ক্যাটাগরি রংপুর বিভাগ

  • ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ রুবানা তানজিন।অভিযানে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের এসআই মোঃ নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ব্যতীত তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে এবং পাম্পের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। আজ ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পাম্প ম্যানেজার ফুয়েল কার্ড ছাড়া প্রায় ১৫’ শ থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি করছে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এই কারণে আমরা ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা্রেে আদায় করেছি।

    এম কে

  • উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    ডেস্ক নিউজঃ

    হঠাৎ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে মদনখালী ও কুমেদপুর ইউনিয়নের বারুদহ এলাকায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পাকা ও আধা পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন, যাতে সম্পূর্ণ ক্ষতির হাত থেকে অন্তত কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।

    উপজেলার বগের বাড়ি গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, ‘দিন দিন পানি বাড়তেই আছে। আমরা বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছি, না হলে সব পানির নিচে চলে যাবে।’

    একই এলাকার খয়ের বাড়ি গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

    খয়ের বাড়ি গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পীরগঞ্জের স্লুইসগেটের জলকপাট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমাদের ধান পুরো পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, উজানের পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই এলাকার মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়। এ সময় ওই এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন মৎসজীবীরা। তা দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন।  একজন আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

    তাদেরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মৎসজীবী মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিন। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।

    মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয় তখনই আমরা দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাই। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু আছেন। যাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

    মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও যায়। এ ঘটনায় দুইজন মারা গেছে। আহতদের মিঠাপুকুর ও রংপুরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ওই এলাকার সব মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

    এম কে

  • তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি? বুকভরা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন ‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত তিনদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বেরোবির জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বেরোবি পরিবহন পুলের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজে বা নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলা নামায় শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করার ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেরোবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা আর অমানবিকতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একজন মুমূর্ষু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবার এই যদি হয় অবস্থা, তবে প্রশাসনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অন্যায্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি।

    ‎অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্যান্য গাড়িও চলছে, তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এই অজুহাত কেন? এটা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে।

    ‎বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমিও এর আগে একদিন জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য কল দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক একই (তেল না থাকা) অজুহাত পেয়েছিলাম।

    এ বিষয়ে বেরোবি ‎মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ.এম.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে তো আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন থেকে চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়। সেখানেও তিনদিন যাবৎ তেল নেই।

    পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কে ব্যবহার করবে, না করবে তা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে আজই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।

    এম কে

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন– সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো: আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

  • রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    • ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি কূপ খনন।
    • এর মধ্যে তিনটিতে বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান মেলে।
    • খনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন।
    • উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ডেস্ক নিউজঃ

      রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় কয়লাখনির কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে আছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম।

      ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খনিটিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ২০০৬ সালের আগস্টে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

      প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আমরা প্রস্তুত রেখেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’

      জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আমদানি করা কয়লা ও ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (মাগুরা) গ্রামে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

      সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খনিটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এতে দেশের কয়লার চাহিদা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

      বর্তমানে প্রকল্পটিতে কাজ করছেন ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের কাজ মূলত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও খনির রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। খনিটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

      স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, পীরগঞ্জের কয়লাখনি চালু হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোব্যবস্থা। আরেক বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এই কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে দেশের কয়লার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

      পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘সংসদে সুযোগ পেলে পীরগঞ্জের কয়লাখনির বিষয়টি উত্থাপন করব, যাতে দ্রুত এটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

      এম কে

  • কুড়িগ্রামের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের

    কুড়িগ্রামের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অটোরিকশা আটকে দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগে হওয়া মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সেলের সম্পাদক লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসপির ফ্যাসিস্ট আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

    জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজিবপুর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মেহেদী ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে-জামাতাসহ কয়েকজনকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    রাজিবপুরের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, ঈদের রাতে অটোরিকশায় কয়েকজন যুবক ও দুজন মেয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি। শুধু মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটা করেছিল। সেখানে বিবাহিত দম্পতি থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।

    এ বিষয় নিয়ে জানতে এসপি মাহফুজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

    এম কে

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়েলারি দোকানে হামলা, ১২ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়েলারি দোকানে হামলা, ১২ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি জুয়েলারি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকান থেকে প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন মালিক। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ভূরুঙ্গামারী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী দ্য নিউ চিত্ররেখা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র প্রসাদ জানান, সুবল, তাপস, পরিমল, তরণীকান্ত, সন্তোষ, সমর, লক্ষণ, সুকুমারসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তি অতর্কিতভাবে তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ১২ ভরি সোনার বিভিন্ন গয়না নিয়ে যায় তারা। যার মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। হামলার সময় তাঁর বড় ভাই কৃষ্ণ চন্দ্র প্রসাদকেও মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলার প্রমাণ নষ্ট করতে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    ভূরুঙ্গামারী জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ও হিন্দু কল্যাণ ফ্রন্টের থানা আহ্বায়ক মধু মোহন প্রসাদ বলেন, একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই জুয়েলারি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এই হামলার বিচার দাবি করছে জুয়েলার্স সমিতি।

    দোকানের কর্মচারী আল-আমীন বলেন, এক থেকে দেড় শ মানুষ এসে দোকানে হামলা চালায় এবং দোকানমালিকের বড় ভাইকে মারধর করে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন সন্তোষ কুমার রায়। তিনি বলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি; বরং দোকানের মালিকেরাই ভাঙচুর করেছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।

    মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

    উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।

    আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।

    মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।

    রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

    এম কে

  • কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল

    কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ( ১৫ মার্চ) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটেছে। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

    অপরদিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাব ভেঙে টাকা চুরি করে।

    এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেন। এরপর থানা-পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করা হয়।

    বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।

    বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।

    পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।

    এ বিষয়ে উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি আজ রোববার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

    এম কে