Blog

  • লোডশেডিংয়ে নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা

    লোডশেডিংয়ে নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা

    ডেস্ক নিউজ:

    দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে; জাতীয় সংসদের অধিবিশনে এমনটি বলেছেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আর্কষণ করে তিনি এ কথা বলেন।

    সংসদে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন,  বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আজ হায় হায় করছে। চতুর্দিকে বিদ্যুতের যে সংকট চলছে, তা উত্তরণে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চারদিকে যে সংকট চলছে এটা থেকে উত্তরণে আশু ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

    তিনি পর্যটন মন্ত্রীকে এলাকাটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আমি পর্যটন মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করব, আপনি সুযোগ হলে এলাকাটি সফর করুন এবং সরকারি উদ্যোগে এটিকে বিশেষ পর্যটন আওতায় নিয়ে আসুন।

    বি/ এ

  • বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার তিনশ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    রোববার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা-শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত হতে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

    তিনি বলেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি-তে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। বছরে ১৩-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমদানি করা ক্রুড অয়েলের শতভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৩ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

    সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    সরকার দলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না থাকলেও উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কৃষি-সেচ ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

    বি/ এ

  • চলতি মাসে ১৮ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ১৯৭ কোটি টাকা

    চলতি মাসে ১৮ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ১৯৭ কোটি টাকা

    নিউজ ডেস্ক : চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এ সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দৈনিক গড় প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।

    এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

    গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

    এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

    আর আই খান

  • সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ-এ পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি “ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত” চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ এটি গ্রহণ করবে। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, কিছু লক্ষ্যবস্তু খুব দ্রুত ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আর আই খান

  • চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

    চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

     

    চৌগাছা  প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পার হলেও এখনো নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। গত বছরের ১১ জুলাই তৎকালীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়,চৌগাছা শহরে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ৩১ আগষ্ট দরপত্র আহবান করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নির্মাণের জন্য ডিপিপি মুল্য দেওয়া হয় ১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। যশোর উপশহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসআই একেজে পিসি ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণরুপে শেষ করে দিবে। কিন্তু চৌগাছা উপজেলা প্রশাশন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন দীর্ঘদিনেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মসজিদ নির্মাণের জায়গা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণে শুরু থেকেই নানা জটিলতায় পড়ে উপজেলা প্রশাসন। পরে এলাকাবাসীর জোর দাবির মুখে চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে (বর্তমান কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে) মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৮ হাজার ৬’শ ৮৫ বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মসজিদের জায়গা নির্ধারণের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদসহ উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সকল পর্যায়ের গন্যমাণ্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাঁকজমকপূর্ন ভাবে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ৮ মাস পার হলে গেলেও অদৃশ্য কারনে এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
    নির্ধারিত স্থানের দক্ষিণ ও পশ্চিম সাইডের রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা খালি রেখেই মসজিদ নির্মান কাজের স্কেচ তৈরি করা হয়। স্কুলের অব্যবহারিত বিশাল ফাকা জায়গা পড়ে থাকায় ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ততার বিয়টি আমলে নিয়ে রাস্তার পাশে জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাঁকা থাকলে নামাজের সময় শহরে যানজটও হবেনা ।
    নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য স্কুলে প্রবেশ মুখের সড়কের পাশের কিছু দোকান উচ্ছেদের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন মহেশপুর সড়ক ও স্কুলের প্রবেশ পথসংলগ্ন দোকানগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
    স্কুলটির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন স্কুলের জায়গার অভাব নেই। ক্ষমতার পালাবদলে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্কুলের সিংহভাগ জায়গা ভোগ দখল করছে। তারা বলেন, মসজিদটি দক্ষিণ-পশ্চিম রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে নির্মাণ করলে ভালো হবে। তাতে স্কুলেরও কোনো সমস্যা হবেনা। বরং স্কুলে প্রবেশের রাস্তাটি প্রশস্ত হওয়া খুবই জরুরী। কারণ পরীক্ষার সময় এই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তাটি প্রশস্ত হলে শিক্ষার্থীরা নির্বিগ্নে যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাদের দখলীকৃত জায়গা না ছেড়ে নানা টালবাহানা করার কারণে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। অনেকে বলছে একজন রাজনৈতিক নেতা ঐসকল ব্যবসায়িদেরকে জায়গা না ছাড়তে ইন্ধন দিচ্ছেন।
    প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি আবু জাফরসহ বেশকয়েকজন জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে দোকানঘর রেখে নির্মান কাজ মোটেও উচিৎ হবেনা। দোকানগুলো উঠিয়ে রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাকা রেখে নির্মাণ কাজ শুরু করলে খুবই ভালো হবে।

    তবে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার অপতৎপরতার কারণে দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম থেমে আছে। ওই নেতা মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দোকানগুলো না সরিয়েই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয়দের মতে, দোকানগুলো অপসারণ না করে নির্মাণ কাজ শুরু করলে মসজিদের সৌন্দর্য ও পরিকল্পনা ব্যহত হবে। তারা নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের রাস্তার পাশ ঘেঁষে নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

    এদিকে, সকল জটিলতা দ্রুত নিরসন করে মসজিদের নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু করার জন্য উপজেলাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

    বি/ এ

  • বিলুপ্ত হচ্ছে বিডা বেপজা বেজাসহ ছয়টি সংস্থা

    নিউজ ডেস্ক : দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিডা, বেপজা ও বেজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি সংস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থাকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন বৃহৎ দপ্তর গঠন করা হবে।

    বিলুপ্ত হতে যাওয়া সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

    আর আই খান

  • চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আনিচুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল হাদিকে (৪৫)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় ।

    হাদি জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আনিচুর রহমানকে হাদি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২১ তারিখ ৩০/১০/২০২৪ ।

    দীর্ঘ তদন্ত শেষে চৌগাছা থানার এসআই সলিমুল হক আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন এবং ৫ জনকে খালাস দেওয়ার আবেদন করেন । চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল হাদি , ওহিদুল ইসলাম,লেন্টু মিয়া,আমিন উদ্দিন ,কুরবান আলী ও হুজাইফা ইসলাম। আসামিদের মধ্যে সবাই আদালত থেকে জামিন নিলেও হাদি পলাতক থেকে যায় । শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে ।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সলিমুল হক হাদিকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ,আসামিকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

    বি/ এ

  • ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ডেক্স নিউজ : ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যাচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, ত্রিবেদীর জন্য ঢাকায় তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হলেও, ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের প্রতি জবাবদিহিতার একটি বার্তাও বহন করছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ত্রিবেদী ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টার অংশ হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

    দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের মাধ্যমে মোদি সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে কুণ্ঠিত নয় এবং এসব কাঙ্ক্ষিত পদ কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিতও নয়।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবে। এতে বোঝা গেল অন্তত উপমহাদেশে সুখসন্তপ্ত রাষ্ট্রদূতের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

    M

    সুত্র: আমাদের সময় /আরডি

     

  • ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ডেক্স নিউজ : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    বিদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে ফেডারেল রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের রেড জোন এবং বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    যাতায়াতের জন্য নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডির জেলা প্রশাসন দুই শহরে সব ধরনের গণপরিবহণ ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই জেলা প্রশাসকরা এই নির্দেশ জারি করেছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে ৬০০-এর বেশি বিশেষ পিকেট স্থাপন করা হয়েছে। এলিট কমান্ডো ও স্নাইপাররা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন এবং ডলফিন ফোর্সসহ কুইক রেসপন্স ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। স্পর্শকাতর স্থাপনা ও আবাসন এলাকায় নজরদারির জন্য ‘সেফ সিটি’র সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

    M

  • হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, সেটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং সেটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী।

    এটি সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া যার অবস্থান সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপস চ্যানেল এলাকায়।

    মালাক্কা প্রণালী আবারো আলোচনায় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বৈশ্বিক গুরুত্ব

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা সবচেয়ে ছোট ও কার্যকর সমুদ্রপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এটি অপরিহার্য।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে নেয়া হয়েছে- যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২৯ শতাংশ। এই একই সময়ে প্রতিদিন ২৬ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও পরিবহন হয়েছে এই পথ দিয়ে।

    যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ গোকি বালসি বলেন, এই পথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, ইলেকট্রনিকস, ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি ও গাড়িও পরিবহন হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ গাড়ির বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। এছাড়া শস্য ও সয়াবিনের মতো শুকনো পণ্যও পরিবহন হয় এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে।’বালসি আরো বলেন, ভৌগলিক, জ্বালানি পরিবহন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহনের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালাক্কার ভূমিকা আরো বিস্তৃত।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ মূলত জ্বালানি রুট। কিন্তু মালাক্কা প্রণালী শুধু জ্বালানি নয় বরং বহুবিধ পণ্যের ট্রান্স-শিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ আস্ত্রিনা বলেন, ‘এটা বলা যেতেই পারে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথগুলোর একটি হলো মালাক্কা প্রণালী।’

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক রিক্যাপ তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের মতে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীতে ২০২৫ সালে ১০৮টি জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। তাই এই প্রণালীতে জলদস্যুতা একটি চিরস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।এছাড়াও, এই এলাকাটি সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে এর দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

    কেন এখন উদ্বেগ?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কার গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।বালসি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে সমুদ্র আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে এই পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

    আস্ত্রিনা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।তার গবেষণা মতে, মালাক্কা প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী দেশগুলোর মাঝের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেয়ার জন্য তৈরি নয়। এটি মূলত জলদস্যুতা, চোরাচালান ও সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বড় শক্তি যখন এই অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম ও উপস্থিতি বাড়ায়, তখন এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দেয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাটি তৈরি নয়।’তবে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, ‘এখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে না, কারণ বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থ শক্তিশালী হওয়ায় সবাই সেটি বজায় রাখতে চায়।’তার মতে, বড় ঝুঁকিটি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে।

    তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি চীন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধির অবস্থান হিসেবে দেখে, তাহলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে সেটি সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে নয় বরং এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তা করতে পারে। ঝুঁকিটা সেখানেই। ধীরে ধীরে এমন এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যেখানে সহযোগিতামূলক ও আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে গিয়ে তা রূপ নিতে পারে আরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে।’তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি সংঘাত না হলেও এমন পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব থাকতে পারে।

    তিনি যুক্ত করেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরোক্ষ হলেও শক্তিশালী হবে যেমন বীমা খরচ বাড়বে, ঝুঁকির ধারণা বাড়বে এবং এমন একটি সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হবে যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা সরলভাবে দেখাকে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যেন ইন্দোনেশিয়া কোনো এক পক্ষের সাথে জোট বাঁধছে। ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে। বাস্তবতা হলো মহাজোটগুলোর প্রতিযোগিতা এখন এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য যৌথ ও কার্যকর করিডর হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।’

    ‘মালাক্কা দ্বিধা’

    ২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ‘’মালাক্কা ডিলেমা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝাতে।যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চায়না পাওয়ার প্রোজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তেল আমদানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মোট মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    বালসি বলেন, ‘শুধু চীনই নয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি এটির মধ্য দিয়ে আসে।’তিনি আরো বলেন, এই নৌপথ সিঙ্গাপুরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর এবং এটি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র।চীনের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আস্ত্রিনা। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে চীনের পক্ষে বাস্তব অর্থে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কোনো কার্যকর উপায় নেই। পাইপলাইন বা অন্য কোনো করিডরের মতো বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও তা বৃহৎ পরিসরে মালাক্কার বিকল্প হতে পারবে না।’

    বালসিও এতে একমত। তিনি বলেন, সুন্দা প্রণালী ও লম্বক প্রণালী যে দু’টিই ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসীমায় অবস্থিত তারাই সবচেয়ে কার্যকর দু’টি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।পাপুয়া নিউগিনির নিকটে টরেস প্রণালী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অগভীর ও সংবেদনশীল নৌপথ যেখানে প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে না।আর যদি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ঘুরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে অত্যধিক সময় ও ব্যয় লাগবে বলে তিনি জানান।আস্ত্রিনা মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে চীন এই দুর্বলতা দূর করার চেয়ে বরং তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

    তিনি বলেন, ‘এই দ্বিধার মূল বিষয় নির্ভরতা কমানো নয় বরং চীন কিভাবে সেই নির্ভরতা পরিচালনা করে। এ কারণেই চীন শুধু বিকল্প পথ খোঁজার দিকে নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।’