Blog

  • মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মসূচি ঘোষণা

    মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মসূচি ঘোষণা

    নিউজ ডেস্ক:

    ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান।

    এ সময় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-জেলা, উপজেলা ও থানার উদ্যোগে র‌্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ; জাতীয় ইউনিয়ন সমুহের উদ্যোগে দেশব্যাপী শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা; ক্রাফট ফেডারেশনসমূহের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা; ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ব্যানারে র‌্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ; লিফলেট বিতরণ; কেন্দ্র, জেলা, মহানগরী, জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের উদ্যোগে পোস্টারিং; মহানগরী, জেলা, উপজেলা, থানা ও ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের উদ্যোগে শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো।

    আরও কর্মসূচি হলো-পেশা ভিত্তিক শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও সামষ্টিক বনভোজন; বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিয়ম; ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়; অসচ্ছল ও কর্মক্ষম শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান; বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রধান; শ্রমিক পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ; সুবিধা বঞ্চিত শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং ইমাম ও খতিবদের মাঝে ‘শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা’ সম্পর্কিত খুতবা বিতরণ।

    কর্মসূচি ঘোষণার পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শ্রমিকের স্বার্থ, অধিকার, কল্যাণ এবং শ্রমিক সমাজের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বিগত সময়ে আমাদের নেতাদেরকে বারবার রাষ্ট্রীয় রোষানলে পড়তে হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘ পথ চলায় শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ সাধনায় এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কখনোই এক বিন্দু পরিমাণ পিছপা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমরা পিছু হটবো না ইনশাআল্লাহ।

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নিউজ ডেস্ক:

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
  • নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :  সেচের অভাবে ইরি-বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। ভলো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধান চাষ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ধান ক্ষেতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কৃষকরা।

    মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এসব ফসলের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    একাধিক কৃষক জানান, ‘ধান ভালোই হয়েছে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে পানি দিতে না পারায় সব শেষ। বাজারে ডিজেল নেই। থাকলেও উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

    নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি”।

    বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন,” ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”

    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    আর আই খান

  • বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    নিউজ ডেস্ক:

    বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় কেবল অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়; বরং কোন রাষ্ট্র নিজেকে কতটা “অপরিহার্য” করে তুলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করে তার প্রকৃত কৌশলগত অবস্থান। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে আসছে—যেখানে সীমাবদ্ধতাকেই সম্পদে রূপান্তর করা হয়। বিপরীতে ভারত, বৃহৎ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্যতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু দশকের নীরব সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও নিশ্চিত করে। এই অঞ্চলে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ—প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, জ্বালানি নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক—থাকা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভারত প্রান্তিকই থেকে গেছে।

    এই কৌশলগত অবস্থানের সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় চলমান পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন ভূমিকা সাধারণত সেই রাষ্ট্রগুলিই পায়, যাদের ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিকল্প কম থাকে। পাকিস্তান সেই অবস্থান তৈরি করেছে তার সামরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুমুখী সম্পর্কের মাধ্যমে—যেখানে একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে এই ধারা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জার-এর গোপন চীন সফরের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই ছিল মূল চালিকা শক্তি, যার মাধ্যমে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন চীন-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ পায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমর্থন আফগান মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এমনকি ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান একসঙ্গে সহযোগী ও চ্যালেঞ্জ—দুই ভূমিকাতেই থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, পাকিস্তানের কৌশল কোনো একক সরকারের নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি।

    পাকিস্তানের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে তার পারমাণবিক সক্ষমতা। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যায়। ভারতের প্রচলিত সামরিক আধিপত্য কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ভারতের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়, যেখানে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েও সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে পারমাণবিক প্রতিরোধ শুধু নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক দরকষাকষিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

    সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্ভাব্য “পারমাণবিক ছাতা”। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রথমে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করেন। তবে এই ঘটনাই দেখায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছে—যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না দিয়েও সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত রাখা হয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, বিশেষত এমন সময়ে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ অনিশ্চিত।

    ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের এই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীন-এর সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এটি একটি প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত হয়েছে। চীনের জন্য এটি অর্থনৈতিক করিডোরের শেষ প্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক নিরাপত্তা অংশীদার, আর সৌদি আরবের জন্য নির্ভরযোগ্য সামরিক সহযোগী। ফলে বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলে যায়—আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাকিস্তান।

    অন্যদিকে ভারতের শক্তিই অনেক ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বৃহৎ অর্থনীতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এর নীতি ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা ভূমিকায় যেতে নিরুৎসাহিত করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক বিস্তার করলেও, সেই সম্পর্কগুলোকে নিরাপত্তা নির্ভরতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে ভারত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কিন্তু অপরিহার্য নয়।

    সবশেষে দেখা যায়, পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, নিরাপত্তা নির্ভরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভারত তার শক্তির কারণে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত, শক্তির প্রতিযোগিতা এবং জোট রাজনীতি নতুনভাবে গড়ে উঠছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থানগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা যায় না—এবং সেখানেই কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

  • চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    চৌগাছায় বিশেষ অভিযানে ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দিঘড়ী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (২৫), পুড়াপাড়ার খালপাড়া গ্রামের লুনু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (৪৪), মাসিলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৩), বল্লভপুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে আমিন তরফদার (২৩), মাধবপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মিল্টন হোসেন (৩০), লষ্করপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে ইকবাল রহমান (২৮), ঝিনাইকুন্ড গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ছাব্বির হোসেন সজিব (২০)।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে বিধি মোতাবেক পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    বি/ এ

     

  • এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

    এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রায় দুই মাস এসিল্যান্ড নেই। দীর্ঘ সময় এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে দেখা দিয়েছে দাপ্তরিক জটিলতা। নামপত্তন (মিউটেশন) থেকে শুরু করে আটকে গেছে ভূমিসংক্রান্ত সকল কাজ। একই সাথে স্থবির হয়ে পড়েছে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম । ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে জনদুর্ভোগ, তেমনি কমেছে সরকারি রাজস্ব আয়। কবে যোগদান করবেন নতুন এসিল্যান্ড সে বিষয়টি জানে না কেউ।

    এসিল্যান্ড না থাকায় চলতি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উপজেলা প্রশাসনের কাজ শেষ করে এসিল্যান্ডের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এসিল্যান্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের বদলি হয়। প্রায় দুই মাস পরে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রæয়ারি তারিখে যোগ দান করেন রেশমা খাতুন। তিনি যোগদান করে ৯ মার্চ তারিখে ছুটিতে যান। এরপর থেকে অদ্যাবধি কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় সমস্যা বেড়েই চলেছে।

    গত ৪২ দিনে নতুন কোনো এসিল্যান্ড না আসায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনও হিসেবে অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভূমি অফিস ও পৌরসভার দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের ১১টি ভূমি অফিসের অধীন জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে প্রতিদিন উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

    এব্যাপারে ১১ নং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপুড়া গ্রামের শওকত আলীর মেয়ে বিথি খাতুন, নগরবর্ণী গ্রামের ইলাহি বকসের ছেলে আক্তারুজ্জামান, আব্দুর রশিদের ছেলে মনিরুজ্জামান জানান, তারা প্রত্যেকেই এক দেড়মাস আগে নাম জারির আবেদন করেছেন। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে কোনো খবর পাইনি তারা।

    জগদিসপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ এক দেড় মাস ধরে একটা নামজারি করতে দিয়েছি কিন্তু আজ পর্যন্ত পেলাম না। নামজারি না হলে জমি রেজিস্ট্রি করতে পারছি না। এজন্য আমি খুবই সমস্যায় পড়েছি’।

    অপরদিকে এই বিষয়ে চৌগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন- মিউটেশন বন্ধ থাকার কারণে রেজিস্ট্রি কমে গেছে। এতে করে কমে গেছে সরকারি রাজস্ব আদায়।

    চৌগাছা পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানান, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসেছিলেন। এসিল্যান্ড প্রায় দুই মাস ছুটিতে আছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও পৌরসভার দায়িত্ব নিতে চাননি। বর্তমানে পৌর প্রশাসক না থাকায় পৌরসভার সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফানজানা ইসলাম বলেন, বর্তমানে চৌগাছায় কোনো এসিল্যান্ড না থাকায়, আমি সহকারী কমিশনার (ভূমির) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ভূমি অফিসের সমস্ত কাজ চলছে। তবে এসিল্যান্ড না থাকায় আমার একার পক্ষে উভয় দপ্তর সামলানো কষ্ট কর হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুটি দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌরসভার দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    বি/ এ

     

     

     

     

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছা (যশোর) প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে পাচারের সময় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডিজেল পাচারের অপরাধে বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার দিকে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    বি/ এ

  • সাইবার স্পেসে টার্গেটে বয়স্ক ও গৃহিণীরা

    ডেক্স নিউজ : দেশের সাইবার স্পেসে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও গৃহিণীরা। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন বিনিয়োগ, ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা টার্গেটে পড়ছেন। এ ধরনের ঘটনায় থানায় দায়ের করা অন্তত ১৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়সূত্র ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে চাকরির প্রলোভন, ভুয়া লটারির প্রলোভন, বিদেশ থেকে অনলাইনে লোভনীয় দামে পণ্য উপহার পাঠানোসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিন হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহিণী ও বয়স্ক ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতা, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামর্থ্যবান না হওয়া এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে পুঁজি করে চক্রটি গৃহিণী ও বয়স্কদের ক্ষতি করছে।ঘটনা ১ : ময়মনসিংহের কোতোয়ালি এলাকার আসমিনা খাতুন (৩৪) পেশায় গৃহিণী। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকেন। সাইবার প্রতারণার এক জটিল ফাঁদে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। গত ৯ ডিসেম্বর বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে অনলাইনে কাজের প্রস্তাব আসে। বিভিন্ন প্রলোভনে রাজি করিয়ে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ‘রিসেপশনিস্ট’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ধাপে ধাপে তাকে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ১০ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১১ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। প্রতিবারই তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিলেই লাভসহ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। একপর্যায়ে আরও টাকা দাবি করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয় আসমিনার। পরে টাকা ফেরত পেতে চেষ্টা করেন। না পেয়ে থানায় মামলা করেন।গৃহিণী আসমিনা খাতুন জানান, পরিবারের পাশাপাশি বাবার বাড়ির আর্থিক দৈন্য দূর করতে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্মে কাজটি শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর প্রতারকরা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে এবং প্রথমে ‘রেটিং টাস্ক’ দিয়ে ৩০০ টাকা প্রদান করে। পরে টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে ৮০০ টাকা বিনিয়োগে ১,০৪০ টাকা ফেরত দেয়। এতে তার বিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ধাপে ধাপে ৩,০০০ ও ১২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর আরও বেশি লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। গ্রুপের অন্য সদস্যদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি স্বামীকে না বলে টাকা দেন। আত্মীয়দের কাছ থেকেও ধার নেন। ১২,০০০ টাকা দেওয়ার পর প্রতারকরা আরও ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। এতে সন্দেহ হয়। কিন্তু আগের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় পরে চক্রের চাওয়া অর্থ দিতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা হারান। ঘটনা-২ : ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সি খন্দকার কামরুজ্জামান বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কিস্তিতে গাড়ি কেনার প্রলোভনে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে একটি নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রতারকরা গাড়ি

    সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম, রেজিস্ট্রেশন ও ডেলিভারি খরচের খাত দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক নগদ নম্বরে তিনি অর্থ পাঠান। পরে গাড়ি না পেয়ে এবং প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় অভিযোগ করেন। কেন ঝুঁকিতে বয়স্ক ও গৃহিণীরা : মামলা ও তদন্তের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে এই শ্রেণির মানুষ বেশি প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক বয়স্ক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও নিরাপত্তাবিষয়ক সেটিংস, ফিশিং লিংক বা ভুয়া ওয়েবসাইট চিহ্নিত করতে পারেন না। একই অবস্থা গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এছাড়া লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘লটারিতে জিতেছেন’, ‘বিদেশ থেকে উপহার এসেছে’, ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’-এ ধরনের বার্তায় গৃহিণী ও বয়স্করা প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ তাদের হাতে থাকে না। ফলে ফাঁদে পড়ছেন।প্রতারকদের কৌশল: প্রতারকরা খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের টার্গেটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। প্রথমে তারা পরিচয় দেয় বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল কোম্পানির কর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়। এরপর ফোনে বা এসএমএসে তারা ভুক্তভোগীর আংশিক ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা বড় ধরনের ক্ষতি হবে-এমন ভয় দেখানো হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চিন্তা না করেই ফোনের ওটিপি বা টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া ‘ঘরে বসে ইনকাম’, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের অভিনয় করে ধীরে ধীরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রতারিত হলে যেখানে অভিযোগ করবেন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারকরাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন। বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহিণীদের সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে হবে। এছাড়া পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১০১৪৬-৪৮-এ অথবা সাইবার পুলিশের বেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Cyber Police Centre, CID, Bangladesh police’ অভিযোগ দিতে পারেন ভুক্তভোগীরা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফোন বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য, পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া লোভনীয় কোনো অফার দেখলে পরিবারের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন তিনি।

    M

  • বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনের শুরু থেকে তেলের দামে যে পতন লক্ষ্য করা গেছে, সময় বাড়ার সাথে সাথে সেই ধারা বজায় রয়েছে।

    মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে—এমন আশাবাদই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেল প্রতি ৬৯ সেন্ট কমে ৯৪.৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ১.৩ শতাংশ।এর আগে গত সপ্তাহান্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে সোমবার (২০ এপ্রিল)  তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি পুনরায় স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে এবং তেলের দাম সেই বর্ধিত অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে।

  • ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    নিউজ ডেস্ক:

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে জারি করা ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে আরও এক মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ভারতীয় নিবন্ধিত, লিজ নেওয়া, বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ ২০২৬ সালের ২৪ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

    ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে।

    কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। ভারত এ হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়।

    পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬–৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ‘উসকানিবিহীন’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।

    পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।

    এ সময় ভারতের বিমান খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পাকিস্তানের বিমান খাতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। ওই দুই ক্ষেত্রেও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।