ক্যাটাগরি রাজশাহী

Rajshahi district

  • কারিমার মেডিকেল জয়

    কারিমার মেডিকেল জয়

    হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী কারিমা খাতুন। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (এমবিবিএস) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। হতদরিদ্র বাবার একমাত্র মেয়ে কারিমার এমন সাফল্যে খুশির জোয়ারে ভাসছে এলাকাবাসী।

    কারিমা রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুল করিম মন্ডলের মেয়ে। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর নিয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে দুর্গাপুর উপজেলার বেলঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২৩ সালে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ- ৫ পান তিনি।

    কারিমার বাবা আব্দুল করিম মন্ডল বলেন, আমার দুটি সন্তান এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। ছেলেটিও এইচএসসি পাস করেছে। আমি একজন দরিদ্র মানুষ, দিন এনে দিন খাই। পরের জমিতে কামলা দিই। খুব কষ্ট করে আমার সংসার চালাতে হয়। তারপরও আমার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে কমতি রাখিনি।

    করিম মন্ডল আরও বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি এবং আমার সন্তানদের শিক্ষকদের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মেয়ে যেন বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

    কারিমা খাতুন বলেন, বাবা পেশায় দিনমজুর হলেও কখনো লজ্জাবোধ করি না। নিজেকে ছোট ভাবি না। কারণ বাবা সৎভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করে। আমরা দুই ভাই-বোন। আমি ছোট ভাই বড়। ভাই ডিএমডি রোগে আক্রান্ত, হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। এই রোগের চিকিৎসা এখনো আসেনি। তারপরও ভাই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কারিমা বলেন, আমি একজন ভালো ডাক্তার হতে চাই। সবার পাশে থাকতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। প্রতিবন্ধী ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে চাই।

    নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ রেজাইল করিম বলেন, কারিমা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার কারণে আমরা অনেক খুশি। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা একজন দিনমজুর। মানুষের কাজ করে তার বাবা সংসার চালান এবং ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করান। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে দোয়া করি কারিমা যেন বড় ডাক্তার হতে পারে এবং এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর সেবা করতে পারে।

    বি/এ

  • রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    ‘বাজারে মুলা তোলার আগেই সব শেষ হইয়া গেল—এই যে জমি, এখন শুধু পানি আর পানি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে জমির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মন্ডল। রাব্বানীর চোখের কোণে পানি, পায়ের নিচেও হাঁটুসমান পানি। একসময় যে জমি ভরে উঠেছিল মুলার গাছে, এখন সে জমি ডুবে রয়েছে বৃষ্টির পানিতে।

    নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে এখনো এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার হাজারো কৃষক এখন বড় ক্ষতির মুখে। শাক থেকে শুরু করে ঢ্যাঁড়স, মুলা, পেঁয়াজ; এমনকি আমন ধান—সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪ হাজার ২০০ জন। দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই সময়ে এমন বৃষ্টি আর কখনো দেখেননি তাঁরা। গতকাল সকালে পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক রাব্বানী মন্ডলের সঙ্গে। মুখে বিষণ্ণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না, যে বৃষ্টি এবার হইছে। এখনো পানি নামেনি। ৫ বিঘা জমি পানির নিচে। চারপাশে পুকুর, পানি নামারও পথ নাই।’

    রাব্বানী আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে কঠিন হবে।’

    পবা উপজেলার শিয়ালবেড়, পাইকপাড়া, দাদপুর ও মুরারীপুর গ্রামের মাঠজুড়ে একই চিত্র। যেদিকে চোখ যায়, এখনো চোখে পড়ে কেবল পানি। কোথাও ধান হেলে পড়েছে, কোথাও শাকসবজি ডুবে রয়েছে পানির নিচে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১২ কাঠা জমিতে শাকসবজি করেছিলাম, বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় তো বৃষ্টি হয় না।’

    একই এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ১ বিঘা জমিতে বি৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান কাটার আগেই নভেম্বরে অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠেছে, বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। মাঠে দেখা গেল, কৃষকেরা কাদামাটি মাড়িয়ে হেলে পড়া ধান কেটে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁর ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। মনে হচ্ছে খরচের টাকাও উঠবে না। তিন দিন পর বৃষ্টি হইলে এই সর্বনাশ হতো না।’

    পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, নভেম্বরের শুরুতেই যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটি মূলত নিম্নচাপের কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন জমি শুকিয়ে দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।

    বি/এ

  • নারীরা শিবিরেই সবচেয়ে নিরাপদ : ডাকসুর ভিপি

    নারীরা শিবিরেই সবচেয়ে নিরাপদ : ডাকসুর ভিপি

    ডেস্ক নিউজঃ

    রাজশাহী কলেজে আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম দাবি করেছেন যে, শিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ নেই। তার মতে, নারীরা শিবিরের কাছেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে বক্তব্য রাখেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ একটি উদাহরণ দেখাতে পারবে না যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে কোনো নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। নারীদের নিরাপত্তায় শিবিরের বিকল্প নেই।

    ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর হাতে কোনো নারীর শ্লীলতাহানির নজির নেই। শিবিরের কাছেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

    সাদিক কায়েম আরো বলেন, নারীদের শিবিরের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা কোনো সংগঠন দিতে পারবে না। শিবির প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে কেউ একটি উদাহরণ দিতে পারবে না যে শিবিরের কাছে কোনো নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সারা দেশের সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অতি দ্রুত দিয়ে দিতে হবে। আমরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ থেকে কাজ করবো।

    রাজশাহী কলেজকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ক্যাম্পাস হিসেবে উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ছাত্র সংসদ ক্যাম্পাসের সব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এই ক্যাম্পাসকে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সমস্যা সংকট সবকিছু ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে ওঠে আসবে ও এই সমস্যার সমাধান ছাত্র নেতৃত্বদের মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। আবাসন সমস্যা থেকে শুরু ক্যাম্পাসের যাবতীয় সমস্যা দূরীকরণে ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    জুলাই বিপ্লবে তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণরাই জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে ও বিপ্লব সফল করেছে। তরুণরা বলেছে, বাংলাদেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে না। তরুণরা দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, তাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে ও রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেছে। বৈষম্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এসময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক রাজশাহী মহানগর সভাপতি মো. সিফাত আলম, রাকসু ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোহা. শামীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে রাজশাহী কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন।

    আর আই খান

  • নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    নির্বাচিত সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি, আমাদের বিপ্লব গত বছর শেষ হয়ে গেছে, তাহলে ভুল করছি। এটি চলমান আছে। এ বিপ্লব ততদিন চলমান থাকবে, যতদিন না জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন হবে।’

    বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সফলতা ও ব্যর্থতা : ৭ নভেম্বর থেকে ৫ আগস্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো হতে হবে। ভোট সময়মতো না হলে যে অস্থিরতা তৈরি হবে, সেটাকে দিল্লি কাজে লাগাবে। এজন্য নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হতে হবে।

    ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযান না চালানোয় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দৃশ্যমান। আওয়ামী দোসরদের তৎপরতার কারণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট শঙ্কা আছে। এর একটি বড় কারণ হলো, জুলাই বিপ্লবকে অনেকেই বিপ্লব বলতে চাই না। এমনকি বর্তমান সরকারও বিপ্লবকে বিপ্লব বলতে দ্বিধাবোধ করে। তা না হলে তারা বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করত। এ সরকার বিপ্লবকে ধারণ করতে পারেনি বলেই শুদ্ধি অভিযান চালাতে পারেনি।

    জুলাই বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘গুলি খেতে যাওয়ার সময় কেউ মন্ত্রী হতে চাইনি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আবু সাঈদ হতে চেয়েছে বলেই বিপ্লব সফল হয়েছে। যারা এ বিপ্লব করেছে তারাই বাংলাদেশকে সঠিক পথে আনতে পারবে। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থাকো। তোমরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আজহারুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ প্রমুখ।

    আর আই খান

  • রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যায় একমাত্র আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

    রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যায় একমাত্র আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

    ডেস্ক নিউজ, রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) বাসায় ঢুকে খুনের ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত লিমন মিয়ার (৩৫) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনাটির বিষয়ে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।

    এ সময় শুনানি শেষে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে রাজপাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনাটির বিষয়ে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ/ আর ১৫ নভেম্বর

  • সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    সরকারের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে: রিজভী

    ডেস্ক নিউজ’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ড. ইউনুসের প্রশাসন থেকেই দোসরদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও রেকর্ড পাঠাচ্ছেন, আর দেশে চলছে নাশকতার প্রস্তুতি।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত জাতীয় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে আঁচলের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে ভালো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, ১৩ তারিখে তারা কিছু করবে—এই সাহস তারা কীভাবে পায়? সরকারকে দোসরদের বিষয়ে কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ফ্লাই ওভারের টাকা, সবকিছুর টাকা আছে আওয়ামী লীগের কাছে। যা দিয়ে নাশকতা তৈরি করে একটা চোরা রাস্তা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ। তা দিয়ে নাশকতা তৈরিতে ভারত থেকে অডিও বার্তা দিচ্ছে শেখ হাসিনা।’

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কেউ কেউ বলছে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে। এ তো ফ্যসিবাদী কণ্ঠস্বর।

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘৭ই নভেম্বর আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান আমাদের সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রান্ত হয়েছিল। ক্যাম্পাসে তখন কোনো সহাবস্থান ছিল না। এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ছাত্রদল সেই মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করবে।’

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে অনেক অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র ছিল। প্রশাসন লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও আমাদের আরও ভালো ফল করা উচিত ছিল। তবে আমরা হতাশ নই, আমাদের লড়াই চলবে। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল ভালো ফলাফল করবে

    এ/ আর

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে আবেদন শুরু

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে আবেদন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:
    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে যাদের ছয় বিভাগ থেকে বেছে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের জন্য ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন, যা চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এজন্য ফরম পূরণের নির্দেশনা পাওয়া যাবে টেলিটকের ওয়েবসাইটে (http://dpe.teletalk.com.bd)। সেখানে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

    সহকারী শিক্ষকের এসব পদে বেতন হবে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ত্রয়োদশ গ্রেডে। এসব পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২ দশমিক ২৫ ও ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২ দশমিক ৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।

    তবে শিক্ষা জীবনে কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণি অথবা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর: পদ্মার দুর্গম চরে সক্রিয় ডজনখানেক বাহিনী

    • চরে সক্রিয় কাকন, মণ্ডল, টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনী
    • জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক ও অস্ত্র পাচারে জড়িত এসব বাহিনী
    • অনেকে বংশপরম্পরায় ধরেছেন বাহিনীর হাল। পুলিশের অভিযান শুরু। প্রথম দিনে গ্রেপ্তার নেই

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল এবং ভারত সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, শুধু কাকন কিংবা মণ্ডল বাহিনী নয়; টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনীও সক্রিয় এই চরাঞ্চলে।

    রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব বাহিনী জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া, চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, মাদক, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বাহিনী পদ্মার এমন দুর্গম চরে ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ সীমিত। রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলার দুর্গম চরাঞ্চলজুড়ে তাদের বিস্তার।

    সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরে কাকন বাহিনী ও মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন নিহত হন। এরপর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘কাকন বাহিনীর’ প্রধান কাকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট শতাধিক সদস্য নিয়ে পদ্মার চরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে প্রথম দিনের অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরের পদ্মা চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ডজনখানেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তবে ২০ বছর আগে দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান ঘটেছিল বিস্তৃত পদ্মার দুর্গম এই চরাঞ্চলে। তাদের ভাগ না দিয়ে কেউ চরের ফসল ঘরে তুলতে পারত না। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে তাদের হাতে ওই সময় ৪১ জন খুন হয় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তখন চরের মাটিতে পা দিতে গা ছমছম করত। দুই বাহিনীর নাম ছিল ‘পান্না বাহিনী’ ও ‘লালচাঁদ বাহিনী’। পান্নার ওস্তাদ ছিলেন এই কাকন। সূত্র জানায়, এ বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ‘কাকন বাহিনী’র বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী, বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানায় মোট ছয়টি মামলা হয়েছে। বাহিনীর প্রধান কাকন পাবনার ঈশ্বরদী কলেজ রোডের বাসিন্দা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে।

    ১৯৯৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি চাকরি করলেও ২০০৫ সালে পান্না নিহত হওয়ার পর ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বালুমহাল দখল ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। বর্তমানে তাঁর বাহিনীতে প্রায় ৪০ জন সদস্য রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নইম উদ্দিন সেন্টুকে নিজ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসে টুকু বাহিনী। বাহিনীর প্রধান তরিকুল ইসলাম ওরফে টুকু ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর দলের সদস্য ২০ জনের বেশি। হত্যাকাণ্ডের পর টুকুসহ বেশ কয়েকজন সহযোগীর নামে মামলা হয়, যদিও আটকের পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

    চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর মণ্ডলপাড়া এলাকায় রাজু আহমেদ (১৮) নামের এক যুবককে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সাইদ বাহিনী। বাহিনীর প্রধান আবু সাঈদ মণ্ডল (৩৫) মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর দক্ষিণ ভাঙ্গাপাড়া এলাকার ভাদু মণ্ডলের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ৯টির বেশি মামলা রয়েছে।

    ২০০৯ সালে লালচাঁদ বাহিনীর প্রধান লালচাঁদ নিহত হওয়ার পর তাঁর ভাই সুখচাঁদ দায়িত্ব নেন। তাঁরা ফিলিপনগর এলাকার বাসিন্দা।

    বাহিনীতে লালচাঁদের ছেলে রুবেলসহ একাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

    দৌলতপুর থানায় আলোচনায় থাকা আরেক বাহিনী ‘রাখি বাহিনী’র প্রধান রাকিবুল ইসলাম রাখি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। তাঁর বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে। এ ছাড়া রয়েছে কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী ও বাহান্ন বাহিনী।

    একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিপুল অস্ত্র দেশে ঢোকার তথ্য রয়েছে। জানা গেছে, তিন চালানে মোট প্রায় ২ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এসেছে দেশে।

    দুর্গম চরে অভিযান

    গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ১২০ জন সদস্য নিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিশ এই অভিযানে চরবাসী খুবই খুশি। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে তাঁরা আশা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

    গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই অভিযান রাতেও চলবে। অভিযান শেষ হবে না। এটা যে শুধু আসামি ধরা, তা নয়। মানুষকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এই চরগুলোতে আর হবে না।’ সূত্রঃ আজকের পত্রিকা

    বিডিটাইমস/এআর/নিই/

  • রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

    রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

    বিডিনিউজ ডেক্স
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ৩০ অক্টোবর ২০২৫:
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি আজ তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে রয়েছেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান। কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য কয়েকটি সুপারিশ প্রদান করেছে।
    ঐ ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেউ যদি অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা মতামত জানাতে চান তবে তা দ্রুত কমিটিকে জানাতে আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
  • নাটোরের সফল  উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের সফল উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম খন্দকার মালঞ্চি, যেখানে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনই অধিকাংশ মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এই গ্রামেই বাবা আশরাফ আলী ও মা আতেজান বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ, যিনি এখন স্থানীয়ভাবে একজন প্রখ্যাত ফলচাষী, উদ্যোক্তা এবং শতাধিক পরিবারের জীবিকার ভরসা।
    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পেরিয়ে ১৯৯৫ সালে কলেজে ভর্তি হলেও সংসারের অভাব-অনটনে থমকে যায় তার পড়ালেখা। পরিবারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বদলানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। চাকরি নয়, নিজেই উদ্যোক্তা হবেন-এই ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু তার।
    শুরুটা হয়েছিল মাত্র আড়াই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ দিয়ে। বাবা-মায়ের দেয়া জমিকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান তিনি। ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ‘তন্ময় দাস’ ও কৃষি কর্মকর্তা ‘সুভ্রত বাবু’ তার পাশে দাঁড়ান এবং ফল বাগান করার পরামর্শ দেন। সেই উৎসাহে শুরু করেন মাল্টা ও ড্রাগনের মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ।
    বর্তমানে তার ‘রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার’ এ পেয়ারা, ড্রাগন, বারমাসি আম, মাল্টা, কলা, কমলা, আনারস সহ নানা জাতের ফল উৎপাদিত হচ্ছে। খামারে এখন প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে। তার প্রজেক্ট শুধু বাগাতিপড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি রাজশাহীর-গোদাগাড়ী, নাটোরের লালপুর ও নিজ উপজেলা বাগাতিপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে বিস্তার করেছেন। শুধু মাল্টা চাষেই রয়েছে ৪৫ বিঘা, যেখানে চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশিত আয় প্রায় কোটি টাকা। এই খামারে কাজ করেন প্রায় ১০০ জন শ্রমিক।
    শ্রমিক ইমরান আলী বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। খামার মালিক অত্যন্ত মানবিক। আমাদের অসুস্থতায় কাজ না করলেও তিনি মজুরী দেন, এমনকি চিকিৎসার খরচও বহন করেন। আমাদের পরিবারগুলো এই খামারের আয়ে চলে।”
    শুধু শ্রমিকদের জীবনমান নয়, এই খামারী নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনেরও রোল মডেল হয়ে উঠেছে।
    আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ ফলের মিষ্টতা ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে অর্গানিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। নাইট্রোজেনের ব্যবহার সীমিত রেখে তিনি স্বাস্থ্যসম্মত ফল উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার উৎপাদিত ফল ঢাকা, রাজশাহী সহ দেশের নানা বাজারে পাঠানো হয়।
    মাসিদুল ইসলাম শিপন নামের একজন ফল ব্যবসায়ী জানান, এই বাগানের ফল ভেজালমুক্ত। আমি প্রতিদিন প্রায় ১০০ মন পেয়ারা, ৬০-৭০ মন মাল্টা ঢাকার মোকামে পাঠাই।”
    নাটোর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, বাকিবিল্লাহর মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছি। তার উৎপাদিত মাল্টা খুবই মিষ্টি এবং চাহিদাসম্পন্ন। আমরা তাকে সবধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”
    খামার পরিদর্শেনে আসা সাবেক এ্যাডিশনাল ডাইরেক্টর মনজুর-উল হক বলেন, আমি একসময় নাটোরের ডিডি ছিলাম। আমরা ২০১৭ সাল থেকে মাল্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করলেও সবাই সফল হননি। কিন্তু বাকিবিল্লাহর চাষপদ্ধতি প্রশংসনীয়। তার বাগান রিসার্চ ও লার্নিং সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে।”
    বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, তিনি শুধু একজন সফল চাষী নন, বরং তিনি একটি ফল হাব-গড়ে তুলেছেন। তার খামার পুষ্টি নিরাপত্তা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে দারুণ একটি উদাহরণ। তাকে নিয়ে কৃষি দপ্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, আমরা লিখেছি আশা করছি তিনি স্বীকৃতি পাবেন।”
    নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বাকিবিল্লাহ বলেন, ‘চাকরির আশায় বসে থাকলে আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। নাটোরের সাবেক ডিডি খামার বাড়ীর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক থাকা অবস্থায় আব্দুল আওয়াল মহোদয় আমার খামারে এসেছেন এবং তিনি প্রজেক্টের উন্নয়নে ও ফলের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য নিয়মতি পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি কৃষি অধিদপ্তরের এ্যাডিশনাল ডাইক্টের হযরত আলী স্যার সম্প্রতি আগষ্ট মাসে এসে খামার পরিদর্শন করে স্থানীয় কৃষি দপ্তরকে আরো বেশী নজরদারী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।’ তিনি এরা বলেন- ‘উদ্যোক্তা হতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়, সাহস রাখতে হয়। সৃষ্টিকর্তার উপরে ভরশা রেখে আমি সেই ঝুঁকি নিয়েছিলাম।’
    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহর মতো কৃষি উদ্যোক্তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। কারণ,  আমদানিনির্ভর ফল তিনি উৎপাদন করে দেশের চাহিদা পূরণ করছেন।
    অভাবের তাড়না থেকে উঠে আসা একজন মানুষ এখন একটি বৃহৎ কৃষি উদ্যোগের সফল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার আজ শতাধিক পরিবারের জীবিকা, দেশের পুষ্টির উৎস, এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রেরণার উৎস।
    এমন মানুষদের নিয়ে পরিকল্পিত গবেষণা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা দেওয়া গেলে বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তার সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে-যা কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্কত গুরুত্বপূর্ণ।