গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল। তবে এ সময়ে আশার আলো দেখাচ্ছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর নিউমার্কেটের পাশের পুকুরে ফোটা লাল পদ্মফুল।
ক্যাটাগরি লাইফস্টাইল
-

মাছের বাজারে চেরি ব্লসম
টকটকে লাল ট্রেনটা অন্তত দুবার ঘুরে গেল আমাদের সামনে দিয়ে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমাদের একটা আইসক্রিম খাওয়া শেষ। আরেকটি খাব? এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গরমও লাগছে। আইসক্রিমের লাইনে বিরাট লম্বা ভিড়। ট্রেনে চড়ার লাইনেও। কোনটা ধরব? টরন্টো শহরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কোনো কিছু করার মতো অর্বাচীন আছে কে?
তৃতীয়বারও ট্রেনটা একদম যাত্রীভর্তি হয়ে আমাদের স্টপেজে এল, আর এখান থেকে কোনো যাত্রীই নিল না। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে আছে এক জেন-জি। ‘আমি কী করব’-জাতীয় ভাব ধরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে সে।
আমার বন্ধু ফারজানা শাহরিনের জেদ চেপে গেল। ‘তুই এইখানে দাঁড়া, কাহিনি কী দেখে আসি,’ বলে আমি তার পিছু নেওয়ার আগেই জ্যাকেট, ব্যাগসহ ছুট দিলাম সামনে। ওখান থেকে ফোনে জানাল আসল কাহিনি। ওটা প্রথম স্টপেজ। সেখান থেকেই একদম ভরে পরের স্টপেজগুলোয় আসছে। এটাও কি সম্ভব! ওরা সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী তুলবে না! মতিঝিল কিংবা ফার্মগেটের কন্ডাক্টর হলে এমনটা করতে পারত! আর আমাদের এত কষ্ট করে ট্রেনে ওঠার কী দরকার! চেরি তো আমরা দেখেই ফেলেছি। আর ট্রেনে কি জীবনে উঠিসনি। আমরা তো ট্রেনে যমুনা ব্রিজ পার করেছি, কতবার আমার মা-খালারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার করেছে…আর কানাডার এই খেলনা ট্রেন… ‘দৌড় দিয়ে এই স্টপে আয়। ট্রেন প্রায় চলে এসেছে,’ শাহরিনের শীতল কণ্ঠ শুনে আমি আর তর্ক করার সাহস পেলাম না।
গিয়ে শুনি ওখানেও এতক্ষণ ছিল এক জেন-জি। এই স্টপেজেই ট্রেন ভরে গেলে পরের স্টপেজে মানুষ উঠবে কীভাবে, এ নিয়ে তার হেলদোল নেই। যাক, বুদ্ধি করে প্রথম স্টপেজে এসে ট্রেন ধরব আর পরের স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে ‘কানাডিয়ান নাইসনেস’ দেখিয়ে বেশ একটা সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকাব, একটু মাথা নেড়ে ‘সরি’ বলার ভঙ্গি করব, এসব ভেবে ভালো লাগছে। এর মধ্যে জেন-জির শিফট শেষ হলো। এলেন বুমার আর মিলেনিয়ালের মাঝামাঝি এক নারী। ট্রেন এলে কয়েকটা সিট ভরলে তিনি রীতিমতো দরজা আগলে ‘নো, নো, নেক্সট ট্রেন’ করতে থাকলেন।
আমরা এসেছি টরন্টোর হাই পার্কে চেরি ব্লসম দেখার মৌসুমে। সকালে-বিকেলে জ্যাকেট লাগে, আবার দুপুরে কটকটে রোদ। কানাডার আবহাওয়ার মুড সুইংয়ের সময় এটা। অবশ্য তৈরি হয়েই এসেছি আমরা। জ্যাকেটের নিচে পছন্দের পোশাক, ব্যাকপ্যাকে পানি।
লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা ট্রেন। বড়জোর ১৫-২০ জন বসতে পারে। লাল লাল বেঞ্চ। ট্রেন বলাও যায় না বোধ হয় একে। ট্র্যাক নেই কোনো। চারপাশ খোলা। টরন্টো শহরের মধ্যে হাই পার্কটা এত বিশাল, ট্রেনে চড়ে একবারে ঘুরে দেখার জন্যই রয়েছে এটা। এটুকু ট্রেনে ওঠার জন্য এত পাগল হওয়ার কী আছে! এ তো শিশুপার্কের ট্রেনের চেয়েও ছোট! আমরা আন্তনগর ভেজে খেয়ে ফেলার দেশের মানুষ। আমার বন্ধুর এই ট্রেন ব্যাকুলতার কোনো ব্যাখ্যা নেই।
তবে সিটি বাজিয়ে সত্যিই যখন ট্রেনটা চলা শুরু করল, মুখে লাগল হাই পার্কের ঘাস-মাটি আর দূর থেকে আসা কোনো ফুলের মিষ্টি গন্ধ—আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হাসলাম যার অর্থ, ‘ইটস টোটালি ওয়ার্থ ইট।’ পাল্টা হাসিতে সে-ও বুঝিয়ে দিল, ‘জানতাম।’ স্কুলজীবনের বন্ধুদের তো আর সব মুখে বলে বোঝাতে হয় না!
দুই-তিন স্টপেজ পরেই আমরা নেমে গেলাম। ছবি তুলতে হবে তো! ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বড় ক্যামেরা, ট্রাইপড, বিরাট বিরাট লাইট নিয়ে ছবি তুলতে এসেছে মানুষ। বড় গাছগুলোর সামনে বেজায় ভিড়। আমরা ধারেকাছেই যেতে পারছি না। এরপর ঠিক করলাম আমাদের তো গাছ দরকার নেই। লাগবে চেরি ফুলের বড়সড় কয়েকটা ছড়া। একটু ফাঁকা দেখে ছোট একটা গাছ খুঁজে বের করে জ্যাকেট-ব্যাগ মাটিতে রেখে ছবি তোলা শুরু করলাম। পরে দেখি অনেকেই এই বাঙালি বুদ্ধি খাটানো শুরু করল। ছোট গাছের সামনেও ভিড় জমতে থাকল। আমরা ফোন চেক করলাম। অন্তত পাঁচটা ছবি হয়েছে না পোস্ট করার মতো! আবার চোখাচোখিতে যোগাযোগ, ‘ডান! চল এবার খেতে যাই।’
ওগো বিদেশিনী/ তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার শিউলি নাও
চেরি ফুলের ছবি পোস্ট করেছি আর এই কথাটুকু কেউ মন্তব্যে লেখেনি, আজ পর্যন্ত তা ঘটেনি। এই গান আমার আগে শোনা হয়নি। ব্যাপারটা কী। একবার ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম। লাল মেমসাহেব সিনেমার গান। প্রয়াত শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া গান। অভিনয়ে অলিভিয়া ও ওয়াসিম।
পুরো গানটা শুনে বুঝলাম চতুর্থ লাইনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ওগো বিদেশিনী
তোমার চেরি ফুল দাও
আমার শিউলি নাও
দু’জনে প্রেমে হই ঋণীচেরি ফুল নিয়ে এত সুন্দর গান কি জাপানেও হয়েছে? আমি হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ি। একদল আছে না, যাদের বিদেশের সবকিছুই ভালো লাগে। আরেক দল যা-ই দেখে মুখ বাঁকা করে বলে এ তো আমাদের দেশেই আরও ভালো পাওয়া যায়!
শিউলির সঙ্গে চেরির অদলবদল? নাহ আমি মনে হয় রাজি হতাম না। এক, চেরি ফুলের স্থায়িত্ব খুব কম। মার্চ-এপ্রিল-মে বলা হলেও গোটা বছরে বড়জোর সপ্তাহ চারেক থাকে এই ফুল। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমি আসলে আজ অবধি বুঝিইনি এর হালকা গোলাপি থেকে সাদার মাঝের নরম, খুব সূক্ষ্ম সৌন্দর্য। আমরা তো আগুনরঙা ফুলের দেশের মানুষ—কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জবা, রক্তকরবী, জারুল। আমাদের হালকা রঙের ফুলগুলোও তীব্র সুগন্ধে জানান দেয় তার উপস্থিতি—শিউলি, বকুল, হাসনাহেনা, কামিনী। অত নরম, পলকা, ‘এসেই বলে যাই যাই’ চেরিতে আমাদের পোষায় নাকি!

ও মা এ তো মাছের বাজার! ছবি তোলার জন্য রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইছবি: রুহিনা তাসকিন
তবে কানাডার সরকার কিন্তু এই গানের কপিরাইট নিয়ে অনুবাদ করে কাজে লাগাতে পারে। কানাডার চেরি ফুল সব জাপানের উপহার দেওয়া। বন্ধুত্ব-সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে। এর বদলে কানাডাও কিন্তু গান গেয়ে ধন্যবান জানাতে পারে।
কানাডার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গাইছেন—ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/ আমার মেপল নাও।
দারুণ না ব্যাপারটা!শহরের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা
‘ছয় টাকা ভাড়া। যাবেন?’
‘ওঠেন।’
রিকশাওয়ালার এই কথা শুনলেই আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করত। তার মানে আমরা বড় খালার বাসায় যাচ্ছি। আর খালার বাসায় যাওয়ার পথেই পড়বে সেই রাস্তাটা। জানি, তা-ও জিজ্ঞেস করতাম, ‘আমরা কি ওই রাস্তাটা দিয়ে যাব?’ অনেক পরে জেনেছি, ওই রাস্তাটা হলো শহীদ মিনার থেকে নীলক্ষেত। লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়ায় ভরা। আমি আজও এই দুই ফুলের পার্থক্য মনে রাখতে পারি না।শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকলেই আমরা রিকশার হুড ফেলে দেব। আম্মা শক্ত করে ধরে রাখবেন চার-পাঁচ বছরের আমাকে। আমাদের মাথার ওপর ছাউনি হয়ে থাকবে অজস্র লাল কৃষ্ণচূড়া কিংবা রাধাচূড়া। আমার মাথার ওপর টুপটুপ করে ঝরবে কিছু পাপড়ি। আম্মা সাবধানে সরিয়ে দিয়ে আমার ক্লিপ দিয়ে চুল ঠিক করে দেবেন।
এরপর ওই রাস্তাই একরকম আমার ঘরবাড়ি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। কতবার হেঁটে, রিকশায় পার করেছি শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তাটা। তখন আর তা সবচেয়ে সুন্দর মনে হতো না। জ্যাম পড়লে বিরক্ত হতাম, ক্লাস ধরার তাড়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি। আম্মাকেও কোনো দিন বলিনি, মা চলো তোমাকে হুডখোলা রিকশায় আমার ক্যাম্পাস দেখিয়ে আনি।প্রতিবছর কানাডায় আমি আর শাহরিন চেরি ব্লসম দেখতে যাই। ওর ডাকনাম তিসি, আর আমার শামা। সময় অনুযায়ী চেরি ফুলের রং বুঝে একই রকম কাপড় পরে তিসি আর শামা চেরি ব্লসম দেখতে যাবেই। এ বছর চেরি ব্লসমের সময়টা আমি কানাডায় নেই। তিসি অনেকবার টেক্সট দিয়েছে, ‘তুই আসলি না, আমরা চেরি দেখতে যাব না?’
অন্য সময় হলে হয়তো আমার খারাপ লাগত। কিন্তু এবার ওর সঙ্গে আছে ছোট্ট আরিশা। স্ট্রলারে করে আরিশাকে নিয়ে ও ঠিকই যাবে হাই পার্ক। আরিশা ফুল দেখার চেয়ে রঙিন আইসক্রিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে। ওর কপালে এসে পড়বে চেরির পাতলা পাপড়ি। তিসি আলতো হাতে তুলে নিয়ে ক্লিপ দিয়ে ওর চুলটা ঠিক করে দেবে। ওরা হয়তো পার্ক থেকে ভিডিও কল দেবে আমাকে। আমি না থাকলেও আরিশার সঙ্গে লাল টুকটুকে ট্রেনে চড়ে মা-মেয়ে এবার চেরি ব্লসম দেখবে।
আরও পড়ুন
-

টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি
উপকরণ
টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।
প্রণালি
ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।
আরও পড়ুন
-

যোগাসন না পিলাটিস, ফিটনেসের জন্য কোনটি ভালো
যোগাসন ও পিলাটিস এই সময়ের জনপ্রিয় দুই শরীরচর্চার পদ্ধতি। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে অনেকেই এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে আবার দুটি পদ্ধতির চর্চা করছেন সমন্বয় করে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, পিলাটিস না যোগাসন, শরীরের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর? বা কোনটিতে বেশি উপকার?
যোগাসন
নিয়মিত যোগাসন করলে শরীর নীরোগ থাকে। এটি এমন এক শরীরচর্চা, যার কোনো নেতিবাচক দিক নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো যন্ত্রপাতিরও। যেকোনো বয়সে যে কেউ যোগাসন শুরু করতে পারেন। জিমে গিয়ে যাঁরা শরীরচর্চার সময় পান না, তাঁদের জন্য যোগাসন আদর্শ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে যোগাসন বেশ কার্যকর। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় যে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, তা প্রতিরোধের জন্যও যোগাসনে রয়েছে বিভিন্ন আসন। ঋতু পরিবর্তনে যে রোগগুলো শরীরে হানা দেয়, নিয়মিত যোগচর্চায় সেসব থেকেও মিলবে মুক্তি।
পিলাটিস
অপর দিকে পিলাটিসকে বলা হয় কার্ডিও ব্যায়াম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জোসেফ পিলাটিস আহত সৈনিকদের নানা ধরনের শারীরিক কসরতের মাধ্যমে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই পিলাটিস নামের শরীরচর্চার জন্ম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যখন নানা ধরনের ব্যথার উৎপত্তি হয়, তখন পিলাটিস অনুশীলনে আরাম মেলে।
শরীরচর্চার জন্য এই দুটি পদ্ধতিই জনপ্রিয়। যোগ প্রসঙ্গে যোগব্যয়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তুনু জানান, যোগাসনে সাধারণের রোগ বা শারীরিক সমস্যার প্রতিকার মিলবে। তবে যোগাসনের ক্ষেত্রে ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ বা শ্বাসপ্রশ্বাসের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাস ঠিক না থাকলে নিয়মিত যোগাসন করলেও কোনো উপকার মিলবে না। তবে শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক রেখে যাঁরা যোগাসন করেন, তাঁরা অনেক উপকার পান। যেহেতু শরীর ও মনের যোগকে বলে যোগাসন বা ইয়োগা, এই যোগ সম্পন্ন করে নিশ্বাস। মানুষ নিশ্বাস নিতে নিতে প্রাণায়ামের মধ্য দিয়েই নানা আসন করেন। যোগাসনে শরীরের প্রতিটি সমস্যা ধরে ধরে আলাদাভাবে আসন করা হয়। উচ্চতা বৃদ্ধি, মুখের গড়নে পরিবর্তন, পেটের মেদ কমানোর মতো আরও অনেক উপকারিতা মেলে যোগাসনে।
অপর দিকে যাঁরা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন, তাঁদের জন্য পিলাটিস বেশ কার্যকর। পিলাটিস শরীরের কাঠামো ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের জটিল সব রোগ সারাতে সাহায্য করে। তবে শরীরের ধরন ও জীবনযাপন বুঝে পিলাটিস করা ভালো। অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া একসময় নিয়মিত যোগাসন করতেন। এখন পিলাটিসে ঝুঁকেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত হলো, যোগাসনের চেয়ে পিলাটিসে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পিলাটিস বডি টোনিংয়ের জন্য খুব ভালো। শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। লুকে একধরনের বোল্ডনেস আনে বলেও মনে করেন নুসরাত ফারিয়া।
আরও পড়ুন
-

রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?
চানা বুট বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। কোনো এক বেলার স্ন্যাকস তো বটেই, রাতের খাবারের বিকল্পও হতে পারে এক কাপ চানা বুট। চানা বুটে আছে আমিষ, শর্করা এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। এ সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
পর্যাপ্ত আঁশ ও আমিষ থাকায় চানা বুট খেলে আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না। আবার এতে শর্করাও পাবেন। অর্থাৎ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার জন্য আপনি পর্যাপ্ত ক্যালরিও পাবেন তা থেকে। বুঝতেই পারছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোজ চানা বুট খেতে পারেন। এভাবে ওজন কমানো সহজ হবে।
আঁশের উপকার এখানেই শেষ নয়
পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতেও কাজে আসে এই আঁশ। তা ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হুট করে রক্তের সুগার বেড়ে যায় না, যেমনটা বাড়ে সাদা ভাত খেলে। চানা বুটের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেলে রক্তের সুগার বাড়ে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকরভাবে।
খনিজ উপাদানের উপকার অনেক
চানা বুটে আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম। চুল ও ত্বক সতেজ রাখার জন্য তো বটেই, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসব উপাদান আমাদের প্রয়োজন রোজ। এসবের মধ্যে জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মানে তারুণ্য ধরে রাখতেও কাজে আসে এসব উপাদান। তা ছাড়া চানা বুটে আরও আছে সামান্য পটাশিয়াম ও আয়রন। তবে এই আয়রন দেহের কাজে লাগানোর জন্য এর সঙ্গে চাই ভিটামিন সি। অর্থাৎ টক ফল বা ফলের রসের সঙ্গে খেলে তবেই এই আয়রন কাজে লাগবে। হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার জন্য সঠিক মাত্রায় পটাশিয়াম জরুরি। আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে কেবল এক কাপ চানা বুটের আয়রনের ওপর নির্ভর করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
বিকল্প আমিষ
চানা বুটে যে আমিষ থাকে, তা দেহের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ হওয়ায় একে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্ভিজ্জ আমিষে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে না। সুস্থ থাকতে সারা দিনে চানা বুটের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে এক কাপ চানা বুটের সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম কুচি করে যোগ করে নিতে পারেন। ডিম প্রাণিজ আমিষ বলে তা প্রথম শ্রেণির আমিষ। অর্থাৎ এতে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব কটি অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। চানা বুটে যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো নেই, সেসবের ঘাটতি মেটানো যায় এভাবে। অর্থাৎ চানা বুটের সঙ্গে ডিম যোগ করলে আমিষের মোট পরিমাণও বাড়ে, আবার আমিষের গুণগত মানও বাড়ে।
খেয়াল রাখুন
- চানা বুটে টক ফলের রস যোগ করলে আপনি ভিটামিন সির উপকারও পাবেন।
- কাঁচা সবজি যোগ করলে পাবেন ভিটামিন বি।
- চানা বুট সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। তেল যোগ করা হলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।
-

গরমে শিশুর যত্নে এসব ভুল করছেন না তো?
প্রচণ্ড গরমে বড়দের চেয়ে অনেকটাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। তাপপ্রবাহে সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে তাদের ছোট্ট দেহ। তৃষ্ণা পেলে অনেক সময় তারা তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। শিশুরা যদি বোঝার মতো বয়সী হয়, তাহলে গরমের সময় কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয়—এসব বিষয়ে শিশুকে জানিয়ে রাখা ভালো। পোশাক বা খেলাধুলার মতো রোজকার সাধারণ ব্যাপারেও যত্নবান হোন। নিত্যদিনের জীবনযাপনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনুভা খান বলেন, ‘গরমে শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর অর্থ কিন্তু এই না, তাকে বারবার জবরদস্তি পানি পান করাতে হবে। বরং তার দেহের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু প্রস্রাব করার সময় রং ও পরিমাণ খেয়াল করুন। শিশু যদি পর্যাপ্ত প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবের রং যদি হয় হালকা হলুদ খড়ের মতো, তাহলে
এই চিকিৎসকের কাছ থেকে এই সময়ে শিশুর যত্নে কিছু ভুল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পানি নিয়ে জোরাজুরি
বয়স ছয় মাস পার হলে শিশুকে পানি পান করানো শুরু করতে হয়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকেই পানির চাহিদা অনেকটা মিটে যায়। পানি, অন্যান্য তরল ও ফলমূল থেকেও সে পানি পায়। সারা দিনই মাঝেমধ্যে শিশুকে পানি বা তরল খাবার খেতে উৎসাহ দিন। ফলের রস বা স্মুদি করে দিতে পারেন। তবে খুব বেশি চিনি দেওয়া পানীয় দেবেন না। তার সঙ্গে নিজেও পানি পান করুন। স্কুলে গেলেও যাতে পর্যাপ্ত পানি পায়, সে ব্যবস্থা রাখুন। তবে পানিশূন্যতার লক্ষণ না থাকলে শিশুকে পানি পান করানোর ব্যাপারে জোর করবেন না। অকারণ বিরক্তি ভাব বা জেদ, খানিকটা নিস্তেজ ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের প্রস্রাব হওয়া, মুখ বা জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি হতে পারে পানিশূন্যতার লক্ষণ।
যা খুশি তা–ই খাওয়া
গরমে পানি ও খাবারের মাধ্যমে বহু মারাত্মক রোগ ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ হয়। এগুলো এড়িয়ে চলার ব্যাপারে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, স্কুলের পথে একলা সুযোগ পেলেও যেন সে এসব খাবার না খায়। রসনার তৃপ্তি মেটাতে বাড়িতে তার পছন্দের খাবার ও পানীয় তৈরি করে দিন। আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন না, যদি না ঠান্ডায় তার খুব বেশি অ্যালার্জি থাকে। মাঝেমধ্যে আইসক্রিম বা হালকা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সুযোগ দিন, তবে তা যেন নিরাপদভাবে তৈরি করা হয়। তাকে এটাও বুঝিয়ে বলুন, কড়া রোদ থেকে ঘরে বা ক্লাসে ঢোকামাত্রই ঠান্ডা কিছু খাওয়া উচিত নয়। একটু রয়েসয়ে তারপর সে খেতে পারে হালকা ঠান্ডা পানীয় বা খাবার।
পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার ভুল
• বাইরে গেলে হাতাকাটা পোশাক পরানো ভুল। কারণ, তাতে রোদ আর ধুলা–ময়লায় বেশি ক্ষতি হয়। পাতলা সুতি কাপড়ের ফুলহাতা জামা-পায়জামা পরালে শিশু সুরক্ষিত থাকবে।
• আঁটসাঁট পোশাক পরানোও ভুল।
• গাঢ় রঙের পোশাক পরানোও উচিত নয়। কারণ, এগুলো তাপ ধরে রাখে।
• যিনি খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশন করবেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে তাঁর উদাসীন হওয়াটা মারাত্মক ভুল।
• দুধ ও অন্যান্য খাবার খুব বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়। এগুলো গরমে নষ্ট হয়ে যায়। সব খাবারই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি।
খেলার সময়কার ভুল
• কড়া রোদের সময় বাইরে বা ছাদে খেলতে দেওয়ার ভুলটা করবেন না। খুব গরমে ঘরেই খেলুক। দুপুরে স্কুলে থাকলেও যাতে সে ভুলটা না করে।
• শিশু যদি পার্কে খেলতে যায়, তাহলে তাকে আগেই ধাতব খেলার সামগ্রীগুলোতে উঠতে দেওয়া আরেক ভুল। প্রথমে এগুলোর তাপমাত্রা হাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কারণ, দুপুরের রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ধাতবসামগ্রী পরেও গরম থাকতে পারে। এগুলো তাপমাত্রাসহনীয় হলে তাকে উঠতে দিন।
• পানির কাছে তাকে একা ছাড়ার ভুলটি করা যাবে না। ঝোপঝাড়ে শিশু যেন হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
