Blog

  • ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, ভোগান্তিতে তিতাসের ৪০ গ্রামের মানুষ

    ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, ভোগান্তিতে তিতাসের ৪০ গ্রামের মানুষ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজারে গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন পাকা সেতুর পাশে বিকল্প সেতুটি বন্যায় ভেঙে যায়। ভেঙে পড়ার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পুনর্নির্মাণ হয়নি বিকল্প সেতু। এতে ভোগান্তি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পারাপার হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ দুই পাড়ের ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

    সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির রায়পুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কের আসমানিয়া বাজার এলাকায় গোমতী নদীর ওপর ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৯ টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে।

    নদীর দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশেই ৮০ মিটারের একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। যা গত বছরের ২৯ মে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ভেঙে যায়। পরে বাল্কহেডের মালিকদের সহযোগিতায় পুনরায় অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গত বছরের ২১ আগস্ট কাঠের ওই সেতুটি দ্বিতীয়বারের মতো ভেঙে যায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা আপাতত ইঞ্জিনচালিত নৌকায় (ট্রলারে) নদী পারাপার হচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানান, গোমতী নদীর দক্ষিণ-পূর্বপাশে উপজেলার অন্যতম বৃহত্তর আসমানিয়া বাজার অবস্থিত। প্রতিদিন উত্তর-পশ্চিম পাড়ের গ্রামের লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে আসমানিয়া বাজারে যাতায়াত করে। দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ের গ্রামের লোকজন আসমানিয়া বাজার হয়ে উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে। এছাড়াও আশপাশের কয়েক উপজেলার মানুষের যাতায়াত রয়েছে আসমানিয়া বাজারে।

    এআর/নিই

  • হাঁস-মুরগির ঘর বানিয়ে স্বাবলম্বী কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সাইফুল

    হাঁস-মুরগির ঘর বানিয়ে স্বাবলম্বী কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সাইফুল

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    বাহারি রঙের ঢেউটিন ও কাঠ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন হাঁস-মুরগির ঘর তৈরি করে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পুরাতন চৌয়ারা বাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। জমিজমা তেমন একটা না থাকলেও সাইফুলের অদম্য চেষ্টায় হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির মাধ্যমে অভাব থেকে মুক্তি মিলেছে।

    স্বচ্ছলতা এসেছে ৭ সদস্যের পরিবারে। সাইফুলের সফলতা দেখে পুরাতন চৌয়ারা বাজার এলাকায় বেশ কিছু নারী-পুরুষ কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাহারি রঙের দৃষ্টিনন্দন হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির কাজ।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রঙিন ঢেউটিন এবং কাঠ দিয়ে হাঁস-মুরগির ঘর তৈরি করছেন সাইফুল ইসলাম। তাকে সহাযোগিতা করেন তার দুই ছেলে সাকিব ও রাকিব।

    কাজ করার ফাঁকে সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এক সময় একাই কাজ করতে হতো। এখন ব্যবসার পরিধি বেড়ে যাওয়ায় আমাকে সহাযোগিতা করে দুই ছেলে। চাহিদা থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে হাঁস-মুরগির ঘর নিতে আসেন ক্রেতারা। প্রতিটি খাঁচা আকারভেদে ৫-৮ হাজার টাকায় বিক্রি করি। প্রতিটি ঘরে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা লাভ হয়। এসব খাঁচা বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে আমার সংসার।

    সাইফুলের বড় ছেলে সাকিব বলেন, গ্রামে হাঁস-মুরগি পালন করতে হলে এসব ঘর লাগে। প্রত্যেক পরিবারে এসব ঘর থাকে। বর্তমানে চাহিদাও ভালো। আমাদের দেখাদেখি আশপাশের অনেকে এ কাজ শুরু করছেন।

    সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী বলেন, হাঁস-মুরগি পালনের জন্য এসব আয়তাকার ঘর সবচেয়ে ভালো। কারণ এগুলো পরিবেশবান্ধব। হাঁস-মুরগির ঘর পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি এবং দক্ষিণমুখী হলে ভালো হয় ।তবে গ্রামগঞ্জে গ্যাবল টাইপ বা দোচালা ঘর এবং শেড টাইপ বা একচালা ঘর এ দুধরনের হাঁস-মুরগির ঘর বেশি দেখা যায়। এ ধরনের ঘরের সুবিধা হচ্ছে যেকোনো প্রয়োজনে স্থানান্তর করা যায়।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া খানম কালবেলাকে বলেন, উপজেলার এসব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। তারা যদি একটি সমিতি গঠন করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে সেই সমিতিকে নিবন্ধনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। সমিতির নিবন্ধন হলে প্রতিবছর একটি আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এআর/এনই
  • মনোহরগঞ্জে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিপাকে খামারিরা

    মনোহরগঞ্জে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিপাকে খামারিরা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বছরে একবার বোরো ধানের চাষ হয়। গবাদি পশু পালনে গেরস্ত থেকে খামারি সবাইকে ধানের খড়, কুঁড়া ও ভুসির উপর নির্ভর করতে হয়। বছরে একবার বোরো ধানের চাষাবাদ হওয়ায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেখা দেয় খাদ্য সংকট।

    অনেক সময় খামারিরা এক এলাকায় থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে গোখাদ্য সংগ্রহ করেন। বেশি দামে কিনে আনেন ধানের খড় ও কুঁড়া। ফলে বিপাকে পড়ে অনেক খামারি গরু-ছাগল কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    হাসানাবাদ ইউনিয়নের খামারি মো. পারবেজ চোধুরী বলেন, আমার খামারে প্রায় ৩০টি গরু ছিল। খাদ্যের সংকটের কারণে অনেকগুলো গরু কম দামে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন খামারে মাত্র সাতটি ষাঁড় গরু আছে।

    খিলা ইউনিয়ন দাড়াচৌঁ গ্রামের গরু খামারি রফিকুজ্জামান হিরন বলেন, আমি গরুর ফার্ম করব বলে নতুন ঘর নির্মাণ করেছি। কয়েকটি ষাঁড় গরুও কিনেছি। খাদ্যের সংকটের কারণে খামারটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। গ্রামের মানুষ যারা গরু পালন করেন, তারা গরুকে সাধারণত ধানের খড়, খৈল, কুঁড়া, ভুসি খাওয়ায়। আমাদের এলাকায় বছরে একবার বোরো ধানের আবাদ হয়। ফলে গরু খাবারের সংকটে পড়েন অনেকে। ফিড ও খৈলের দাম বেশি হওয়ায় খামার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

    উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মমিনুর রহমান বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানুষ বছরে একবার বন্যার কবলে পড়েন। ফলে অনেক খামারি খাদ্যের সংকটে পড়ে। উঁচু জমিতে ঘাস চাষ ও খাস জমি দেখে একটি গোচরণ ভূমি তৈরি করলে খাদ্য সংকট কমে যেতে পারে।

    এআর/নিই

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডিভাইডারের গ্রিল ভেঙে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডিভাইডারের গ্রিল ভেঙে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারে প্রতিটি স্টেশন এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ফুট ওভারব্রিজ। কিন্তু অধিকাংশ ফুট ওভারব্রিজই ফাঁকা পড়ে আছে। পথচারীরা ওই ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছে দেশের লাইফ লাইন-খ্যাত ব্যস্ততম মহাসড়কটি।

    শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিতসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মহাসড়কে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে না। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও মহাসড়কের মাঝ দিয়েই এক পাশ থেকে অন্য পাশে যান পথচারীরা। এতে প্রায়ই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। কেউ বা চিরতরে হচ্ছেন পঙ্গু।

    পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিচু বিভাজনের ওপর কোথাও এক থেকে দুইশ মিটারজুড়ে লোহার গ্রিল দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা রাতের অন্ধকারে ওই গ্রিল ভেঙে যাতায়াতের পথ নিশ্চিত করে। আর অসচেতন পথচারী দিন-রাত ওই ভাঙা গ্রিল দিয়েই মহাসড়ক পারাপার হন।

    কুমিল্লা সড়ক বিভাগ বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় ৫৪টি ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। প্রতিটি ব্রিজ নির্মাণে সরকারের কোটি কোটি খরচ হয়েছে। কিন্তু মানুষ সেসব ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলাচল করছে মহাসড়কে।

    হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গত ৯ মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৬৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ২৮৪ জন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৫০৯ জন। রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেছে অনেকের।

    সরেজমিন দেখা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাসস্টেশনে রয়েছে একটি ফুট ওভারব্রিজ। কোটি টাকা ব্যয়ে ফুট ওভারব্রিজটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু এই ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে একজনকেও পারাপার হতে দেখা যায়নি। ফুট ওভারব্রিজটি মাত্র ১০০ ফুটের মধ্যে নিচু বিভাজন ও বিভাজনের কাটা অংশ থাকায় সব বয়সের নারী-পুরুষ ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছেন।

    চান্দিনা-বাগুর বাসস্টেশনটি জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। চান্দিনা-দেবিদ্বার, বরুড়া উপজেলার এবং বুড়িচং উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ওই স্টেশনটি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। স্টেশনে থাকা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ উভয় পাশে অন্তত ২০০ মিটার লোহার উঁচু গ্রিল স্থাপন করে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ওই গ্রিল ভেঙে ফেলে স্থানীয়রা। আর ওই ভাঙা অংশেই প্রতিদিন যাতায়াত করছে হাজার হাজার পথচারী। ফলে ওই স্টেশনটিতে যানজট নিত্যসঙ্গী। এ ছাড়া মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ, কুটুম্বপুর, গোবিন্দপুর, নিমসার অংশের ফুট ওভারব্রিজগুলো ব্যবহারই হচ্ছে না।

    গত ১৯ নভেম্বর মহাসড়কের কুটুম্বপুর স্ট্যান্ডে ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে পারাপারের সময় দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় ডাম্প ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়। মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড ও চান্দিনা বাসস্ট্যান্ডে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ পাশেই ফুট ওভারব্রিজ।

    জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে সড়ক পারাপার করা এসব মানুষের কেউ অসুস্থতার অজুহাতে, কেউ সময় বাঁচাতে, কেউ আবার অভ্যাস থেকেই দ্রুতগতির গাড়ির সামনেই সড়ক পার হতে দেখা গেছে।

    ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, মহাসড়কে রাস্তা পারাপারে মানুষের সচেতন হতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই। পুলিশের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, আমরা সেটাকে ব্যবহার করে মানুষকে ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে পারাপারে উদ্বুদ্ধ করছি। কিন্তু পথ যারা ব্যবহার করেন, প্রত্যেককে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

    সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করে দিয়েছি। সড়কে চলাচলকারী সবার উচিত নিজ দায়িত্বে এটাকে ব্যবহার করা। মানুষকে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে সচেতন করতে আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মহাসড়কের মাঝখানে লোহার রড দিয়ে ঘেরাও করে দিই, মানুষ সেসব রড ভেঙে রাস্তার মাঝ দিয়ে চলাচল করে। আমরা আমাদের পক্ষে যেটা করণীয় সেটা করে যাচ্ছি, মানুষকে সচেতন হতে হবে। সূত্রঃ কালবেলা

    এআর/এনই

  • প্রাইভেটকার চাপায় প্রাণ গেছে সাবেক ইউপি সদস্যের

    প্রাইভেটকার চাপায় প্রাণ গেছে সাবেক ইউপি সদস্যের

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার বুড়িচংয়ে প্রাইভেটকারচাপায় আব্দুল ওহাব নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাবিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল ওহাব (৬০) উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ছমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে উল্টো পথে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল ওহাব। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি পালিয়ে গেছে। যানবাহনটি শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।

  • এসিল্যান্ডের গাড়িচাপায় শিশু নিহত

    এসিল্যান্ডের গাড়িচাপায় শিশু নিহত

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার হোমনায় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরকারি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ফাইজা আক্তার নামের এক শিশু নিহত হয়েছে।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    এই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ফাইজার বাবা ফাইজুল হক একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা। তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পুটিয়ার তেরদ্রনে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটে মায়ের সঙ্গে আসে ফাইজা। এ স্কুলে প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী নিহতের বড় ভাই আয়ান। রাস্তায় খেলা করার সময় দ্রুতগতির এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়িটি তাকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ফুটফুটে এ শিশুটি। মুহূর্তেই শোক ও কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির মাসহ উপস্থিত অভিভাবকরা। ঘটনার পর গাড়ি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়।

    খবর পেয়ে হোমনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ মোফাসের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম হোমনা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ফাইজার বাবা গাড়িচালকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম বলেন, সকালে মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসে ফাইজা। তার বড় ভাই একই প্রতিষ্ঠানের প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী।

    হোমনা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    হোমনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহমেদ মোফাস বলেন বলেন, শিশুটি আমার নিজের সন্তানও হতে পারত। ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি। ন্যায়বিচারের জন্য যা প্রয়োজন, আমি করবো।

    এআর/নিই

  • দাউদকান্দিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতু রক্ষার চেষ্টা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

    দাউদকান্দিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতু রক্ষার চেষ্টা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর গ্রামের একমাত্র সেতুটি ৩০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর বর্তমানে চরম নাজুক দশায় পৌঁছেছে।

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৈরি করা ৩০ ফুট দীর্ঘ সেতুটির পিলার থেকে মাটি সরে যাওয়া এবং দেবে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে যান চলাচল সচল রেখেছেন। মেরামত বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। যারা প্রতিদিনই এই পথ ব্যবহার করে।

    কুমিল্লার দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাপের চর গ্রামের সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান পথ। শুধু গোলাপের চর নয়, পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষও এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় সরকারের আওতায় (এলজিইডি) ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এর নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় এবং পিলারের মাটি সরে যাওয়ায় সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

    প্রতিদিন ১০-১২ হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অটোরিকশা ও মোটরচালিত যানবাহনে চলাচল করে।

    স্থানীয় অটোচালক রবিউল হোসেন জানান, ব্রিজের পিলারের মাটি সরে যাওয়ায় ও নিচের পিলার দেবে যাওয়ায় ব্রিজটি নড়বড় করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি দিয়েছি। ব্রিজের কাছে এলে যাত্রীদের হেঁটে পার হতে হয়।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন সরকার বলেন, ‘সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি আমাদের উপজেলায় যাতায়াতের প্রধান পথ।’

    এ বিষয়ে দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমুল হক সরকার বলেন, ‘গোলাপের চর ব্রিজ আমাদের ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আমি মানুষের ভোগান্তি বুঝি, আমি নিজেও ভুক্তভোগী। ব্রিজটি পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশল বিভাগে চিঠি দিয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। শুধু মেরামত নয়, নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

    দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল হাসান জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    এআর/নিই

  • বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার বিকল্প কেউ নেই : কায়কোবাদ

    বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার বিকল্প কেউ নেই : কায়কোবাদ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    মুরাদনগরের সাবেক পাঁচবারের এমপি ও মন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, বাংলাদেশে আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার বিকল্প কেউ নেই। যদিও তারেক রহমানই তার বিকল্প এবং উনি (তারেক রহমান) তারই সন্তান।

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় গত শনিবার বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগরে আকুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। মোনাজাতে সজোরে কেঁদে ওঠেন তিনি।

    সাবেক মন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, আজকের এই সমাবেশ, এই দোয়া সবই বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায়। তিনি এমন একজন নেত্রী, যার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে; যিনি ছেলেকে হারিয়েছেন, বিনা অপরাধে জেল খেটেছেন। উনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা শুধু অত্যাচার নয়; উনার যে বাড়ি, সেই বাড়ি থেকে আওয়ামী সরকার জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে। উনাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, জেলখানায় রাখা হয়েছিল। তারপরও তিনি কোনো আপস করেননি।

    উপস্থিত সবার কাছে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার অনুরোধ করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা। উপস্থিত জনতাও হাত উঁচিয়ে নামাজ আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

    এআর/নিই

  • রাউজানে ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

    রাউজানে ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের রাউজানে আবু সাঈদ ওরফে রিপন (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রিপনের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন এসব কথা জানান।

    গ্রেপ্তার রিপন রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জানালীহাট এলাকার শওকত আকবর চৌধুরী প্রকাশ জুনুর ছেলে।

    বেলায়েত হোসেন জানান, গতকাল শনিবার সুলতানপুর সরকারপাড়া এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে তাঁর হেফাজত থেকে পাঁচটি পিস্তলের গুলি, ২০টি ইয়াবা এবং নগদ এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে আসামির দেখিয়ে দেওয়া একই এলাকার খাজা গরিবে নেওয়াজ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের পেছনে কালুর গরুর ফার্ম থেকে কাঠের বাঁটযুক্ত একটি দেশীয় তৈরি এলজি এবং চারটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘রাউজানে কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • চট্টগ্রামে সড়ক থেকে নৌবাহিনী সদস্যের লাশ উদ্ধার

    চট্টগ্রামে সড়ক থেকে নৌবাহিনী সদস্যের লাশ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সড়কের ওপর থেকে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের চিকনদন্ডী ইউনিয়নের বড়দিঘির পাড় এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন।

    নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (২৯)। তিনি ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের মতিননগর চিকনছড়া এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার ছেলে। নিহত দেলোয়ার বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকালে হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় মোটরসাইকেলসহ দেলোয়ার অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে পথচারীরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    রাউজান হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাফর আহমদ বলেন, নিহত ব্যক্তির মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলানো ছিল। তাঁর একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেইলর পদে কর্মরত ছিলেন।

    রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় ওই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা নিশ্চিত নয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।