গ্রামীণ ঐতিহ্য; বড়শিতে মাছ ধরা

বিডিটাইমস ডেস্কঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে একসময় বর্ষার পানি নামতে শুরু করলেই গ্রামের জলাশয়ে সারি সারি বাঁশের কঞ্চি আর পাটখড়িতে বাঁধা বড়শি পুঁতে রাখতেন জেলে ও কৃষকেরা। নল বড়শি নামে পরিচিত মাছ ধরার এই চিরায়ত পদ্ধতি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক জাল-ফাঁদের প্রসার আর জলাশয় হারানোর ফলে গ্রামীণ জীবনের এই পরিচিত দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা কিংবা শরৎকালে শুকনো পাটখড়ি বা চিকন বাঁশের কঞ্চিতে সুতা ও বড়শি বেঁধে জলাশয়ে গেঁথে রাখা হতো। বাড়তি খরচ ছিল না, জটিল কোনো সরঞ্জামেরও প্রয়োজন পড়ত না। এই সহজ পদ্ধতিতে শোল, বোয়াল, টাকি, আইড়সহ নানা দেশি মাছ ধরা যেত।

ফুলবাড়ীর পশ্চিম ফুলমতি বারোমাসিয়া নদীর মাছ ব্যবসায়ী আজিবর রহমান জানান, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় কয়েক ডজন নল বড়শি বসান। ভোরে তুলে দেখেন কোনদিন একটা মাছ পান, কোনদিন একটাও না। নল বড়শি আর নেট জাল দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে তার।

সীমান্তঘেঁষা কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, কমপক্ষে বিশ বছর পর নল বড়শির কথা শুনলেন। আগে দোলায় করে নিয়ে গিয়ে মাছ তুলতেন। এখন খাল-ডোবা নেই, মাছ নেই — নল বড়শি এখন ইতিহাস।

আরেক কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ছোটবেলায় শত শত নল বড়শি নিয়ে বের হতেন। চ্যাং, চ্যাংটি, শোল, মাগুর — কত দেশি মাছ ধরতেন। এখন সেসব নেই বললেই চলে।

ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদী এবং শিমুলবাড়ী ও ভাঙ্গামোড় অঞ্চলের বিল-খালে একসময় নল বড়শির ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও মাছের সংকটে এখন তা অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকে এই নামই শোনেনি।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।