Blog

  • ঢাকা বোর্ডে এসএসসির উত্তরপত্র সংগ্রহে অনীহা

    ঢাকা বোর্ডে এসএসসির উত্তরপত্র সংগ্রহে অনীহা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র সংগ্রহ থেকে মূল্যায়নে সীমাহীন অবহেলা দেখা যায় পরীক্ষকদের মধ্যে। এর খেসারত দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

    বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত দিনে উত্তরপত্র সংগ্রহ করেননি ২৩৫ জন পরীক্ষক। তাই তাদের আগামীকাল ৫ মে উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সোমবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলা ১ম পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ই-টিআইএফভুক্ত শিক্ষকদের পরীক্ষক হিসেবে বোর্ড থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। আজ ৪ মে পরীক্ষার উত্তরপত্র গ্রহণ করার জন্য গত ৩০ এপ্রিল বোর্ড থেকে তাদের মোবাইলে এসএমএস দেয়া হলেও উল্লিখিত পরীক্ষকরা অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতি, আপনার প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষকদের আগামী ৫ মে সকাল ১১টার মধ্যে বোর্ডে উপস্থিত হয়ে উত্তরপত্র গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

     

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক হাই কোর্টে আটকে আছে, ওদেরকে ‘প্রমোশন’ দিতে পারছি না। আবার ৩২ হাজার নিতে (নতুন নিয়োগ দিতে) পারছি না। এদিকে ৭৭ হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিতে হবে। কাজ চলছে।

    সোমবার (৪ মে) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন,

    তিনি আরো বলেন, আদালতে (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাত নিয়ে) প্রায় ১৩ হাজার মামলা আটকে আছে। এই মামলার জট কীভাবে খুলব? মানে কী করা যাবে বলেন? কিছুটা সময় দেন।

    ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টাইম ফ্রেইম হচ্ছে ১৮০ দিনের ভেতরে। সবগুলো দেখবেন যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই শুরু হওয়াটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম ধাপ।

    গাছ একবার লাগালে ফল দিতেই থাকবে। আমরা চাচ্ছি যে শুরুতে যেন আমাদের গতিটা বেশি থাকে। আমাদের কর্ম পরিসর যেন অনেক ব্যাপক থাকে। শুরুটা যদি ভালো হয়, তারপর আমরা আস্তে আস্তে শেষের দিকে চাপমুক্ত থাকব।

    বি/ এ

  • চুয়াডাঙ্গায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

     

    মফিজ জোয়ার্দ্দার , চুয়াডাঙ্গা

    চুয়াডাঙ্গার জীবন নগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ৮ কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৭ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    ৪ মে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১টি ব্রীজ ও ৩টি সড়ক উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন।

    কাজের উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, ‘এই ব্রীজ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অযোগ্য থাকায় ভোগান্তি হচ্ছিল, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে’।

    উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৭০ টাকা ব্যয়ে ৩১ দশমিক ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য বালিহুদা জোড়া ব্রীজ, ১ কোটি ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য মিনহাজপুরহাট-বৈদ্যনাথপুর সড়ক, ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৮ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৯৯০ মিটার দৈর্ঘ্য রায়পুরবাজার-সাফদারপুর সড়ক এবং ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৮ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য খয়েরহুদাহাট-পিয়ারাতলা আরএন্ডএইচ সড়ক। যা বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি। এর মধ্যে ব্রীজের কাজ শেষ হলেও অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

    এসব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সাখাওয়াত হোসেন, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সোলায়মান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমানসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীবৃন্দ।

  • শিবিরের মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা

    শিবিরের মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা

    ডেস্ক নিউজ : ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার ফেসবুকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি। পোস্টে বলা হয়েছে, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

    আর আই খান

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পাচ্ছেন ২৮৯৭ শিক্ষার্থী

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পাচ্ছেন ২৮৯৭ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩৭ কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৪ মে) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফেসবুক পোস্টে আরো জানানো হয়, গত ২৭ জানুয়ারি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

    তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৬৩৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থী, ১৪৩ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, ৩ জন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের শিক্ষার্থী ও ১৫ জন অন্যান্য আবেদনকৃত শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

    বি/ এ

  • পশ্চিমবঙ্গে সরকারের গঠনের পথে বিজেপি

    পশ্চিমবঙ্গে সরকারের গঠনের পথে বিজেপি

    ডেস্ক নিউজ : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে বিজেপি। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে অনেক স্থানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। আশা করা হচ্ছে, দুপুরের মধ্যেই বাংলার মসনদে কে বসছেন, সেই ছবিটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশ সময় বেলা ১২ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে গণনায় দেখা যায়, ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ১৮৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস ১০২টি আসনে এগিয়ে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। বিশেষ করে আরজি করের ঘটনা এবং কসবা ল কলেজের মতো নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনাগুলো শাসক দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

    অন্যদিকে, ১৫ বছরের শাসনকাল শেষেও তৃণমূলের মূল শক্তি তাদের মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি এবং জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। গ্রামীণ বাংলায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ব্যাপক সাফল্য এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের সংহতি মমতার দলের বড় ভরসা।

    এখন প্রশ্ন একটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তার হ্যাটট্রিক পরবর্তী আধিপত্য বজায় রাখতে পারবেন, নাকি বাংলার ক্ষমতায় আসবে নতুন সরকার।

    আর আই খান

  • হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করার পর জাস্ক দ্বীপের নিকটে এ হামলা ঘটে।

    খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা না মানায় এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সোমবার থেকে “প্রজেক্ট ফ্রিডম” শুরু করা হবে।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, ১০০টির বেশি স্থল ও নৌভিত্তিক বিমান, পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন করা হবে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গুটি বসন্ত (পক্স) রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষক মৃত্যু হয়েছে।  ৪ এপ্রিল সোমবার রাত ১ টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    ইতিশ চন্দ্র সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বোডঘর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।  তিনি খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগে ইতিশ চন্দ্রের ছেলে ঢাকা থেকে এসে গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে একে একে ইতিশ চন্দ্র দাস সহ তার স্ত্রী ও আরেক ছেলেও গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন।

    আক্রান্ত হওয়ার পর পাশের গ্রামের এক কবিরাজের কাছ থেকে শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে গত রাতে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান।

    বি/ এ

     

  • পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ  আরও তীব্র হতে পারে

    পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে

     ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, নইলে তা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত। তবে এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় নয়াদিল্লি, যারা বরাবরই এই বিরোধকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে।

    ২০২৫ সালের ওই সংঘর্ষ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই। চার দিনব্যাপী এই সংঘাতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী গোলাবর্ষণের মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটি ও শহরাঞ্চল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    এই সংঘর্ষের পর উভয় দেশই তাদের সামরিক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে দ্রুত, দূরপাল্লার এবং অধিক শক্তিশালী আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনে মনোযোগ দিচ্ছে তারা। উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ, নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক কাঠামোগত সংস্কার চলছে জোরেশোরে।

    ভারত “নিউ নরমাল” নীতি গ্রহণ করে জানিয়েছে, তারা নির্ভুল ও কঠোর আঘাত হানবে এবং পারমাণবিক হুমকিকে গুরুত্ব দেবে না। অন্যদিকে পাকিস্তানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা ভারতের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।

    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশই এখন মনে করছে যে তীব্র প্রচলিত যুদ্ধ পারমাণবিক সংঘাতে গড়াবে না। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি, দ্রুতগতির যুদ্ধ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ভুল হিসাবের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এতে অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘর্ষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে দেখা যেতে পারে—সীমান্তে সামরিক মহড়া, ভুল বোঝাবুঝি, বিমান ভূপাতিত হওয়া এবং পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সামরিক ঘাঁটি, এমনকি পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া খবর ও প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ধর্মীয় স্থানে হামলার অভিযোগ, পানির প্রবাহ বন্ধের হুমকি এবং সমুদ্রপথে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

    এই ধরনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বড় শক্তিগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষ জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কূটনৈতিক সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের সংঘাত ঠেকাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোপন সংলাপ, আস্থা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের একটি সুসংগঠিত সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

    ২০২৫ সালের সংঘর্ষ পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেনি, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক ভিত্তি তৈরি করে গেছে। পরবর্তী সংঘাত আরও দ্রুত, আরও তীব্র এবং আরও অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এখনই যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

  • ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও রক্তক্ষয়ী পট পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা থেকেই এটা স্পষ্ট যে, দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এক ঐতিহাসিক ও ঝোড়ো জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে, যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৯৭টি আসনে থমকে আছে।

    তবে এই পরিবর্তনের আবহে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত। গেরুয়া শিবির জয়ের গন্ধ পেতেই বিভিন্ন জায়গায় বিজয় উল্লাসের পাশাপাশি শাসকদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এই নির্বাচনি ফলাফলের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই জয় আসলে সুপরিকল্পিত মেরুকরণের ফল। তার দাবি অনুযায়ী, একদিকে যেমন তারা রাজ্যের হিন্দু ভোট এক ছাতার তলায় আনতে সফল হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের চিরাচরিত তুরুপের তাস ‘মুসলিম ভোট ব্যাংক’ এবার পুরোপুরি ধসে গেছে। এই হিন্দু ভোটের অভূতপূর্ব সংহতি উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত বিজেপিকে একতরফা লিড এনে দিয়েছে। সন্দেশখালী ইস্যু থেকে শুরু করে সিএএ কার্যকর হওয়া—সবই হিন্দু ভোটারদের মনে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছিল, যা ব্যালট বাক্সে বিজেপির পক্ষে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেসের ভোট শেয়ার সামান্য বাড়ায় অনেক আসনেই তৃণমূলের ভোট ভাগ হয়ে গেছে, যা পরোক্ষভাবে গেরুয়া শিবিরের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।

    তৃণমূলের এই পরাজয়ের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোহভঙ্গ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতা এবং মুসলিম ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের জেরে লাখ লাখ কর্মপ্রার্থী যুবকের ক্ষোভ শাসকদলের বিরুদ্ধে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ। রাজ্যের মুসলিম ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে আইএসএফ কিংবা বাম-কংগ্রেস জোটের দিকে ঝুঁকেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে এই ভোট বিভাজন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকার সংখ্যালঘুদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করায় এবং তাদের দাবিদাওয়ার চেয়ে দমনমূলক নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এই বিদ্রোহ তৈরি হয়েছে।

    নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও এই ফলাফলে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে যেখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গেছে। এই প্রশাসনিক রদবদল তৃণমূলের ভোটের অঙ্ক গোড়া থেকেই এলোমেলো করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও রেশন বণ্টনের মতো একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি এবং শীর্ষ নেতাদের জেলযাত্রা মানুষের মনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছিল। রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানই প্রমাণ করেছিল যে মানুষ এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে মরিয়া ছিলেন। হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং মুসলিম ভোটের ভাঙন—এ দুই বিপরীতমুখী স্রোতের আবর্তে পড়ে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ আজ ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।