Blog

  • নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

    ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।

    ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখের ভাষ্য, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। গতকাল রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাঁর পথ আটকান। তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাঁদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, যাঁরা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তাঁরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

    M

  • রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

    নিহত নারীর নাম আমেনা বেগম (৪৫)। তিনি স্থানীয় মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। অন্যদিকে পিটুনিতে নিহত যুবকের নাম মেহেদী ইসলাম (৩২)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং উপজেলার বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বাবুল দেওয়ানের নবনির্মিত বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন রাজমিস্ত্রি মেহেদী ইসলাম। চার দিন আগে সেই কাজ শেষ হয়। আজ বিকেল তিনটার দিকে বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে মেহেদী সেখানে ঢুকে একটি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় আমেনা বেগম তাকে দেখে ফেললে মেহেদী তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন।

    আমেনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আমেনার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটক থাকা মেহেদীর ওপর চড়াও হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু আমেনার মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে মেহেদীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও একদল লোক তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে লাথি, ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করছেন। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল ‘সি’) মেহেদী ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে পুরোপুরি হেফাজতে নেওয়ার আগেই জনতা তার ওপর হামলা চালায়।”

    পুলিশ জানায়, দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়েই পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    এম কে

  • মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ সময় কারখানার একজন মিস্ত্রিকে আটক করা হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি চালানো হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম বাদল সরকার (৫২)। তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, দুটি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, বাদল সরকার নিজস্ব কারখানায় নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করা হতো।

    আটক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা আছে। তিনি নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর তাঁকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ মধুখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় বাদল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে

    M

  • পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করেছে একটি নিজস্ব ও আধুনিক খেলার মাঠ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু হয়।

    এর আগে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মাঠ না থাকায় জাতীয় দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হতো। এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজস্ব মাঠে বিজয় দিবস উদযাপিত হওয়ায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

    উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের পুরোনো ভবনের পেছনে অবস্থিত একটি বড় নিচু জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জায়গাটিকে ভরাট করে একটি আধুনিক খেলার মাঠে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন এবং এ কাজে স্থানীয় সমাজসেবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    ইউএনওর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ সমাজসেবক তাজমিনউর রহমান তুহিন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাঠ নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমেদ মৃধার ছেলে।

    হযরত শাহ্ জালাল মৎস্য অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী এবং লেবাজ সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তুহিন প্রায় এক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করে জমিটিকে একটি সমতল ও দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠে রূপান্তর করেন। বর্তমানে মাঠটি সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত একটি মনোরম পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

    ১৬ ডিসেম্বর এই মাঠেই সুশৃঙ্খলভাবে কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা নতুন মাঠে প্রথম বড় আয়োজন হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

    নতুন মাঠে প্রথম আয়োজন সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাজমিনউর রহমান তুহিন বলেন, “তৎকালীন ইউএনও রফিকুল হকের অনুপ্রেরণায় আমরা এই উদ্যোগ নিই। আজ যখন দেখি আলফাডাঙ্গাবাসী এই মাঠে একত্রিত হয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করছে, তখন সত্যিই ভালো লাগছে। এটি ভবিষ্যতে সবার জন্য একটি স্থায়ী মিলনকেন্দ্র হবে।”

    এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল হক সিকদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি খেলার মাঠের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সমাজসেবক তুহিনের উদ্যোগে সেই সংকট দূর হয়েছে। এ ধরনের তরুণ উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।”

    উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, নতুন এই খেলার মাঠটি ভবিষ্যতে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

    M

  • সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাজী বাড়ি বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় নাম। অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক নকশা ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জার কারণে বাড়িটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল ম্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি এক নজর দেখতে।

    গ্রামের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হাজী বাড়িটির প্রবেশপথেই চোখে পড়ে একটি সুন্দর নকশার সেতু, যা বাড়ির মূল ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সেতুর দু’পাশে কৃত্রিম জলাধার ও সবুজ গাছপালার সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মূল ভবনটি বহুতল বিশিষ্ট, যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে। কারুকাজ করা বারান্দা, সুদৃশ্য রেলিং, খুঁটিনাটি অলংকরণ এবং রঙের ব্যবহার বাড়িটিকে দিয়েছে রাজকীয় এক আবহ।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাজী বাড়ি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়; এটি নারানদিয়া গ্রামের গর্ব। অনেকেই বলেন, এ ধরনের স্থাপনা গ্রামবাংলার সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে তরুণরা এখানে এসে ছবি তুলতে ভালোবাসেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হাজী বাড়ির ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে, যা এলাকাটিকে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে।

    দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানান, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন একটি নান্দনিক ও শান্ত জায়গায় সময় কাটানো সত্যিই প্রশান্তিদায়ক। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবেও দেখছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাজী বাড়িকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিতভাবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি সালথা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়ার হাজী বাড়ি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নান্দনিক স্থাপত্য আর প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূর্ব সমন্বয়ে হাজী বাড়ি নিঃসন্দেহে সালথার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

    M

  • ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। এতে আরও ১০ বাসযাত্রী আহত হন। আজ শনিবার সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকচালক নবীন শেখ (২২) ও সহকারী রাশেদ (৩০)। নবীনের বাড়ি ফরিদপুর শহরতলির ধলার মোড় এলাকায়।

    হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীগামী সপ্তবর্ণা লিজা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়।

    ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুজনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

    M

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

    এ/আর

     

  • ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    বিডিনিউজ ডেক্স

    ফরিদপুরে ১০ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীরা দলীয় স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াব। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমির মো. বদরুদ্দীন, নায়েবে আমির মো. আবুল বাশার, খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা আরও বলেন, ১০ দলীয় জোট একটি আদর্শিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    সমাবেশে জানানো হয়, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই ১০ দলীয় জোটের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াবকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

    কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানও লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে পুনরায় একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

    M

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    বিডি নিউজ ডেস্ক-

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    ‎অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    ‎সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    ‎বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    ‎গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    ‎স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    ‎মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ‎১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    ‎শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

    এ/আর

  • বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    ডেস্ক নিউজঃ

    সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বন্দরেও মঙ্গল যজ্ঞ, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পূজিত হলেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের ৩৫নং এস.এস শাহ রোড এলাকায় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে আশীর্বাদ কামনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মূল পূজা। পূজা শেষে অনেক মণ্ডপে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ি দেয়া হয়। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ।

    বন্দরে ঐতিহ্যবাহী একতা সংঘের (প্রাক্তন বালক সমিতি) উদ্যোগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের পূজায় তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী ও নারীদের মাঝে আলতা-সিঁদুর ছাড়াও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র (চাদর) বিতরণ করা হয়।

    মহানগর মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠুর সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একমাত্র কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা ইহন খান।

    ইহন খান তার বক্তব্যে সম্প্রতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সরস্বতী দেবী হলো জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতীক। আমরা আমাদের জীবনে তিনটি বিষয় অনুসরণ করবো—জ্ঞান অর্জন করবো আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য, শিক্ষা গ্রহণ করবো জাতির অগ্রগতির জন্য আর নিজেকে তৈরি করবো আদর্শ মানুষ হিসেবে। আমি এখানে উপস্থিত সকল শিশু ও সকলের জন্য শুভ কামনা জানাই। আসলেই এ অনুষ্ঠানটি আমার জীবনে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করি, এটাই বাংলাদেশে সব চাইতে সুন্দর বৈশিষ্ঠ্য। এ অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর করে আয়োজন করার জন্য ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু চাচ্চুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

    সভাপতির বক্তব্যে মিঠু বলেন, “আজকে আমার মনটা ভীষণ আনন্দিত। না, শুধু পূজার জন্যই নয়। আজ আমার মনটা বেশি আনন্দিত কারণ, আমাদের মাঝে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জাকির খানের একমাত্র কন্যা ইহন এসেছে। ইহন এ প্রথমবারের মত কোন অনুষ্ঠানে এসে হাজির হয়েছে এবং সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন আমি নিজে করেছি। যাইহোক, ইহন খানের জন্য আশিবাদ করি এখান থেকেই যেন ওনার এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সবশেষ আমার নেতা জাকির খানের সুস্বাস্থ্য ও আমাদের মা ইহন খান যেন তার পরিবারকে আরও ঐতিহ্যময় করে তোলতে পারে, এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া-আর্শিবাদ কামনা করছি।”

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাকিব হাসান রাজের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন খান, সদর থানা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সনেট আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি শেখ সালেহ আহমেদ (রনি), জুয়েল, একতা সংঘের পূজা কমিটির সঞ্জয় মন্ডল, হৃদয় বনিক, পুসান্ত বর্মন, অমিত মোদক, জয় দাস, লিখন সরকার, সিমান্ত, পোলক, পার্থ, নীরব, নিলয়, ইয়ান্ত, প্রনান্ত, প্রীতম, রণবীর, প্রণয় প্রমুখ।

    এম কে