটি গেট সংলগ্ন স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এতে গুলিতে স্কুল শিক্ষক ইমাদুল হক (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বছিতলা নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। এর আগে তিনি ইউসুফ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

    এছাড়া যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মামুন শেখসহ (৪৫) আরো দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অন্যরা হলেন—বেল্লাল খান (৫৫) ও মিজানুর রহমান (৫৮)। তাদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মামুন শেখ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অফিসে বসেছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ অফিস লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ও চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ইমাদুল হক, মামুন, বিল্লাল ও মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন৷ পরে তাদেরকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাদুল হক মারা যান। তিনি এশার নামাজের পর ওই বিএনপির অফিসে ওয়াজ মাহফিলের টাকা কালেকশন করার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    কেএমপির এসি (মিডিয়া) মো. শফিকুল ইসলাম জানান—সন্ত্রাসীদের গুলিতে ও বোমা হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানতে পেরেছি ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ কাজ করছে।

    সুত্র: দৈনিক আমার দেশ

  • নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেছেন, জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে দেশের নেতৃত্ব। নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা বা বানচালের পাঁয়তারা করে কোনো লাভ হবে না।

    তিনি বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, আর জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন।

    শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজার ও শেহালা এলাকায় বিএনপির দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের পর টানা দুটি উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল। এ সময় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা জানে, অরাজকতা বা ষড়যন্ত্র করে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। তারা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায়। তিনি আরও বলেন, যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে, তারা আসলে জনগণকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

    বৈঠকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের একটি দফা ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি ৩১ দফা সুফল সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরে তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শরিফ উদ্দিন জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরের মানুষের পাশে আছেন। তিনি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচনে তিনি দৌলতপুরবাসীর আস্থা অর্জন করবেন।

    উঠান বৈঠক শেষে শরিফ উদ্দিন জুয়েল এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি থেকে যদি মনোনয়ন পাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে দৌলতপুরকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।

    স্থানীয় তরুণরা বলেন, শরিফ উদ্দিন জুয়েলের মতো নেতৃত্বই দেশের প্রয়োজন যিনি রাজনীতিকে জনগণের সেবার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে জানেন।

    বৈঠকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    বিডিটাইমস/এআর/নিই/

  • কুষ্টিয়ায় রেলসেতুর নিচে নারীর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

    কুষ্টিয়ায় রেলসেতুর নিচে নারীর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রেলসেতুর নিচ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। পুলিশ ও তাঁর স্বজনদের ধারণা, ধর্ষণের পর ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

    শনিবার (১নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন রেলসেতুর নিচ থেকে ৫২ বছর বয়সী ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত নারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী ও সন্তান রয়েছে।

    জানা গেছে, এদিন ৬টার দিকে রেলসেতুর নিচে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে ওই নারীর ছেলে এসে তাঁর লাশ শনাক্ত করে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহত নারীর ছেলে বলেন, ‘মা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার সকালে গোয়ালন্দ রেলস্টেশনে মাকে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর সেখানে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে লাশের সন্ধান পেয়ে কুমারখালী এসে মাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ। সে জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

    কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা নারীর মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে এ বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি।’ সূত্রঃ দৈনিক আজকের পত্রিকা

    বিডি/ এআর/ নিইআর/

  • চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের জিআই পণ্য খেজুর গুড়ের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কা’টার (গাছ তোলা ও চাচ দেয়া) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
    রোববার (২নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুরে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার।
    এসময় এসিল্যান্ড প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আনোযারুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, সমবায় কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    হায়াতপুর গ্রামের গাছি আব্দুর রহমান গাজী গাছ তোলা ও চাচ দেয়া কাজ করেন। তার সাথে গাছি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন গাছি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
    ২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার উদ্যোগে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে খেজুরগুড়ের মেলা, গাছিদের প্রশিক্ষণ, গাছি সমাবেশ, গাছিদের সমবায় সমিতি গঠন, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই বছর যশোরের বিখ্যাত খেজুর গুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে খেজুরগুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় সরকার। সে বছর থেকে প্রতি বছর ১লা মাঘ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাটি খেজুর গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও মেলা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা প্রশসন সূত্রে জানা গেছে।
    বিডিটাইমস/এআর/নিইআর/
  • মহেশপুর পৌরসভার সামনে ময়লার ভাগাড়

    মহেশপুর পৌরসভার সামনে ময়লার ভাগাড়

    বিডিনিউজ ডেস্ক:

     

    মহেশপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনেই মহেশপুর বাইপাস সড়কের পাশে কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার ৯ ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে এনে এই স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ, সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাস সড়কের পাশে রাস্তা ঘেঁষে জমে আছে নানান ধরনের বর্জ্য পচা সবজি, পলিথিন, নোংরা কাপড়, হাসপাতালের ফেলা আবর্জনাসহ নানা কিছু। এসব ময়লা থেকে নির্গত দুর্গন্ধে হাঁটাচলা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

    পথচারী আহসান হাবীব বলেন, এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে নাক মুখ চেপে ধরতে হয়। অনেক সময় বমি চলে আসে। একটু বাতাস হলেই দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

    অটোরিকশা চালক আব্দুল্লাহর অভিযোগ, ময়লার ভাগাড়ে সারাদিন কুকুর, বিড়াল, কাকের ভিড় লেগে থাকে। ওরা ময়লা ছড়িয়ে দেয় রাস্তায়। রাতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টির সময় তো রাস্তা পুরো নোংরা পানিতে ভরে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে বর্জ্য ফেলে আসছে। আগে এটি নদীর পাড়ের ফাঁকা জায়গা ছিল, এখন তা পুরোপুরি ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে। নোংরা পানি মিশে যাচ্ছে নদের পানিতেও, ফলে নদী দূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার বলেন, আমরা এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যাই। প্রতিদিনই নাক চেপে দৌঁড়ে পার হতে হয়। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়।

    পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবসতির এত কাছাকাছি বর্জ্য ফেলা পরিবেশের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। এতে শুধু দুর্গন্ধই নয়, নানা রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

    মহেশপুর পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। এ কারণে আপাতত ওই স্থানে বর্জ্য রাখা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে একটি স্থায়ী জায়গা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। খুব শিগগিরই বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে এই সমস্যা সমাধান করা হবে।

    স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের পাশে এই বর্জ্য ভাগাড় মহেশপুরের চেহারাকে নোংরা করে দিচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বর্জ্য অপসারণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

     

    সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে ভয়াবহ সহিংসতার পর রাস্তায় পড়ে আছে শত শত লাশ। কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই।

    শহরটি গত সপ্তাহে দখল করে নেয় আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এ সময় তারা কমপক্ষে ১,৫০০ মানুষকে হত্যা করে। শুধু একটি হাসপাতালে নিহত হয় প্রায় ৪৬০ জন।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরটিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপদের মধ্যে আছে। অনেকেই নিহত হয়েছেন, আহতরা খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন। শহর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে পালিয়ে গেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

    হায়াত নামে এক নারী জানান, সাতজন আরএসএফ সদস্য তাদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় অসংখ্য লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি, আহতদের কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।’

    আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হুসেইন বলেন, এল-ফাশেরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে আছে, তাদের কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই। অন্যদিকে, তাভিলা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তারা আশঙ্কা করছেন, যারা রওনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই পথেই মারা গেছে।

    জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, দারফুরে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

    সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস বলেন, দারফুরে এ হত্যাযজ্ঞ অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

    লুইস আরও জানান, মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রেও রক্তাক্ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে—বিশাল এলাকায় লালচে রঙে ঢেকে আছে মাটি এবং মৃতদেহের মতো ছায়া ফুটে উঠছে।

    সহিংসতায় জর্জরিত এল-ফাশের শহরে এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল

    ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল

    বিডিনিউজ ডেস্ক :

     

    নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচনের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আমরা রমজান মাসের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’

    গণভোটের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোট নির্বাচন আগে হবে না পরে হবে—বিষয়টি এখনো কমিশনের আলোচনায় আসেনি। সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কেও আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’

    আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আমরা সেই সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি।’

    আশা প্রকাশ করে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে চাই।’

    নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শুরু হবে এবং কারাবন্দী ভোটারদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সুত্র আমার দেশ

  • চৌগাছায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০০মিটারের মধ্যে থাকবেনা বিড়ি-সিগারেটের দোকান, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনতে পারবেনা শিক্ষার্থীরা

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও শাহিনুর আক্তার।
    সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে উপজেলার কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মদরাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না। এছাড়া উপজেলার সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০ মিটারের মধ্যে কোন বিড়ি সিগারেটের দোকান থাকবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পত্র দিয়ে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। এছাড়াও প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছয়মাসে কমপক্ষে একবার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়।
    সভায় বক্তব্য রাখেন চৌগাছা পৌর প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোর্শেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ওয়াজেদ আলী, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিজিবি শাহাজাদপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মাহবুবুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান হবি, এসএম মোমিনুর রহমান, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, নূরুল কদর, চৌগাছা সদর ইউপির প্রশাসক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ, চৌগাছা সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল হামিদ কেনেডি, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের প্রভাষক শামিমুর রহমান প্রমুখ।
    উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা ছারা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, হাজী মর্ত্তুজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান, মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের প্রভাষক এনামুল কাদির টুল্লুসহ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।
    ডেইলি বিডিটি/এআর/নিইআর/
  • দীর্ঘ আন্দোলনে বিজয় বেসরকারি শিক্ষকরা

    দীর্ঘ আন্দোলনে বিজয় বেসরকারি শিক্ষকরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈশ্বিক মানদণ্ডে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পর সেই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এরপর শিক্ষকরা চার দফায় আন্দোলনে নামলেও প্রতিবারই রাজনৈতিক রং লাগার কারণে দাবিগুলো পূরণ হয়নি।

    তবে টানা দেড় দশকের লড়াইয়ের পর প্রথমবারের মতো আংশিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু বেতন-ভাতার সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক বিজয়। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য জাতীয়করণের আন্দোলন।

    শিক্ষক নেতাদের মতে, আগের সব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল সরকারপন্থি শিক্ষকদের বিরোধিতা। কখনো ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাপ লাগিয়ে আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়। এবারও একটি রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠন বিরোধিতা করলেও আন্দোলনে রাজনৈতিক রং লাগেনি, ফলে সাফল্য এসেছে।

    তারা জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, ডাকসুর সাবেক ভিপি, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাত্মতা প্রকাশ করে। শেষদিকে বিএনপির প্রকাশ্য সমর্থনে সরকার চাপের মুখে পড়ে এবং শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা দুই ধাপে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে।

    শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য প্রথম বড় আন্দোলন শুরু হয় ২০১৩ সালে। তখন শিক্ষকরা ঢাকায় টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তবে সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে প্রচার করে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ১১ দিন অবস্থান ধর্মঘট চালিয়েও একই পরিণতি হয়।

    ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষক আন্দোলন হয়। বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও অন্যান্য সংগঠনের আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ১৭ দিন চলা এই আন্দোলনের সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নানা মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতা কাওসার আলীকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। পরে শিক্ষক সমাজের চাপে তাকে ফেরত দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে তার এমপিও স্থগিত করা হয় এবং তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এ প্রসঙ্গে কাওসার আলী বলেন, ‘আমাদের সেই আন্দোলনেরই ফসল এবার পেয়েছেন শিক্ষকরা। তখন আমাকে যে পরিমাণ হয়রানি করা হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। সরকারের চেয়ে বেশি দোষী ছিলেন সরকারপন্থি শিক্ষকরা। তাদের বিরোধিতার কারণেই আগের বড় বড় আন্দোলন সফল হয়নি।’

    চলমান আন্দোলনে ১১ দিন কর্মসূচি পালনের পর সরকার বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি বড় রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠন এর বিরোধিতা করে। তারা আন্দোলনকারীদের আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি হিসেবে আখ্যা দেয়। ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজপথে যারা কর্মসূচি পালন করছেন তারা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। তাদের নেতা একজন আওয়ামী দোসর, তার প্রমাণ রয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে।’

    বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি। আমরা বলেছি, ১৫ শতাংশ নয়, আমরা জাতীয়করণের পক্ষে। যারা খুচরা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন তারা আওয়ামী লীগ-জামায়াতের হয়ে মাঠে নেমেছেন।’ তবে তার এমন বক্তব্যের পর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী তাকে দল থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।

    আন্দোলনের সার্বিক দিক নিয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আমাদের পাশে ছিল, তাই আমরা সফল হয়েছি। বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠনগুলোর বিরোধিতা দুঃখজনক। অতীতেও তাদের বিরোধিতার কারণে অনেক আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।’

    টানা আন্দোলনের মুখে সরকার বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সুবিধাটি দুই ধাপে কার্যকর হবে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার ও আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় শর্তে সম্মতিপত্র জারি করে।

    সম্মতিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ করা হবে। সরকারের এমন ঘোষণায় শিক্ষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাদের দাবি যৌক্তিক হলেও দেশের অর্থনীতি এখনই ২০ শতাংশ ভাড়া ভাতা দেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই সরকার বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষকরা নবউদ্যমে শিক্ষাদানে ফিরে যাবেন।

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি শিক্ষা খাতের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পেয়েছেন। আমরা জানি, তারা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য।’ তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ৬ শিক্ষক

    আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ৬ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়াসহ তিন দাবিতে অনশন করছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অনশনে এরইমধ্যে ছয়জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আদনান হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। এরআগে, সোমবার চারজনের অসুস্থ হওয়ার খবর জানান এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী।

    ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপনের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার শিক্ষা ভবন অভিমুখে শিক্ষকরা থালা-বাটি নিয়ে ভুখা মিছিল করেন।

    অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় এই সম্মতি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

    এদিকে, দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয়।