ট্যাগ রাজনৈতিক

  • প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    বিডিনিউজ ডেক্স : (মধুপুর-ধনবাড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলাকালেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। তার এই সিদ্ধান্তে এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও চরম হতাশা বিরাজ করছে।

    জানা গেছে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়া পরিষদের ডিরেক্টর পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বিগত সময় দুইবার নির্বাচন করা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠকের পরই মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে আনোয়ার হোসেনের বাসায় চুড়ান্ত আলোচনা হয়।

    গত দেড় বছর ধরে ঘর-সংসার, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে নিজের অর্থ ব্যয় করে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন বলে জানান মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের লাল মিয়া। তিনি জানান, ‘স্থানীয় সন্তান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ায় ভেবেছিলাম তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার খবরে আমরা শকড হই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত প্রচার করেছি। হঠাৎ খবর এলো, নেতা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন। মাথায় যেন বাজ পড়লো।’ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    মধুপুরের আলোকদিয়ার গাংগাইর এলাকার তোতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নেতা হয়ে এমন বেঈমানি করলেন কেন? কোথায় যাবো আমরা? টাকা দরকার হলে বলতেন। নির্বাচন শুরু না করেই মাঠ ছেড়ে দিলেন। আপনার নাম ইতিহাসে মীরজাফরের পাশে লেখা থাকবে।’

    ধনবাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই লিফলেট বিতরণ ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নামাজের পর মধুপুরে এসে খবরটি শুনে হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘যদুনাথপুরসহ ধনবাড়ীতে মোহাম্মদ আলীর বড় অবস্থান তৈরি হয়েছিল। তার সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা হঠাৎ থেমে গেল। নিজের রাজনীতি নিয়েও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

    এদিকে মধুপুর আদালত পাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের বাসায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। সেখানে অবস্থান করা অনেকে জানান, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে অনেক নেতা যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু আদর্শের রাজনীতি করি বলে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই ছিলাম। এখন কোনো দিকনির্দেশনা নেই—কি করবো বুঝতে পারছি না।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপন ফকির চলে যাওযার পর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবেগে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাইরে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে কর্মীরা মোহাম্মদ আলীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিরাপত্তার জন্য কর্মীদের বেষ্টনীতে মোহাম্মদ আলীকে সেখান থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে বাসায় পাঠানো হয়।

    এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলু কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে পূর্বে কোনো পরামর্শ না করেই নির্বাচন থেকে সরে গেলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।’

    M

  • সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    বিডিনিউজ ডেক্স :  (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের (হরিণ) প্রতীকের ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও দুটি অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু।
    হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু অভিযোগ করেন, এ আসনের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হরিণ প্রতীকের তিনটি নির্বাচনী অফিস বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর চালানো নির্বাচনী অফিসগুলো হচ্ছে- রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের সলঙ্গা অফিস, ইলিমজান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সোনাতলা মোড় অফিস ও দেওয়ানপুর কেন্দ্রের দেওয়ানপুর অফিস। এছাড়া বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বহেড়াতৈল ও কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা অফিস দুটিতে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকরা শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ৩টি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দুটি নির্বাচনী অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করে। একই আসনের শোলাপ্রতিমা ও কালিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর হরিণ প্রতীকের দুটি বিলবোর্ডও ভাঙচুর করা হয়।

    হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও তালা ঝুঁলানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা পরাজয়ের ভয়ে এসব অপকর্ম করছে। হিংসা-প্রতিহিংসা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। নির্বাচনের পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেটি নিশ্চিত করা সবারই দায়িত্ব। নিজের কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।বিষয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর নির্বাচনে ভোটের দেউলিয়াত্বে ভুগছেন। তাই নানা ধরণের কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। বাসাইল-সখীপুরের মানুষ এগুলো বুঝে এবং তারা বুঝে-শুনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে গঠিত ইলেকশন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া ওই অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারের আওতায় এনে দোষীদের সাজার ব্যবস্থা করতে পারে।

    M

  • টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    বিডিনিউজ ডেক্স : আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দেয়। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

    M

  • ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    • বিডিনিউজ ডেক্স : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষ করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকতা মো. কামরুল হাসান মোল্লা। এসময় এ আসনে দাখিলকৃত মোট ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীসহ ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীসহ পাঁচ জনের।

    শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আসনটির সকল প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মকর্তা তারেক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল, মিন্টু বিশ্বাস, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

    জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে পাঁচ প্রার্থীর কাগজপত্রে ক্রটি থাকায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া অন্য ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, দলের ও ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা। ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন ও পুরাতন ভোটার আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবে।

    M

  • আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    বিডিনিউজ ডেক্স : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে এবার জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। সাতবার দল পরিবর্তন করে তিনি একাদশবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে রাজেন্দ্র কলেজের ভিপি হিসেবে তিনি ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

    তবে গত ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহ জাফর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে। অথচ রাজেন্দ্র কলেজের একজন ডাকসাইটে ভিপি কীভাবে ‘স্বশিক্ষিত’ হলেন—এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শাহ জাফর প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৯ সালে। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০১৪ সাল বাদে সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকেই প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা উল্লেখ করা হয় এসএসসি আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাখিল করা হলফনামায় লেখা হয় স্বশিক্ষিত।

    বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্নভাবে উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর শিক্ষাসনদের কাগজপত্র পুড়ে যায়। নতুন করে সনদ সংগ্রহ করা জটিল হওয়ায় তিনি সর্বশেষ হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন।

    ২০২৪ সালে এসএসসি লেখার বিষয়ে শাহ জাফর বলেন, ওই সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে এসএসসি সনদটিই হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছিল।নিজের শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহ জাফর বলেন, ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী সময়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

    M

  • নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

    ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।

    ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখের ভাষ্য, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। গতকাল রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাঁর পথ আটকান। তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাঁদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, যাঁরা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তাঁরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

    M

  • ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    বিডিনিউজ ডেক্স

    ফরিদপুরে ১০ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীরা দলীয় স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াব। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমির মো. বদরুদ্দীন, নায়েবে আমির মো. আবুল বাশার, খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা আরও বলেন, ১০ দলীয় জোট একটি আদর্শিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    সমাবেশে জানানো হয়, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই ১০ দলীয় জোটের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াবকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

    কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানও লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে পুনরায় একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

    M