Blog

  • বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দর

    ডেক্স নিউজ : চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    বুধবার সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধু বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য। তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন, বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।এছাড়া কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কস্থ মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

    মুক্ত

  • তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

    বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

    এ /আর

  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    আজ বুধবার সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশের মসজিদসমূহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের যথাক্রমে পাঁচ হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, হিন্দু মন্দির, শ্মশান, বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশান, খ্রিস্টান গির্জা ও সেমিট্রিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বর্তমান অর্থবছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়ে বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়। এ অনুদান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। একই সাথে ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকেও বিহার, উপাসনালয় ও শ্মশানের সংস্কার ও মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়।

    তিনি জানান, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেও দেশের চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও তীর্থস্থানগুলোতে প্রতিবছর উৎসবভিত্তিক অনুদান দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের ভিত্তিতে এ অনুদান বিতরণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও কবরস্থানের সংস্কার ও মেরামতের জন্যও অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এ/আর

  • ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    নিউজ ডেস্ক:

    কয়েক বছর আগে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর তৎপরতা সম্পর্কিত সামরিক প্রতিবেদনে প্রথম ইরানের ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে হাউছিদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর উৎস খুজতে গিয়ে তার সাথেও ইরানের সম্পর্ক খুঁজে পান।

    তবে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইরান রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবারহ করে, তখন সারা বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।

    এর কিছুদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে জেরেনিয়াম-২ (শাহেদ-১৩৬) ড্রোন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছিল।গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি দেশ কিভাবে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে খেলার নিয়ম বদলে দিতে সক্ষম হলো? ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর সাফল্যের মূল চালিকাশক্তিগুলো আসলে কী?প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান তাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। তখনকার ইরানের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের প্রকৌশলীদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদেরকেই উদ্ধুদ্ধ করেছিল।নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশে একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা বেসামরিক প্রযুক্তিরও সহায়তা নিয়েছে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ইরানিরা সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করেছিল এবং তা ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করে গেছে। যা তাদের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ধরা দেয়।

    ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে যখন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্ত্রের দিক এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। সে সময় ইরানের বিমানবাহিনীর কাছে এফ-১৪ টমক্যাটের মতো বিমান ছিল। যা সেই সময়ে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।তবে এই বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন মূলত ইরানে নিযুক্ত আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা। যন্ত্রাংশ সরাসরি আমেরিকান কোম্পানি সরবরাহ করত। ফলে, ইরানের বিমান বাহিনী অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, কেউ আবার গুপ্তহত্যা কিংবা কেউ কেউ কারাবন্দী হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরাও ইরান ত্যাগ করেন এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।তখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানের কেনা শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিমানগুলো অকেজো ধাতুতে পরিণত হয়েছিল।

    প্রয়োজনই আবিষ্কারের জনক
    ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আট বছর ধরে চলে।এই যুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসের নৃশংসতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রও ছিল। এই দীর্ঘ ও বিভীষিকাময় যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।ইরাকি সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে গোয়েন্দা বিমান ক্রয় করে এবং ইরানি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করত, যা তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করে।এর বিপরীতে তখন ইরানের সামরিক বাহিনী এমন একটি যুদ্ধ লড়ছিল, যার জন্য তাদের কাছে না ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সামরিক সক্ষমতা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেমন অকেজো পড়েছিল, তেমনি নিজেদের প্রযুক্তিকেও তখন আর উন্নত করতে পারেনি নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে।ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্ববাজার থেকে সেই প্রযুক্তি কিনতে পারছিল না।যে কারণে ইরানি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নেয়ার বদলে তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন ও তৈরি করবে।ভাবনাটি ছিল একেবারেই সহজ। যদি শত্রুর অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সীমান্ত পেরিয়ে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো একদিকে যেমন ছিল সস্তা অন্যদিকে সেগুলোকে শনাক্ত করাও ছিল বেশ কঠিন।

    ১৯৮১ সালের শুরুর দিকেই ইরানিরা এই ছোট ডিভাইসগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। সেগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কথাও চিন্তা করে। ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যেখানে শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীরা একসাথে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন।তারা এই যন্ত্রগুলোর নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, পরীক্ষা ও উন্নয়নমূলক পর্যায়গুলো সম্পন্ন করে পরে তা আইআরজিসি বা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে।ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি সাধারণ ওয়ার্কশপ ছিল। যেখানে দৃঢ় সংকল্পবব্ধ ও উজ্জীবিত তরুণরা কাজ করত। যাদের অনেকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ ছিল।বছরের পর বছর প্রচেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা এবং নিরন্তর সংগ্রামের পর ওই তরুণরা ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওর্য়াকশপে একটি নকশা তৈরি করেন। পরে খুজেস্তানের খোলা মাঠে তা উৎক্ষেপন করে পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।তাদের মধ্যে ছিলেন ফারশিদ নামের একজন বেসামরিক পাইলট, সাঈদ নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র এবং মাসুদ জাহিদী নামের একজন পেশাদার স্বর্ণকার।

    প্রথমবার যখন তারা তাদের প্রাথমিক মডেলটি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিল তখন কোনো কোনো কর্মকর্তা এটি নিয়ে উপহাস করেছিলেন।তারা যে মডেল তৈরি করেছিল তা দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের খেলনার মতো ছিল। তাতে জ্বালানি ট্যাঙ্ক হিসেবে যে বস্তুটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মেডিক্যাল আইভি ব্যাগ। আর প্রপেলার বা পাখাটিও ছিল হাতে তৈরি।

    প্রথম ড্রোন যুদ্ধ
    ১৯৮৩ সালে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে সেই ‘খেলনা বিমান’ বা ড্রোনটি প্রথমবারের মতো ইরাকি সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম হয়।সেখান থেকে খুব পরিস্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছবি নিয়ে ফিরে আসে, যেখানে ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এই সাফল্যের পর ‘থান্ডার ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং একটি নিয়মিত ড্রোন কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপে তৈরি এ বিষয়টি পরে আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে আসে। তখন তারা বিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে।পরে আইআরজিসি দুবাইতে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করে। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো ইসফাহানে নেয়া শুরু হয়। সেখানেই যন্ত্রাংশগুলো জোরা দিয়ে ড্রোন তৈরি শুরু হয়

    ২০২২ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে পাঠানো একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ভূপাতিত করে ইউক্রেন। যাতে একটি মার্কিন চিপও পাওয়া গিয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপের সেই ড্রোনগুলো এক সময় গোয়েন্দা তৎপরতায় নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। ১৯৮৩ সালের পর আইআরজিসি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে।তবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘রাদ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রকৌশলী ও সামরিক সদস্যরা শুধু নজরদারির জন্য নয়, ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা নিয়েও কাজ শুরু করেন।

    যদি কোনো ড্রোন শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে তাদের গতিবিধির ভিডিও ধারণ করতে পারে, তাহলে সেটিতে অস্ত্র যুক্ত করলে তা সরাসরি আঘাত হেনেও শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব, এমন ধারণা থেকে পরবর্তীতে মোহাজের ড্রোন তৈরি করে।১৯৮৮ সালে ইরান ছিল সেই প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা সশস্ত্র ও পাইলটবিহীন আকাশযান বা ইউএভি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল ড্রোন উদ্ভাবন ও ব্যবহারে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে ইরানই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে ইরানি ড্রোনগুলোর নকশা ছিল কিছুটা অপরিপক্ক। যেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারের বেশি উড়তে পারতো না। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে ইরান এমন উন্নত ড্রোন তৈরি করেছে যা ইরান থেকে উড়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ইসরাইল সামরিক উদ্দেশ্যে পাইলটবিহীন ড্রোন বা ইউএভি ব্যবহার করা প্রথম দেশ ছিল।১৯৭৩ সালের যুদ্ধে তারা এগুলো ব্যবহার করেছিল মিশরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে। একই সাথে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করে তুলতে পারতো। পরবর্তীতে একই কায়দায় ইরানও ড্রোন কর্মসূচি শুরু করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি ছিল আরো উন্নত।একইভাবে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল বেকা উপত্যকায় সিরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানো এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাস্টিফ’ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। যেটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    পরষ্পর বিরোধী ধারণা
    ইরানের বিশেষজ্ঞরা লেবাননের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির ওপর গভীর নজর রাখেন। হিজবুল্লাহর ভেতরে থাকা তাদের মিত্ররা ইসরাইলি ড্রোন সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।পরবর্তীতে সেখানের পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরানি বাহিনী দেখে যে, ইসরাইলি ড্রোনগুলো এতটা জটিল নয় যে তেহরান ও ইসফাহানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সেগুলোর অনুকরণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন না।একাধিক সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোন মডেলগুলোতে ইসরাইলি ‘স্কাউট’ ও ‘মাস্টিফ’ ড্রোনের সাথে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তাদের মতে, ইরানি প্রকৌশলীরা এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসরাইলি নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

    ১৯৭০-এর দশক থেকে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর।একটি গাইডেড মিসাইল এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, তা শত শত অগাইডেড অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হতো।ইরানিরা এই সামরিক সমীকরণে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করে। যদি একটি দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে না পারে, তবে তাকে সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাই সেই মৌলিক ধারণা, যার ওপর ইরানি ড্রোন কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।যদি একটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ২০ হাজার ডলার খরচ হয়, তবে নির্ভুলতার দিক থেকে এটি ২০ লাখ ডলারের ক্রুজ মিসাইলের সমান কার্যকর হতে পারে না।কিন্তু যদি একসাথে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করতে কমপক্ষে ১০০টি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করতে হবে এবং এই খরচটা কয়েকগুণ বেশি।

    ড্রোন মূলত সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নয়, বরং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে এবং আর্থিক চাপ বাড়াতেই তৈরি করা হয়।ইরান দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রোন হামলা চালাতে পারে কারণ এগুলোর খরচ শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম।একটি সাধারণ হিসাব দেখায়, ১০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে একটি আক্রমণকারী রাষ্ট্রের প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হয়। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রকে সেই ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে ২০ কোটি ডলার মূল্যের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।ড্রোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রাডারের মাধ্যমে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কম গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে। এছাড়া একসাথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠালে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারে না।

    ২০১৯ সালে সৌদি আরব আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা এই সক্ষমতার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ওই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও হামলার দায় হাউছিরা স্বীকার করেছিল, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় যে এসব ড্রোন ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।আরামকো স্থাপনায় হামলার ফলে কয়েক ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, অথচ ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মোট খরচ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই খরচের ব্যবধানই আসলে ড্রোন যুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণ করে দেয়।

  • আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিমাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি এবং প্রতিদিন ৯টার বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর ২০২৫ সালে এবং তার আগের বছরও তুলনামূলক কম খুন হয়েছে। চলতি বছরের তিন মাসে ডাকাতি হয়েছে ১৩৩টি, ছিনতাই ৪৩৯টি ও চুরির ঘটনা ২ হাজার ৩১৮টি। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯৪৭টি। তিন মাসে পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪৭ বার। এই মাত্রার অপরাধ আসলেই উদ্বেগজনক। এই তিন মাসের দেড়মাস নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে আশা করা হয়েছিলো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আশাব্যাঞ্জক কিছু চোখে পড়ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড। এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনমনে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আইনের দুর্বলতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ । অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, ছয় মাসের মধ্যে জামিনে বের হওয়া যায়। আর কোনো অপরাধীর চূড়ান্ত বিচার এবং তা কার্যকর করার হার এতো কম যে, শাস্তির ভয় অপরাধীদের মনে স্থানই পায় না। ফলে অপরাধ করতে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। এর সাথে রয়েছে আইনের প্রয়োগহীনতা। অপরাধীদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের অনীহা, পাকড়াও করলেও নানাভাবে মামলার ইজহার দুর্বল দেখানো, সাক্ষী উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হয়-ই না। ফলে দেশে খুন, গুম, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলছে।

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    এ/ আর

  • দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    নিউজ ডেস্ক:

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে। আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি রেড লাইন (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

    এর আগে খবরে বলা হয়েছিল, ইরানের উপকূলে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় মি. ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

    চলতি সপ্তাহেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয়।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন ছাড়েননি এবং হোয়াইট হাউজ এখন বলছে যে তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।

    ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।

  • চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছার নিয়ামতপুর গ্রামের খালের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত চকম আলীর ছেলে দুলাল হোসেন (৩৯) কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    (২২ এপ্রিল) বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম এ সাজা দেন।

    জানাযায়, নিয়ামতপুর গ্রামের মাঠের ফসলি জমি থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তলন করে বিক্রি করে আসছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম অভিযান চালায়। এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করারা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ী দুলাল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করেন। একইসাথে উত্তলন করা বালু জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যত্যা নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনের এধরণের অবযান অব্যহত থাকবে।

    বি / এ

  • ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    নিউজ ডেস্ক:

     ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনি সংশোধনের পর এই ঘটনা ঘটে। সমালোচকরা এটিকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ ও সংখ্যালঘুদের গণহারে ভোটাধিকার হরণ বলে অভিহিত করেছেন।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মোট ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত বা নকল নাম হলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করছেন, তবে তারপরেও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

    ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে চলছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নামে পরিচিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। এটিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিন্দাসূচক অর্থে ব্যবহৃত অনুপ্রবেশকারীদের ভোটদান ঠেকানোর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেণ। শব্দটি দিয়ে মূলত অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের বোঝায়।

    কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এমনি করেই বহু বিভাজনমূলক পদক্ষেপ সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের আগে অভূতপূর্ব গতিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ বছর ধরেই রাজ্য শাসনকারী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের আশা করছছিল মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।

    তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেছেন, ‘বাংলায় যা ঘটেছে তা একটি সাংবিধানিক অপরাধ। আর এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।’

    ঘোষ আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীতে পর ভারতের ইতিহাসে এটি একটি কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট সংবিধান কর্তৃক ভারতীয় জনগণকে প্রদত্ত একটি মহান অধিকার। আপনি যতই দরিদ্র বা অসহায় হোন না কেন, আপনার ভোট দেওয়ার সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

    বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

    সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার কথা উল্লেখ করে সাবার ইনস্টিটিউটের প্রধান সাবির আহমেদ জানিয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, ধর্মই সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুসলিমরা অসমভাবে এর শিকার হয়েছেন।’

    যদিও বিজেপি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি কারণ হলো, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন তাদের নেই, যারা বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়ে সন্দিহান।

    কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র থাকার পরেও অনেকে বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে নিজে, অথবা তাদের বাবা-মা, ভোটার যোগ্যতার কাট-অফ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০২ সালের যোগ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সবাই মুসলমান

    বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলার শেরপুর গ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী জাবের আলী, যিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নথি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরই একজন ছিলেন।

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আলী ৭০০-র বেশি পরিবার পরিদর্শন করেছেন, নথিপত্র যাচাই করেছেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত রেকর্ড আপলোড করেছেন। তার কাছে কাজটি ছিল অক্লান্ত পরিশ্রমের। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে ১২ ঘণ্টা কাজ করতাম, তারপর বেশিরভাগ রাত কম্পিউটারে কাটাতাম। আমি প্রায় ঘুমাতামই না।’

    কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যখন সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হলো, আলী বলেন, তিনি যাদের নাম যাচাই করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত ছিল, এমনকি তার নিজের নামও। তিনি বলেন, ‘লোকেরা আমাকে ফোন করে বলতে লাগল যে আমি আমার কাজ ঠিকমতো করিনি। তিনি বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো, আমার নিজের নাম এবং আমার ভাইদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    আলী বলেন, গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ নাগরিকরা সারাজীবন যে আশঙ্কা করছেন যে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী গণ্য করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার এলাকায় এই বাদ দেওয়ার ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে যাদেরকে সরানো হয়েছে, তারা সকলেই মুসলমান। মানুষ মনে করছে যে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    সমালোচকরা এসআইআর-কে অসাংবিধানিক বলে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং এটিকে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনি ব্যবস্থায় কারচুপি ও কারচুপির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    রাজনৈতিক বিরোধী দল ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানকারী নির্বাচন কমিশনকে আর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে দেখা যায় না।

    পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর-এর যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী। তিনি বলেন যে এটি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরি সম্পর্কে মন্তব্য করতে আমি খুব অস্বস্তি ও দ্বিধা বোধ করছি, কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি দেখছি কী ঘটছে এবং আমাকে মুখ খুলতেই হবে। তিনি এসআইআর-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এসআইআর সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, এটি হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এটি একটি বিপর্যয় এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য মহৎ নয়।

    তিনি আরো বলেন: ‘তালিকার নিরানব্বই শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করতে আমাদের ৩০ বছর লেগেছিল। আর তারা তিন মাসের মধ্যেই এর থেকে ভালো কিছু আশা করছে। যদি মূল উদ্দেশ্য নির্ভুলতাই হয়, তাহলে এই পাগলাটে তাড়াহুড়োর কারণ কী?

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তথ্যে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নতুন এআই-সহায়ক অ্যালগরিদম প্রয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কুরাইশি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সহ লাখ লাখ বাঙালিকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ২৭ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালগরিদমটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলা নাম ইংরেজিতে লেখার কোনো প্রমিত পদ্ধতি নেই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা পদবিগুলোর পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক নথিপত্রে বানানে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, পুরোনো প্রজন্মগুলোতে প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও, অ্যালগরিদমটি ১৬ বছরের কম বয়সী পিতামাতা এবং পাঁচজনের বেশি ভাইবোনকে একটি ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কুরাইশি বলেন, তার সময়ে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও সংবেদনশীল ছিল। তিনি বলেন, “যদি এই সামান্য অসঙ্গতির ভিত্তিতে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র এবং এই উদ্দেশ্যে ঠিক নয়।”

    যারা নিজেদের জীবন ভারতীয় রাষ্ট্রের সেবায় উৎসর্গ করেছেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ভোটাধিকারচ্যুত হয়েছেন। বাষট্টি বছর বয়সী সেনারুল হক, যিনি ৩৫ বছর চাকরি করার পর দুই বছর আগে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনি দেখেন যে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম উধাও, অথচ তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম তালিকায় রয়ে গেছে।

    হক বলেন, ‘এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি দেশের সবচেয়ে কঠিন কিছু এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর যখন ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ পড়ল, আমি যথাযথভাবে আমার কাগজপত্র জমা দিয়েছি, তারপরেও আমার নাম নেই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সারাদেশে নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলাম। এখন আমাকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এর জন্য কেউ জবাবদিহি করছে না। এটাকে ব্যবস্থার সঙ্গে উপহাস বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে কীভাবে এত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা যায়?’

    যদিও ভোটারদের ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ট্রাইব্যুনাল চলছে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে অল্প কয়েকটি মামলারই মাত্র শুনানি হয়েছে। হাওড়া জেলার সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, ৫৫ বছর বয়সী হিমানি রায় তাদের মধ্যে একজন। তিনি জানান তার মামলার শুনানি সময়মতো হয়নি, অর্থাৎ তিনি তার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারছেন না। আর এটি অত্যান্ত পরিহাসের বিষয় হলো যে পোলিং অফিসার হওয়ার জন্য তার নাম এখনও তালিকায় রয়েছে।

    হিমানি রায় বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং আমার নাম কেন বাদ পড়েছে তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তাদের কাছে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খারতের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের কথা বলি, ব্যাপারটা ঠিক তখন এমনই দেখায়। গণতন্ত্র এবং আমাদের দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুঃসময়।’

    দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বিজেপির এক ডজনেরও বেশি জাতীয় ও রাজ্য মুখপাত্র এই অভিযোগগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

    তবে, অতীতের মন্তব্যে বিজেপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে এসআইআর-কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু দেশের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য।

    ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও লেখক পরাকাল প্রভাকর জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গুরুতর প্রভাব রয়েছে, যা কেবল রাজ্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী।

    প্রভাকর বলেছেন, ‘এটি সম্পন্ন হলে ভারতে দুটি শ্রেণীর তৈরি হবে যেখানে একদল রাজনৈতিক সমাজ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে আর অন্যদল যাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব হত্যা করা। এটি একটি রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা।’

  • চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে ৪০ বোতল ভারতীয় উইনসেরেক্স সিরাপ (একজাতীয় মাদক দ্রব্য) পাচার করার সময় পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) কে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ। বুধবার সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকার চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটকৃত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের মৃত ওমর আলী খাঁর ছেলে।

    থানাসুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার এস.আই ইমরান হোসেন রাজুর নেতেৃত্বে পুলিশের একটি দল চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করছিল। এসময় কাঁঠালের খোসার ভিতরে অভিনব কায়দায় পলিথিনে জড়ানো অবস্থায় মাদক যশোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এস সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ ভারতীয়  মাদক ৪০ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করে। এবং পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচার আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বি / এ