মার্কিন নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করেই তরতরিয়ে বাড়ছে ইরানের তেল রফতানি। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর সমুদ্রে কড়া নজরদারি যেন এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। সমুদ্রপথে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন সংস্থা জানাচ্ছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখেও ইরান তাদের তেল রফতানির গতি আগের চেয়ে তিনগুণ বাড়িয়েছে।
মূলত অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বিশাল এক ‘ভুতুড়ে জাহাজ বহর’ বা ঘোস্ট ফ্লিট ব্যবহার করে চীনসহ বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছে দিচ্ছে তেহরান।
ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং সাগরপথে জাহাজের আনাগোনা নজরদারি করে এমন তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা বা ডাটা ট্র্যাকিং সাইটগুলোর অন্যতম ড্রপসাইট-এর বরাতে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলই হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও এই বিশাল পরিমাণ তেলের চালান আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাদের তথ্যমতে, ইরানের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যাচ্ছে চীনের বাজারে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এমন সব ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে, যেগুলো নিজেদের রেডিও এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে রাখে। বর্তমানে এমন ১২৯টি ট্যাঙ্কার শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই সমুদ্র চষে বেড়াচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নজরদারির কাজে নিয়োজিত মার্কিন শক্তিশালী তদারকি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান বা ইউএএনআই স্যাটেলাইট ছবির সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে অন্তত ১৫টি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার দেখা গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার জোহোর উপকূলের কাছে প্রায় ৯৬টি ট্যাঙ্কার নোঙর করে আছে, যেগুলোকে মূলত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা ভুতুড়ে বহর বলা হয়। সেখানে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে সেগুলো চীনের বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরেও। অন্যদিকে ওমান সাগরেও ইরানের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপ আর অবরোধের মুখেও ইরান তাদের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রফতানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
‘বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সাথে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’
তিনি বলেন, বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এ কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারো আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস/২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’–এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুঃ আহসানুল মিজান রুমি। আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আর এম ও ডাঃ সুরাইয়া পারভিন, শিশু কনসাল্টটেন্ট ডাঃ সুমাইয়া জেসমিন, ডেন্টাল কনসাল্টটেন্ট ডাঃ তানজিম সাবিহা, পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম, নাসিং সুপারভাইজার ঝুমুর হালদার, মফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ,প্রেসক্লাব চৌগাছার সাংবাদিক বৃন্দ।
১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ। একই বছরের জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন। সেই সঙ্গে গৃহীত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় এই আইন। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে নির্ধারিত হয় দিনটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়, আর সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।দিবসটি ঘিরে প্রতিবছর সংস্থাটি এমন একটি স্বাস্থ্য ইস্যু বেছে নেয়, যা বিশেষ করে সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় দিবসটি।
ডেক্স নিউজ : সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
জানা গেছে, শনিবার রাতে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লিভারজনিত সমস্যার কারণে শনিবার (১১ এপ্রিল) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।
শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।
এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।
অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।
সরকারি টিকা
সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।
ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়।
পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়
এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না।
ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেয়া হয়।
র্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে।
এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।
সরকারি এসব টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র , কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে সরকার এর খরচ বহন করবে।
এর বাইরে নিজের সুবিধামতো সময়ে টিকা নিতে গেলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে একটা খরচ দিতে হতে পারে।
বেসরকারি টিকা
বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে।
রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া যেতে পারে।
ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা ব্যবহার হয়।
হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।
টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।
ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।
টিকা ভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।
কখন কোন টিকা দিতে হবে
শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অনেক পরিবার শুধু সরকারি টিকাগুলো দিয়ে থাকে আবার অনেকে সরকারি বেসরকারি দুই ধরনের টিকাই দেয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, সব টিকা কি নেওয়া জরুরি, নাকি সরকারি টিকাই যথেষ্ট?।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ জানান, “সরকারি টিকা কিছু রোগ থেকে শিশুর জীবন রক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি আর বেসরকারি টিকা আরো অন্যান্য কিছু রোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে”।
তবে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারি বিসিজির এক ডোজ টিকা নিতে হয়। এটার আর কোন বাড়তি ডোজ নেই।
শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টিকার একটি করে মোট তিনটি ডোজ দেয়া হয়। পোলিওর ওপিভি দু’ফোঁটা করে মুখে এবং বাকি দুই ডোজ আইপিভি টিকা শিশুর উরুর মাংসপেশিতে দেয়া হয়।
এর চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ শিশুর ১০ সপ্তাহ বয়সে তিনটি টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। আরো চার সপ্তাহ পর শিশুর ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পোলিওর তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। ১৮তম সপ্তাহে দেয়া হয় পিসিভির তৃতীয় ডোজ।
মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পরে বেসরকারি মেনিনজোকোক্কাল টিকা দেয়া যেতে পারে। এর তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হবে।
শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রোটা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেয়া যেতে পারে। দুটি ডোজের মাঝখানে চার সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে হবে।
শিশুর ছয় মাস বয়সে বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রথম ডোজ। এর চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ। তারপর প্রতি বছর ফ্লু এর মৌসুমের আগে এক ডোজ করে টিকা দেয়া যেতে পারে।
নয় মাস থেকে দুই বছর
শিশুর জন্মের নয় মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি এমআর টিকা দিতে হয় সেইসাথে পোলিওর চতুর্থ ডোজের বুস্টার টিকা নিতে হবে। এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয় ১৫ মাস বয়সে।
যদি সরকারি এমআর টিকা দেয়া না যায়, তাহলে শিশুর এক বছর বয়সে চাইলে বেসরকারি এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এর চার থেকে ছয় বছর পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।
এমএমআর টিকা প্রাপ্ত বয়স্করাও নিতে পারেন।
শিশুর এক বছর বয়সের পর বেসরকারি হেপাটাইটিস এ টিকার প্রথম ডোজ এবং এর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া যেতে পারে।
শিশুর ১৫ মাস বয়সে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে সরকারি টিটি টিকা এবং সরকারি এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয়। এই ডোজটি প্রথম টিকার কার্যকারিতা আরও বাড়ায়।
শিশুর এক থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে যেকোন সময় জলবসন্ত প্রতিরোধে দুই ডোজ বেসরকারি ভারিসেলা টিকা নেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজ নেয়ার চার থেকে আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে শিশুর যদি ইতিমধ্যেই জলবসন্ত হয়ে যায় তাহলে টিকার দরকার নেই।
শিশুর ১৮ মাস বয়সে দেয়া হয় সরকারি ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস) বুস্টার ডোজ এবং সরকারি ওপিভি (পোলিও) বুস্টার ডোজ।
মূলত প্যান্টাভেলেন্ট ও পোলিওর তিন ডোজ নেওয়ার পরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই দুটো বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।
শিশুর দুই বছর বয়সের পর কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেসরকারি ইটিইসি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এরপর এক সপ্তাহ অন্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।
শিশুর দুই বছর বয়সের পর বেসরকারি টাইফয়েডের প্রথম ডোজ টিকা। এরপর প্রতি তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হয়।
পাঁচ থেকে ১৬ বছর
পাঁচ বছর বয়সে শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস) টিকা দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ে শিশুর সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
১০ বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুদের তিন ডোজে বেসরকারি এইচপিভি টিকা দেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজের পর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ, এরও ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।
পরে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের সরকারি টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়। কিশোরীদের এই টিকা দেয়া হলে সে এবং তার ভবিষ্যত প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকতে পারে।
অন্যদিকে শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর এবং মা হওয়ার আগে পাঁচ ডোজ সরকারি টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, এর ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এক বছর পর চতুর্থ ডোজ, আরো এক বছর পর পঞ্চম ডোজ টিকা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদের মতে, প্রতিটি টিকা সময়সূচি মেনে পূর্ণ ডোজ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে আসতে পারে।এজন্য বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। বুস্টার ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরায় সক্রিয় বা শক্তিশালী করে।
ডোজ মিস হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, ফলে যেকোনো সময় ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই কোনো কারণে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকাটি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।
তিনি বলেন, “টিকা দেয়ার একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখানে জরুরি হলো কোন টিকা সময়ের আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু কোন ডোজ দেয়ার সময় পেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেরিতে হলেও দেয়া যাবে”।
টিকা দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভয় পোষণ করেন বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।
যেমন অনেকেই টিকা দিতে ভয় পান কারণ টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো টিকা নেয়ার পর শিশুর হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, শিশু ছটফট করে কান্নাকাটি করতে পারে, টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য ফুলে বা লাল হয়ে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এসব লক্ষণ সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত জ্বর বা খিঁচুনি হলে, শিশু শকে চলে গেলে, শরীরের কোন অঙ্গ অবশ হয়ে গেলে, টিকা দেয়ার স্থানে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরেকটি ধারণা রয়েছে যে একসাথে এতো টিকা দিলে ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীর সময়সূচি মেনে সব টিকা সামলাতে সক্ষম।
অনেকেই মনে করেন সরকারি টিকাই যথেষ্ট, বাকি দরকার নেই। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, চাইলে যে কেউ যথাযথ সময়সূচি মেনে বেসরকারি টিকা নিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।
অনেকে আবার মনে করেন, আমার বাচ্চা বাসায় থাকে, টিকার দরকার নেই। তবে বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে থেকে আসে না, পরিবার, অতিথি, এমনকি বাতাসেও ছড়াতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ, একটি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে পুরো সমাজই সুরক্ষিত থাকে।
সেক্ষেত্রে শিশুর টিকাদান শুধু কোন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব।
কারণ একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তার নিজের সুরক্ষা নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম এবং সমাজ সুরক্ষিত থাকে। তাই একটি শিশুর টিকা নেওয়া মানে অন্যদেরও রক্ষা করা।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফার্নেস অয়েল মূলত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি/বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে এবং শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহক ব্যবহার করে।
নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।
তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।
সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে রাঙামাটি শহরে কোরানী পাহাড়, আসামবস্তি, গর্জনতলীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজন। শহরের কোরানী পাহাড় এলাকায় ভোর থেকে শত শত নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাকে কলাপাতায় করে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।
শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।
তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।
বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আমরা সবাই এক জায়গায় আছি। আমরা সেই ঐক্যের জায়গায় আছি যে বাংলাদেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এবং এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
সরকার কখনো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সংসদে সবকিছুর সমাধান হবে। কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। এবার আমাদের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ছাড়া সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তবে এবার আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামতে হবে। এবার আর ব্যর্থ কিংবা অর্ধেক সফল হতে চাই না।
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো দলের না। এটা বাংলাদেশ রক্ষার দাবি। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এবার আমরা মঞ্চে যারা বসে আছি তারা সামনে দাঁড়াবো। গুলি আসলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে। সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি বাধা দিলে তাদের পরাজিত করা হবে।
শহীদ পরিবার নিয়ে সরকার ব্যবহার করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতরা এদেশের সম্পদ। তাদের নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের দাবি সমর্থন করলে আমাদের সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সরকার কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনও একাত্তরের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন কাজের বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ এবং একাত্তর কোনোটিকেই ধারণ করে না তারা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ পেছনের দিকে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এদেশের গণআন্দোলনের সুফল বিএনপি ভোগ করেছে। নব্বই এর গণঅভ্যুত্থানের সুফল তারা ভোগ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসে তিন জোটের রূপরেখাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখনও জুলাই সনদ এবং অধ্যাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে।’
এসময় অনুষ্ঠানে এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও’র পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটি’র অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটা কমিশন করা যেতে পারে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা যায়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি প্রক্রিয়াধীন। তবে করতে পারলে খুবই ভালো হবে। আমরা চেষ্টা করছি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে ‘সমাধানের পথ খুঁজে বের করার’ আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওমানের সুলতানের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, পরিস্থিতির আর কোনো উত্তেজনা যেন না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। স্টারমার মনে করেন, চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর এখানে সব পক্ষই সংঘাত এঁড়িয়েছে।এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে পড়ায় তা হতাশাজনক।
তবে তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।