ক্যাটাগরি খবর

  • নাগপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চলছে ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে!

    নাগপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, চলছে ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে!

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরপুর উপজেলার হাজারো রোগী। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট চরমে। এছাড়া উপজেলায় স্থাপিত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ১৮ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা, সেখানে রয়েছে ১১ জন। এদের মধ্যে ৫ জন অন্যত্র প্রেষণে (ডেপুটেশন) কর্মরত। কাজেই মাত্র ৬ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এ ছাড়া ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন। অপর দিকে অ্যানেসথেশিয়া (অজ্ঞান-কারক), সার্জারি, কার্ডিও, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক, কান ও গলা জুনিয়র কনসালটেন্ট একজনও কর্মরত নেই।

    গুরুতর রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে এলে শুধু চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরসহ অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    সূত্রটি আরও জানায়, প্রশাসনিক শাখায় ক্যাশিয়ার, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর দুটি পদের মধ্যে দুটিই শূন্য রয়েছে। অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) চারটি পদের মধ্যে মাত্র একজন কর্মরত আছে, বাকি তিনটি পদ শূন্য । শূন্য রয়েছে দুই নার্স (সেবিকা) ও পরিছন্নতা কর্মীর পদ। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই আগের আমলের এনালগ এক্স-রে মেশিন দিয়ে চালানো হচ্ছে পরীক্ষা নিরীক্ষা।

    স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসক, ক্যাশিয়ার, হিসাব রক্ষক, নার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় এই হাসপাতাল যেন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচ করে কখনও কখনও অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শত শত রোগীদের মাত্র ৫ জন চিকিৎসক সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডা. মো. হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নিশ্চিত হলে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া আমি গত এপ্রিলে আমি যোগদান করার পর গত মার্চ মাসে হাসপাতালের ইউজার ফি ছিল ৯৯ হাজার ৯৭০ টাকা; যা বর্তমান জুলাই মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪ শত ১৫ টাকা।

  • মধুপুরে পুলিশের এসআই সেজে থানায় যুবক

    মধুপুরে পুলিশের এসআই সেজে থানায় যুবক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় পুলিশ পরিচয়ে তদবির করতে এসে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতেই আটক হয়েছেন এক যুবক।

    গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মধুপুর থানায় আটক হন এ ভুয়া পুলিশ সদস্য।

    আটক মো. মিজানুর রহমানের (৩০) বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারি উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামে। তার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধুপুর থানায় এসে মিজানুর নিজেকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ৩৬তম ব্যাচের একজন এসআই এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখায় কর্মরত আছেন বলে দাবি করেন।

    এ সময় তিনি মধুপুর পৌরশহরের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় এক পক্ষের হয়ে তদবির করতে আসেন।

    মধুপুর থানার এসআই সেলিম তালুকদারের কাছে তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি দ্রুত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর ইকবালকে জানানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয়ে অসংগতি ধরা পড়ে।

    একপর্যায়ে মিজানুর রহমান স্বীকার করেন, তিনি পুলিশের কেউ নন এবং ভুয়া পরিচয়ে তদবির করতে এসেছিলেন।

    পুলিশ জানায়, তিনি চুক্তির ভিত্তিতে ওই জমি সংক্রান্ত মামলায় একটি পক্ষের হয়ে কাজ করতে এসে এমন প্রতারণার চেষ্টা করেন।

  • গোপালগঞ্জে বিএনপির রেকর্ড

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য চলে আসলেও সেখানে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি ভিআইপি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি রেকর্ড গড়েছে। এ তিনটি আসনে বরাবর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। এ তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তিনটি আসনে মোট ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে।

    গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল­া জয়ী হয়েছেন। তিনি ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. ফারুক খান।

    গোপালগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসন থেকে টানা নয়বার নির্বাচিত হয়েছেন আরেক হেভিওয়েট নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম।

    গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। এ আসনটিও ছিল ভিভিআইপি আসন। এ আসন থেকে শেখ হাসিনা টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন।

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, প্রথমবার আমি ভোট দিয়েছি। পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়েছে এটি তারই প্রতিফলন।

  • নিখোঁজের ৩ মাস পর পুকুরে মিলল যুবকের মরদেহ

    নিখোঁজের ৩ মাস পর পুকুরে মিলল যুবকের মরদেহ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তিন মাস পর মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যা নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ভাকুড়ি গ্রামের একটি কচুরিপানা ভর্তি পুকুর থেকে তার গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তৌহিদুল মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের আকতার আলী মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তৌহিদুল ইসলাম হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে তৌহিদুলের বাবা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী ভাকুড়ি গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান স্থানীয় কয়েকজন। এসময় তারা পানির নিচে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা জড়ো হয় এবং পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মরদেহটি উদ্ধার করার পর নিখোঁজ তৌহিদুলের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাক ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে তাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় মরদেহটি প্রায় গলে গেছে।

  • বিরল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শিশুর জন্ম

    বিরল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শিশুর জন্ম

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সফল অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে দুটি নবজাতক শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে। সোমবার সকালে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নবজাতক ও মায়েরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নার্স-মিডওয়াইফ এবং মেডিকেল অফিসারদের একটি বিশেষ দলের সমন্বয়ে এই অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়।

    সফল এই সিজারিয়ান অপারেশনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন অবস এন্ড গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আহমদ শরীফ রুশো।উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে এমন উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

    এই বিষয়ে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পার্থ জ্বিময় সরকার জানান, নবজাতক এবং মায়েরা সকলেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।এদিকে, উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা।

    তারা জানান, বাড়ির কাছেই এমন নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ায় তারা আনন্দিত। একইসঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    এম কে

  • দিনাজপুরের খানসামায় টানা অগ্নিকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক

    দিনাজপুরের খানসামায় টানা অগ্নিকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গত তিন দিনে তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন সময়ের মধ্যেই এসব দুর্ঘটনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও গবাদিপশু পুড়ে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পর পর তিন দিন উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবার ও ব্যবসায়ী। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

    প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার ঈদের দিন রাতে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড় বাজারে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা এসব দোকান হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা। এরপর গত রবিবার ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকায় একটি বাড়িতে মশার কয়েলের আগুন থেকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে তিনটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যাওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত হয়। পরিবারটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস।

    তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারায় আগুন বড় এলাকায় ছড়াতে পারেনি। তিনি জনগণকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও খোলা আগুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, অসতর্কতার কারণেই অনেক সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের খুশির মুহূর্তে এসব ক্ষয়ক্ষতি সত্যিই বেদনাদায়ক। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এ ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ আগুনের আতঙ্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    এম কে

  • কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক অনন্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন দিনমজুর এনামুল হক। রেললাইন ভাঙা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লাল কাপড়ের বিকল্প হিসেবে কলার মোচার লাল অংশ ব্যবহার করে সংকেত দেন তিনি। এতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চগড়গামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং এর শত শত যাত্রী।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার  সকাল সাড়ে ৬টায় ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেললাইনের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায়। এনামুল হক (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিন ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় এনামুল লক্ষ্য করেন রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন। আশেপাশে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে তিনি উপস্থিত বুদ্ধিতে পাশের বাগান থেকে একটি কলার মোচা ছিঁড়ে নেন এবং এর লালচে পাপড়িগুলো একটি লাঠির মাথায় বেঁধে সংকেত হিসেবে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান।ঠিক সেই মুহূর্তেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর ‍‍`পঞ্চগড় এক্সপ্রেস‍‍` ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। দূর থেকে এনামুলের লাল সংকেত দেখতে পেয়ে ট্রেনের চালক নিরাপদ দূরত্বে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।

    এর ফলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। এ সময় এনামুলের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবেশী শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেনটি পার করার ব্যবস্থা করেন। পরে রেললাইনটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    ফুলবাড়ী স্টেশন মাস্টার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রকৌশলী টিম সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর বিশেষ করে এনামুল হকের এই সচেতনতার কারণে একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

    এম কে

  • পাম্পে তেল নিতে এসে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের কাহারোলে পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল নিতে এসে ‌‘হিট স্ট্রোক’ করে এনায়েতুল করিম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

    এনায়েতুল করিম বীরগঞ্জ উপজেলার সাঁতোর ইউনিয়নের সাঁতোর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

    তিনি কাহারোল উপজেলার ৪ নম্বর তারগাঁও ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে পাম্পে তেল নিতে ঢোকেন। পরে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, এনায়েতুল করিম সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছে দেখেন পাম্পে তেল দিচ্ছে। তিনি তেল নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘসময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে একপর্যায়ে ঘামতে শুরু করেন।

    এসময় মোটরসাইকেলসহ মাটিতে পড়ে যান এনায়েতুল। তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা উপস্থিত জনগণ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার বর্মন জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এনায়েতুল করিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এম কে

  • দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।

    ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইন দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেই বগিটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তার অভিমুখে যাত্রা করবে।

    দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নাম্বার লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। ২ নাম্বার লাইন দিয়ে অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। সকালে পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস সঠিক সময় ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে গেছে।

    এম কে

  • ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত ব্যবস্থাপকের দ্রুত অপসারণসহ প্রশাসনিক শাস্তির দাবিতে আজ বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    সোমবার বেলা ১১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি ঘোড়াঘাট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক শাখা থেকে জনৈক সেবাগ্রহীতার কাছে একটি ভুল লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পর্কে সত্যতা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ব্যাংক ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।

    তবে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন যে, ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন তাদের সাথে চরম কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার আচরণ করেছেন যা পেশাগত মর্যাদাহানির শামিল।উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

    বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, উক্ত ব্যবস্থাপক শুধু সাংবাদিকদের সাথেই নয়, বরং ব্যাংকে আসা সাধারণ মানুষের সাথেও প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। তার এই একগুঁয়েমি ও অপেশাদার মনোভাবে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাংকের সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।মানববন্ধন চলাকালীন বিক্ষুব্ধ বক্তারা অবিলম্বে উক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

    তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্মানজনক সমাধান এবং অভিযুক্তের অপসারণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও এলাকার সচেতন নাগরিক এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ব্যবস্থাপকের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

    এম কে