Blog

  • কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে সির্জন খলিফা নামে এক কৃষকের ৩০ শতাংশ আলুগাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় সিংজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটুয়াবাড়ি চকে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম সির্জন খলিফা।

    সরেজমিন দেখা যায়, সির্জন খলিফার ৩০ শতাংশ জমির আলুগাছ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলো। গাছে সবেমাত্র আলুর গুঁটি বাঁধতে শুরু করেছিল। সকালে ক্ষেতের এই অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    সির্জন খলিফা বলেন, সকালে মেয়ের জামাইয়ের ফোন পেয়ে আলুক্ষেত দেখতে আসি। এসে দেখি সব শেষ। শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী দোষ। এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও ধারদেনা করে এই আলু চাষ করেছিলাম। দুর্বৃত্তরা আমার প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে এই অমানবিক কাজের সুষ্ঠু বিচার চাই।

    উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, খবর শুনেছি বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাকে সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

    ঘিওর থানার ওসি মীর মাহাবুব  বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে ধরাপড়া ইউনিয়ন বিএনপি এক নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

    শনিবার  দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল। তিনি দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি সদর উপেজেলায় ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরোধী এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মানিকগঞ্জ জেলা, দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়ন শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত ২টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন কানাঘুষা করছিল। গতরাতে যখন সিরাজুল ইসলাম মনজেলকে গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। তার কিছুক্ষণ পরে অনৈতিক কাজের সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

  • পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার  রাত ৮টার দিকে উপজেলার উথলী মোড়ে সারমানো সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্কিং করে রাখা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছন দিক থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে, তারা এসে আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকটি মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে অনেকের ধারণা, নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানো হয়েছে।

    পাম্পের কর্মচারী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি তখন সিএনজিতে গ্যাস দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বাসের পেছন দিক থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। আমরা পানি ঢেলে নেভানোর চেষ্টা করলেও পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বাসচালক মন্টু মিয়া বলেন, দুপুরে বাসটি পাম্পে রেখে বাসায় চলে যাই। শনিবার রাতে বাসের পেছনের কাচ ভেঙে এলইডি টিভি ও সাউন্ড বক্স চুরি হয়েছিল। বিষয়টি মালিককে জানিয়েছিলাম। আজ রাতে বাসটাই পুড়ে গেল। কী বলব বুঝতে পারছি না।

    বাসটির মালিক সিয়াম আহামেদ বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের বহনে ব্যবহৃত হয় বাসটি। আগুনের ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটি মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাস। আশপাশের কোনো গাড়ি না পুড়ে শুধু আমার গাড়ি পুড়েছে—তাই বিষয়টি নাশকতা বলেই মনে হচ্ছে।

    শিবালয় থানার ওসি এস. এম. আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে মো. সেলিম নামে এক ইটভাটার শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরগজ পূর্বনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মো. সেলিম হরগজ পূর্বনগর গ্রামের মৃত দানের শেখের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে কাজে যাওয়ার আগে সেলিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঘরের হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করেন। পরে স্ত্রী কর্মস্থলে চলে গেলে সকাল ১০টার দিকে ফোন করে শেষবারের মতো ক্ষমা চান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই বিষপান করেন সেলিম।

    আরও জানা গেছে, পরিবারের লোকজন টের পেয়ে সেলিমকে দ্রুত সাটুরিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেলেও খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

    সাটুরিয়া থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

  • পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র ১৭ বছর বয়সের কলেজপড়ুয়া ছাত্র কাজী হাসিব টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেছেন মিগ-২৯ মডেলের রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড্ডয়ন করা হয়। যুদ্ধবিমানের মতোই দ্রুত গতিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দৃষ্টিনন্দন ডিগবাজি খেতে খেতে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। বিমানের শব্দ শুনে মনে হয়, যেন এটা আসলেই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান।

    বিমানটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে জানান এই তরুণ উদ্ভাবক।

    কাজী হাসিব উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাজী ইলিয়াসের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সের (ডিপ্লোমা) প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। কাজী হাসিবের এমন কারিশমায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    ‎জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয় কাজী হাসিব। সে নবম শ্রেণি থেকেই শুরু করে এই বিমান তৈরির গবেষণা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর সে সফলতার মুখ দেখেন। দরিদ্র পরিবারের কাজী হাসিব তার স্বপ্ন পূরণ হয়।

    দীর্ঘদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেন এই যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। এ জন্য তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ এ বিমানটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন, ডিপরম শিট ও ককশিটের বডি, পাওয়ার ব্যাটারি, ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ইলেকট্রনিক স্পিড কন্ট্রোলার, সার্ভো, মোটর, প্রপেলার, ব্লগান, আঠা ও কসটেপ। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয় এই মিনি বিমান। বিমানটি যখন আকাশে ওপরের দিকে উঠে তখন তার শব্দে চারপাশ ভারি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয় এটি সত্যিকারের একটি যুদ্ধবিমান।

    ‎তরুণ উদ্ভাবক কাজী হাসিব বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। ক্লাস নাইন থেকেই এই বিমান তৈরির চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়; কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করায়। তাই এই কাজে বাবার কাছে হাত না পেতে আমার টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি এই মিনি বিমানটি তৈরি করি। তবে আগে আরও দুইটা বানাইছিলাম। সেগুলো ঠিক মতো হয়নি। পরে এটা তৈরি করি এবং আকাশে উড়াই। এটা আরও উন্নত করতে পারলে অটো পাইলটের এ বিমানটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব হবে।’

    ছবি সংগৃহিত

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন বলেন, ‘আমরা আসলে অবাক হয়েছি ওর মেধা দেখে। এত অল্প বয়সে কত সুদূর পরিকল্পনা করে এ বিমানটি সে তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে হাসিব আমাদের এলাকার গর্ব। ওর বাবা গরীব মানুষ। তাই সরকারিভাবে হাসিবকে দেখভাল করলে দেশের জন্য ভালো কিছু হতে পারে। আমি ওর বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

    প্রতিবেশী মো. ইমন শেখ বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই হাসিব যে বিমানটি বানিয়েছে নিঃসন্দেহে আমাদের এলাকার গর্বের বিষয়। আমরা এতে গর্ববোধ করি। সরকারিভাবে যদি ওকে দেখভাল করে তাহলে ভালো করতে পারবে। কারণ ওর মেধা আছে। আমরা চাই সরকারিভাবে হাসিবকে সহযোগিতা করা হোক।’

    ‎হাসিবের মা বলেন, আমার ছেলের বিমান তৈরির জন্য এলাকার সব মানুষ অবাক হয়েছে। আমরাও অবাক। আসলে আমরা তো ওর খরচ ঠিক মতো চালাইতে পারি না। নিজের টিফিনের টাকা জোগাড় করে আজ যে বিমান বানিয়েছে অবশ্যই এটা গর্বের। আমার অনুরোধ রইল, আপনারা যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ও ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    হাসিবের বাবা কাজী ইলিয়াস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে খাই। আমার ছেলে তার টিফিনের টাকা জমা করে আজ ২২ হাজার টাকা খরচ করে এ বিমানটি বানিয়েছে। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। যদি সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকারিভাবে আমার ছেলেকে সহায়তা করে তাহলে সে ভালো কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    ‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার  বলেন, ‘বিষয়টি আগে শুনিনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি  ওর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখি। তারপর দেখা যাবে আমরা ওর জন্য কিছু করতে পারি কি না।’

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

     

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

     

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    ডেস্ক নিউজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা। 

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)  রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)  সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার  আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার  থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’