ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    সাতক্ষীরায় ভাড়া বাসায় তরুণীর মরদেহ

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    সাতক্ষীরায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তাসলিমা আক্তার হিরা (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পলাশপোল এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তাসলিমা আক্তার হিরা যশোরের বাগআঁচড়া গ্রামের শাজাহান আলীর মেয়ে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের অ্যাডলিব শোরুমে কাজ করতেন এবং প্রায় এক মাস আগে শহরের পলাশপোল এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া উঠেছিলেন।

    তাসলিমার বাড়ির মালিক মাসুম বিল্লাহ শুভ বলেন, হিরা আমার বাসায় এক মাস ধরে থাকছিলেন। তিনি অ্যাডলিব শোরুমে চাকরি করতেন। বিস্তারিত তথ্য শোরুম থেকেই জানা যাবে।

    অ্যাডলিব শোরুমের ম্যানেজার আতিয়ার রহমান বলেন, হিরা আমাদের স্টাফ ছিলেন। আজ তার অফ ডে ছিল। সে সকালে বলেছিল যশোর যাবে, তাই আমরা খোঁজ নেইনি।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল  রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় ধলেশ্বরী সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইমন ভূঁইয়া (২৬) ও সামিউল ইসলাম (২৭)। ইমন সিরাজদিখান উপজেলার ঘন শ্যামপুর এলাকার সেন্টু ভূঁইয়ার ছেলে। সামিউলের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ভৌড়াহাটি এলাকায়।

    হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে ইমন ভূঁইয়া ও সামিউল মোটরসাইকেলে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের কুচিয়ামোড়ায় ধলেশ্বরী সেতুর ওপর পৌঁছালে পেছন থেকে একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সেতুর ওপর ছিটকে পড়ে। ঘটনা স্থলে ওই দুজন নিহত হন।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • দীর্ঘ আন্দোলনে বিজয় বেসরকারি শিক্ষকরা

    দীর্ঘ আন্দোলনে বিজয় বেসরকারি শিক্ষকরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈশ্বিক মানদণ্ডে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈষম্যের শিকার। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পর সেই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এরপর শিক্ষকরা চার দফায় আন্দোলনে নামলেও প্রতিবারই রাজনৈতিক রং লাগার কারণে দাবিগুলো পূরণ হয়নি।

    তবে টানা দেড় দশকের লড়াইয়ের পর প্রথমবারের মতো আংশিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু বেতন-ভাতার সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক বিজয়। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য জাতীয়করণের আন্দোলন।

    শিক্ষক নেতাদের মতে, আগের সব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল সরকারপন্থি শিক্ষকদের বিরোধিতা। কখনো ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাপ লাগিয়ে আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়। এবারও একটি রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠন বিরোধিতা করলেও আন্দোলনে রাজনৈতিক রং লাগেনি, ফলে সাফল্য এসেছে।

    তারা জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, ডাকসুর সাবেক ভিপি, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাত্মতা প্রকাশ করে। শেষদিকে বিএনপির প্রকাশ্য সমর্থনে সরকার চাপের মুখে পড়ে এবং শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা দুই ধাপে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে।

    শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য প্রথম বড় আন্দোলন শুরু হয় ২০১৩ সালে। তখন শিক্ষকরা ঢাকায় টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তবে সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে প্রচার করে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ১১ দিন অবস্থান ধর্মঘট চালিয়েও একই পরিণতি হয়।

    ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষক আন্দোলন হয়। বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও অন্যান্য সংগঠনের আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ১৭ দিন চলা এই আন্দোলনের সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নানা মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতা কাওসার আলীকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। পরে শিক্ষক সমাজের চাপে তাকে ফেরত দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে তার এমপিও স্থগিত করা হয় এবং তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এ প্রসঙ্গে কাওসার আলী বলেন, ‘আমাদের সেই আন্দোলনেরই ফসল এবার পেয়েছেন শিক্ষকরা। তখন আমাকে যে পরিমাণ হয়রানি করা হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। সরকারের চেয়ে বেশি দোষী ছিলেন সরকারপন্থি শিক্ষকরা। তাদের বিরোধিতার কারণেই আগের বড় বড় আন্দোলন সফল হয়নি।’

    চলমান আন্দোলনে ১১ দিন কর্মসূচি পালনের পর সরকার বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি বড় রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠন এর বিরোধিতা করে। তারা আন্দোলনকারীদের আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি হিসেবে আখ্যা দেয়। ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজপথে যারা কর্মসূচি পালন করছেন তারা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। তাদের নেতা একজন আওয়ামী দোসর, তার প্রমাণ রয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে।’

    বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি। আমরা বলেছি, ১৫ শতাংশ নয়, আমরা জাতীয়করণের পক্ষে। যারা খুচরা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন তারা আওয়ামী লীগ-জামায়াতের হয়ে মাঠে নেমেছেন।’ তবে তার এমন বক্তব্যের পর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী তাকে দল থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।

    আন্দোলনের সার্বিক দিক নিয়ে দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আমাদের পাশে ছিল, তাই আমরা সফল হয়েছি। বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠনগুলোর বিরোধিতা দুঃখজনক। অতীতেও তাদের বিরোধিতার কারণে অনেক আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।’

    টানা আন্দোলনের মুখে সরকার বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সুবিধাটি দুই ধাপে কার্যকর হবে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার ও আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় শর্তে সম্মতিপত্র জারি করে।

    সম্মতিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ করা হবে। সরকারের এমন ঘোষণায় শিক্ষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী।

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাদের দাবি যৌক্তিক হলেও দেশের অর্থনীতি এখনই ২০ শতাংশ ভাড়া ভাতা দেওয়ার অবস্থায় নেই। তাই সরকার বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষকরা নবউদ্যমে শিক্ষাদানে ফিরে যাবেন।

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি শিক্ষা খাতের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পেয়েছেন। আমরা জানি, তারা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য।’ তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

    যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

    বিডিনিউজ ডেস্ক:

     

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিরোধের জেরে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল বাতেন মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে আব্দুল বাতেন মিয়া আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    নিহত আব্দুল বাতেন ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে। তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান মিয়ার বাবা।

    এ ছাড়া যুবদল নেতা শাহজাহান মিয়ার ভাই আজিজুল হক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অপর ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিমের ছোট ভাই হাসান মিয়ার সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

    এতে কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়। এদের মধ্যে শাহজাহান মিয়ার ভাই আজিজুল হক ও তার বাবা আব্দুল বাতেন মিয়া গুরুতর জখম হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল বাতেন মিয়া মারা যান। তার ছেলে আজিজুল হকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

     আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • চাঁদা আদায়ের অভিযোগে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতা আটক

    চাঁদা আদায়ের অভিযোগে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতা আটক

    বিডিনিউজ ডেস্ক:

     

    শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ডভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

    গতকাল দুপুরে শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কের আঙ্গারিয়া বাইপাস এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটকৃতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি ও কাভার্ডভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার এবং একই সংগঠনের সদস্য নারায়ণ পোদ্দার।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই আঙ্গারিয়া বাইপাস এলাকায় শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রাক থামিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা চাঁদা তোলার বৈধতা জানতে চান। কিন্তু কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে না পারায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে। এসময় চাঁদা আদায়ের রশিদ ও আদায়কৃত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে আঙ্গারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেন।

  • মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

    মাহিদার চায়ের কপে সন্তানদের স্বপ্ন

     

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    মাহিদা বেগম (৪০)। স্বামী মৃত আবু বকর হাওলাদার । ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাস আগে মারা গেছেন আবুবকর।  স্বামীকে হারিয়ে এখন তিন সন্তান নিয়ে অভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে সন্তানদের স্বপ্ন বাঁচাতে ও সংসারের অভাব দূর করতে ভাড়ায় নেওয়া একটি চায়ের দোকানই একমাত্র সম্বল। সন্তানের স্বপ্ন বুনছেন চায়ের কাপে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের শিমুল তলা এলাকার মো.আবু বকর হাওলাদারের সঙ্গে বরিশালের ইব্রাহিম হাওলাদের মেয়ে মাহিদা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ২৪ বছর আগে। তাদের ঘরে ২ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে আফসান আক্তার মিম মাদারীপুর সরকারী কলেজে অর্নাসের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে মোসা. আফরিন কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলে আরিয়ান আহম্মেদ মাহিমের বয়স আড়াই বছর।

    সংসারের অভাব দূর করতে স্বামী-স্ত্রী মিলে ৯ বছর আগে বাড়ির কাছেই শিমুল তলা বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান দেন। ভালোই চলছিলো দোকান। হঠাৎ পাঁচ বছর আগে আবু বকর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানতে পারেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। শেষের দুই বছর বেশি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান তিনি। এরপর তার চিকিৎসার জন্য ঋণ করে ও অন্যের সহযোগিতায় কোনভাবে চলছিলো দিন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মারা যান আবু বকর হাওলাদার। এরপর একাই সংসার আর দোকানের হাল ধরেছেন মাহিদা বেগম।

    ভাড়া নেয়া দোকানে চা বিক্রির পাশাপাশি পান ও সামন্য কিছু বিস্কুট বিক্রি করেন তিনি। দোকানটি বেশ বড় হলেও সেলসগুলো ফাকা পড়ে আছে। টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলতে পারেন না তিনি। শুধু চা বিক্রির টাকায় দুই মেয়ের পড়াশুনাসহ সংসারের সব খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। তাছাড়া প্রায় তিন লাখ টাকার মতো দেনা থাকায় মাহিদা বেগম এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

    মাহিদা বেগমের মেয়ে আফরিন বলেন, আমার আর আমার বোনের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে মায়ের খুব কষ্ট হয়। এই চায়ের দোকান থেকেই যা আয় হয়, তা দিয়ে আমাদের সংসারের পুরো খরচ জোগাড় করতে হয়। বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য অনেক দেনা করতে হয়েছে।

    মাহিদা বেগম বলেন, এই চায়ের দোকান দিয়েই আমার সব খরচ জোগাড় করতে হয়। প্রতিদিন এক হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে অল্প কিছু আয় থাকে। তা দিয়েই পুরো সংসার চালাতে হয়। দুই মেয়ের পড়াশুনার খরচ জোগাড় করতে হয়। ছেলে ছোট। আমাকে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। যদি কেউ আমার দোকানের বিক্রির জন্য কিছু মালামাল কিনে দেয় তাহলে আমি তা বিক্রি করে একটু আয় করতে পারতাম। এতে আমার অনেক উপকার হতো। আমার দুই মেয়ের পড়াশুনাটা ঠিকমতো চালাতে পারতাম।

    মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজনীন আফরোজ বলেন, মাহিদা বেগম চাইলে ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং হয়। ট্রেনিং নিয়েও তিনি কাজ করে আয় করতে পারবেন। কয়েকদিন আগেই ইউনিয়নগুলোতে ভিজিডি’র কার্ড দেয়া হয়ে। এরপর দিলে তিনি চাইলে তাকেও দেয়া হবে।

  • আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ৬ শিক্ষক

    আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ৬ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়াসহ তিন দাবিতে অনশন করছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অনশনে এরইমধ্যে ছয়জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আদনান হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। এরআগে, সোমবার চারজনের অসুস্থ হওয়ার খবর জানান এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী।

    ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপনের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার শিক্ষা ভবন অভিমুখে শিক্ষকরা থালা-বাটি নিয়ে ভুখা মিছিল করেন।

    অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় এই সম্মতি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

    এদিকে, দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয়।

  • জনপ্রশাসনের ৯ সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর

    জনপ্রশাসনের ৯ সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর

    বিডিনিউজ ডেস্ক :

     

    সরকার জনস্বার্থে নয়জন সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে। সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।

    অবসরপ্রাপ্ত সচিবরা হলেন—

    ১. মো. মনজুর হোসেন (৫৪৯০), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ২. মো. মশিউর রহমান, এনডিসি (৫৫৬৮), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৩. মো. সামসুল আরেফিন (৫৭৭৩), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৪. মো. মিজানুর রহমান, এনডিসি (৫৯২৪), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৫. মো. আজিজুর রহমান (৫৯২৯), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৬. মো. নূরুল আলম (৫৯৯৪), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৭. ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ (৬০৬৫), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৮. ড. এ কে এম মতিউর রহমান (৭৬৩১), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    ৯. শফিউল আজিম (৬৩৬৫), বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সচিব), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    সুত্র: যুগান্তর

  • শাহবাগসহ সারা দেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শিক্ষকদের

    শাহবাগসহ সারা দেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শিক্ষকদের

    স্টাফ রিপোর্টার

    বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মাথায় কালো কাপড় বেঁধে শাহবাগে অবস্থান করে মৌন মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। জেলা সদর ও উপজেলা সদরে শিক্ষকরাও এই কর্মসূচি পালন করবেন।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসময় শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ থেকে সকল শিক্ষককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

    বক্তারা জানান, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ৩ দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফেরত যাবেন না তারা।

    এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) অষ্টম দিনের কর্মসূচি হিসেবে শিক্ষা ভবন অভিমুখে শিক্ষকদের ভুখা মিছিল কর্মসূচিটি পুলিশি বাধার মুখোমুখি পড়লে শিক্ষক নেতাদের পক্ষ থেকে আমরণ অনশন ও সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়।

    এদিন সকালে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়ায় সম্মতি দেয় অর্থ বিভাগ। কিন্তু সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

    বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ, মেডিকেল ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা ও উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসময় শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ থেকে সকল শিক্ষককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

  • আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    • ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থেকে চালাচ্ছেন পরিষদের কার্যক্রম। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সেবাসহ পরিষদের কাগজপত্র গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কোনো রকমে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অন্যদিকে কাগজে-কলমে গ্রাম আদালত পরিচালনা হলেও বাস্তবে পরিষদ থাকে বন্ধ। জনগণের সেবায় পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্যভাবে চালানো হচ্ছে পরিষদ। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চিত্রটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম আদালত পরিচালনার রুম তালাবদ্ধ। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকালে পরিষদের রুমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় শুধু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের রুম খোলা পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান যাদু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অদৃশ্য স্থান থেকে পরিচালনা করছেন। তিনি এক বছর ধরে পরিষদে আসেন না। তবে পরিষদের কাগজপত্র একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়।গ্রাম আদালত পরিচালনা নেই বললে চলে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবার কাগজপত্রে জনগণকে বুড়িরহাটে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে পরিষদের এলেও পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি থাকেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ অন্যান্য সভায় রয়েছেন প্রায় ৮ মাস ধরে অনুপস্থিত। তবু তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে।ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকাবাসী একরামুল জানান, চেয়ারম্যান অনেক দিন ধরে অফিসে আসে না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। জনগণ যেখান থেকে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে পাচ্ছে ভোগান্তি। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে যখন দেখছেন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, তখন তাদের বুড়িরহাটে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।গ্রাম পুলিশ আব্দুল ওহাবকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি কাগজপত্র চেয়ারম্যান সাহেবে যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি। আমাকে সচিব কাগজ দেন, আমি স্বাক্ষর নিয়ে আসি।হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোর্শেদুল হক বলেন, আমরা জনগণকে সেবা দিচ্ছি। প্রথমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করেন। অফিসের সব রুমে তালাবদ্ধ, কেউ কি অফিসে আসেন না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সচিব ম্যাডাম কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। গ্রাম আদালতের সব মামলা মীমাংসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আজ গ্রাম আদালত বসেনি। নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেয়া রয়েছে, জনগণ এলে দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান না আসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবায় একটু হলেও ভোগান্তি হচ্ছে।ইউপি সচিব আনোয়ারা বেগম জানান, চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন। জনগণের অতি প্রয়োজন হলে বুড়িরহাটে তার নিজস্ব অফিসে পাঠানো হয়। নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি অফিস থেকে কিছুক্ষণ আগে বাড়ি এসেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে এ রকম অভিযোগ আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি। উপজেলা পরিষদের সভায় তিনি প্রতিনিধি পাঠান। ওই চেয়ারম্যানের সাথে এখন পর্যন্ত আমার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কেন অফিস বন্ধ থাকে, কেন তিনি উপস্থিত থাকছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।