ক্যাটাগরি খবর

  • খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এরশাদ উল্লাহকে

    খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় এরশাদ উল্লাহকে

    ডেস্ক নিউজ :

    চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর গুলি চালানো হয় তার নির্বাচনি প্রচারণার সময়। বুধবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ থানার চাইল্লাতলী এলাকায় এ হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সঙ্গে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজন যুবক এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গণসংযোগের সময় দুই হাত দূর থেকে বিএনপির প্রার্থীর দিকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়।

    ঘটনাস্থলে রক্তে ভিজে পড়ে থাকা প্রচারণার ব্যানার ও ছেঁড়া প্যাডফ্লেক্স- যেন সহিংস নির্বাচনের ভয়াবহ এক পূর্বাভাস।

    বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হামজারবাগ চাইল্লাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। পরে গণসংযোগ করে সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। হঠাৎ গলির দিক থেকে মোটরসাইকেলের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটির পর একটি গুলি। সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এরশাদের পায়ে গুলি লাগে বলে জানিয়েছেন তার সহযোগীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ‘আমরা বুঝে ওঠার আগেই গুলির শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে,’ বলেন প্রত্যক্ষদর্শী মো. হুমায়ান নামে এক দোকানদার। ‘তিনটা মোটরসাইকেলে অন্তত আটজন ছিল। তারা হেলমেট পরা, মুখ ঢেকে এসেছিল।’ আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রায় সবারই কাছে পিস্তল ছিল। গুলির শব্দ শোনার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।

    ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই সময় তার দিকে দুই হাত দূর থেকে পিস্তল বের করেন একজন। তারপর তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, নির্বাচন বানচাল করতেই এই হামলা। প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানাই।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সরোয়ার বাবলা নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, পরে তিনি মারা যান।

    ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়।

    চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    সুত্র আমার দেশ

    বি/ এ

  • মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

    মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

    ডেস্ক নিউজ:

     

    যশোরের মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছে। আজ বুধবার উপজেলার ঝিকরগাছা-মনিরামপুর সড়কের বাকোশপোল বাজার এলাকায়  মোটর সাইকেল – ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন মনিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের রণজিত কুমার দাস (৪৯) ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া দাস (৪০)। রণজিত মনিরামপুর উপজেলার বাজিতপুর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ আর মহিলা কলেজের প্রভাষক ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া দাস একই উপজেলার জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল দপ্তরে মেকানিক পদে কাজ করতেন।

    রণজিতের ভাই জীবন কুমার দাস জানান, স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে নিজ গ্রাম থেকে মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন রণজিত। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাওয়ার টিলারের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁরা উভয়ই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে উভয়কে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, পাওয়ার টিলারের চালক পালিয়েছেন। পাওয়ার টিলারটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    বি/এ

     

     

  • মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং ‘গাজায় নীরবতার উপর সত্যের বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইসরাইলি নীতির সমালোচনা করায় তাকে ইহুদি-বিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ভোটাররা বুঝেছেন, গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের আহ্বান। মামদানি বলেছেন, “ন্যায়বিচার কখনো নির্বাচনী হতে পারে না।”

    এর বিপরীতে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো ইসরাইলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বিচার করা হয়, তবে তিনি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। তার এই অবস্থান যে নৈতিক অন্ধত্বকে প্রকাশ করছে, নাগরিকরা তা বুঝতে পেরেছেন।

    হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জিয়াদ মোতালা আল জাজিরায় এক মন্তব্যে বলেন, “মামদানিকে বেছে নিয়ে ভোটাররা, দাতাদের আনুগত্যের উপর জনস্বার্থ এবং গাজায় নীরবতার উপর সত্যকে সমর্থন করেছেন।”

    মামদানি তার প্রচারণায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রচলিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। তিনি শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে চেয়েছেন। কে এই শহরে টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে তার নীতিনিষ্ঠ স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার, সর্বজনীন শিশু যত্ন ও বিনামূল্যে গণপরিবহন পাশাপাশি, ধনীদের ন্যায্য কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বার্থে মুদি দোকানের সরকারি মালিকানা প্রস্তাব করেছেন।

    মামদানির বিরোধীরা তাকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করলেও, ভোটাররা এই পুরনো ভয় দেখানোর কৌশল প্রত্যাখ্যান করেছেন। মামদানি ট্রাম্পের মতো বিভাজনের রাজনীতির নয়, বরং জনসাধারণের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    নিউইয়র্কের তরুণ ভোটাররা এবার একটু অন্যরকম ছিলেন। তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গাজার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। আর তাই ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ এই তত্ত্বকে তারা গ্রহণ করেননি। এমনকি অনেকেই প্রকাশ্যে ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলতেও ভয় পাননি।

    অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতাও ভোটারদেরকে চরম হতাশ করেছে। সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ ‍ছিল দাতা শ্রেণীর প্রতি নির্ভরতার প্রতিফলন।

    জোহরান মামদানির বিজয় আজ এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশার প্রতীক। তরুণরা আর ‘ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ হলেও মেনে নিতে হবে’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তারা এমন রাজনীতি চায় যা সত্য বলে এবং তার ওপর কাজ করে।

    সূত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার হামজারবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রাম–৮ (বাকলিয়া–বোয়ালখালী) আসনের প্রার্থী। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এরশাদ উল্লাহ তার নির্বাচনি কার্যালয় থেকে কর্মীদের সঙ্গে প্রচারণায় বের হন। হামজারবাগ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় একজন নিহতের খবর শোনা গেছে, তবে এখনো নিশ্চিত নই।

    এভারকেয়ার হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর বুকের বাঁ পাশে গুলির আঘাত লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। দলটির পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

  • পান তোলা ও পরিবহন খরচই উঠছে না

    পান তোলা ও পরিবহন খরচই উঠছে না

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পানের দাম কম হওয়ায় পানচাষিরা হতাশ। দাম অত্যন্ত কম ও খরচ অত্যধিক বেশির কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক। ভেঙে ফেলছেন পানের বরজ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। যেখানে প্রতি বছরে ৭ হাজার মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়। তা ছাড়াও ব্রিটিশ আমল থেকে এই অঞ্চল পান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ।

    উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন জুনিয়াদহ, ধরমপুর ও বাহাদুরপুরের প্রান্তিক পান চাষিদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র ফুটে ওঠে। বিঘা প্রতি নতুন পান বরজে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। যেখানে পান বিক্রি করে আসছে ১ লাখেরও কম। পান বরজের সরঞ্জামের দাম বেড়েছে পূর্বের চেয়ে তিনগুণ। পূর্বে যে শ্রমিকের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে তা হয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। তাই অনেকেই পান বরজ মেরামত না করে রেখে দিয়েছেন। দাম কম হওয়ায় কেউ আবার বরজের পান ভাঙছেন না। ঋণের দায়ে জর্জরিত কেউ কেউ বরজ ভেঙে অন্য চাষাবাদ করার মনস্থির করেছেন। বরজের ওপর ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে হয়েছেন এলাকা ছাড়া।

    উপজেলার বৃহত্তম হাট জগশ্বর পান হাটে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ থেকে ২০০ টাকা বিড়ার পান বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৩০ টাকায়। খুব ভালো মানের পান বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা বিড়া। পান বিক্রি করতে আসা পানচাষি মো. রফি জানান, প্রতি বিড়া ৭ টাকায় বিক্রি করলাম, যা গত বছর করেছি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। পান ভাঙা আর যাতায়াত খরচই উঠল না। এ ব্যবসা আর হবে না। (এক বিড়া সমান ৮০টি)।

    বাহাদুরপুরের পানচাষি ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জমেলা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘৪০ বছরের পুরোনো পান বরজ আমার। না পারছি ভাঙতে, না পারছি রাখতে। পান বাজারে নিলে খরচের টাকাও ফিরে পাচ্ছি না।’

    জগশ্বর পানহাটের সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন জানান, উৎপাদন বেশি ও রপ্তানি না থাকায় এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পানের দাম অনেক কম। কিন্তু শ্রমিক ও পান বরজের সরঞ্জামের দাম পূর্বের থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় প্রান্তিক পানচাষিদের মধ্যে হাহাকার লক্ষ করছি। ভেড়ামারা উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান কালবেলাকে জানান, দাম কম হওয়ায় পানচাষিদের বেহাল দশার বিষয়টি আমরা শুনেছি। পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে পান রপ্তানি হলেও এখন সেটা হচ্ছে না বললেই চলে। আপাতত পানচাষিদের সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই।

     

  • সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    ডেস্ক নিউজ :

     

    রাতের আঁধারে সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একদল শিকারি। তবে বন বিভাগের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে পুরো চক্রটি।

    শনিবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির হোন্দল এলাকা থেকে সাত শিকারিকে আটক করে বন বিভাগের স্মার্ট টিম–১ এর সদস্যরা।

    বন বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বন বিভাগের পতাকাসহ দুটি ট্রলার, ১০০টি হরিণ শিকারের হাটা ফাঁদ, একটি মই জাল, একটি করাত, ২০টি কন্টেইনার, দুটি ড্রাম, একটি নোঙর, তিনটি ত্রিপল, দুটি পাতিল ও দুটি ককসিট জব্দ করা হয়।

    আটকরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শগুনা গ্রামের মনোজ পাল (৪২), বাইনতলা গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫৬), চাঁনপুর গ্রামের মুনাফ আলী মোল্লা (২২), মোজাম্মেল শেখ (৫২), বারইপাড়া গ্রামের খান তামিম (২০), ওহিদ মল্লিক (৩৬) এবং মোংলার জয়মনি গ্রামের আলী হোসেন (৪৫)।

    বন আইনে মামলা দায়েরের পর রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আটক সাতজনকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গভীর রাতে হোন্দল এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একটি চক্র। আমাদের স্মার্ট টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    বি/এ

  • খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    খুলনায় বিএনপি অফিসে হামলা-গুলি, স্কুল শিক্ষক নিহত

    ডেস্ক নিউজ :

     

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আইটি গেট সংলগ্ন স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা । এতে গুলিতে স্কুল শিক্ষক ইমাদুল হক (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বছিতলা নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। এর আগে তিনি ইউসুফ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

    এছাড়া যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মামুন শেখসহ (৪৫) আরো দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অন্যরা হলেন—বেল্লাল খান (৫৫) ও মিজানুর রহমান (৫৮)। তাদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে বিএনপি নেতা মামুন শেখ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অফিসে বসেছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ অফিস লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ও চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক ইমাদুল হক, মামুন, বিল্লাল ও মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন৷ পরে তাদেরকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাদুল হক মারা যান। তিনি এশার নামাজের পর ওই বিএনপির অফিসে ওয়াজ মাহফিলের টাকা কালেকশন করার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    কেএমপির এসি (মিডিয়া) মো. শফিকুল ইসলাম জানান—সন্ত্রাসীদের গুলিতে ও বোমা হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানতে পেরেছি ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ কাজ করছে।

    সুত্র: দৈনিক আমার দেশ

  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    ডেস্ক নিউজ:

    বর্তমান সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের বোঝা মনে করে ভিক্ষাবৃত্তি বা নির্ভরশীলতার পথ বেছে নেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার মঙ্গল মিয়া সেসব মানুষের জন্য অনন্য উদাহরণ। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাবলম্বী হয়ে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল মিয়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে দৃষ্টিহীন। তবু তার কথা বলা, চলাফেরা ও কাজের ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি চোখে দেখতে পান না।

    প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল মিয়া হাতে একটি লাঠি নিয়ে বের হন। কোনো সহযোগিতা ছাড়াই তিনি খুলেন নিজের ছোট্ট দোকান। সেখানে তিনি বাইসাইকেল, পানির পাম্প, স্যালো মেশিন এমনকি পাওয়ার টিলার পর্যন্ত মেরামতের কাজ করেন।

    অন্ধত্ব সত্ত্বেও তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের স্যালো মেশিন, টিউবওয়েল বা পাওয়ার টিলার মেরামতের জন্য একমাত্র মঙ্গল মিয়ার ওপর নির্ভর করেন। শুধু তাই নয়, তিনি হাতের স্পর্শেই টাকার পরিমাণ বুঝতে পারেন এবং একবার শোনা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারেন নিখুঁতভাবে।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গল মিয়া একজন পরিশ্রমী ও দক্ষ মেকানিক। অন্ধত্ব কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বহু দূর থেকেও মানুষ তার কাছে মেশিন মেরামত করাতে আসেন।

    নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মঙ্গল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর হলো আমি চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারানোর কাজ শিখেছিলাম। পরে স্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলার মেরামত শিখি। এমনকি একসময় বিদ্যুতের কাজও করেছি। একা একাই সব করি। এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখেরও বেশি টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।’

    চোখে না দেখেও জীবন ও পরিশ্রমের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মঙ্গল মিয়া। তার অদম্য সাহস ও পরিশ্রম প্রমাণ করে- ইচ্ছা থাকলে অন্ধত্বও কোনো বাধা নয়, বরং প্রেরণার উৎস হতে পারে।

  • মাগুরা সদরের ‍কৃষি অফিসার স্ট্যান্ড রিলিজ

    মাগুরা সদরের ‍কৃষি অফিসার স্ট্যান্ড রিলিজ

    ডেস্ক নিউজ:

    নানা অনিয়ম দূর্ণীতিতে অভিযুক্ত মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ তোজাম্মেল হককে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে।

    দীর্ঘ চার বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকার পর পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে তিনি একই কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মত দূর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

    মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক (পরিচিতি নং–৩৬৯৮, বিসিএস ব্যাচ–৩৬) এর বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–৯৮৯) প্রথম শোকজ নোটিশ জারি করেন। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–৯০৫) সরকারি তথ্য (PDS) সঠিকভাবে না দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–১৭০৪) তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে উপপরিচালক তাজুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে ১২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করেন উপপরিচালক তাজুল ইসলাম।

    নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তোজাম্মেল হককে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। তার এই গাফিলতির কারণে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।

    সুত্র: কালবেলা

  • স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে আর ফেরেনি

    স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে আর ফেরেনি

    ডেস্ক নিউজ:

    ড়াইলের কালিয়া উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে দিমা ইসলাম (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিমার বাবা কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ দিমা কালিয়া উপজেলার বাঁকা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শিকদারের মেয়ে।

    নিখোঁজের পরিবার ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিমা নিজ বাড়ি থেকে কালিয়া উপজেলার পিয়ারী মংকর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও ওই স্কুলছাত্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে দিমার বাবা গত শুক্রবার কালিয়া থানায় মেয়ের সন্ধান চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    দিমার মা নিলুফা বেগম বলেন, আমার মেয়ে খুবই সহজ-সরল। সেদিন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল, তারপর আর ফিরে আসেনি। আমরা খুব চিন্তায় আছি।

    কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তথ্য পাঠিয়েছি। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে।