ক্যাটাগরি Uncategorized

  • মাছ-মুরগি-তরকারি রান্নায় গরুর চর্বি, জরিমানা ৫০ হাজার

    মাছ-মুরগি-তরকারি রান্নায় গরুর চর্বি, জরিমানা ৫০ হাজার

    ডেস্ক নিউজঃ লক্ষ্মীপুরে হোটলে মুরগি-মাছসহ তরকারি রান্নায় জমিয়ে রাখা গরুর চর্বি ব্যবহার করায় হোটেল মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হোটেলে পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে।

    বুধবার  বিকেলে বিসমিল্লাহ হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।এদিকে একই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে একতা ফার্মেসি নামে এক দোকানিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমুধু চক্রবর্তী ও জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের সামনে বিসমিল্লাহ্ হোটেলে গরুর জমানো চর্বির তেল দিয়ে মাছ, মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন তরকারি রান্নায় ব্যবহার করা হতো। এছাড়াও হোটেল থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটিসহ ফ্রিজ থেকে বাসি মাছ ও মাংস জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় হোটেল মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় পচা ও বাসি খাবারসব বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমুধু চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা এ হোটেলে খাবার খায়। কিন্তু হোটেলটির পরিবেশ নোংরা, ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তাছাড়া গরুর চর্বির জমানো তেল দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়া একটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। দুই দোকানিকে জরিমানাসহ ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

  • সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা

    সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা

    ডেস্ক নিউজঃ

    লক্ষ্মীপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) গড়ে ওঠেনি আশানুরূপ শিল্প-কারখানা। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পরও বিভিন্ন সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্লট বরাদ্দ নিলেও অর্ধেক প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনে যেতে পারেনি। অথচ মেঘনাপাড়ের এ জনপদে সস্তা শ্রম, দেশের ২১ জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যাপক কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। বিসিকে পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বদলে যাবে এ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।এদিকে বিসিক এলাকায় গ্যাস-পানি সংকট, ভেতরের অংশে সড়ক খানাখন্দে ভরপুর, অপরিকল্পিত ড্রেনেজে ব্যবস্থা, লোডশেডিং, বাতিহীন ল্যাম্পপোস্ট ও নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকা উদ্যোক্তাদের সমস্যার অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর সুফল আসছে না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর শহরে বাঞ্ছানগর এলাকায় ১৬ একর জমিতে ১৯৯৭ সালে শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ হয়। এরমধ্যে তিন স্তরে ৫৪টি শিল্প ইউনিটের জন্য ৯৯টি প্লট বরাদ্দ হয়। বর্তমানে ৩০টি ইউনিট চালু রয়েছে।

    লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে বিসিকের দিকে একটু এগুলেই দেখা যায় বেশ কয়েকটি বড় গর্তে পানি জমে আছে। ভেতরে রাস্তা, ড্রেনেজ সমস্যা প্রকট। সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত; মালামাল পরিবহনে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানসহ যানবাহন চলছে হেলেদুলে। ধুলাবালিতে একাকার। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে মশা-মাছির দাপট চলছে। বর্ষা এবং সামান্য বৃষ্টি হলে ভেতরে হাঁটু পানি জমে থাকে। ভেতরে ২০-২৫টি প্লট খালি রয়েছে। সেখানে আশপাশের লোকজন গরু-ছাগল চরায়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখযোগ্য অয়েল মিল, বেকারি, চকলেট তৈরি, সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ, অটোরাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিং মিল রয়েছে।

    পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার নারী শ্রমিক ফাতেমা বেগম জানান, বিসিকে তিনি প্রতিদিন হেঁটে আসেন। মাঝেমধ্যে রিকশা নিলেও ভেতরে আসতে চান না রিকশাচালক। একটু বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি মাড়িয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তরুণ উদ্যোক্তা জানান, এখানে পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। তবে সহজে আশানুরূপ ব্যাংকঋণ পাওয়া যায় না। অনেক সময় শ্রমিকের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় লোকসানের কারণে ফ্যাক্টরি বন্ধ রেখেছেন।

  • ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্বে শাহাদাত, দিদার, ফয়সাল

    ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্বে শাহাদাত, দিদার, ফয়সাল

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সভাপতি ও এটিএন নিউজ জেলা প্রতিনিধি দিদারুল আলম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ জেলা প্রতিনিধি আজিজ আল ফয়সাল প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

    রোববার সন্ধ্যায় ইউনিটির নির্বাচনি তপশিল অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশে সবকটি পদে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন শাহাদাত-দিদারের নেতৃত্বাধীন ১৯ সদস্যবিশিষ্ট প্যানেলের প্রত্যেককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

    কমিটির অন্যরা হলেন- সহসভাপতি দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশ টিভি জেলা প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ নিলয় ও জি টিভির জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন ফরায়েজী, কোষাধ্যক্ষ দেশ রূপান্তর ও ইউএনবির জেলা প্রতিনিধি মো. শফি উল্লাহ রিপন, দপ্তর সম্পাদক সাপ্তাহিক নীহারিকা নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক আমার সংবাদ জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমার কাগজ জেলা প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দিন, ক্রীড়া সম্পাদক সাপ্তাহিক ফেনীর প্রত্যয় বার্তা সম্পাদক তানজিদ উদ্দিন শুভ ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ভোরের দর্পন প্রতিনিধি হাবীব উল্যাহ মিয়াজী।

    এ ছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্যগণ হলেন, সাপ্তাহিক ফেনীর আলো সম্পাদক শুকদেব নাথ তপন, দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী, দৈনিক নয়াপয়গাম সম্পাদক এনামুল হক পাটোয়ারী, দৈনিক যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি যতন মজুমদার, দৈনিক ফেনীর সময় নির্বাহী সম্পাদক আলী হায়দার মানিক, দৈনিক ইনকিলাব জেলা প্রতিনিধি মো. ওমর ফারুক ও দৈনিক বণিক বার্তা জেলা প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার।

    এম কে

     

  • নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    নোয়াখালীর পরিষ্কার বাজার আসলেই কি পরিষ্কার, কেন এমন নাম

    চারপাশে সবুজে ঘেরা গ্রাম। গ্রামের চারদিক থেকে চারটি পাকা সড়ক এসে মিলেছে এক জায়গায়, একটি বাজারে। সেই বাজারটির নাম পরিষ্কার বাজার। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চরজব্বর গ্রামের এই বাজারের নাম শুনলেই যে কারওই মনে কৌতূহল জাগতে পারে, বাজারটি আসলেই কি পরিষ্কার? কেনই–বা বাজারের এমন নাম হলো?

    এসব জানতে সম্প্রতি গিয়েছিলাম সুবর্ণচরের চরজব্বর এলাকায়। সেখানে পরিষ্কার বাজার ঘুরে রাস্তা-দোকানপাট বেশ পরিচ্ছন্নই দেখা গেছে। কিন্তু এমন নামকরণের পেছনে কেবল বাজারের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাই নয়, আছে আরও এক কাহিনি। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মুখে শোনা সে গল্প বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আজ থেকে অর্ধশতাব্দীর বেশি বছর আগের কথা। আক্তারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি ছিলেন এই এলাকার বাসিন্দা। ব্যক্তিজীবনে লেনদেন থেকে সবকিছুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন। যাঁকে, যে কথা দিতেন, সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতেন। গ্রামবাসীর কথায় ‘ওয়াদার বরখেলাপ’ তিনি কখনোই করতেন না। পোশাক–পরিচ্ছদেও তিনি সব সময় থাকতেন পরিচ্ছন্ন। এসব কারণে গ্রামের সবাই ‘পরিষ্কার’ নামে ডাকতেন।

    সত্তরের দশকে আক্তারুজ্জামান তাঁর বাড়ির পাশের সড়কের মোড়ে একটি মুদিপণ্যের দোকান নিয়ে বসা শুরু করেন। তাঁর দোকান ঘিরেই গভীর রাত অবধি চলত আশপাশের এলাকার মানুষজনের আড্ডা। পরে সেখানে আরও কয়েকটি দোকান হয়। পরে দোকানগুলো ঘিরে সেখানে হাট মেলান আক্তারুজ্জামান ওরফে পরিষ্কার। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসতো। গ্রামের লোকজন তাঁর নাম অনুসারে বাজারের নাম দেন পরিষ্কার বাজার। এর পর থেকে ওই বাজারটি সবার কাছে পরিষ্কার বাজার নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে সরকারিভাবেও এই এলাকার নাম পরিষ্কার বাজার।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজের নামে বাজার প্রতিষ্ঠার পর ব্যক্তি জীবনের মতো বাজার পরিচালনাসহ সবকিছুতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতেন আক্তারুজ্জামান। বাজারটিকেও সব সময় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে তিনিসহ সব ব্যবসায়ী সজাগ থাকতেন। প্রায় দুই দশক আগে ৮০ বছর বয়সে আক্তারুজ্জামানের মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেখানো পথে এখনো চলছে পরিষ্কার বাজার।

  • থানার পুকুরে মিলল ৫ আগস্ট লুট হওয়া রাইফেল

    থানার পুকুরে মিলল ৫ আগস্ট লুট হওয়া রাইফেল

    নোয়াখালীর চাটখিল থানার পুকুর থেকে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৫ আগস্ট চাটখিল থানায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করে ওই রাইফেল লুট করা হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্রটি কে বা কারা থানার পুকুরে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।

    চাটখিল থানা-সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে থানার পুকুরে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল রয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে থনার দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নেমে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাইফেলটি উদ্ধার করেন। তবে রাইফেলে কোনো গুলি ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, ৫ আগস্ট থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় লুট করে নেওয়া ওই অস্ত্র দুর্বৃত্তদের কেউ থানার পুকুরে ফেলে গেছে।

    ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন চাটখিল থানা থেকে আটটি এবং খিলপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তিনটি অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি লুট হয়। এর মধ্যে থানার তিনটি চায়নিজ রাইফেল রয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত একটি চায়নিজ রাইফেল এবং চায়নিজ রাইফেলের ৩১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। লুট হওয়া বাকি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী  বলেন, ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া একটি চায়নিজ রাইফেল আজ বিকেলে থানার পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। তবে রাইফেলের ভেতর কোনো গুলি ছিল না। ওসি জানান, এ নিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া ১১টি অস্ত্রের মধ্যে একটি উদ্ধার হলো। এর আগে উদ্ধার হয়েছিল চায়নিজ রাইফেলের ৩১২টি গুলি।

  • মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    মিলনের ধোঁয়া ওঠা পিঠা মায়ের কথা মনে করায়

    নোয়াখালী শহরে কর্মসূত্রে অনেকেই পরিবার ছাড়া একা থাকেন। কালেভদ্রে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পান তাঁরা। স্বজনদের সঙ্গ-সংস্পর্শের পাশাপাশি বাড়ির খাবারদাবারের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতে হয় তাঁদের। এ ধরনের মানুষজনের অনেকেই মো. মিলনের কাছে আসেন পিঠা খেতে। গরম ধোঁয়া ওঠা পিঠা খেতে খেতে তাঁদের মায়ের কথা মনে পড়ে কি না, জানা যায় না। তবে মিলনের পিঠার স্বাদ যে কাউকে স্মৃতিকাতর করতেই পারে।

    রাত তখন ১০টার মতো বাজে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পথঘাট। শহরের রাস্তায় লোকজন কমে এসেছে। তবে কলেজ রোডের কাশেম উকিল মোড়ে মো. মিলনের পিঠা বিক্রির ভ্যানগাড়ি ঘিরে অনেক মানুষের জটলা। কাছে যেতেই দেখা গেল, সারি সারি পাতিলে গরম ভাপা পিঠা, আর খোলায় চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে। গুড়, নারকেল, ভর্তা আর কাসুন্দির ঘ্রাণে ভরে আছে জায়গাটা। চুলা থেকে নামতেই গরম পিঠা হাতে তুলে নিচ্ছেন সামনে দাঁড়ানো লোকজন। এত রাতেও ভিড় বাড়ছিল। বিক্রেতা মিলন সেদিনকার মতো দোকান বন্ধ করতে চাইছিলেন। পরদিন একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে পিঠা সরবরাহের বায়না নিয়েছেন, তাই দোকান বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

    নোয়াখালী জেলার মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মিলন কখনো শহরের রাস্তার ধারে, কখনো শাখা সড়কের ব্যস্ততম মোড়ে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিংবা কারও কোনো অনুষ্ঠানে পিঠা বিক্রি করেন। পিঠা বিক্রি করেই চলে সংসার। চলছে সন্তানদের পড়ালেখা। দুই ছেলে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন কলেজে। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক আসেন তাঁর হাতে বানানো নানা ধরনের পিঠা খেতে।

    আট বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছেন বলে জানালেন মিলন। ভাপা পিঠা, স্পেশাল ভাপা পিঠা, ঝাল চিতই, মিষ্টি চিতই, ডিম চিতই, রস চিতই, দুধ চিতই, হাঁস ও সাদা রুটি, মিষ্টি পুলি, নারকেল পুলি, পাটিসাপটা, ছাইয়া পিঠা, পানতোয়া পিঠা বিক্রি করেন তিনি। ঝাল চিতই, ডিম চিতই, ভাপা পিঠা ছাড়া বাকি পিঠাগুলো অর্ডার পেলে তৈরি করে সরবরাহ করেন। শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাসাবাড়িতে প্রায় সময় তাঁর পিঠা সরবরাহের অর্ডার থাকে।

    মিলন জানান, ঝাল চিতইয়ের সঙ্গে মুখরোচক ভর্তা, যেমন ইলিশভর্তা, শর্ষেভর্তা, রসুনভর্তা, শিমভর্তা, ধনেভর্তা, চিংড়িভর্তা, কালিজিরাভর্তাও বিক্রি করেন তিনি। পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সংসার চলে।

    একসময় মুদিপণ্যের দোকান করতেন মিলন। অনেক লোকসান গুনেছেন। ঋণের দায়ে পড়েছেন। এখন বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিঠা বিক্রির টাকায় তাঁর সুখের সংসার।

    মিলনের দোকানের সামনে আলাপ হয় মো. সোহেলের সঙ্গে। গরম-গরম ভাপা পিঠা খেতে খেতে তিনি বলেন, চাকরির কারণে পরিবার ছেড়ে এখানে থাকছেন। ঠিকমতো বাড়ি যাওয়া হয় না। তা ছাড়া বাড়িতে মা–ও নেই। মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। শৈশবে শীতের রাতে কিংবা কুয়াশা মোড়ানো সকালে মা মাটির চুলায় ভাপা পিঠা তৈরি করতেন। মিলনের পিঠা মায়ের স্মৃতি এনে দিচ্ছে মনে।

    উৎসবের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভাপা পিঠা সরবরাহের অর্ডার নিয়েছেন তিনি। সে জন্য ভোরে এসে হাজির হয়েছেন। গরম-গরম পিঠা তৈরি করে সরবরাহ করছেন। কারও কম মিষ্টি পছন্দ, কারও বেশি মিষ্টি। যে যেভাবে চাইছেন, তাঁকে সেভাবেই পিঠা তৈরি করে দিচ্ছেন।

    মিলনের পিঠা খেতে ১০ বছরের নাতিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন জয়নাল আবদিন (৬০)। দুজনে মিলে বেশ কয়েকটা ভাপা পিঠা শেষ করলেন। খেতে খেতে জয়নাল আবদিন প্রথম আলোকে বলেন, এখন শহরের জীবনে নানা ব্যস্ততা। বাচ্চাদের পড়ালেখা, সংসারের নানা কাজকর্মের চাপের কারণে বাসাবাড়িতে নারীরা আগের মতো পিঠা বানানোর সময়ও পান না। মিলনের পিঠার স্বাদ একেবারে বাসাবাড়ির মতো।

  • নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের আড়াইশ হত-দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন। প্রতি বছরের মতো এবার অসহায়, শীতার্ত অসহায়, বাক-বিধবা ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি আয়োজকরা।

    বিকেলে পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কম্বলগুলো বিতরণের করা হয়।

    আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্রদের উন্নয়ন ও জীবনযাপনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নোয়াখালীর উপকূলবর্তী এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসহায় মানুষের জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই আইএফএসডি ফাউন্ডেশন শীতকালীন কার্যক্রম ‘ঊষ্ণতার হাসি’ এই সকল অসহায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে উষ্ণতার হাসি ফোটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে।

    কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো. সালেহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন— আইএফএসডি ফাউন্ডেশন সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন শুভ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান রিয়াদ, আবদুল বারী বাবলু, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, আরিফুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি,  তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মিনারেল ওয়াটারের নামে সরাসরি লাইনের পানি বোতলে ভরে বিক্রি করায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি বোতলজাতকরণ, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি না থাকায় ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

    সোমবার  বিকেলে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার পৃথক স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত।

    অভিযানে র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    পুকুর, খাল ও মাটির নিচ থেকে মটরের সাহায্যে ভর্তি করা হয় পানির ট্যাঙ্ক। তারপর সেই ট্যাঙ্ক থেকে ট্যাপের মাধ্যমে বোতলজাত করে মিনারেল ওয়াটার বলে তা বিক্রি হয় গ্রাহকের কাছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালীতে তিনটি পানির কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানার কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকা এবং কারখানার লাইসেন্স না থাকায় এশিয়া ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দাউদ হোসেন ফাইসালকে ৫০ হাজার টাকা, পিপাসা ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা এবং এবি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফকে ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জরিমানা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ট্যাপের পানি বোতলজাত করে সুপেয় পানি বলে বাজারজাত করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপরোক্ত কারখানা মালিকদের আর্থিকভাবে জরিমানা করে।

  • নোবিপ্রবিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি,’ ম্যারাথন

    নোবিপ্রবিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি,’ ম্যারাথন

    কনকনে ঠান্ডায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি’ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এ ম্যারাথন দৌড় শুরু হয়ে বাংলাবাজার প্রদক্ষিণ করে ফটকেই শেষ হয়।

    নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনলাইনে নিবন্ধন করেন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ জন বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

    দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, তরুণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দৌড়েছি। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, সুস্থ, ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়তেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চলবে।

    এ সময় নোবিপ্রবি ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সৈকত, ছাত্র অধিকার সম্পাদক বনি ইয়ামিন, অর্থ ও প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান, অফিস সম্পাদক মেহেদী হাসান, আইন সম্পাদক মাহবুবুল আলম তারেকসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

    মাস্টার্স পাস সুমনের দিনে কৃষিকাজ রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার

     

    ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন- উদ্যোক্তা উন্নয়ন (প্রভাষক) পদে উত্তীর্ণ হয়ে ও জাতীয় মেরিট লিস্টে ৬৫তম আসীন হয়েও সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে চাকরি হয়নি। এখন দিনে কৃষিকাজ আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে ৮ সদস্যের পরিবারের সংসার চালান। এ নিয়ে কোনো অসম্মান বোধ কিংবা আক্ষেপ নেই। বরং গর্ব করে বলেন, বেকার না থেকে কাজের মধ্যেই সময় যাচ্ছে, তৌফিক হলে খাবারের হোটেল ব্যবসা করব।

    বলছিলাম অনার্স মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বপ্ন ভাঙা যুবক আবুল কালাম সুমনের কথা। ২০১১ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স (ব্যবস্থাপনা) এবং ২০১২ সালে একই কলেজ থেকে মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) শেষ করেন। চেয়েছিলেন ভালো কোনো চাকরি অথবা শিক্ষকতা করবেন। এনটিআরসিএ কর্তৃক উদ্যোক্তা উন্নয়ন ‘প্রভাষক’ (ব্যবস্থাপনা থেকে যারা অনার্স শেষ করে তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয় থাকে) সনদপ্রাপ্ত হয়েও সে চাওয়া পূরণ হলো না।

    তিনি বলেন, ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন সিরিয়াল অনুযায়ী আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু, আমার আগে যাদের চাকরি হয়েছে, তাদের চাকরি প্রথমবার স্থায়ী না হওয়ার কারণে, তারা দ্বিতীয় বার চাকরির আবেদনে সুযোগ পায়। যার ফলে আমার চাকরি হয়নি।

    পরে সিডিএসপি-৪ এর আওতায় ফিশারিজ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন। এসময় বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি ক্ষেত্রে তার সহযোগিতার জন্য হাতিয়া পৌরসভা কৃষি উপ-সহকারী মো. হাসান সার-বীজ প্রণোদনা প্রদান করেন বলে জানান তিনি।
    তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারে তাদের ৮ সদস্য। সংসারে বাপের বড় ছেলে তিনি। নিজের এবং বর্গা মিলিয়ে প্রায় দুই একর জমি চাষ করেন। দিনে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন আর রাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান।

    নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড- চরলটিয়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে আবুল কালাম সুমন। উদ্যোক্তা ও উদ্যমী মনোভাবের শিক্ষিত এ যুবক এখন প্রতি সন্ধ্যায় হাতিয়া কোর্টের উত্তর কোণে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। যা গত কয়েকমাস ধরে চলছে।

    সম্প্রতি তার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে ভিড় জমান।

    ঝালমুড়ি খাওয়া অবস্থায় হাতিয়া শহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল বলেন, আবুল কালাম সুমন বেকার ও অলস যুবকদের কর্মমুখী হওয়ার জন্য একটি উদাহরণ। সুমন একজন ভালো মানুষ এবং উদ্যমী। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের উচিত এমন শিক্ষিত বেকারদের সহযোগিতা করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

    ঝালমুড়ি বিক্রি এবং ভবিষ্যৎ ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার টাকার মতো ঝালমুড়ি বিক্রি করি। এতে খরচপাতি গিয়ে মোটামুটি কিছু টাকা থাকে। পুঁজি হলে খাবার হোটেল ব্যবসা করব।

    তার এ উদ্যমী কাজে সহযোগিতা করার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খোরশেদ আলম জানান, তার ডিপার্টমেন্টের কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। এ ক্রাইটেরিয়ার ভেতর কিংবা অন্য কোনোভাবে হলেও পর্যালোচনা করে একটা ব্যবস্থা নেব।