ক্যাটাগরি ছবি

  • রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ:  ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার কী পরিণতি হতে পারে, তারই যেন আভাস দিয়ে গেল সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প না হলেও কম্পনের ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে গতকালের ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ঘনিয়ে আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, গতকালেরটি তার মধ্যে একটি। পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূতত্ত্ব ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

    তারা বলছেন, ঢাকার এত কাছে এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প এর আগে কখনো ঘটেনি। কম্পনের স্থায়িত্ব আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বেশি হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল। ভূমিকম্পে প্রাণক্ষয় কমাতে মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেব জোর দিতে হবে।

    আরো জানেত পড়ুন

    রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নগর সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশিরভাগই নির্মাণ হয়েছে নিয়ম-কানুন না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্প ঢাকা থেকে খুব কাছে ও কয়েক দশকের মধ্যে মাত্রা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকা এবং পুরান ঢাকা। তিনি বলেন, ‘এখনকার বিল্ডিংগুলো কোড মেনে চললেও রাজউকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রচুর বিল্ডিং হয়ে গেছে যেগুলোর ৯০ শতাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর কী হবে, যদি এরকম ভূমিকম্প রিপিট (পুনরাবৃত্তি) করতে থাকে?’

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার এক যৌথ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান প্লেটে এবং এই প্লেট উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। সিলেটের উত্তরে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট, যেটি দক্ষিণমুখী। এই দুই প্লেট একটি অন্যটিকে চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পূর্ব দিকে মিয়ানমার সাবপ্লেটেও সাবডাক্ট হয়েছে, উত্তরে ডাউকি ফল্ট আছে এবং পূর্বে মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট, মধুপুর ফল্ট থাকায় ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে কাছেই ছিল, ফলে অনুভূত হয়েছে অনেক বেশি। চট্টগ্রামের রাঙামাটি বা খাগড়াছড়িতে যদি ৭ মাত্রার ওপরেও ভূমিকম্প হয়, তাহলে আমরা ঢাকায় এতটা ঝাঁকুনি অনুভব করি না। তবে এই ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল আর ৫-৭ সেকেন্ড বেশি হলেই ঢাকার অনেক ভবনই ধসে পড়ত। এ ধরনের ভূমিকম্পের সম্মুখীন ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আগে কখনো হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে হতে পারে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মাত্র এক পয়েন্ট বেশি; কিন্তু বিষয়টি এমন না। ৫ মাত্রার চেয়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পনের প্রবণতা ১০ গুণ বেশি। এখানে প্রতিটি ভগ্নাংশ মানে এর তীব্রতা তত গুণ বেশি। ফলে এই ভূমিকম্পের প্রবণতা বা তীব্রতা অন্তত ১০০ কিলোমিটার রেডিয়াসে থাকে।’

    ঢাকা ও এর আশপাশে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থাকার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, তবে মাত্রা ছিল কম। এর মধ্যে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ৪ দশমিক ৫ মাত্রা, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪ দশমিক ৮ মাত্রা এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

    ঐতিহাসিকভাবেও এ অঞ্চল বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী। ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ (৮ দশমিক ০ মাত্রা) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এ ছাড়া ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প (৭ দশমিক ৬ মাত্রা) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভূমিকম্প হলে হতাহতের সংখ্যাও ভিন্ন হতে পারে: সকালে হলে মৃত্যু হতে পারে ২ দশমিক ১ লাখ থেকে ৩ দশমিক ১ লাখ মানুষের; বিকেলে হলে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ লাখ থেকে ৪ লাখ হতে পারে এবং রাতে হলে নিহতের সংখ্যা ৩ দশমিক ২ লাখ থেকে ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের লিনিয়ামেন্টে (ডাউকি ফল্ট লাইন) ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ হাজার ৯৩৫টি থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ভবন (১ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণও হবে ভয়াবহ। এতে প্রধান সড়কগুলোর ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শহরের ভেতরের সড়কগুলোর ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ ধসে যেতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো, প্রধান সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শহরের সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসাবে, পরিবহন খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে ৮৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ২৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ২১ দশমিক ৫ লাখের বেশি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৫ দশমিক ১৪ লাখ কনক্রিটের স্থাপনা। সমীক্ষায় ৩ হাজার ২৫২টি ভবন পরীক্ষা করে ৪২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে এবং আরও দেড় লাখ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা বহু পুরোনো ভবন এবং বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা ছয়তলার বেশি উঁচু ভবনগুলোই হবে প্রধান শিকার।

    বিশেষজ্ঞরা ঢাকার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তাগুলো বড় বাধা। অনেক ভবনই ভূমিকম্প সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি, যা এগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটির গঠনগত দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। দেশের বড় অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটির ওপর গঠিত। শক্তিশালী কম্পনে এই মাটি তরলীকৃত হয়ে যেতে পারে, যা ভবন ধসের কারণ হতে পারে।

    জাপান বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা, জরুরি মহড়া এবং কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ঢাকা শহরের ২১ লাখ ভবন এখনই পরীক্ষা করা দরকার। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না, রাজউককে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানান দেবে, সব ভবন চেক করে সার্টিফিকেট দিয়ে দেবে যে বিল্ডিংগুলো বিল্ডিং কোড অনুযায়ী হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের (গতকাল) ভূমিকম্পটা বলতে পারি একটা ফোরশক। অর্থাৎ বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। ১৯৩০ সালের পর এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি; কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা রয়েছে।’

    বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের অনেক বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভবন দেবে গেছে, ফাটল হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে ভবন, হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ২-৩ লাখ মানুষ হতাহত হবে, ঢাকা শহরের ৩৫ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়ার শঙ্কা আছে, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

    সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে জানিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আজকের (গতকাল) এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। আমরা সরকারকে বারবার বলে আসছি ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়ার বিকল্প নেই। সরকার ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে, সেখান থেকে দুর্নীতি করতে পারে; কিন্তু যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’

    আরো পড়ুন

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালবেলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরে জনসাধারণের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও খোলা জায়গার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যখন হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে একটু নিরাপদ বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন অধিকাংশ এলাকায়ই সেই খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঢাকা শহর এমনভাবে তৈরি ও সম্প্রসারিত হয়েছে যে, অধিকাংশ এলাকাতেই ফাঁকা জায়গা নেই। যেগুলো ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে কনভার্ট (পরিবর্তিত) হয়ে গেছে। ফলে ভূমিকম্প বা বড় কোনো বিপর্যয়ের সময় যেখানে গিয়ে মানুষ দাঁড়াতে পারবে, তেমন জায়গা অধিকাংশ এলাকায়ই অনুপস্থিত।’

    এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘ঢাকায় শত শত খোলা জায়গা তৈরি করা দরকার ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্যোগ না থাকায় বেসরকারি উদ্যোগে কখনোই এটা করা হবে না। এই উদাসীনতা দুর্যোগের সময় ঢাকাবাসীর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খেলার মাঠগুলোকে শুধু খেলাধুলা নয়, দুর্যোগেও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

    বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেও আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০০৭ সাল থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে ঢাকার আশপাশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এটাই সর্বোচ্চ। সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পর আফটার শক বা পরাঘাতের শঙ্কা থাকে, যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি।’

    বি/এ

    (বিস্তারিত…)

  • ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন দুই ভায়ই

    কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু খান (৬০) ও ফজলু খান (৫৫) নামে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে গরুর জন্য খড় আনতে যান নুরু খান। এ সময় আগে থেকে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের স্পৃষ্টে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ছোট ভাই ফজলু খানও একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।হোসেনপুর উপজেলার ৫নং শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরুজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এম কে

  • ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : সাদিক কায়েম

    ডেস্ক নিউজ:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। গত ৫৪ বছরেও বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হয়নি। যতদিন ইনসাফ কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। এদেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এবার সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলার বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

    সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে, তারা রাজনীতি নিয়ে ব্যাবসা করে। ক্ষমতায় বসলে আর সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ করে না। এমনকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করার দৃষ্টান্তও রয়েছে। আমরা রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই। যে রাজনীতি হবে গরিবের জন্য, সমতার জন্য, মুক্তির জন্য, ইসলামের জন্য। চিকিৎসা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তন দরকার। হাসপাতালের সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটা রাজনীতিক দল নির্বাচন হওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছে তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। কেউ যদি আবার নব্য ফ্যাসিস্ট হতে চান, আবার কেন্দ্র দখল করে ম্যাকানিজম করতে চান, তাহলে তাদের অবস্থাও ভয়াবহ হবে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এখনো শেখ হাসিনাকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনি হাসিনার রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর হবে না। একইসঙ্গে খুনি হাসিনার দোসরদের বাংলাদেশে রাজনীতি করবে তারাই, যারা বাংলাদেশপন্থি।
    ডাকসুর ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই আমরা যুক্ত ছিলাম। আমরা যখন যৌক্তিক আন্দোলন করেছিলাম খুনি হাসিনা আমাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পরও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়, সেসময়ও সহযোগিতা করেছেন মসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি জুলাইয়ে যোদ্ধা। সত্যকে বিজয় করার জন্য, স্বপ্নের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা করার জন্য আমাদের মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ভাইকে দরকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

    ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরমান হোসেন, যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের, যশোর-১ (শার্শা) আসনের প্রার্থী আজিজুর রহমান ও যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, জামায়াত নেতা গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।

    সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা উপজেলা আমির আব্দুল আলিম। বক্তব্য দেন যশোর জেলা পশ্চিমের মো. ইসমাইল হোসেন। সঞ্চালনা করেন ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম ও শিবির নেতা খালিদ বিন খলিল।
    বি/এ

  • ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ভূমিকম্পের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

    ডেস্ক নিউজ:

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানশুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেন।

    ওই বিবৃতিতে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নরসিংদীতে দু’ শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শ’র কাছাকাছি মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমি এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনদের সবরে জামিল দান করুন।’

    তিনি বলেন, ‘আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আহতদের শিগগিরই আরোগ্য কামনা করছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বিল্ডিং কোড মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনগণকে আরো সচেতন করা সরকারের দায়িত্ব। আমি আশা করি, জনগণ ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি অতিক্রম করতে সক্ষম হবেন, ইনশাআল্লাহ।’
    বি/এ

  • প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ

    ডেস্ক নিউজ:

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ফাঁকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও শারীরিক সুস্থতার খোঁজ নেন।
    এর আগে, সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ তথ্য জানান বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    প্রধান উপদেষ্টা এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং শুভকামনা জানান।

  • বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে

    ডেস্ক নিউজ:

    যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    বক্তব্যের শুরুতে ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এবং ২৪-এর অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান ও চলমান রাষ্ট্র সংস্কারে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে যাচ্ছে। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক ও বৈশ্বিক সহবস্থানে বিশ্বাসী। তবে যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষায় আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

    নির্বাচন আনন্দ ও উৎসবমুখর করতে সবাইকে মিলিতভাবে চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করবো।

    এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন দরকার। ফ্যাসিস্ট আমলে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পদক্ষেপ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে ১০টি মিশনে সেনা সদস্যরা কাজ করছেন। বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশও আমরা, কাতার আমাদের থেকে জনবল নেবে, এসব আমাদের গৌরবের স্বীকৃতি।

    ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দিনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙালি জনগণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন।

    তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সমন্বিত অভিযান আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের অতুলনীয় ত্যাগের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

    ড. ইউনূস শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদেরও স্মরণ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে বাঙালি সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা-সাধারণ মানুষ যার যা ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। এভাবে যুদ্ধটি একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধে রূপ নেয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাংগঠনিক রূপ দেয়ার জন্য একপর্যায়ে যুদ্ধরত সব বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে একীভূত করা হয় এবং সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে অসামান্য সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালিত হয়।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার ও নাবিকদের সমন্বয়ে গঠিত নৌকমান্ডো দল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নদীবন্দরে খাদ্য ও রসদবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘কিলোফ্লাইট’ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলা চালায়। এসব দুঃসাহসী অভিযান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

    নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণ সমাজকে সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মেধাভিত্তিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে দেশগঠনে অবদান রাখতে সক্ষম করতে হবে। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত ও জীবিত ছাত্র-জনতার প্রতি আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকব যেন তাদের দেয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি।
    বি/এ

  • ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ডেস্ক নিউজ:

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা সদর ও পলাশ উপজেলায় ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী জেলার সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্যমতে ভূমিকম্পে আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে উঁচু ভবন থেকে নামতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন।

    সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি নামক স্থানে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে ৪ জন আহত হন। তন্মধ্যে মারাত্মকভাবে মাথায় আহত ২ (দুই) জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। প্রেরিত দুই জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু হাফেজ ওমরকে (৮ বছর) মৃত ঘোষণা করেন এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

    অন্যদিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামক এক বৃদ্ধ মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন (৬০), পিতা: সিরু মিয়া, ভূমিকম্পের সময় ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার পথে রাস্তা থেকে নিচে লাফ দিয়ে পড়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করায় নিকটাত্মীয়গণ তার মরদেহ হাসপাতালে নেননি।

    এদিকে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা (পূর্বপাড়া) গ্রামে ফোরকান (আনুমানিক ৪০) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে যান। এরপর তাকে তাৎক্ষণিক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিলে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করে। সেখানে নেওয়ার পথে রাস্তায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    হতাহত ছাড়াও ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও সাবস্টেশনের বিপুল পরিমাণ পিটি (প্রডাকশন ট্রান্সফরমার) ভূ-কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে।

    এদিকে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া প্রডাকশন ভূমিকম্পের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ভূ-কম্পনের সময় ইঞ্জিন মেশিনারিজ ভাইব্রেশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায় এবং মেশিনারিজ চেকিং অপারেশনে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ভূমিকম্প সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
    বি/এ

  • বালুর ট্রাকে লুকানো ছিল ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য

    বালুর ট্রাকে লুকানো ছিল ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য

    ডেস্ক নিউজঃ

    হবিগঞ্জে বালু ও পাথরের ভেতরে লুকিয়ে ৫টি ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল সাড়ে ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য। পাচারের সময় এসব পণ্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ বিজিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান।এ সময় তিনি জানান, শনিবার থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫টি বালু ভর্তি ও পাথরবোঝাই ট্রাক আটক করে ভারতীয় জিরা, শাড়ি, কসমেটিক্সসহ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আটক করা হয়। এ সময় চোরাকারবারিরা অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।তিনি আরও জানান, চলতি মাসে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে আটক করা হয়েছে ৩৭ জনকে।তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তি ডিভাইস ব্যবহার করে বিজিবি পাচারকারীদের শনাক্ত করে এসব পণ্য আটক করেছে। আটক পণ্যগুলো কাস্টম অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    এম কে

  • বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

    ডেস্ক নিউজঃ

    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় আগৈলঝাড়ার সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।এতে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে রবীন্দ্রনাথ গাইন বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে বিষোদগার করেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।এ আসনে যাকে (জহির উদ্দিন স্বপন) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন তারা।বিক্ষোভ সমাবেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে

    বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে

    ডেস্ক নিউজঃ

    কতবার যে ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই, তবে এবার সেই ভারতকে ধরাশায়ী করে স্বপ্ন সত্যি করার পথে বাংলাদেশ। রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে ভারতকে বিদায় করে ফাইনালে আকবর আলীর দল।অবশ্য সেমিফাইনালে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৯৪ রানের বিশাল পুঁজি নিয়েও জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে সুপার ওভার পর্যন্ত। তবে সেখানে আর ভারতকে পাত্তাই দেননি রিপন মণ্ডলরা।

    এম কে