ক্যাটাগরি রাজনীতি

  • সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    ডেস্ক নিউজ:

    বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য।

    বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন।

    গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ আমার দেশকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

    সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

    ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’
    বি/এ

  • জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাড়তি সুবিধা পাবে নারী শ্রমিকরা

    ডেস্ক নিউজ :

    নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা বিধান করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘ডা. শফিকুর রহমান সমর্থক গোষ্ঠী’ মিরপুর-কাফরুল অঞ্চল (ঢাকা-১৫ আসন) আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ।

    জামায়াতের আমির বলেন, নারীদের কর্মে নিয়োগের নীতিমালা করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা পাঁচ ঘন্টা কাজ করবেন বিনিময়ে আট ঘন্টার পারিশ্রমিক পাবেন। পাঁচ ঘন্টার পারিশ্রমিক মালিকপক্ষ পরিশোধ করবেন এবং তিন ঘন্টার পারিশ্রমিক সরকার পরিশোধ করবে। যারা ঘরের কাজ করবেন তাদেরকে রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে। নারীরা আট ঘন্টা কাজ করতে চাইলে তাদেরকে সম্মানিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে আমার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না বরং আমি নিজে এসে আপনাদের সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।

    তিনি আরো বলেন, যুবকদের কাজ এখনো শেষ হয়নি তাদেরকে সমাজের সব জায়গা থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।

    ডা.শফিকুর রহমান আরো বলেন, সুশিক্ষার অভাবে বাংলাদেশ অনেক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে আছে। আল্লাহ আমাদেরকে সরকার গঠন করার সুযোগ দিলে প্রত্যেকটি শিশুকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলে ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তন করে দিব ইনশাআল্লাহ।

    সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মুসা দুর্নীতি, অন্যায় ও অশ্লীলতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

    প্রীতি সমাবেশে যোগদানের আগে সেনপাড়ার মসজিদুল আকসা জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ ও মসজিদুর রহমান জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান ও কুশল বিনিময় করেন জামায়াত আমির।

    এ সময় তিনি দেশের মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মসজিদ ও মসজিদের বাইরে কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করেন এবং সমাজের সব উন্নয়নমূলক কাজ মসজিদের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দেশ থেকে মন্দকে তাড়িয়ে ভালোকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুবকদেরকে অতীতের মত ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

    এছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ শাসক পছন্দের জন্য আল্লাহ ও নবীওয়ালা পথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেয় তাহলে আপনাদের আমানতের পাহারাদার হয়ে কাজ করব ইনশা’আল্লাহ।

    ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে ও কাফরুল পশ্চিম থানাদ ভারপ্রাপ্ত আমির আতিক হাসান রায়হানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনের সদস্য সচিব শাহ আলম তুহীন, উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ শহীদুল্লাহ, জোন টিম সদস্য জসীমউদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাফরুল জোন পরিচালক মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা নেসার উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কাফরুল পশ্চিম থানার কর্ম পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান, মো. সাইফুল্লাহ, খন্দকার মাহবুবুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, নাসিমুল গনি, আমিনুর রহমান আমানসহ স্থানীয় নেতারা
    বি/এ

  • নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথমবারের মতো সব প্রার্থীর জন্য একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য ‘আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেশ কিছু নতুন ও কঠোর বিষয় যুক্ত করে এই আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন এই বিধিমালায় ভোটের প্রচারণায় প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার এবং বিদেশে যে কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    বিধিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণ রোধ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পোস্টার ব্যবহার এবং ড্রোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে ২০টির বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।

    • এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটের প্রচারেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। বিশেষত, অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো প্রচার চালানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নতুন বিধান অনুযায়ী, আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে একটি অঙ্গীকারনামা জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এবার কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বিধিমালা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া, রাজনৈতিক দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে।

  • নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    যশোর জেলা প্রতিনিধি :

    বাঘারপাড়ায় আল হেলাল ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধসেবা প্রদান করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণির মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন যশোর ৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, উপজেলা আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি আ. জব্বারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাস্টার নাসির হায়দার। ক্যাম্পে ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিনব্যাপী রোগীদের সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন। অধ্যাপক গোলাম রসুলের তত্ত্বাবধানে আগত রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সে বিশ্বাস করে। যেখানে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া হয়। আমি নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তুলব। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটির যৌথ আয়োজন করে কাইন্ড ভিশন যশোর ও আল হেলাল ট্রাস্ট বাঘারপাড়া। স্থানীয় জনসাধারণ অধ্যাপক গোলাম রসুলের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
    বি/এ

  • আ. লীগকে রাজপথেই মোকাবিলার ঘোষণা শিবিরের

    আ. লীগকে রাজপথেই মোকাবিলার ঘোষণা শিবিরের

    ডেস্ক নিউজ :

    পতিত আওয়ামী লীগকে রাজপথেই মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।

    ওই পোস্টে তিনি বলেন, গণহত্যাকারী সংগঠন আওয়ামী লীগকে সরকার অনেক ছাড় দেওয়ায় আজ তারা চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তবে পতিত ফ্যাসিবাদকে রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা। তাদের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে সজাগ রয়েছে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
    বি/এ

  • বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

    ডেস্ক নিউজ :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন,বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে সরে গেছে। ৫ আগস্ট পরর্বতী সময়ে দলটি নিজেদের আদর্শ থেকে সরে গেছে। যারা বিএনপির এ পরিবেশে থাকতে অস্বস্তিবোধ করছেন আমরা আপনাদেরকে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের নমিনেশন দেব। আমরা কুমিল্লার ১১টি আসনে সৎ যোগ্য প্রার্থী দেব। আমরা প্রথম ধাপের প্রার্থী নভেম্বরের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করব। আমরা এ প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একটি প্রতিনিধিত্ব মূলক, ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী এবং ফ্যাসিবাদ মুক্ত সংসদ চাচ্ছি। যে সংসদ হবে বাংলাদেশপন্থি সংসদ।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এনসিপির কুমিল্লা মহনগর, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা বাংলাদেশপন্থি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যারা বিশ্বাস করে, যারা ভারতীয় আধিপত্য বিরোধীতায় বিশ্বাস করে, যারা এই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বাস করে, সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং যারা এই বাংলাদেশে যে জনআকাঙ্খার কারণে এ বিপ্লব হয়েছে, সেটিতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে নিয়ে আগামীর সংসদ গঠিত হোক।

    ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জয়নাল আবেদীন শিশির। কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাভিদ নওরোজ শাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান, সালাউদ্দিন জামিল সৌরভ কুমিল্লা মহানগর এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
    বি/এ

  • আজ কলি হয়ে আছি, একদিন ফুটবই: নাহিদ ইসলাম

    আজ কলি হয়ে আছি, একদিন ফুটবই: নাহিদ ইসলাম

    ডেস্ক নিউজ :

    আমরা আজ কলি হয়ে আছি। ইনশাল্লাহ, যদি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকেন, আমরা একদিন ফুটবই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে এনসিপির পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য এনসিপি অনেক লড়াই করে একটা সুন্দর প্রতীক জয় করে নিয়ে এসেছে, সেটি হচ্ছে শাপলাকলি। এটি আমাদের আপামর গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি, আমাদের নদীময় সভ্যতার প্রতীক শাপলাকলি শুভ্রতার প্রতীক।

    তিনি বলেন, আপনি হয়ত কখনো ভাবেননি যে, রাজনীতিতে আসবেন। রাজনীতি আপনার কাছে হয়ত একটা ভয়ের বিষয় ছিল। হয়ত অনেক দূরের একটা বিষয়। আপনি মনে করেন যে, রাজনীতি টাকাওয়ালাদের বিষয়। যাদের অনেক লোকবল আছে, রাজনীতি তাদের জন্য। কিন্তু এই রাজনীতি আপনার জীবন ধারা পরিবর্তন করে দেয়, কীভাবে তা পরিচালিত হবে? সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে? একটা রাষ্ট্র কোন দিকে এগোবে। ফলে রাজনীতিকে যে ঘৃণা করা, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা, এই জায়গা থেকে আমরা এবার সরে আসতে চাচ্ছি।

    এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা দেখেছি গণ-অভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদরা এসে কিন্তু লড়াইটা করেনি। রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও সাধারণ মানুষেরা এসেছেন। ফলে আপনার কাছে যদি দেশ বদলের অঙ্গীকার থাকে সেই ধরনের পরিকল্পনা থাকে আপনি এবার আসুন। রাজনীতিকে জয় করুন। রাজনীতিকে নিজের করে নিন। রাজনীতিকে আমরা আর চাই না। যে রাজনীতি কেবল সেই টাকাওয়ালা লুটেরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকবে না, চাঁদাবাজদের হাতে থাকবে না, রাজনীতি হবে সাধারণ মানুষের, সাধারণ জনগণের।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা সংসদ ভবনে আসে। আমরা এই সংসদ ভবনকে দখলমুক্ত করেছিলাম ৫ আগস্টে। যেই সংসদ ভবন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। জনগণের প্রতিনিধিরা এখানে ছিল না। এই সংসদ ভবনকে ব্যবহার করে আমাদের সংবিধানকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। আমাদের রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। এই সবকিছু থেকে মুক্ত করতেই কিন্তু আমরা ৫ আগস্ট সংসদ ভবনে এসেছিলাম। সামনেই নির্বাচন হবে। আমরা ৫ আগস্টের পরে পুরা সময়টা ধরে নানা কমিশন ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের কোথায় কী সমস্যা সেই সমস্যাগুলোকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। একটা ঐকমত্যের জায়গায় এসেছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে এই সংসদের উপরে। এই সংসদ একটি সংস্কার পরিষদ সভা হবে। যেখানে আমরা যে পরিবর্তনের কথাগুলো বলেছি সেই পরিবর্তন গুলা বাস্তবায়িত হবে। ফলে এবারের সংসদ বাংলাদেশের ইতিহাসের যে কোনো সংসদের থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
    বি/এ

  • বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত

    ডেস্ক নিউজ:

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

    রোববার বিকালে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবিদ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা উত্তর ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তার বাবা দক্ষিণ জেলা উলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
    বিজ্ঞাপন

    জানা যায়, সন্ধ্যায় গৌরীপুর সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন।

    ইকবাল হোসেনের সমর্থকদের অভিযোগ, সমাবেশ শেষে শহরে ফেরার পথে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলকর্মী আবিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পর রাতে ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের পক্ষে গৌরীপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক প্রমুখ।

    তাদের দাবি, মনোনয়নবঞ্চিত হিরণপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে ইকবাল সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হিরণ সমর্থকদের ধাওয়ায় মাটিতে পড়ে আবিদ গুরুতর আহত হন।

    এদিন বিকালে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালপন্থিরা গৌরীপুর সরকারি কলেজের হোস্টেল মাঠে এবং আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরণপন্থিরা শহরের মধ্যবাজার ধানমহাল এলাকায় আলাদা সমাবেশের আয়োজন করে। বিকাল ৪টা থেকে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, যার পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

    গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় আবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    বিএ

  • ১১ নভেম্বর পল্টনে ৮ দলের যৌথ সমাবেশ

    ১১ নভেম্বর পল্টনে ৮ দলের যৌথ সমাবেশ

    ডেস্ক নিউজ:

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীতে জনসভা করবে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল। আগামীকাল দুপুর ২টায় পল্টন মোড়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, পাঁচ দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেয় আন্দোলনরত আট দল। তখন, দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশেরও ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। সে অনুযায়ী, আগামীকাল সমাবেশ করবে দলগুলো।

    সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন বক্তব্য দেবেন।

    জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তুতি সভা

    আট দলের জনসভা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল রোববার প্রস্তুতি বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে জনসভা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তা সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয় বলে জানা যায়।

    দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

    এদিকে, আগামীকালের জনসভাকে সামনে রেখে গতকাল বিকালে পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সভায় দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
    তিনি আরো বলেন, গত ৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, আমাদের দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধান উপদেষ্টা কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আমাদের হতাশ হতে হয়েছে। তাই আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি মাঠে প্রতিফলিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
    বি/এ

  • জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    জুলাই সনদ নিয়ে সময়সীমা শেষ; এখন কি করবে সরকার

    ডেস্ক নিউজ

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। কিন্তু দলগুলো এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী বলছে, তারা বিএনপিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও দলটি তাতে সাড়া দেয়নি। আর বিএনপি বলছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

    এদিকে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উদ্যোগ নিয়েছিল; কিন্তু তা সফল হয়নি। এ কারণে জামায়াত ও এনসিপিও চায় সরকার উদ্যোগ নিক। ফলে সব মিলিয়ে সংকট নিরসনের এই বল এখন সরকারের কোর্টে। তাই গণভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবশ্য সরকার বলছে, দলগুলো সিদ্ধান্তে আসতে না পারলে দ্রুতই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে এখন দুটি অপশন। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার কথা বলতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।

    এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা রোববার শেষ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে না পারলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসতে পারে-এ প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, সময় শেষ হওয়ার পর নিশ্চয়ই উপদেষ্টারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য আবারও বসবেন। এরপর দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো আশাবাদী। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো দেশের অনেক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। ফলে তারা একটি সিদ্ধান্তে আসবেন। যেহেতু এখনো সময় শেষ হয়নি, তাই সরকারের পক্ষ থেকে আগাম কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তার মতে, রাজনীতিতে একদিন অনেক বেশি সময়। একদিনের মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো যদি বলে, তাদের আরও দু-একদিন সময় লাগবে, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে। তিনি আরও বলেন, দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত থাকবেই। এরপরও আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা দ্রুতই হবে। কারণ, নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকুক, সরকার তা চায় না। শফিকুল আলম বলেন, জুলাই সনদে সব বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছে। মোট চার হাজার পাতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। এই আলোচনা নির্বাচনের পরও আবার শুরু হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। এরপর ২৮ অক্টোবর সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। কিন্তু আদেশ জারির আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার আহ্বান করা হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘদিন আলোচনার পরও গণভোটের সময় এবং বিষয়বস্তু কী হবে-এসব প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এটি উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের মধ্যে।

    সরকার ডাকলে সাড়া দেবে বিএনপি : সরকারের আহ্বানের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৃহস্পতিবার ফোন করে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিএনপি মহাসচিব ওইসময়ে দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানোর কথা বলেন। পরদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, জামায়াত তো সরকার না। ফলে রাষ্ট্রীয় কোনো বিষয়ে তারা আমাদের ডাকতে পারে না। ব্যক্তিগত বা দুই দলের কোনো দাওয়াতে ডাকতে পারে। সুতরাং এ ইস্যুতে জামায়াতের আহ্বান ‘সঠিক পন্থা’ নয়। তাই জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি সাড়া দেবে না। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সনদ সই হয়েছে। ফলে ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু সেই ঐকমত্য ভেঙে নতুন ইস্যু তোলা হয়েছে। এর মানে হলো সেই ঐক্যের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল জোর করে নিজেদের দাবি সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। শেখ হাসিনার শাসনে আমাদের মধ্যে একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। তাই আমি মনে করি, যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হবে। যেগুলোয় ঐকমত্য হয়নি, তা নিয়ে যেতে হবে জনগণের কাছে। ঐকমত্যের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সূত্র বলছে, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অভিমত, সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মিলে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কারণ, সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে দলগুলোর ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত সনদের মিল নেই।

    জামায়াত যা বলছে : জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। এ ব্যাপারে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি তাদের জায়গায় অটল। আমরাও আমাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছি। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছি। ১১ নভেম্বর জামায়াতসহ ৮ দলের বড় কর্মসূচি রয়েছে। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বিএনপিকে আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আলোচনার উদ্যোগ এখন সরকারকেই নিতে হবে। না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

    এনসিপি : বিদ্যমান সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল এনসিপিসহ ৯টি দল। এজন্য বুধবার দলগুলো জরুরি বৈঠকে বসে। কিন্তু সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। নেতারা জানান, জুলাই সনদ নিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা জরুরি। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের পর বিভাজনের রাজনীতি তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয় কিনা, সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এখন সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

    সরকারের ভাবনা : সরকারি সূত্র বলছে, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রাথমিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে সরকার। সেক্ষেত্রে দলগুলোর দাবির মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে। এই গণভোটে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর বিভিন্ন দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ থাকবে না। তবে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নে ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠিত হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অর্থাৎ জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় পক্ষের যে দাবি রয়েছে, সেসব দাবি মানার ক্ষেত্রে সরকার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।

    বিশ্লেষকদের অভিমত : জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, নাগরিক হিসাবে আমরা আশা করেছিলাম, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মতভিন্নতা, মতভেদ কিংবা দলীয় বিবেচনার বাইরে এসে প্রাধান্য দেবে দেশ ও মানুষের স্বার্থকে। অন্তর্বর্তী সরকারও নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু তেমন লক্ষণ আমরা দেখছি না। এ অবস্থায় আমাদের প্রত্যাশা সরকার আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. একেএম শাহনওয়াজ বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাই এমন যে, এখানে সবাই একমত হবেন-এমন আশা করা এককথায় বোকামি। তবে কাছাকাছি আসবে-এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ১৫ মাস পার হয়েছে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সমঝোতায় আনতে পারেনি। এটা তাদের বড় ব্যর্থতা। এখনো সরকার যদি নিজের মতো করে জোড়াতালি দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা হবে আত্মঘাতী।

    দুই দল মুখোমুখি : সরকারের আহ্বানের পর সমঝোতা দূরের কথা, উলটো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ বাড়ছে। দল দুটি এখন মুখোমুখি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুই দলই গণভোটের পক্ষে। কিন্তু বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট চায়। এছাড়াও সনদের যে বিষয়ে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো গণভোটের প্রস্তাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এ অবস্থায় সনদ বাস্তবায়নের আলোচনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে সোমবার ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াত চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট। আর গণভোটের প্রস্তাবে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকতে পারবে না। এই দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছিল জামায়াতের নেতৃত্বে ৮টি ইসলামি দল। বৃহস্পতিবার তারা প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় জনস্রোত নামবে।
    বি/এ