ট্যাগ স্বাস্থ্য

  • ভূমিকম্পে প্রাণ গেল মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফিউলের

    ভূমিকম্পে প্রাণ গেল মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফিউলের

    ডেস্ক নিউজ :

    মায়ের সঙ্গে বাজারে গিয়ে ভূমিকম্পে প্রাণ গেল মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফিউলের
    রাজধানীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভবন ধসে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম মারা গেছেন। তার মা আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    শুক্রবার রাজধানীর পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে সকালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

    জানা গেছে, রাফিউল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পাশে কসাইটুলীতে পরিবারসহ বসবাস করতেন। ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ পাঁচতলা একটি ভবনের রেলিং ধসে পড়ে। এ সময় মায়ের সঙ্গে বাজার করছিলেন রাফিউল। ভবনের একটি ইট তার মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। দুর্ঘটনায় এই মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন মারা গেছেন। তবে বাকি দুইজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

    স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে ৫ তলা বিল্ডিংয়ের রেলিং ধ্বসে পরে ৩ জন পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহতরা সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে রাজধানীসহ সারাদেশ। চলে কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিস) তথ্য মতে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী।

    বি/এ

  • বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

    বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় দেশে সরকারিভাবে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল নেই। গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের একাধিক শহরে ২৫টি সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) সেন্টার গড়ে উঠেছে, এতে সফলতাও মিলছে। তারপরও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যান। সম্প্রতি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ভুক্তভোগীরা যাচ্ছেন তুরস্কে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় আইভিএফ হাসপাতাল করতে চায় তুরস্কের ওকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমেরিকা-জার্মানিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়টির হাসপাতাল রয়েছে। তারা বাংলাদেশেও এ ধরনের হাসপাতাল করতে চায়। বাংলাদেশে তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত একমাত্র মেডিকেল ট্যুরিজম কোম্পানি টার্কিশডক এটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শেষের দিকে হাসপাতালটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

    টার্কিশডক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। চালুর অন্তত প্রথম দুই বছর তুরস্কের চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করবেন। টেকনোলজি ও অভিজ্ঞতা হাতেকলমে শিক্ষা দেবেন তারা। এরপর পুরোটাই চলবে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দ্বারা।

    বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন এমন দম্পতির সংখ্যার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। একই সঙ্গে ঠিক কত সংখ্যক বাংলাদেশি এ সমস্যার সমাধান পেতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, সেই তথ্যও জানাতে পারেননি প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন। উন্নত দেশগুলোতে এই হার সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আর বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোতে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

    ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টারিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলেন, নিম্ন মধ্যআয়ের দেশে যারা বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই দেশের বাইরে যায় চিকিৎসার জন্য।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রোগী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। বিদেশগামী এসব রোগীর বড় একটি অংশ যাচ্ছেন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায়। যাদের মূল গন্তব্য ভারত ও সিঙ্গাপুর। যেখানে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে বন্ধ্যত্বের সমস্যার সমাধান পেতে বাংলাদেশিরা তুরস্কমুখী হচ্ছেন। সরকার অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়াও ভ্রমণ ও বিজনেস ভিসায়ও অনেকেই গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

    টার্কিশডকের মাধ্যমে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক ব্যক্তি দেশটিতে লিভার, কিডনি ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নিতে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই গেছেন বন্ধ্যত্বের সমাধান পেতে। টার্কিশডক বলছে, বাংলাদেশিরা এ চিকিৎসা সিঙ্গাপুরে নিলে যে খরচ হয়, তার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে

    সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দিচ্ছে তুরস্ক। যেখানে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত মিলে খরচ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

    টার্কিশডকের কান্ট্রি হেড এম নুরুজ্জামান রাজু আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইভিএফ সেন্টার ও হাসপাতাল হয়েছে। অনেকে ভালো সেবা দিচ্ছে। তাদের সেবায় দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে থাকা অনেক দম্পতির মুখে হাসি ফুটছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। ফলে বড় অংশই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তুরস্কেও যাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি। টার্কিশডকের মাধ্যমে যেসব বাংলাদেশি তুরস্কে চিকিৎসার উদ্দেশে যাচ্ছেন, তাদের ৩০ ভাগই এ জটিলতার সমাধান পেতে যান। এতে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের টাকা যাতে দেশেই থাকে তাই এমন চিন্তা।

    তিনি আরো বলেন, তুরস্কের দুটি বেসরকারি কোম্পানি হাসপাতালটি করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী বছরের শেষদিকে হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বোনম্যারো ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ জটিল রোগের চিকিৎসা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যেহেতু আমরা মেডিকেল ট্যুরিজম শুরু করেছি, কী পরিমাণ বাংলাদেশি তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। তাই বিনিয়োগ সহজ হবে। এ বিনিয়োগে বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে আগ্রহী হলেও সেটিকেও আমরা স্বাগত জানাব। তাছাড়া সরকারি পর্যায়েও বাংলাদেশে তুরস্কের নানা কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া আমাদের চাওয়া।

    নুরুজ্জামান রাজু বলেন, বাংলাদেশ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনো কিছুটা পিছিয়ে। এ হাসপাতাল হলে সেখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে আসবেন। তাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। চিকিৎসকরা আরো বেশি প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের কোনো চিকিৎসক তুরস্কে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আমরা সেটিও করতে প্রস্তুত।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নিয়ে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী ফাইক গকসুর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার দেশের। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকে তুরস্ক বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ দেশ হয়ে উঠেছে। আজকের দিনে তুরস্কের অনেক হাসপাতাল উন্নত প্রযুক্তি, ইনফেকশন কন্ট্রোল, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ক্লিনিক্যাল দক্ষতার দিক থেকে ইউরোপের অনেক প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এ অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ, যার তরুণ জনসংখ্যা অনেক, কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।’

    ফাইক গকসু বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব একটি গভীর মানসিক ও সামাজিক বিষয়, যেখানে বিশ্বস্ত চিকিৎসাসেবার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। টার্কিশডক এমন একটি মডেল দেয়, যা নৈতিক, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত। তুরস্কে আমাদের আইভিএফ প্রোটোকলে সফলতার হার ৭০ শতাংশের বেশি এবং সব চিকিৎসা শুধু দম্পতির নিজস্ব জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেই করা হয়, যা ইসলামি চিকিৎসা নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশে আমাদের নতুন প্রকল্পটি শুধু একটি ক্লিনিক নয়, বরং একটি যৌথ রেফারেন্স সেন্টার। যেখানে তুর্কি ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করবেন। প্রথম ধাপে আইভিএফ, জেনেটিক স্ক্রিনিং ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপে আমরা লিভার, কিডনি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সমন্বয় প্রোগ্রাম চালু করব। এর ফলে বাংলাদেশের রোগীরা দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন, আবার প্রয়োজনে তুরস্কের সঙ্গেও সংযুক্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিতে পারবেন।’

    তিনি বলেন, তুরস্ক শুধু চিকিৎসা প্রদানকারী হিসেবেই নয়, বরং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়—যারা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিক মানদণ্ড স্থানান্তর করবে। টার্কিশডকের লক্ষ্য শুধু রোগী স্থানান্তরে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা বাংলাদেশে ডাক্তার প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, যৌথ মেডিকেল সেন্টার, ডিজিটাল কনসালটেশন সিস্টেম এবং উন্নত সার্জিক্যাল প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছি।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতি। হাসপাতালগুলোর ভবন ও কাঠামো ভালো, কিন্তু ইনফেকশন রেট বেশি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সার্জারিতে নিরাপত্তা প্রটোকলের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখানেই আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। বিশেষ করে তুর্কি মেডিকেল প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের হাসপাতালে একীভূত করা, রিমোট ডায়াগনোসিস ও সেকেন্ড ওপিনিয়ন সিস্টেম চালু করা এবং তুর্কি ও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের যৌথ সার্জারি ও প্রশিক্ষণ মডেল তৈরি করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তুরস্কের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জিরো ইনফেকশন সার্জিক্যাল মডেল বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে। এতে রোগীরা নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাবেন।

    সু্ত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

    বসনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি নার্সিংহোমে লাগা আগুনে পুড়ে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) পুলিশ জানায়, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সারাজেভো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে আগুন লাগার পর সারাজেভো থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তুজলার ওই নার্সিংহোমের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এখনো ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

    আহতদের মধ্যে দমকল বাহিনীর পাঁচজন কর্মী এবং তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

    মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তুজলা শহরের নার্সিংহোম ভবনের সপ্তম তলায় আগুন লাগে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের অনেকে শয্যাশায়ী এবং অসুস্থ ছিলেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নার্সিংহোম ভবনের উপরের তলার জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে।

    সুত্র: এএফপি

    বি/এ

     

  • রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা

    রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা

    বিডিইনউজ ডেস্ক

    রূপসায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাক স্বাস্থ্য কর্মসুচি জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ব্রাকের আয়োজনে ২২ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই সভা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাজেদুল হক কাওসার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথীর বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামিম। বিশেষ অতিথীর বক্তৃতা করেন ব্রাকের খুলনা জেলা ব্যাবস্থাপক মোঃ শফি কামাল, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হিমেল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আসাদুজ্জামান, রূপসা থানার সেকেন্ড অফিসার সাব ইন্সেপেক্টর লাইজু।

    ব্রাক এর কর্মকর্তা  আকাস মাহামুদ হৃদয়ের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকারিয়া, নার্স ইনচার্জ নুর নাহার, প্রধান স্বাস্থ্য সহকারি তপতি সরকার, উপ সহকারি মেডিকেল অফিসার হিরামুন নাহার, মেডিকেল টেকনোলোজিষ্ট ল্যাব রনি প্রমুখ।

  • মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    মেহেরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ বিতরণ

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ঔষধ ও স্বাস্থ্য উপকরণসহ আসবাবপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃতগুলাের মধ্যে রয়েছে-এন্টাসিড ট্যাবলেট ২৮বক্স, মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ২৪ বক্স, নাপা এক্সট্রা ১৬ বক্স,ওরস্যালাইন ১৬ বক্স,হিস্টাসিন ১০ বক্স,চেয়ার ৬টি, টেবিল ১টি,বিপি মেশিন ৪টি ওওয়েট মেশিন- ২টি।

    বুধবার দুপুর ২টার দিকে সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এসব বিতরণ করেন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমাতারা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহম্মেদ, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আশিইল ইশরাক,স্যাকমাে আমির হামজা,স্বাস্থ্য কর্মী নাজমুন নাহার ও নাহিদা আক্তারসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।

    এদিকে,বিতরণকৃত এসব ঔষধ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে।

  • শিশুর শরীরে ক্ষতিকর সিসা; পদেক্ষপ জরুরী

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশের ৩৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু সিসার ক্ষতিকর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ২ কোটি শিশু সিসার ক্ষতিকর প্রভাবে বেড়ে উঠেছে দুর্বল মেধা নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার কোনো গ্রহণযোগ্য মাত্রা নেই, যদিও বাংলাদেশের শিশুদের শরীরে সিসার গড় পরিমাণ ৬৮ মাইক্রোগ্রাম। এমনকি দেশে প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়, তার পেছনেও সিসার পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সিসা দূষণ প্রতিরোধ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ সময় জানানো হয়, সিসা বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা নীরবে লাখ লাখ মানুষের বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে চলেছে। রক্তের মধ্যে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শিশুদের রক্তে প্রতি লিটারে ৩৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি সিসার উপস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করে।

    ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সিসা দূষণে আক্রান্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানে চতুর্থ। যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা নিয়ে জীবনধারণ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বস্তি এলাকায় দুই বছরের কম বয়সী ৮৭ শতাংশ শিশুর রক্তে প্রতি লিটারে সিসার মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ছিল, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতার প্রধান কারণ।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিডিডিআর,বির হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. সারাহ স্যালওয়ে বলেন, ‘সিসা দূষণ বাংলাদেশের একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রায়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষ করে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের আশপাশের শিশুরা এর সবচেয়ে বড় শিকার।’

    সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে বলে জানান স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং আইসিডিডিআর,বির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক স্টিভ লুবি। তিনি বলেন, ‘এর ফলে বুদ্ধিমত্তা ও শেখার ক্ষমতা কমে যায়, যা পরবর্তী প্রজন্মের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে। আমরা নিঃশ্বাসে যে বাতাস নিই, যে খাবার খাই, দূষিত মাটি বা ধূলিকণা স্পর্শ করি এবং এমনকি গর্ভাবস্থায় মায়ের প্লাসেন্টা (গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে তৈরি হওয়া একটি বিশেষ অঙ্গ, যা মা ও ভ্রূণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে) থেকেও সিসা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।’

    আইসিডিডিআর,বির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. মাহবুবুর রহমান গত ১০ বছরের সিসা-সম্পর্কিত গবেষণার ফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিসা দূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে সিসা ও ব্যাটারি-সম্পর্কিত শিল্পকারখানা, সিসাযুক্ত রং এবং প্রসাধনী ও রান্নার পাত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। হলুদে ভেজাল (লেড ক্রোমেট দিয়ে পালিশ করা) প্রতিরোধে বেশ সফলতা এসেছে। স্ট্যানফোর্ড ও আইসিডিডিআর,বির একটি দল অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রক্তে সিসা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে হলুদকে চিহ্নিত করার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে ২০১৯ সালে যেখানে ৪৭ শতাংশ হলুদের নমুনায় সিসা পাওয়া যেত, তা কমে ২০২১ সালে শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে। আইসিডিডিআর,বির সহকারী গবেষক ডা. জেসমিন সুলতানা ২০২২-২৪ সালের মধ্যে ঢাকায় পরিচালিত গবেষণার প্রাথমিক ফল তুলে ধরেন। এই গবেষণায় ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিটি শিশুর রক্তেই সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে (মধ্যমমাত্রা: ৬৭ মাইক্রোগ্রাম/লিটার) এবং ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিডিসির উদ্বেগজনক মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটার-এর চেয়ে বেশি সিসা ছিল। এই গবেষণায় চিহ্নিত সিসা-নির্ভর শিল্প স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা ছিল ৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বসবাসকারী শিশুদের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। অন্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘরের ভেতরে ধূমপান, দূষিত ধূলিকণা, সিসাযুক্ত প্রসাধন সামগ্রী ও রান্নার পাত্র।

    আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘সিসার বিষক্রিয়া নীরবে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেড়ে নিচ্ছে। এটি তাদের মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশ ব্যাহত করে ও দেহে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। তাই আমাদের এখনই এই সিসা নিঃসরণকারী ক্ষতিকর উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে, যাতে প্রতিটি শিশু সুস্থ ও বুদ্ধিমান হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।’

    আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা সিসা-নির্ভর শিল্প স্থাপনা যেমন—সিসা-এসিড ব্যাটারি বানানো বা রিসাইক্লিং করার কারখানা বা স্থাপনা, অথবা যেসব কারখানা বা স্থাপনায় সিসা গলানো বা পোড়ানো হয়, এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগাদা দেন।

  • কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    কেমিকেল মিশ্রিত খাবার; হুমকির মুখে মানবজাতি

    বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক দূষণ এখন মানবজাতি ও প্রকৃতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপদের ব্যাপারে এখনো যথেষ্ট জনসচেতনতা কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ গড়ে ওঠেনি।

    বিশ্বব্যাপী ১০ কোটির বেশি ‘নতুন রাসায়নিক পদার্থ’ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ রাসায়নিক বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব রাসায়নিক পদার্থ আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সচেতনতা খুবই কম।

    ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চার্স (ডিএসভি) নামক একটি গবেষণা সংস্থা জানায়, আমরা প্রতিদিন যে পানি পান করি, বাতাসে শ্বাস নিই, খাবার খাই, এমনকি যে সাবান, শ্যাম্পু বা ঘরের জিনিসপত্র ব্যবহার করি—তাতে থাকা অনেক রাসায়নিকের নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়নি বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

    গবেষণা বলছে, খাদ্য প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংস্পর্শে থাকা ৩ হাজার ৬০০-র বেশি রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরে পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। বিশেষ করে পিএফএএস বা ‘ফরএভার কেমিক্যালস’, যা একবার শরীরে ঢুকলে সহজে বের হয় না, তা প্রায় সব মানুষের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতেও এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ এমন শ্বাস নিচ্ছে, তা দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানুষের প্রজননক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ, স্নায়ুবিক কার্যক্রম, হৃদযন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, যকৃত ও কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

    বিশেষ করে কীটনাশকের ব্যবহার ও বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ও গর্ভধারণে জটিলতার মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানান, হরমোনে প্রভাব ফেলা রাসায়নিকগুলো অনেক সময় অতি সামান্য মাত্রাতেই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা প্রচলিত টেস্ট পদ্ধতিতে ধরা পড়ে না।

    এই গবেষণাটি প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক দূষণের বিষয়েও সতর্ক করেছে। ডিএসভি বলছে, রাসায়নিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থায় এখনই বিপুল পরিবর্তন দরকার। আর এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও উদ্যোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে।

    সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। শুধু পুষ্টি নয়, এর রয়েছে নানা রকম ওষুধি গুণও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে শরীরে নানা উপকার হয়। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, হাদিসেও খেজুরের উপকারিতার কথা বহুবার উঠে এসেছে।

    বিশেষ করে মদিনার ‘আজওয়া খেজুর’ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক বর্ণনায় এসেছে আশ্চর্যজনক সব উপকারের কথা।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজওয়া খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা খাওয়া হলে এটি বিষের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে (মুসলিম : ৫১৬৮)।’

    অন্য এক হাদিসে হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারি : ৫৪৪৫)।’

    একবার হজরত সাদ (রা.) অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তার বুক স্পর্শ করে বলেছিলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও, সে অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাকে বলো আজওয়া খেজুর চূর্ণ করে সাতটি বড়ি তৈরি করতে (আবু দাউদ : ৩৮৩৫)।

    হজরত আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেজুর খায়, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ দূর হয়ে যায় (কানজুল উম্মাল : ২৮৪৭২)।’

    মহানবী (সা.)-এর ইফতারেও খেজুর ছিল প্রধান। হজরত আনাস (রা.) বলেন,‘নবীজি (সা.) কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনো খেজুর, সেটাও না পেলে পানি (তিরমিজি)।’

    এ ছাড়া তিরমিজির এক হাদিসে তো আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লিখিত উপকারিতাগুলো স্মরণে রেখে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন খেজুরও। বিশেষ করে ভোরবেলা নিয়ম করে সাতটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

  • চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছায় পিকআপের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি:
    যশোরের চৌগাছায় বিচালি বোঝাই একটি ট্রলিতে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় হাসান আলী (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হাসান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর গ্রামের শান্তি মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    নিহতের চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসান একটি বিচালি বোঝাই ট্রলিতে ড্রাইভারের পাশে বসে মহেশপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা টেঙ্গুরপুর মোড়ে পৌঁছালে অন্য একটি পিকআপ ( কুষ্টিয়া ড-১১-০২৮৮) ট্রলিটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ড্রাইভারের পাশ থেকে পড়ে গিয়ে হাসান মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
    চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই হাসানের মৃত্যু হয়।
    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক নওয়াপাড়া প্রেমবাগ এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২৬) কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    নিউজ ডেস্ক:
    চিকিৎসাসেবায় ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে জনবল সংকটে ধুকছে সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে ২’শ ১০ টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে প্রায় ১’শ টি পদ। চৌগাছা হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫’শ থেকে ৬’শ রোগী উপস্থিত হয়। জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে রোগীদের সেবা কার্যক্রম। যার ফলে মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদের সংখ্যা রয়েছে ২’শ ১০ টি। এর মধ্যে শূণ্য রয়েছে ১’শ টি পদ।

    এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতা কলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১২ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১২ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও ২ জন চিকিৎসক। প্রশিক্ষণে রয়েছে ১ জন। বাকি ৬ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বাকি ৪ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১ জন নাইট ডিউটি করতে হয়। নাইট ডিউটি করলে পরের দিন সেই চিকিৎসকের ডে অফ থাকে। বর্হিঃ বিভাগে রোগী দেখেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বর্তমানে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে দেশসেরা এই মডেল হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন, মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি ২০১৪ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার সায়মা নাহিদ শান্তা এবং (অর্থপেডিক) গোলাম রসুল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদেরকে বছরের পর বছর চৌগাছায় পদায়ন দেখানো হচ্ছে। তাদের নাম কর্তন না পর্যন্ত এই পদে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব না। স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে বার বার চিঠি দিয়েও অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
    মেডিকেল অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন ও শিশু কনসাল্টটেন্ট আব্দুস সামাদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.আব্দুস সামাদ, মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম, ফারিয়া ইয়াসমিন আগে থেকেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।
    পক্ষান্তরে হাসপাতালে খাতা-কলমে অত্যন্ত জরুরি অ্যানেসথেসিয়া শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে তারা নেই। এছাড়া ২০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
    এদিকে হাসপাতালটিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ১’শ শয্যার কার্যক্রমের জন্য বিল্ডিং নির্মান কাজ শেষ হলেও সেবার জন্য হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
    প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, এমএলএসএস, ওয়ার্ড বয় এবং আয়াসহ এসব তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোর মধ্যে ৬৩টি রয়েছে শূন্য। যেকারনে বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।

    হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত দিনে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ইমদাদুল হকের চেষ্টায় অন্তঃসত্তাদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। মা ও প্রসূতিসেবায় অবদান রাখার ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি উপজেলা পর্যায়ে একটানা দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৮ সালেও হাসপাতালটি অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যসেবায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে পায় ‘হেল্থ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। সর্বশেষ চৌগাছা মডেল হাসপাতাল ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশ সেরার প্রথম পুরস্কার পায়।
    চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া আবু কালাম বুড়িন্দিয়া এলাকার সখি খাতুন সহ অনেকেই জানান, এখানে জরুরি মুহূর্তে সেবা পাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর আড়াইটার পর অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য সমস্যায় রোগীদের ছুটতে হচ্ছে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দেশসেরা হাসপাতালে আগের মতো চিকিৎসাসেবা নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
    হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন ‘লোকবলের শূণ্যতা পুরনের জন্য অনলাইনে সফট কপি এবং হার্ডকপি উভয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোট লোকবল ২১০ জন। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২০ জন, ফাঁকা রয়েছে ৯০ জন।’

    জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন বলেন, চৌগাছার বিষয়টি আমার নজরে আছে। চেষ্টা চলছে লোকবল বাড়ানোর জন্য।