Blog

  • যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন স্টারমার

    যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন স্টারমার

    নিউজ ডেস্ক:

    স্টারমার উদাহরণ হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
    মঙ্গলবার তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া কমিটি ‘কোবরা’-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

    শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমার বলেন, ‘আগামীকাল আমি কোবরা বৈঠকের নেতৃত্ব দেব, যেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও থাকবেন, যাতে এই সংকটে আমরা কর্মজীবী মানুষদের পাশে থাকতে পারি।’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ‘আমি আপনাদের সত্যটা জানাতে চাই—এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব কিছু সময় ধরে থাকতে পারে, বলেন তিনি।

    স্টারমার উদাহরণ হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

  • আপিলেও বাতিল মনিরা শারমিনের মনোনয়ন

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    আইনগত কারণে আপিল আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তার মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় সেখানে আরো চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ বলেন, আইনগত কারণে আপিল আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং তার মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে।

    নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ত্যাগ করেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

    চাকরি ছাড়ার পর মাত্র সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো: মঈন উদ্দীন খান।

    সোমবার ইসির আপিলেও সেই একই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান মনিরা শারমিন।

    এদিকে ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই বাতিলের ফলে আনুপাতিক হারে পাওয়া জামায়াত জোটের ১৩টি আসনের মধ্যে একটি আসন আপাতত শূন্য থাকছে এবং তাদের বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১২টিতে দাঁড়িয়েছে। শূন্য হওয়া এ আসনটি উন্মুক্ত হিসেবে পরবর্তীতে নতুন তফসিলে ভোট হবে।

    উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজনসহ মোট ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    এ,আর

  • ইরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড আছে: গালিবাফ

    ইরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড আছে: গালিবাফ

    নিউজ ডেস্ক:

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দাবি খারিজ করে বলেছেন, দেশটি ইতোমধ্যেই তার শক্তির বড় একটি অংশ হারিয়েছে। বিপরীতে, তেহরানের হাতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘কার্ড’ রয়েছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    গালিবাফ একটি সমীকরণের কথা উল্লেখ করেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতা—হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেলের পাইপলাইন। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ—কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।

    তিনি বলেন, তেহরানের কাছে এখনো এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তার বেশ কয়েকটি হাতিয়ার প্রয়োগ করেছে বা আংশিকভাবে ব্যবহার করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘তারা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক—সরবরাহ কার্ড বনাম চাহিদা কার্ড।’

    তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির কার্ড আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও পাইপলাইন কার্ড এখনো ব্যবহৃত হয়নি।

    অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের কার্ড হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—মজুত থেকে তেল ছাড়া হয়েছে, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় হতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা’ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় দেশটিতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল, লেবাননে নিহত ১৪

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল, লেবাননে নিহত ১৪

    নিউজ ডেস্ক:

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। রোববার এতে ১৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল নতুন করে জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। তারা জোরপূর্বকভাবে সীমান্তবর্তী ৭ টি শহর থেকে মানুষদের সরে যেতে বলেছে। এই স্থানে বাফারজোন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল।

    দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর সময় সন্মুখ সমরে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হন। এছাড়াও আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ। নিহত সেনা ইদান ফুকস ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ৭ম বিগ্রেডের ৭৭তম ব্যাটেলিয়ানের সদস্য ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন লেবানন ও ইসরাইল। তবে উভয় দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে।

  • গাজার উদ্দেশে ইতালি থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন যাত্রা শুরু

    গাজার উদ্দেশে ইতালি থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন যাত্রা শুরু

    নিউজ ডেস্ক:

    ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে রোববার শুরু হয়েছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ২০২৬ সালের বসন্তকালীন মিশন। আবারো উত্তাল সমুদ্র চিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে এগোচ্ছে মানবিকতার এক বিশাল নৌবহর। ইসরাইল সরকারের দীর্ঘদিনের কঠোর অবরোধ ভেঙে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    গত ১২ এপ্রিল বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহরটি সিসিলিতে এসে সাথে আরো কিছু শক্তি যোগ করেছে। সিসিলির সিরাকিউজ এবং অগাস্টা শহর থেকে ইতালীয় সক্রিয়কর্মী এবং বেশ কিছু নৌকা এই বহরে যোগ দেয়।

    মাঝসমুদ্রে গ্রিনপিসের একটি জাহাজ এই নাগরিক উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে বহরে যোগ দিলে সবার মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রার সময় ফিলিস্তিনের সমর্থনে স্লোগান আর মশাল জ্বালিয়ে বিদায় জানানো হয় কর্মীদের। চোখেমুখে অনিশ্চয়তা থাকলেও সবার কণ্ঠে ছিল গাজার উপকূলে পৌঁছানোর একরোখা সংকল্প।

    মিডলইস্ট মনিটরের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ আহমেদ বলেছেন, গাজা অবরোধের এই জটিল রাজনীতি বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। ‘ফ্লোটিলা’ বা এই নৌ-অভিযান মূলত বিশ্ববিবেকের এক প্রতিবাদী প্রতীক। ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইল যখন গাজাকে চারপাশ থেকে আটকে দেয়, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্টরা সমুদ্রপথে এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে আসছেন।

    এই ‘ফ্লোটিলা’ শব্দটির ইতিহাসও বেশ পুরনো। এটি স্প্যানিশ শব্দ ‘ফ্লোটা’ থেকে এসেছে, যার মানে ছোট নৌবহর। মূলত সামরিক বা বিশেষ প্রয়োজনে ছোট ছোট জাহাজের দলবদ্ধ যাত্রাকেই ফ্লোটিলা বলা হয়। বর্তমান সময়ে এটি কেবল ত্রাণবাহী জাহাজ নয়, বরং এটি ইসরাইল সরকারের অমানবিক অবরোধের বিরুদ্ধে এক বিশাল রাজনৈতিক ঢাল। যারা এই নৌকায় আছেন, তারা জানেন গাজার সমুদ্রসীমায় পৌঁছানো কতটা বিপজ্জনক, তবুও তারা যাচ্ছেন কেবল এই বার্তা দিতে যে গাজা একা নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিরোধ।

    এই মিশনটি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র জন্য দ্বিতীয় দফার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা একবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অক্টোবরে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় থাকাকালীন ইসরাইল বাহিনী সেই বহরের ওপর হামলা চালায় এবং শত শত কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। বন্দীদেরকে হেনস্তা করে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের অর্থকড়িও চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্র ও মানাধিকার কর্মী এবং ফ্লোটিলার অন্যতম সদস্য ড. শহিদুল আলম।

    তবুও থেমে থাকেনি এই মানবিক অভিযাত্রা। এবারের যাত্রায় মানুষের ঢল আর গ্রিনপিসের মতো বড় সংস্থার সমর্থন প্রমাণ করছে যে গাজার ওপর অব্যাহত এই অবিচারের বিরুদ্ধে দুনিয়াজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি, বরং বাড়ছে।

    ইসরাইল দাবি করে যে নিরাপত্তার সাথে আপস না করতেই তারা এই অবরোধ দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এ এক ‘খোলা জেলখানা’। এই জেলখানার দেয়াল ভাঙতে বড় কোনো কামানের দরকার নেই, মাঝেমধ্যে একঝাঁক সাদা পাল তোলা নৌকাই বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে দিতে যথেষ্ট।

    সমুদ্রের ঢেউ ডিঙিয়ে এই ৬৫টি নৌকা গাজার উপকূলে ভিড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই যাত্রা এরই মধ্যে বিশ্বরাজনীতির টেবিলে এক বড় ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলেছে।

  • চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরির রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আরেক ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পাওয়া যায়।

    গত বছরের ১৩ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে বাসার মালিক জনৈক মো: ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো: জাকিরের সাথে এক অজ্ঞাতনামা নারী গৃহকর্মীর কাজের জন্য দেখা করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং এনআইডি নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তিনি কাজে যোগ দিলেও এনআইডি আনেননি। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসার মালিকের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।

    এ ঘটনায় ইবনুল আলম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি কয়েক মাস তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী মামলাটি তদন্ত করছেন।

    পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্ত দল কার্যক্রম চালাতে থাকে। এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার আরেক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায়।

    পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পূর্বের হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বিলকিস বেগমকে (৪০) শনাক্ত করে শ্যেন অ্যারেস্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২ এপ্রিল তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন।

    তার দেয়া তথ্যমতে পিবিআই’র অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত শহরবানু নামে এক নারীকে পায় এবং জুয়েলারি দোকান খুঁজে পেয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয়ের সত্যতা পায়।

    আসামি বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং শহরবানু ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।

    পিবিআই তদন্তে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি বিলকিস কৌশলে পরিচয় গোপন করে ভিকটিমের ছেলের বাসায় বুয়ার চাকরি নেন। বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিম রওশনারা বেগমকে খাইয়ে অচেতন করে ভিকটিমের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিচিত শহরবানুর মাধ্যমে বিক্রয় করেন।

    এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রতিষ্ঠান। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা বদ্ধপরিকর।

    এ,আর

  • জুলাই সনদ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    জুলাই সনদ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    দেশের অগ্রগতি যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে জনগণকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ধাপে ধাপে এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।তিনি বলেছেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এখন গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

    আজ সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলসী খালের পাড়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে জুলাই সনদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    তিনি বলেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, যদি তারা এটা করতে না পারে, তবে জনগণের জন্য নেয়া সমস্ত কর্মসূচি যেমন- নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বন্ধ মিল কারখানা চালুর যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তারা ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে।

    তারেক রহমান বলেন, দেশের অগ্রগতি যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে জনগণকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জনগণ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে- তারা তাদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা মেনে নেয় না। যেভাবে জনগণ ৫ আগস্ট উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও কেউ তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে চাইলে তারা একইভাবে জবাব দেবে।’

    সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদেরকে শপথ নিতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ বসে থাকলে চলবে না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজকে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগাতে হবে, তাহলেই এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গত ৫০ বছর পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, যেই সিঙ্গাপুরকে নিয়ে আমরা মাঝে মাঝে গল্প করি, সেই সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে আমরা কেন পারব না? ইনশা আল্লাহ আমরাও পারব। এই দেশের মানুষ পারবে।’

    বিএনপি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় তারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে, বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কিভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল। মনে আছে আপনাদের ১৭৩ দিন কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনো আবার সেই ভূত আরেকজনের কাঁধে গিয়ে আছর করেছে, আপনাদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সতর্ক থাকি এবং আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকি, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যদি ছিনিমিনি খেলতে চায়, ইনশা আল্লাহ চব্বিশের আগস্টের ৫ তারিখে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ জবাব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ দেশের মানুষ সেভাবেই জবাব দেবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যারা শহীদ জিয়ার দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক, আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ।’

    উলসী খাল দেখিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই খালে পানি নাই। কারণ, এই খালগুলো আজকে রুদ্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গেছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গেছে, খাল বন্ধ হয়ে গেছে, খাল দখল হয়ে গেছে, তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘এখন আজকে আমরা এসেছি এ খালটি আবার পুনঃখনন করতে। গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন। প্রায় চার কিলোমিটারের এই খাল আমরা যদি পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে। পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি প্রায় ২০ হাজারের মতো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪ শ’ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে আমরা এর দু’পাশ দিয়ে প্রায় তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার মা-বোনরা যারা ঘরে হাঁস পালতেন আগে, খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের পক্ষে সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু খালে পানি এলে মা-বোনদের জন্য বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে, হাঁস পালনের মাধ্যমে। আমরা যদি সবাই মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। আর তাহলেই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায় পর্যন্ত, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরো সামনে নিয়ে যেতে চাই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- মেয়েদের পড়ালেখার ব্যবস্থা ডিগ্রী পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রী পর্যন্ত ফ্রি করব না। একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করব।’

    প্রধানমন্ত্রী এর আগে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে শার্শায় বাবার স্মৃতি বিজড়িত উলসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন। পরে খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণও করেন।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধানমন্ত্রী এর আগে বেলা ১১ টা ৪২ মিনিটে খাল খনন স্থলে আসেন। এসেই খালের উপরের অংশে নির্মিত ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শার উলসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খনন করেছিলেন, যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত। খালটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃখনন করা হচ্ছে।

    এ,আর

  • দ্বিতীয়বার সংরক্ষিত আসনের এমপি হচ্ছেন বিলকিস ইসলাম

    দ্বিতীয়বার সংরক্ষিত আসনের এমপি হচ্ছেন বিলকিস ইসলাম

    ডেস্ক নিউজঃ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পেয়েছেন নীলফামারীর বিলকিস ইসলাম। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

    সোমবার  দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    বিলকিস ইসলাম বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলার সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

    দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে দল বিলকিস ইসলামকে মনোনীত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে নারী অধিকার, শিক্ষা বিস্তার এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তার এই সংগ্রামী জীবনযাত্রা এবং জনসম্পৃক্ততা তাকে জনগণের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিলকিস ইসলাম বলেন, আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছে এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে, এলাকার উন্নয়ন করতে। আমি সুযোগ পেয়েছি সংসদে গিয়ে নারী উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন ও এলাকার উন্নয়নের কথা বলতে চাই।

    এম কে

  • সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    ডেস্ক নিউজঃ

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পগুলোতে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। বকেয়া বিল তুলতে হিমশিম খাচ্ছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। 

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    নেসকো সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থাপিত ২৪টি বিদ্যুতের মিটার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হচ্ছে। তবে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছি প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ৷

    ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিহারি ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরে ক্যাম্পবাসী নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি ক্যাম্পবাসী।

    আরও জানা যায়, নেসকো কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ক্যাম্পবাসী নিজস্বভাবে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে কয়েকশত সংযোগ দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন সময়ে বকেয়া বিল নিতে গিয়ে হামলা ও তোপের মুখে পড়ে ফিরে এসেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।

    বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়া আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। আমরা যারা এখানে বসবাস করছি তারা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। কীভাবে এত টাকা পরিশোধ করবো। আমাদের এত টাকা পরিশোধ করার উপায় নেই।

    আরেক বাসিন্দা রাজিব হাসান বলেন, আমরা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করি। আমাদের বিদ্যুৎ কেটে দিলে কীভাবে চলবো এজন্য আমরা সংযোগ বন্ধ করতে দেই না।

    উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, আমাদের বিভিন্ন ধরনের দাবি রয়েছে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করেছিলাম। সে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল আমাদের সকল বকেয়া বিল সরকার পরিশোধ করবে, কিন্তু করেনি। আমরা ক্যাম্পে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি, এখানে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। এখন যদি হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে গরমে মারা যাবে, ঠিকমতো পানি পাবে না। ক্যাম্পে অনেক গরিব মানুষ বসবাস করে, আমরা হুট করে এতগুলো টাকা কীভাবে পরিশোধ করব। আমি এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করছি আমাদের দিকে বিবেচনা করতে এবং আমাদের দাবি মেনে নিতে।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বলেন, বিহারি ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা বিল চাইতে গেলে হামলা ও তোপের মুখে পড়ি। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ফিরে এসেছি। আমরা বিষয়টি সিনিয়র কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তারা আসবেন এসে যা ভালো হয় সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    এম কে

  • বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    বুড়িমারী সীমান্তে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত থেকে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার  বিকেলে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল এলাকার ৮৩৭/১ এস সীমান্ত পিলারের নিকটবর্তী একটি ফসলি জমি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বামনদল গ্রামের মৃত করিমের ছেলে সাজু বাড়ির পাশের ফসলি জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় তিনি মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন মর্টার শেল দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি)  বুড়িমারী বিওপির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাটগ্রাম থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এটি ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এম কে