ক্যাটাগরি ছবি

  • জীবননগরে পেয়ারা গাছের সাথে শত্রুতা!

    জীবননগরে পেয়ারা গাছের সাথে শত্রুতা!

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শত্রুতার জেরে জালাল উদ্দিন নামের কৃষকের প্রায় ৩০০টি উচ্চ ফলনশীল জাতের পেয়ারা গাছ কেটে ফেলেছে  দুর্বৃত্তরা । রোববার দিনগত রাতে উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মাঠে ঘটনাটি ঘটেছে ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে জালাল উদ্দিনের ২৫ কাঠা জমিতে  ৩০০টি পেয়ারার চারা রোপণ করেন এবং গত দুই বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানটিকে ফল ধরা শুরু হয়।  রাতের আঁধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাগানের সমস্ত গাছ কেটে ফেলে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, প্রায় দেড়  লাখ টাকা খরচ করে তিনি এই পেয়ারা বাগান তৈরি করেছিলেন। গাছে ফুল ও ফল ধরায় তিনি লাভের আশা করছিলেন। এই বছর তিনি প্রায় তিন লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করতে পারতেন। তিনি বলেন, হরিহার নগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে আলমগীর হঠাৎ করে আমার এই জমি তার বলে দাবি করে। এই নিয়ে কয়েকবার তার সাথে আমার ঝামেলা হয়েছে সে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেয় এবং আমার ছেলের গলায় হেসো ধরে। এর আগেও সে একবার আমার জমির নেটের বেড়া কেটে দেয়। আমরা এই জমিতে ৫৩ বছর চাষাবাদ করছি আমার দাদার কেনা জমি আজ হঠাৎ করে তারা এই জমি তাদের বলে দাবি করছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে। দুর্বৃত্তরা আমার সব গাছ কেটে দিল। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কয়েক লাখ টাকার ফল উৎপাদনের স্বপ্ন ভেঙে গেল। এই ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    ডেস্ক নিউজ:

    বর্তমান সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের বোঝা মনে করে ভিক্ষাবৃত্তি বা নির্ভরশীলতার পথ বেছে নেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার মঙ্গল মিয়া সেসব মানুষের জন্য অনন্য উদাহরণ। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাবলম্বী হয়ে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল মিয়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে দৃষ্টিহীন। তবু তার কথা বলা, চলাফেরা ও কাজের ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি চোখে দেখতে পান না।

    প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল মিয়া হাতে একটি লাঠি নিয়ে বের হন। কোনো সহযোগিতা ছাড়াই তিনি খুলেন নিজের ছোট্ট দোকান। সেখানে তিনি বাইসাইকেল, পানির পাম্প, স্যালো মেশিন এমনকি পাওয়ার টিলার পর্যন্ত মেরামতের কাজ করেন।

    অন্ধত্ব সত্ত্বেও তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের স্যালো মেশিন, টিউবওয়েল বা পাওয়ার টিলার মেরামতের জন্য একমাত্র মঙ্গল মিয়ার ওপর নির্ভর করেন। শুধু তাই নয়, তিনি হাতের স্পর্শেই টাকার পরিমাণ বুঝতে পারেন এবং একবার শোনা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারেন নিখুঁতভাবে।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গল মিয়া একজন পরিশ্রমী ও দক্ষ মেকানিক। অন্ধত্ব কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বহু দূর থেকেও মানুষ তার কাছে মেশিন মেরামত করাতে আসেন।

    নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মঙ্গল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর হলো আমি চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারানোর কাজ শিখেছিলাম। পরে স্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলার মেরামত শিখি। এমনকি একসময় বিদ্যুতের কাজও করেছি। একা একাই সব করি। এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখেরও বেশি টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।’

    চোখে না দেখেও জীবন ও পরিশ্রমের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মঙ্গল মিয়া। তার অদম্য সাহস ও পরিশ্রম প্রমাণ করে- ইচ্ছা থাকলে অন্ধত্বও কোনো বাধা নয়, বরং প্রেরণার উৎস হতে পারে।

  • শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    ডেস্ক নিউজ:

    মেহেরপুরে শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে কৃষকের মাঠ।  শীতের আগমনি বার্তার সাথে সাথে হরেক রকমের শীতের সবজিতে ভরে যাচ্ছে গ্রামীন বাজার গুলো।

    জেলার মাঠজুড়ে চাষ হচ্ছে ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, সিম, করলা, টমেটোসহ নানান আগাম জাতের সবজি। ভোর হলেই কৃষকরা ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার কেউ ফসল বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি নেন।

    জেলার সাহারবাটি মাঠের চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের বাধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। আগাম জাতের সবজি হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি ফুলকপি ১২০ টাকা ও বাধাকপি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হবে। তাই এই সকল সবজি চাষে অনেক চাষিদের আগ্রহ বেশি।

    একই মাঠের লাউ চাষি সেলিম রেজা বলেন, এক বিঘা জমিতে লাউ লাগিয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিনই জমি থেকে প্রায় চারশ পিস লাউ উত্তোলন করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস লাউ ৩০-৩৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হচ্ছে।

    এছাড়া এই মাঠের বিভিন্ন সবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করা হয়। তবে জেলার মটমুড়া মাঠের শিম চাষি রাকিব অভিযোগ করে বলেন, সার-বিষের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনূকুলে না থাকায় সবজিতে বেশি পরিমাণে সার ও বিষ স্প্রে করা হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দামে বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম বাজারে পাইকারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

    মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছি। এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি হলেও আগাম শীতকালীন সবজির চাষ ভালো হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর জেলাতে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এসব সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে।

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    • চরে সক্রিয় কাকন, মণ্ডল, টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনী
    • জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক ও অস্ত্র পাচারে জড়িত এসব বাহিনী
    • অনেকে বংশপরম্পরায় ধরেছেন বাহিনীর হাল। পুলিশের অভিযান শুরু। প্রথম দিনে গ্রেপ্তার নেই

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল এবং ভারত সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, শুধু কাকন কিংবা মণ্ডল বাহিনী নয়; টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনীও সক্রিয় এই চরাঞ্চলে।

    রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব বাহিনী জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাহিনী পদ্মার এমন দুর্গম চরে ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ সীমিত। রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলার দুর্গম চরাঞ্চলজুড়ে তাদের বিস্তার।

    সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরে কাকন বাহিনী ও মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন নিহত হন। এরপর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘কাকন বাহিনীর’ প্রধান কাকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট শতাধিক সদস্য নিয়ে পদ্মার চরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে প্রথম দিনের অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরের পদ্মা চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ডজনখানেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তবে ২০ বছর আগে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান ঘটেছিল বিস্তৃত পদ্মার দুর্গম এই চরাঞ্চলে। তাদের ভাগ না দিয়ে কেউ চরের ফসল ঘরে তুলতে পারত না। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে তাদের হাতে ওই সময় ৪১ জন খুন হয় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তখন চরের মাটিতে পা দিতে গা ছমছম করত। দুই বাহিনীর নাম ছিল ‘পান্না বাহিনী’ ও ‘লালচাঁদ বাহিনী’। পান্নার ওস্তাদ ছিলেন এই কাকন। সূত্র জানায়, এ বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ‘কাকন বাহিনী’র বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী, বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানায় মোট ছয়টি মামলা হয়েছে। বাহিনীর প্রধান কাকন পাবনার ঈশ্বরদী কলেজ রোডের বাসিন্দা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে।

    ১৯৯৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি চাকরি করলেও ২০০৫ সালে পান্না নিহত হওয়ার পর ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বালুমহাল দখল ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। বর্তমানে তাঁর বাহিনীতে প্রায় ৪০ জন সদস্য রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নইম উদ্দিন সেন্টুকে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসে টুকু বাহিনী। বাহিনীর প্রধান তরিকুল ইসলাম ওরফে টুকু ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দলের সদস্য ২০ জনের বেশি। হত্যাকাণ্ডের পর টুকুসহ বেশ কয়েকজন সহযোগীর নামে মামলা হয়, যদিও আটকের পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

    চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর মণ্ডলপাড়া এলাকায় রাজু আহমেদ (১৮) নামের এক যুবককে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সাইদ বাহিনী। বাহিনীর প্রধান আবু সাঈদ মণ্ডল (৩৫) মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর দক্ষিণ ভাঙ্গাপাড়া এলাকার ভাদু মণ্ডলের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ৯টির বেশি মামলা রয়েছে।

    ২০০৯ সালে লালচাঁদ বাহিনীর প্রধান লালচাঁদ নিহত হওয়ার পর তাঁর ভাই সুখচাঁদ দায়িত্ব নেন। তাঁরা ফিলিপনগর এলাকার বাসিন্দা।

    বাহিনীতে লালচাঁদের ছেলে রুবেলসহ একাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

    দৌলতপুর থানায় আলোচনায় থাকা আরেক বাহিনী ‘রাখি বাহিনী’র প্রধান রাকিবুল ইসলাম রাখি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে। এ ছাড়া রয়েছে কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী ও বাহান্ন বাহিনী।

    একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিপুল অস্ত্র দেশে ঢোকার তথ্য রয়েছে। জানা গেছে, তিন চালানে মোট প্রায় ২ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এসেছে দেশে।

    দুর্গম চরে অভিযান

    গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ১২০ জন সদস্য নিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিশ এই অভিযানে চরবাসী খুবই খুশি। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে তাঁরা আশা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

    গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই অভিযান রাতেও চলবে। অভিযান শেষ হবে না। এটা যে শুধু আসামি ধরা, তা নয়। মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এই চরগুলোতে আর হবে না।’ সূত্রঃ আজকের পত্রিকা

    বিডিটাইমস/এআর/নিই/

  • নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    নির্বাচন ঠেকানোর পাঁয়তারা করে লাভ হবে না : জুয়েল

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেছেন, জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে দেশের নেতৃত্ব। নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা বা বানচালের পাঁয়তারা করে কোনো লাভ হবে না।

    তিনি বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, আর জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন।

    শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজার ও শেহালা এলাকায় বিএনপির দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের পর টানা দুটি উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল। এ সময় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা জানে, অরাজকতা বা ষড়যন্ত্র করে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায়। তারা গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায়। তিনি আরও বলেন, যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে, তারা আসলে জনগণকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

    বৈঠকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের একটি দফা ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি ৩১ দফা সুফল সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরে তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শরিফ উদ্দিন জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরের মানুষের পাশে আছেন। তিনি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচনে তিনি দৌলতপুরবাসীর আস্থা অর্জন করবেন।

    উঠান বৈঠক শেষে শরিফ উদ্দিন জুয়েল এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি থেকে যদি মনোনয়ন পাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে দৌলতপুরকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।

    স্থানীয় তরুণরা বলেন, শরিফ উদ্দিন জুয়েলের মতো নেতৃত্বই দেশের প্রয়োজন যিনি রাজনীতিকে জনগণের সেবার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে জানেন।

    বৈঠকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    বিডিটাইমস/এআর/নিই/

  • চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের জিআই পণ্য খেজুর গুড়ের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কা’টার (গাছ তোলা ও চাচ দেয়া) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
    রোববার (২নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুরে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার।
    এসময় এসিল্যান্ড প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আনোযারুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, সমবায় কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    হায়াতপুর গ্রামের গাছি আব্দুর রহমান গাজী গাছ তোলা ও চাচ দেয়া কাজ করেন। তার সাথে গাছি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন গাছি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
    ২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার উদ্যোগে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে খেজুরগুড়ের মেলা, গাছিদের প্রশিক্ষণ, গাছি সমাবেশ, গাছিদের সমবায় সমিতি গঠন, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই বছর যশোরের বিখ্যাত খেজুর গুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে খেজুরগুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় সরকার। সে বছর থেকে প্রতি বছর ১লা মাঘ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাটি খেজুর গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও মেলা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা প্রশসন সূত্রে জানা গেছে।
    বিডিটাইমস/এআর/নিইআর/
  • অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    অসময়ে তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরমুজ চাষি বেল্লাল।

    বছর ছয়েক আগেও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের এই চাষি অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারে বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তার টানাটানির সংসার। একার আয়ে সংসার চালানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু অসময়ে তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি। ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি অসময়ে তরমুজ চাষ করে তার ভাগ্য বদলেছে।


    শুরুতে নিজের দুই বিঘা জমিতে তিনি তরমুজের চাষ শুরু করেন। লাভের মুখ দেখায় পরের বছর আরও কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষের ব্যপ্তি বাড়ান। দিন দিন আয় বাড়তে থাকে তার। তারপর অন্যেদের দেখাদেখি অফসিজনে তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। আরও কিছু জমি যুক্ত করে মাছের ঘের তৈরি করে চার পাড়ে মাচা করে শুরু করেন তরমুজ চাষ।

    দেখা যায়, ঘেরের পাড়ে পানির ওপর বাঁশের খুঁটির ওপর নেট দিয়ে মাচা তৈরি করা। মাচায় ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। প্রত্যেকটি তরমুজ নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুকুরে রয়েছে নানান জাতের দেশি মাছ। পথের পাশে লাগিয়েছেন করলা, পুঁইশাক, লাউসহ নানান জাতের সবজি।

    বেল্লাল বলেন, অফসিজন তরমুজ চাষে পরিশ্রম তুলনামূলক কম। সিজনের তরমুজ বিলের ভিতর চাষ করায় পানি সেচ করতে হয়, যেটা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। কিন্তু ঘেরের পাড়ে তরমুজে এই পানি সেচের কাজটা করা লাগে না।

    তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এ সিজনে অন্তত ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার প্রত্যাশা তার। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।

    তরমুজ চাষি বিল্লাল  বলেন, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ চাষ করতাম। এখন অফসিজন তরমুজ চাষ শুরু করেছি। প্রতিটা তরমুজ ৩.৫ কেজি থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। সিজনের তরমুজ থেকে এখনকার তরমুজের স্বাদ অনেক বেশি। শহর থেকে পাইকাররা ক্ষেতে এসে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণ দরে কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

    বেল্লাল এখন সচ্ছল। তার ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা তার। ছেলে মেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে ভাবতে হবে না তাকে। বেল্লালের স্বপ্ন আগামী বছর তার ক্ষেতের পরিসর আরও বাড়াবে। বাড়বে আয়ও।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, খুলনার আবহাওয়া ও মাটি অফসিজন তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। জেলার সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয় বটিয়াঘাটায়। এ বছর অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষি অফিস থেকে সার, বীজসহ বালাই নাশক সরবারহ করা হয়েছে। বেল্লালের মত তরমুজ চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। কৃষি অফিস কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

  • সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

     

    সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে ভয়াবহ সহিংসতার পর রাস্তায় পড়ে আছে শত শত লাশ। কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই।

    শহরটি গত সপ্তাহে দখল করে নেয় আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এ সময় তারা কমপক্ষে ১,৫০০ মানুষকে হত্যা করে। শুধু একটি হাসপাতালে নিহত হয় প্রায় ৪৬০ জন।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরটিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপদের মধ্যে আছে। অনেকেই নিহত হয়েছেন, আহতরা খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন। শহর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে পালিয়ে গেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

    হায়াত নামে এক নারী জানান, সাতজন আরএসএফ সদস্য তাদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় অসংখ্য লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি, আহতদের কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।’

    আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হুসেইন বলেন, এল-ফাশেরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে আছে, তাদের কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই। অন্যদিকে, তাভিলা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তারা আশঙ্কা করছেন, যারা রওনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই পথেই মারা গেছে।

    জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, দারফুরে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

    সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস বলেন, দারফুরে এ হত্যাযজ্ঞ অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

    লুইস আরও জানান, মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রেও রক্তাক্ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে—বিশাল এলাকায় লালচে রঙে ঢেকে আছে মাটি এবং মৃতদেহের মতো ছায়া ফুটে উঠছে।

    সহিংসতায় জর্জরিত এল-ফাশের শহরে এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • খুলনায় পুকুরে মিললো ইলিশ

    খুলনায় পুকুরে মিললো ইলিশ

    বিডি নিউজ ডেস্ক

    খুলনার পাইকগাছায় একটি সরকারি পুকুরে দুটি ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি পুকুরে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে অন্য মাছের সঙ্গে দুটি ইলিশ উঠে আসে।

    পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বলেন, ভেটকি, রুই, কাতলার সঙ্গে দুটি ইলিশও জালে ধরা পড়ে। ইলিশ দুটির ওজন ৭০০ গ্রাম করে। স্থানীয়রা এ দুটি মাছকে ইলিশ বলে নিশ্চিত করেছেন।

    পুকুরে ইলিশ এলো কীভাবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হয়তো বন্যায় পুকুরের পাড় ডুবে গেলে এতে ইলিশ মাছ ঢুকে পড়ে।  পুকুরেই মাছ দুটি বড় হয়েছে এটা নিশ্চিত।’

    এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, নদীর কাছাকাছি পুকুরটি। জোয়ারের পানিতে কোনো একসময় ইলিশ ঢুকে পড়েছিল । পরে পুকুরের পানিতে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে মাছ দুটি বড় হয়েছে।

  • ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন হচ্ছে ছয় নদী

    ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন হচ্ছে ছয় নদী

    বিডি নিউজ ডেস্ক

    যশোরের ভবদহ এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকার ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে।

    সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজটি শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ভিডিওকলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এ কাজ উদ্বোধন করেন।  ভবদহ স্লুইস গেটের পাশে এসকেভেটর দিয়ে নদী থেকে মাটি তোলার মাধ্যমে খনন কাজ শুরু হয়। নদীগুলো হলো শ্রী, হরি, টেকা, হরিহর, আপার ভদ্রা ও তেলিগাতি।

    আলোচনা সভায় উপদেষ্টা বলেন, সরকার ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতার দুঃখ দূর করার চেষ্টাকরছে। ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যাকে অনেক গভীর সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার। নদী খনন কাজে যুক্ত হওয়ায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধ এলাকার পানি সরিয়ে ফেলা হবে। এতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে। সবাই মিলে সেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

    জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক বিএম আবদুল মোমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।