Blog

  • যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার (৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও দেশটি সংবেদনশীল। একইসাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসলামাবাদ। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনে আরো ভালো খবর দিতে পারব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর, দেশটির সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননও। এর জবাবে ইসরাইল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ও দেশটির দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে। শরিফ বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘সব জায়গায়’ প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরে ইসরাইল জানায়, লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং সেখানে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তারা ট্রাম্পের ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ঠেকাতে কাজ করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে তুরস্ক ও মিসরও। আর চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় এবং ওয়াশিংটনের সাথে কখনো টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দুই পক্ষের সাথেই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও বেইজিংয়ের মতো প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল পাকিস্তান। ইরানের সাথে তাদের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনো দূতাবাস না থাকায়, সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে ইসলামাবাদ।

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে চলা সঙ্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে- এই দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যেতে পারে।
  • কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    প্রবাসের যে শহরগুলো একদিন ছিল রুটি-রুজির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কুয়েত, কাতার কিংবা লেবানন—মানচিত্রভেদে নাম বদলালেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশার চিত্র সবখানে একই। মাথার ওপর যুদ্ধের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন, পায়ের নিচে অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মাটিÑদুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

    ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে কাতার ও কুয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার লেলিহান শিখা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন প্রবাসীদের। আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া আর পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফেরার পথও আজ রুদ্ধ তাদের। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশছাড়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?

    কাতার : নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধস

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান কাতারে। প্রতিদিন আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন প্রতিরোধের ঘটনা এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় জাহাজে হামলার খবর সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। রাজধানীর মুশরিব ভিআইপি এলাকা, যেখানে একাধিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে কাতার কর্তৃপক্ষ ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

    কাতার প্রবাসী রিফাত আলম হিরো  জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় এসে কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা এখন কাজ ও আয় হারিয়ে দিশাহারা।

    তিনি বলেন, অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। ঘর ভাড়া আর খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। দেশে ফিরতেও পারছেন না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয় শূন্যের কোঠায়।

    সংকট আরো বেড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বর্তমানে শুধু কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু থাকায় টিকিটের দাম সাধারণ প্রবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পাসপোর্ট জটিলতা। প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দিয়েও তারা তা সময়মতো ফেরত পাচ্ছেন না; ফলে জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংকটকালে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    অন্যদিকে দোহার পুরোনো সমুদ্রবন্দরে একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি।

    কুয়েত ও লেবানন : আতঙ্কের জনপদ

    কুয়েত থেকে জাহিদ হাসান অভি নামের এক বাংলাদেশি  জানান, সেখানে যুদ্ধ আতঙ্কে জনজীবন থমকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পর্যটক কুয়েতে এসে আটকা পড়েছেন; কারণ কোনো বিমান চলাচল করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সর্বত্র।

    অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে; ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বর্ডার এরিয়া, দাহিয়ে ও বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে তীব্র হামলা চলছে।

    লেবানন প্রবাসী আলমগীর  জানান, বর্তমানে ৫০০-৬০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ৭০ শতাংশই অবৈধ হওয়ায় সেখান থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার খুবই কম। বর্তমানে হুন্ডি বা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকটে নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে ভারী বোঝাটি বইতে হচ্ছে প্রবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে। নিজ ভূমিতে ফেরার আকুতি আর প্রবাসে টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই একা।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ২০২৬-এর ডেটামতে, কাতারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, কাতারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রবাহে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। নির্মাণ, সেবা ও ড্রাইভিং খাতে কর্মরত এসব বাংলাদেশি কাতারের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    কুয়েতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি ছিল মোট অভিবাসনের প্রায় চার শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২০ হাজার ৬৪৪ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। এখানকার সরকারি ক্লিনিং সেক্টর, ড্রাইভিং ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, যা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের এক বড় অংশ নারী গৃহকর্মী এবং পুরুষ কৃষি ও গ্যারেজ মেকানিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকেই দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে লেবানন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    ডেস্ক নিউজ : ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় বাগদাদ যেন এক রূপকথার নগরী। দজলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহর একসময় ছিল বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্রভূমি। যখন ইউরোপ অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, চীনের ঐশ্বর্য পৃথিবীর কাছে প্রচ্ছন্ন, ভারতে সবে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে গৌরবময় মুসলিম শাসন, তখন আব্বাসী খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদে জ্বলছিল প্রদীপ্ত জ্ঞানশিখা। সেই শিখার উজ্জ্বলতম আধারটির নাম মুসতানসিরিয়া মাদরাসা। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আরব জাহানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

    হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুর কথা। আব্বাসী খেলাফতের তখন শেষ বিকাল, তবু সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে বাগদাদ তখনো বিশ্বের মধ্যে অনন্য। ৬২৩ হিজরিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহ উপলব্ধি করলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা ও পাঠদানের কার্যক্রমকে সুসংহত করতে বহুমুখী সুবিধা-সংবলিত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার সব শাখা-প্রশাখা বা স্কুল অব থটের সমন্বয়ক। যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানেরও নিরবচ্ছিন্ন চর্চা হবে।

    ৬২৫ হিজরি (১২২৭ খ্রি.) সনে দজলা নদীর পূর্বতীরে মুসতানসিরিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ৬৩১ হিজরিতে (১২৩৪ খ্রি.) নির্মাণকাজ শেষ হয়। উৎসবমুখর আয়োজনে মাদরাসাটির উদ্বোধন করা হয়। ১৬০টি উটের পিঠে চাপিয়ে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও বইপত্র মাদরাসার লাইব্রেরিতে আনা হয়।

    বৈচিত্র্যময় পাঠ্যক্রম

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম। এটি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র না, বরং সেখানে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো বিদ্যমান ছিল। এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ বিচারক, কূটনীতিক, চিকিৎসক, গণিতবিদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হতো।

    ধর্মীয় বিজ্ঞান ও ভাষা-সাহিত্য : কোরআনের তাফসির, হাদিসচর্চা ও ফিকহ (ইসলামি আইন শাস্ত্র) ছিল ধর্ম-শিক্ষার মূল সাবজেক্ট। এই প্রতিষ্ঠানের অনন্যতা ছিল, ইসলামি আইন শাস্ত্রের চারটি স্কুল অব থটের (মাজহাব) সমন্বিত পাঠদান। আরবি ব্যাকরণ এবং উচ্চতর অলংকার শাস্ত্রও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রাকৃতিক ও গাণিতিক বিজ্ঞান : পাটিগণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান মুসতানসিরিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

    চিকিৎসাশাস্ত্র : মাদরাসার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি বিশেষ চিকিৎসা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ছিল ‘বিমারিস্তান’ বা হাসপাতাল নামে। সেখানে হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা পদ্ধতি শেখানো হতো।

    এছাড়া আরো অনেক বিষয় মাদরাসার শিক্ষা-কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    আবাসিক ব্যবস্থাপনা

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার আবাসিক ব্যবস্থা ছিল সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ কর্মসূচির সঙ্গে এর উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা যায়। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা ছিল এবং পাঠ গ্রহণের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত মনোরম।

    প্রতিটি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ব্লক ও সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষ, মাদুর ও গালিচা সরবরাহ করা হতো। মাদরাসার রান্নাঘরে প্রতিদিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হতো।

    মাদরাসার লাইব্রেরিতে প্রায় ৮০,০০০ দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ছিল। সেখানে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং রাতে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত আলোর সুবিধা ছিল।

    শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে এক দিনার করে ভাতা দেওয়া হতো। পাশাপাশি সাবান, তেল, লেখার কাগজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচও বহন করা হতো। অসুস্থদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও ছিল।

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা ছিল এতিমবান্ধব একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এখানে এতিম শিশুদের জন্য ছিল আলাদা ‘দারুল কোরআন’। শিক্ষার্থীদের একমাত্র কাজ ছিল রুটি-রুজির চিন্তা না করে জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন থাকা।

    মুসতানসিরিয়ার প্রাণপুরুষ

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা শুধু ইটপাথরের কোনো কাঠামো ছিল না; এর আসল প্রাণ ছিলেন বরেণ্য শিক্ষকরা। মাদরাসার পরিচালক মহিউদ্দিন আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবনুল জাওজি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত এবং আলোকিত ব্যক্তি। মিসরের সুলতান আলকামিল তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলেছেন, ‘দুনিয়ার মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির ঘাটতি থাকলেও মহিউদ্দিনের জ্ঞানবুদ্ধি ছিল অনেক বেশি। এই জিনিসটা তার আরেকটু কম হলেই বরং ভালো হতো।’

    শেষ পরিণতি

    ৬৫৬ হিজরির (১২৫৮ খ্রি.) মোঙ্গল সেনাপতি হালাকু খান বাগদাদ অবরোধ করে, তখন ইবনুল জাওজি খলিফার দূত হিসেবে মোঙ্গল শিবিরে গিয়ে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য ছিল নির্মম। তাতাররা শহরে প্রবেশ করে মুসতানসিরিয়ার বিশ্ববিখ্যাত লাইব্রেরির প্রায় ৮০ হাজার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি দজলা নদীতে ফেলে দেয়। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই ইবনুল জাওজি ও তার তিন ছেলে নির্মমভাবে শহীদ হন।

    আজ দজলা নদীর তীরে মুসতানসিরিয়ার জীর্ণ দেয়ালগুলো সেই হারানো গৌরব ও শৌর্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সভ্যতার উত্থান ঘটে জ্ঞানের ভিত্তিতে আর পতন ঘটে তখনই, যখন সেই জ্ঞানকে রক্ষা করার শক্তি ও ঐক্য রাষ্ট্র হারিয়ে ফেলে।

    আর আই খান

  • আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

    ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।

    পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।

  • এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর খবর গুজব শিক্ষামন্ত্রী

    এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর খবর গুজব শিক্ষামন্ত্রী

    ডেস্ক নিউজ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে অনেক খবর ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার ( ৭ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ ভয়ে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই রুটিন আগের সরকার নির্ধারণ করেছে এবং প্রশ্নপত্রও ইতোমধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে।

    তিনি বলেন, শিক্ষকদের সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বিগত সরকার। এই বিশাল অঙ্কের টাকা আসতে সামনের বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    ‎এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত দিনে বিএনপি সরকার এনটিআরসি গঠন করেছিল। কিন্তু বিগত সরকার এটিকে দুর্নীতির আখড়া করে রেখেছিল। বর্তমানে এনটিআরসির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

    আর আই খান

     

  • শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।

    অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্বদিকে বড় মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি  ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা আপত্তি দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।

    এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানান অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।

    স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ‘পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারী যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দুরপথের যাত্রী বসে সেখানে বসতেন। কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছেন।

    গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, ‘পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মান করা জরুরী।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা ছাউনিটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।’

    এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ/আর

  • রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হবে

    রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলতে আমরা সচরাচর যেটা বুঝি তা হলো সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং মালিকানাধীন সম্পদ। যেমন বিভিন্ন সরকারি অফিস, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, নদী, খাল, জলাশয়, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কোর্ট-কাচারীসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং তাদের স্থাপনাসমূহ।

    একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কর নেয়া হয়, যা তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে। সেই করের অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্যই সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রদান করেন। কিন্তু সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার ফলে উন্নয়ন প্রতিনিয়তই বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বিপুল পরিমাণ অপচয় হয়।

    প্রতিটি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর। তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কেননা এটি মানুষের কাছে আমানত স্বরূপ। প্রতিটি নাগরিকের এ আমানত রক্ষা করা উচিৎ। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভিতর সবথেকে বেশি অপচয় হয় বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বিদ্যুতের অপচয়। বিশেষ করে অতিমাত্রায় বিদ্যুতের অপচয় লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। যেখানে অযথা লাইট, ফ্যান, এসিসহ বিভিন্ন ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে থাকে।

    বর্তমানে দেখা যায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিভিন্ন আলোকসজ্জা করা হয়, যেটা অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী। তাছাড়া অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকার কোটিকোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। বিদ্যুতের পরেই আসে গ্যাসের অপচয়।  শহর এলকার একশ্রেণির মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখে, এতে করে গ্যাসের অনেক বড়ো একটি অংশ অপচয় হয়ে যায়।

    রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্র যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা করা। সরকারের একার পক্ষে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় সম্পদ ব্যবহারে প্রত্যেকের সচেতন হতে হবে। সবাইকে পাওয়ার সেভিং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, দিনের বেলায় লাইট, ফ্যান কিংবা এসি কম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অধিক জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যাবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সবার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর তাহলেই জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

    বি/এ

  • হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

    প্রস্তাবে ইরান তাদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছে তেহরান।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে ইরান, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, তবে যথেষ্ট নয়।’

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে বলে সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

    হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টার পর নতুন হামলা চালানো হতে পারে, যা ইরানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার একটি প্রোটোকলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এর আগে গত ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ওই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা “নিউট্রালাইজড” হয়।

    তুর্কি চ্যানেল ‘হ্যাবারতুর্ক’-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।