Blog

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

     

     

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

    এ/আর

  • কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন শেল্টার ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৮টি প্রকল্প শুরু হলেও অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়মে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে গা-ঢাকা দেয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বর্তমানে উপজেলার জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপূর্ণ রাস্তা ও ভাঙা ব্রিজ। অনেক জায়গায় শুধু পাইলিং করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে; কোথাও বা রাস্তা খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে রেখেছে। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জিওবিএম, বিজেপি, আইবিআরপি, আইআরআইডিপি-৩, সিসিটিএফ, আইপিসিপি, পিডিআরআইডিপি ও ডিআরআরআইডব্লিউপি প্রকল্প। এর মধ্যে বিজেপি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক এবং পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেক কাজ করে বন্ধ রেখেছে।

    একইভাবে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় শিয়ালকাঠি ইউপির সামনে ৬ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজের কাজও পাইলিং পর্যায়ে আটকে আছে। এ ছাড়া পারসাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসা, সয়না রঘুনাথপুর, জয়কুল খেয়াঘাট, চিরাপাড়া সুবিদপুর, জোলাগাতি ফলইবুনায়া ও কেউন্দিয়া সড়কের গার্ডার ব্রিজগুলোতেও একই চিত্র।

    এসব কাজের অধিকাংশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে চিরাপাড়া জিএম স্কুল-ডুমজুড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে রেখেছে। অন্যদিকে ইফতি ইটিসিএল হোগলাবেতকা বাজার থেকে পুলেরহাট সড়কের কাজও শেষ করেনি।

    এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অসমাপ্ত রয়েছে। একইভাবে হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোড ও রঘুনাথপুর মেঘপাল সড়কেও অল্প কাজ করে বন্ধ রেখেছে ইফতি ইটিসিএল। এভাবে ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ২৮টি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, আর ঠিকাদাররা পলাতক।

    স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকারের বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে।’

    এ/ আর

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

     

     

  • শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎ফরিদা আখতার বলেন, ৭২-এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই ‘হাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেওয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসার পরীক্ষিৎ চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

    এ আর

  • অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

    অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

     

    ডেস্ক নিউজঃ

    নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমানকে দেখা গেছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বজলুর রহমান নামে বিএনপির ওই নেতা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে নির্বাচন সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে বজলুর কানে কানে বলতে শোনা যায় নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। তাদের এই কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বজলুর রহমান। আলাপচারিতায় উপস্থিতরা প্রত্যেকে এই প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে জানতে বজলু রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওতে সম্পর্কে আমরা অবগত। এটা নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমরা ভিডিও সম্পর্ক অবগত রয়েছি। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী  বলেছেন, আমি ভিডিও সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিচ্ছি।

    এম কে

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

    ডেস্ক নিউজ:

    চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

    বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    ডা. আব্দুল মোবিন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মাঠে নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী যাদের ভাবনায় আমি শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক তাদের সবার জন্য সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। মতলবের মাটি ও মানুষ তার সন্তানের প্রতি যা কিছু উজাড় করে দিল তা জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।’

    তিনি বলেন, নমিনেশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে জানিয়েছে। আমি শপথের কর্মী। আমার কাছে দ্বিতীয় কিছু নেই। মতলব তথা দেশকে দেওয়ার ক্ষুধা আছে। যখনই যে পরিসরে যতটুকু সুযোগ আল্লাহ দান করেন মতলববাসীর সঙ্গে থাকব।

    জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পর চাঁদপুর-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এলডিপির (ছাতা প্রতীক) মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে মনোনীত করা হয়েছে।

    ডা. আব্দুল মোবিন বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

    জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (এলডিপি) বলেন, ১০ দলীয় জোট থেকে আমাকে চাঁদপুর-২ আসনে মনোনীত করছেন। সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

  • মহালছড়ি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম গ্রেফতার

    মহালছড়ি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম গ্রেফতার

    ডেস্ক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে বিধি মোতাবেক আইনি প্রক্রিয়া শেষে খাগড়াছড়ি আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    ওসি আরও বলেন, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে  মহালছড়ি থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহের পর গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম র‍্যাব ৭-এর সহযোগিতায় মহালছড়ি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

  • চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    নোয়াখালীর সেনবাগে ঋণের চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে কামাল উদ্দিন মজুমদার নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

    মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ‌১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    এর আগে সোমবার  দিবাগত রাতে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি।

    নিহত কামাল উদ্দিন মজুমদার উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক হোসেন বলেন, ঋণের চাপে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। চিরকুটে তিনি ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে গেছেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বেলাল ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেছি। মূলত তার পিছনে তার পরিবারে হাল ধরার মতো আর কেউ ছিল না। তার আয়-রোজগারে সংসার চলত। ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামাল মজুমদার পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের সামনে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার স্বজনদের কাছে ৬ পৃষ্ঠার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঋণের চাপ ও অভাব অনটনকে দায়ী করা হয়েছে। তবে চিরকুট নিহত কৃষকের হাতের লেখা কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। আজকে তার এক লাখ টাকারও বেশি ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

    এসআই আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

  • জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

    জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

     

    প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। আমরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই, রাতের ভোট বা কেন্দ্র দখলের নির্বাচন চাই না। জনগণের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ ভোট চাই। কৃষক যেমন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়, তেমনি জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।

    শুক্রবার  বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওলামা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শামীম সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের পতাকা মুছে ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা এটিএম ইউছুফ, মাওলানা আজহার, কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করেছে। তিনি বলেন, যে ট্রাইব্যুনালে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায় বিচার করা হয়েছে, আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই তাদের বিচার হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমার বাবা শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যায় ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি ইসলামী আদর্শে অটল ছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করব।

    এ সময় তিনি ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিনের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনার আহ্বান জানান

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন এবং ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান।

    জেলা মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরশুরাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হালিম, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সামছুল হক, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন এবং ফুলগাজী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম শামীম প্রমুখ।

    সমাবেশে ওলামা, স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।