ট্যাগ স্বাস্থ্য

  • মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    নিউজ ডেস্ক

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে একজনের পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত করা গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। বাকি ২৯ জনের নমুনা টেস্ট করে হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

    অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখব।

    আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

    রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২শ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • মাছ ধরতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলল দুই বস্তা সরকারি ওষুধ

    মাছ ধরতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলল দুই বস্তা সরকারি ওষুধ

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে দুই বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সময় বস্তাগুলো দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশকে এগুলো উদ্ধার করে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বুধবার (১১ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলেরা। এ সময় জাল টেনে তোলার সময় মুখ বাঁধা দুটি বড় পাটের বস্তা তাদের চোখে পড়ে।

    বস্তার ভেতরে মরদেহ থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়রা গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাগুলোর মুখ খুলে দেখে, ভেতরে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। এরপর পুলিশ বস্তাভর্তি ওষুধ থানায় নিয়ে যায়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো ২০২৩ সালের। সে সময় কেউ হয়তো বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। বস্তায় ভরা থাকায় এবং ওষুধের প্যাকেট সহজে নষ্ট না হওয়ায় সেগুলো নদীর তলদেশে এতদিন রয়ে গেছে।

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

    ডেস্ক নিউজঃ

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩৬ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮২ জনে এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে ৯৪ হাজার ৪০২ জনে দাঁড়িয়েছে।রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে দুজন ও সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, একজনের চট্টগ্রাম বিভাগে ও একজনের খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে।এই সময়ে ৮০৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৫ জন।২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

    এম কে

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি : রিজভী

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি : রিজভী

    ডেস্ক নিউজঃ

    বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।আজ রোববার রাজধানীর নয়া পল্টনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের বিষয়ে রিজভী বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হলে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এজন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করবেন।দলের নেতাদের সাথে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিক্যাল বোর্ডই দিচ্ছে।

    এম কে

  • ৪১% রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক

    ৪১% রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রোগীদের ৪১ শতাংশের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

    সোমবার আইইডিসিআর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট-২০২৫’ প্রকাশ করে।

    এ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও জীবাণুর শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স—যেখানে জীবাণু কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দেয় না।

    প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ৯৬ হাজার ৪৭৭ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    প্রতিবেদন অনুসারে, সব নমুনার ৭ শতাংশে প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু পাওয়া গেছে। আইসিইউতে এই হার ৪১ শতাংশ। মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৪৬ শতাংশ হলেও আইসিইউতে তা ৮৯ শতাংশ।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শ্রেণি বিভাগ অনুযায়ী, ওয়াচ গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে ৭৭ শতাংশ থেকে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৯ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) ও মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)।

    প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভাইরোলজি) অধ্যাপক জাকির হোসেন হাবিব।

    এ সময় তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। জনগণের সচেতনতা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না। অনেক রোগী দোকানের কর্মী বা অবৈধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নেন, যা রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ। মানুষ প্রায়শই ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নেন, চিকিৎসা পরামর্শ ছাড়াই এবং এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আমি সবাইকে জোর দিয়ে বলছি, নিবন্ধিত নয় এমন কারও পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।’

    জাকির হোসেন হাবিব বলেন, যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াই জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এই এএমআর এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট।

    সবাইকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্ক হতে আহ্বান জানিয়ে হাবিব বলেন, সেভ অ্যান্টিবায়োটিক, সেভ ইয়োরসেলফ।

    জরিপ অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত মোট অ্যান্টিবায়োটিকের ৫৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয় ঢাকায়। চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় রাজধানীতে এই হার তুলনামূলক বেশি। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (ইউটিআই) আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের উচ্চ প্রবণতা দেখা গেছে।

    সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক হলো সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, আজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজল, ক্লক্সাসিলিন, পিপেরাসিলিন-ট্যাজোব্যাকটাম ও ভ্যানকোমাইসিন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করবে।

    সুত্র: আমার  দেশ

    বি/এ

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৭০৫

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৭০৫

    বিডিনিউজ ডেস্ক: সোমবার (২৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০৫ জন।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৩ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন রয়েছেন।

    চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক তিন শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক সাত শতাংশ নারী রয়েছেন।

    M

  • বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচ শহরের ৩টিই ভারতের

    বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচ শহরের ৩টিই ভারতের

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। সবচেয়ে দূষিত পাঁচ শহরের তিনটিই ভারতের। পিছিয়ে নেই ঢাকাও। আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) ২৩২ স্কোর নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। অর্থাৎ, রাজধানীর বাতাস আজ খুবই অস্বাস্থ্যকর।

    রোববার সকাল সোয়া ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান নির্ধারণ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ থেকে এ তথ্য নেওয়া হয়েছে।আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, স্কোর ৪৫০। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতেরই আরেক শহর কলকাতা, স্কোর ২৪৮। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি, স্কোর ২০৯। ১৯৮ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই।আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান।১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।

    এম কে

  • শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    বাজারে এখন শীতের নানারকম শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে। এই সময় বিভিন্ন রকম রোগের প্রকোপও বাড়ে। শীতে সুস্থ থাকতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেক্ষেত্রে ডায়েটে রাখতে পারেন পালং শাক। নিয়মিত এই শাক খেলে নানা ধরনের উপকারিতা মেলে। যেমন-

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। এর ফলে সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। পালং শাকের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দেহের প্রদাহ মোকাবিলায় বিশেষ উপকারী।

    হজমশক্তি বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পালংয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ় এবং উদ্ভিজ্জ এনজ়াইম থাকায় খাবার সহজেই হজম হয়।

    ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: পালং শাকে থাকা ভিটামিন ই এবং আয়রন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই শাকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। পালং শাকে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন চোখের নীচের ফোলা ভাব কমায়। সেই সঙ্গে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

    ক্লান্তি দূর করে: পালং শাকে থাকা আয়রন, ফোলেট এবং ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি বাড়ায়। এর ফলে ক্লান্তি দূর হয়।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ করে : শীতের সময়ে বিভিন্ন নিমন্ত্রণ- অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া বেশি হতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে পালং শাক। কম ক্যালোরি এবং ফাইবারে পূর্ণ হওয়ায় এই শাক ওজন বৃদ্ধি করে না।

  • শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শীতের সময় যতই আরামদায়ক মনে হোক, কিডনির জন্য কিন্তু এই মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর বা স্টোন হওয়ার প্রবণতা শীতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো শরীরের ডিহাইড্রেশন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তেষ্টা কম লাগে, ফলে পানি গ্রহণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর ফলেই মূত্রের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে।

    এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ইনসাইট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতার দিকে যায়। এর ফলে মূত্র গাঢ় হয়ে ওঠে, যা কিডনিতে পাথর তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিডনিতে স্টোন হওয়ার হারও ওঠানামা করে।

    চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রাণিজ প্রোটিন এবং ডিহাইড্রেশন— এই তিনটি বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একই কথা বলা হয়েছে ক্লিনিক্যাল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রেও।
    তাহলে কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?

    ১) দিন অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। জলের পাশাপাশি, ডিটক্স পানীয়, হার্বাল টি কিংবা ইনফিউসড ওয়াটার খেলেও উপকার মিলবে।

    ২) অতিরিক্ত সোডিয়াম রয়েছে এমন খাবার বা পানীয় খাওয়া চলবে না। কারণ, রক্তে সোডিয়ামের উপস্থিতি কিডনিতে স্টোন হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা-ও বাদ দিতে হবে।

    ৩) কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা রুখতে রোজ সাইট্রাস ফ্রুট বা লেবুজাতীয় ফল খেতে হবে। রক্তে থাকা অতিরিক্ত খনিজ শোষণ করে কিডনি সুরক্ষিত রাখবে ভিটামিন সি। পাশাপাশি মূত্রাশয়ের সংক্রমণও রুখে দিতে পারে।

    ৪) সামগ্রিকভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে হলেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। কারণ, স্থূলত্ব বা দেহের অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য খারাপ। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলেও কিন্তু কিডনির ওপর চাপ পড়ে।

    সূত্র : এই সময় অনলাইন
    বি/এ