ক্যাটাগরি লাইফস্টাইল

  • ফটিকছড়িতে গুলি করে টাকা ছিনতাই

    ফটিকছড়িতে গুলি করে টাকা ছিনতাই

    ডেস্ক নিউজ:

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়নের রাবার ড্যামের পশ্চিম পাশে রঈপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত এ ঘটনায় জড়িত ।

    গুলিবিদ্ধ ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. রমজান আলী (৪২)। তিনি মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের এজেন্ট। পাশাপাশি বাজারে তাঁর কুলিং কর্নার রয়েছে। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রমজান আলী। তবে মাঝপথে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন দুজন মোটরসাইকেল আরোহী। এরপর ওই মোটরসাইকেলে থাকা একজন রমজান আলীকে অতর্কিত গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁরা পালিয়ে যান। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে রমজান আলীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।

    জানতে চাইলে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুল হক বলেন, ‘ওই বিকাশ ব্যবসায়ী দোকান থেকে বের হলে তাঁর পিছু নেন মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী। আমরা ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

    বি/ এ

  • শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    বাজারে এখন শীতের নানারকম শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে। এই সময় বিভিন্ন রকম রোগের প্রকোপও বাড়ে। শীতে সুস্থ থাকতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেক্ষেত্রে ডায়েটে রাখতে পারেন পালং শাক। নিয়মিত এই শাক খেলে নানা ধরনের উপকারিতা মেলে। যেমন-

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। এর ফলে সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। পালং শাকের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দেহের প্রদাহ মোকাবিলায় বিশেষ উপকারী।

    হজমশক্তি বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পালংয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ় এবং উদ্ভিজ্জ এনজ়াইম থাকায় খাবার সহজেই হজম হয়।

    ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: পালং শাকে থাকা ভিটামিন ই এবং আয়রন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই শাকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। পালং শাকে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন চোখের নীচের ফোলা ভাব কমায়। সেই সঙ্গে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

    ক্লান্তি দূর করে: পালং শাকে থাকা আয়রন, ফোলেট এবং ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি বাড়ায়। এর ফলে ক্লান্তি দূর হয়।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ করে : শীতের সময়ে বিভিন্ন নিমন্ত্রণ- অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া বেশি হতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে পালং শাক। কম ক্যালোরি এবং ফাইবারে পূর্ণ হওয়ায় এই শাক ওজন বৃদ্ধি করে না।

  • শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শীতের সময় যতই আরামদায়ক মনে হোক, কিডনির জন্য কিন্তু এই মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর বা স্টোন হওয়ার প্রবণতা শীতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো শরীরের ডিহাইড্রেশন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তেষ্টা কম লাগে, ফলে পানি গ্রহণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর ফলেই মূত্রের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে।

    এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ইনসাইট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতার দিকে যায়। এর ফলে মূত্র গাঢ় হয়ে ওঠে, যা কিডনিতে পাথর তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিডনিতে স্টোন হওয়ার হারও ওঠানামা করে।

    চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রাণিজ প্রোটিন এবং ডিহাইড্রেশন— এই তিনটি বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একই কথা বলা হয়েছে ক্লিনিক্যাল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রেও।
    তাহলে কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?

    ১) দিন অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। জলের পাশাপাশি, ডিটক্স পানীয়, হার্বাল টি কিংবা ইনফিউসড ওয়াটার খেলেও উপকার মিলবে।

    ২) অতিরিক্ত সোডিয়াম রয়েছে এমন খাবার বা পানীয় খাওয়া চলবে না। কারণ, রক্তে সোডিয়ামের উপস্থিতি কিডনিতে স্টোন হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা-ও বাদ দিতে হবে।

    ৩) কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা রুখতে রোজ সাইট্রাস ফ্রুট বা লেবুজাতীয় ফল খেতে হবে। রক্তে থাকা অতিরিক্ত খনিজ শোষণ করে কিডনি সুরক্ষিত রাখবে ভিটামিন সি। পাশাপাশি মূত্রাশয়ের সংক্রমণও রুখে দিতে পারে।

    ৪) সামগ্রিকভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে হলেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। কারণ, স্থূলত্ব বা দেহের অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য খারাপ। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলেও কিন্তু কিডনির ওপর চাপ পড়ে।

    সূত্র : এই সময় অনলাইন
    বি/এ

  • ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ডেস্ক নিউজ:

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা সদর ও পলাশ উপজেলায় ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী জেলার সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্যমতে ভূমিকম্পে আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে উঁচু ভবন থেকে নামতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন।

    সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি নামক স্থানে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে ৪ জন আহত হন। তন্মধ্যে মারাত্মকভাবে মাথায় আহত ২ (দুই) জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। প্রেরিত দুই জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু হাফেজ ওমরকে (৮ বছর) মৃত ঘোষণা করেন এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

    অন্যদিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামক এক বৃদ্ধ মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন (৬০), পিতা: সিরু মিয়া, ভূমিকম্পের সময় ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার পথে রাস্তা থেকে নিচে লাফ দিয়ে পড়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করায় নিকটাত্মীয়গণ তার মরদেহ হাসপাতালে নেননি।

    এদিকে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা (পূর্বপাড়া) গ্রামে ফোরকান (আনুমানিক ৪০) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে যান। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিলে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করে। সেখানে নেওয়ার পথে রাস্তায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    হতাহত ছাড়াও ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও সাবস্টেশনের বিপুল পরিমাণ পিটি (প্রডাকশন ট্রান্সফরমার) ভূ-কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে।

    এদিকে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া প্রডাকশন ভূমিকম্পের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ভূ-কম্পনের সময় ইঞ্জিন মেশিনারিজ ভাইব্রেশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায় এবং মেশিনারিজ চেকিং অপারেশনে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ভূমিকম্প সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
    বি/এ

  • বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি বলেছেন, ‘বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। এটি তার আগাম বার্তা।’

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেন

    মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আশপাশে সবশেষ বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে।’

    সচেতনার বিষয়ে তুলে ধরে মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, ‘বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে, এটিই স্বাভাবিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে যে ভবনগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বেড়েই চলেছে।’

    এদিকে রাজধানীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আকস্মিক একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

    শুক্রবার সকালে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২ শতাধিক আহত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নগরীর বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সার্বিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জরুরি এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ বা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য আদান-প্রদান ও জরুরি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো

    মোবাইল : ০১৭০০-৭১৬৬৭৮
    ফোন : ০২-৪১০৫১০৬৫

    বি/এ

  • ভূমিকম্প: টঙ্গীতে দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত

    ভূমিকম্প: টঙ্গীতে দুই শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত

    ডেস্ক নিউজ

    গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক এলাকায় ফ্যাশন পালস লিমিটেড পোশাক কারখানায় ভূমিকম্প আতঙ্কে অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটের দিকে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হয়। এ সময় ওই কারখানার শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানার নয়তলা ভবনটিতে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ভূমিকম্প শুরু হলে শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় আরমান (১৭), খোকন (১৭), শারমিন (২৪), আমেনা (৩০), জহুরা (৩২), কৃষ্ণা (৩৩), জান্নাত (১৮), রাণী (৩৫), আকাশ (১৫), কল্পনা (৩৯), সাবিনা (৩০), সীমা (৪০), রহিমাসহ (২৫) অন্তত ২০০ শ্রমিক আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শারমিনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কারখানার কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

    টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান এ্যানী ও ডা. তারেকুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে ওই কারখানার শ্রমিকরা আহত হয়েছেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    বি/এ

  • মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    ডেস্ক নিউজ:

    মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং মধ্যপন্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় ইসলাম।  শক্তি, অর্থ, সময় এবং সুযোগ—এ সব কিছুর মধ্যে মিতব্যয়ী হওয়া, অপব্যয় ও অতিরিক্ততা পরিহার করা শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য মানবতার সেবায় সব সময় মিতব্যয় ও মধ্যপন্থাকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ইসলাম।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের তাৎপর্য

    ইসলাম ধর্মে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তার বান্দাদের হুকুম দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের সম্পদ, সময় ও শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং কোনো কিছুতেই অতিরিক্ততা বা অপচয় না ঘটায়।

    মধ্যপন্থা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে চলতে পারে এবং একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না বরং সমাজের উপকারে আসে। এটি মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক শান্তি, সামাজিক ভারসাম্য ও দুনিয়া এবং পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

    মিতব্যয় শুধু অর্থের সংরক্ষণ নয় বরং এটি ব্যক্তিগত আচরণ ও আধ্যাত্মিক চরিত্রের একটি পরিচায়ক। ইসলামি শিক্ষা অনুসারে, আল্লাহ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয়, কৃপণতা বা অতিরিক্ত খরচের বিপক্ষে সতর্ক করেছেন। কারণ মিতব্যয়ী জীবনই বরকত আনে এবং একে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    وَ لَا تَجۡعَلۡ یَدَكَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِكَ وَ لَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

    ‘আর তুমি বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না; হলে তুমি তিরস্কৃত ও অনুতপ্ত (নিঃস্ব) হয়ে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৯)

    এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর নিয়ামতগুলো যদি তার নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না হয়, তবে মানুষ বিপদ-আপদ, অভাব-অনটনের সম্মুখীন হয় এবং রিজিকের বরকত চলে যায়।  আর যে ব্যক্তি মধ্যপন্থায় থাকে, সে শুধু নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে না বরং তার আশপাশের পরিবেশেও শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে। তাই মানুষের উচিত, আল্লাহর নিয়ামতসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যাতে অপব্যয় ও কৃপণতা পরিহার করা যায় এবং জীবনে শান্তি ও বরকত আসে।

    রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী এবং ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মিতব্যয়ী জীবনযাপন মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এটি আল্লাহর বরকত অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়।  তিনি বলেছেন-

    ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩০৩)।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অতিরিক্ত খরচ, আর্থিক সংকট, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে। উপরন্তু, এটি পরকালেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের পথ সুগম করে।

    অপব্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

    অপব্যয় শুধু আর্থিক দিকেই ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং এর মাধ্যমে মানুষের রিজিকের বরকতও চলে যায়।  আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

    ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর। তবে অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৩১)

    রাসূলুল্লাহ (সা.)ও নিজ জীবনযাপনে অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন।  একবার তিনি সাদ (রা.)-কে অজুর মধ্যে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন-

    مَا هَذَا السَّرَفُ ‏”‏ فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ‏”‏

    ‘হে সাদ! অপচয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বলেছেন, ‘অজুতে কি অপচয় হয়?’ তখন নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৫)

    মিতব্যয়ী জীবন: দারিদ্র্য মুক্তির উপায়

    যারা উপার্জন ও ব্যয়ে পরিমিতবোধের চর্চা করবে, তারা কখনো অভাবগ্রস্ত হবে না। রাসুল (সা.) হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যারা মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন, তারা কখনো দারিদ্র্যের মুখোমুখি হন না।  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন- ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ৭/৩০৩)

    আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ

    অনেক সময় আমরা খরচের ক্ষেত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, লোকদেখানো খরচ করি, যা পরকালে কোনো লাভ বয়ে আনে না।  হাদিসে এসেছে-

    ‘আল্লাহ আমাদের তিনটি বিষয় পছন্দ করেন—তার ইবাদত করা, তার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। অন্যদিকে, তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন— অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা। ’(মুসলিম ১৭১৫)

    অতএব, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বাবা-মা, ভাইবোন ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করা উচিত, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো অনর্থক খরচ না হয়।  কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ كَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا

    ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৭)

    আসুন, আমরা সবাই ইসলামিক আদর্শে মিতব্যয়ী জীবনযাপন করি।  আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।  দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও বরকত অর্জন করি। মিতব্যয়ী হয়ে  পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

    বি/এ

  • গ্রামীণ ঐতিহ্য; বড়শিতে মাছ ধরা

    গ্রামীণ ঐতিহ্য; বড়শিতে মাছ ধরা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে একসময় বর্ষার পানি নামতে শুরু করলেই গ্রামের জলাশয়ে সারি সারি বাঁশের কঞ্চি আর পাটখড়িতে বাঁধা বড়শি পুঁতে রাখতেন জেলে ও কৃষকেরা। নল বড়শি নামে পরিচিত মাছ ধরার এই চিরায়ত পদ্ধতি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক জাল-ফাঁদের প্রসার আর জলাশয় হারানোর ফলে গ্রামীণ জীবনের এই পরিচিত দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা কিংবা শরৎকালে শুকনো পাটখড়ি বা চিকন বাঁশের কঞ্চিতে সুতা ও বড়শি বেঁধে জলাশয়ে গেঁথে রাখা হতো। বাড়তি খরচ ছিল না, জটিল কোনো সরঞ্জামেরও প্রয়োজন পড়ত না। এই সহজ পদ্ধতিতে শোল, বোয়াল, টাকি, আইড়সহ নানা দেশি মাছ ধরা যেত।

    ফুলবাড়ীর পশ্চিম ফুলমতি বারোমাসিয়া নদীর মাছ ব্যবসায়ী আজিবর রহমান জানান, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় কয়েক ডজন নল বড়শি বসান। ভোরে তুলে দেখেন কোনদিন একটা মাছ পান, কোনদিন একটাও না। নল বড়শি আর নেট জাল দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে তার।

    সীমান্তঘেঁষা কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, কমপক্ষে বিশ বছর পর নল বড়শির কথা শুনলেন। আগে দোলায় করে নিয়ে গিয়ে মাছ তুলতেন। এখন খাল-ডোবা নেই, মাছ নেই — নল বড়শি এখন ইতিহাস।

    আরেক কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ছোটবেলায় শত শত নল বড়শি নিয়ে বের হতেন। চ্যাং, চ্যাংটি, শোল, মাগুর — কত দেশি মাছ ধরতেন। এখন সেসব নেই বললেই চলে।

    ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদী এবং শিমুলবাড়ী ও ভাঙ্গামোড় অঞ্চলের বিল-খালে একসময় নল বড়শির ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও মাছের সংকটে এখন তা অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকে এই নামই শোনেনি।

  • খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। শুধু পুষ্টি নয়, এর রয়েছে নানা রকম ওষুধি গুণও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে শরীরে নানা উপকার হয়। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, হাদিসেও খেজুরের উপকারিতার কথা বহুবার উঠে এসেছে।

    বিশেষ করে মদিনার ‘আজওয়া খেজুর’ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক বর্ণনায় এসেছে আশ্চর্যজনক সব উপকারের কথা।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজওয়া খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা খাওয়া হলে এটি বিষের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে (মুসলিম : ৫১৬৮)।’

    অন্য এক হাদিসে হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারি : ৫৪৪৫)।’

    একবার হজরত সাদ (রা.) অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তার বুক স্পর্শ করে বলেছিলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও, সে অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাকে বলো আজওয়া খেজুর চূর্ণ করে সাতটি বড়ি তৈরি করতে (আবু দাউদ : ৩৮৩৫)।

    হজরত আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেজুর খায়, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ দূর হয়ে যায় (কানজুল উম্মাল : ২৮৪৭২)।’

    মহানবী (সা.)-এর ইফতারেও খেজুর ছিল প্রধান। হজরত আনাস (রা.) বলেন,‘নবীজি (সা.) কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনো খেজুর, সেটাও না পেলে পানি (তিরমিজি)।’

    এ ছাড়া তিরমিজির এক হাদিসে তো আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লিখিত উপকারিতাগুলো স্মরণে রেখে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন খেজুরও। বিশেষ করে ভোরবেলা নিয়ম করে সাতটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

  • আগুনে পোড়া রোগীর এতো রক্ত লাগে কেন?

    আগুনে পোড়া রোগীর এতো রক্ত লাগে কেন?

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:

    স্বাস্থ্য আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রায়শই প্রচুর পরিমাণে রক্তের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কেন আগুনে পোড়া রোগীদের এত বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়, এই বিষয়টি জানতে অনেকেরই বেশ কৌতুহল রয়েছে। চলুন জেনে নেই এ বিষয়ে বিস্তারিত।

    আগুনে পোড়া আঘাত একটি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থা, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শরীরে জটিল শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যার অন্যতম প্রধান পরিণতি হলো প্রচুর পরিমাণে রক্ত ও তরল পদার্থের ক্ষয়।

    রক্তের প্রয়োজনীয়তার মূল কারণসমূহ—

    প্লাজমা ও তরল ক্ষয়: আগুনে পোড়ার কারণে ত্বকের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্তরস (প্লাজমা) দ্রুত শরীরের কোষের বাইরে বেরিয়ে আসে এবং আক্রান্ত স্থানে জমা হয়। এই তরল ক্ষয়ের পরিমাণ এতটাই বেশি হতে পারে যে, তা রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়, যা হাইপোভলেমিয়া (Hypovolemia) নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রচুর পরিমাণে ফ্লুইড (যেমন স্যালাইন) এবং প্লাজমা বা রক্তের প্রয়োজন হয়।

    রক্তকণিকার ক্ষতি: উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রক্তকণিকা, বিশেষ করে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells), সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের ক্ষতি হলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে তাজা রক্ত বা প্যাকড রেড ব্লাড সেল দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

    সংক্রমণ এবং টিস্যু নেক্রোসিস: আগুনে পোড়ার পর ত্বক তার সুরক্ষা প্রাচীর হারিয়ে ফেলে, ফলে শরীর জীবাণু দ্বারা সহজে আক্রান্ত হয়। গুরুতর সংক্রমণে শরীর দ্রুত রক্ত তৈরি করতে পারে না এবং বিদ্যমান রক্তকণিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, পোড়া টিস্যু মরে গেলে (নেক্রোসিস) শরীর সেই মৃত টিস্যু অপসারণের জন্য রক্ত ব্যবহার করে, যা রক্তের চাহিদা আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অস্ত্রোপচার ও ড্রেসিং: আগুনে পোড়া রোগীদের প্রায়শই একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়, যেমন – ডেব্রাইডমেন্ট (মৃত টিস্যু অপসারণ) এবং স্কিন গ্রাফটিং (ত্বক প্রতিস্থাপন)। প্রতিটি অস্ত্রোপচারেই রক্তক্ষয় হয়। তাছাড়া, নিয়মিত ড্রেসিং পরিবর্তনের সময়ও কিছুটা রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তের চাহিদা বাড়ায়।

    রক্তাল্পতা (Anemia): দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ, পুষ্টির অভাব এবং বারবার রক্তক্ষরণের কারণে আগুনে পোড়া রোগীরা রক্তাল্পতায় ভুগতে পারে। রক্তাল্পতা মোকাবিলায় নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

    চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রক্তের ভূমিকা:

    আগুনে পোড়া রোগীর স্থিতিশীলতা এবং জীবন রক্ষায় রক্তের ভূমিকা অপরিসীম। রক্ত ও তরল পদার্থের সঠিক এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শক, কিডনি ফেইলিওর এবং অন্যান্য গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। চিকিৎসকরা রোগীর পোড়ার মাত্রা, শরীরের মোট পোড়া পৃষ্ঠের শতাংশ (Total Body Surface Area – TBSA), বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রক্তের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন।

    এ কারণে, আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় রক্তদান কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রক্তদানে উৎসাহিত করা এই গুরুতর রোগীদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।