ক্যাটাগরি গাইবান্ধা

Gaibandha district

  • এসিল্যান্ডের অভিযানে পালাতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে ধানখেতে

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুকুর খননের মাটি বহনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে একটি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানখেতে উল্টে পড়েছে। এ সময় ট্রাক্টরের ধাক্কায় একটি মুরগির ঘর (খোয়ার) ভেঙে যায় এবং চালকসহ আশপাশের কয়েকজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের উত্তর দামোদরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তি পুকুর খনন করছিলেন। খননকৃত মাটি ট্রাক্টর দিয়ে বহনের কারণে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাক্টরচালক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত গাড়ি চালিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। পালানোর সময় ট্রাক্টরটি রাস্তার পাশে আব্দুল মজিদ আকন্দের একটি মুরগির ঘরে (খোয়ার) ধাক্কা দিলে ঘরটি ভেঙে যায়। এ সময় খোয়ারের আশপাশে থাকা শিশুসহ কয়েকজন ব্যক্তি অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

    পরে ট্রাক্টরটি স্থানীয় এমদাদুল হকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ভুট্রু মিয়ার ধানখেতে নামিয়ে দেন। এতে ট্রাক্টরটি উল্টে যায় এবং গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চালক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত নেমে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

    এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দিন বলেন, অভিযানের সময় ট্রাক্টরটি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক নির্দেশ না মেনে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন।

    ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুকুর খনন ও মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসন্তোষ ছিল।

    এম কে

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

    এম কে

  • বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    বিচারকের ছেলের হত্যাকারী আটক

    ডেস্ক নিউজ :

    রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে লিমন মিয়া নামে এক যুবক।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে এ হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী গুরুতর আহত হয়েছেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এর আগে ওই যুবক বাড়ির ফটকে নিরাপত্তাকর্মীদের জজের স্ত্রীর ভাই পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে। হত্যার ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে পড়ে ছিলেন হত্যাকারী লিমন। পরে তাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক লিমন মিয়ার (৩৫) বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি এলাকায়।

    রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারী যুবকও বিচারক পরিবারের পূর্বপরিচতি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিমন বিচারকের বাসায় প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ধারাল অস্ত্রের কোপে তাওসিফ রহমান সুমন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় বিচারকের ছেলে ও স্ত্রী তাসমিন নাহারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনা সময় বিচারক আবদুর রহমান বাসায় ছিলেন না। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান।

    এদিকে হামলাকারী যুবক লিমন মিয়াও আহত অবস্থায় এখন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আরএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সেখানে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে লিমনও আহত হন।’

    রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কাজ করছে। হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হামলাকারী লিমন মিয়া যেহেতু অজ্ঞান অবস্থায় আছে, তাই এখনই কী কারণে এটি ঘটেছে—সেটি বলা যাচ্ছে না। আমরা তদন্ত করছি।’

    গত ৬ নভেম্বর সিলেটের সুরমা থানায় একটি জিডি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী লুসি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, লিমন মিয়ার সঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে তার পরিচয় হয়। এরপর তার দারিদ্রতার কারণে লিমনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন লুসি। একপর্যায়ে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিলে লিমন আরও টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করলে লিমন গত ৩ নভেম্বর তাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি সিলেটের সুরমা থানায় নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে লিমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন।

    বি/এ