মার্চ 25, 2026

বাড়ি » রৌমারী-চিলমারী নৌরুট নাব্য সংকটের অজুহাতে কাটছে না ১০ জেলার মানুষের দুর্ভোগ

রৌমারী-চিলমারী নৌরুট নাব্য সংকটের অজুহাতে কাটছে না ১০ জেলার মানুষের দুর্ভোগ

মার্চ 25, 2026

উত্তরের দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদে রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিস চালু হয়। কিন্তু চালুর পর প্রায় আড়াই বছরের মধ্যেই নাব্য সংকটের অজুহাতে অসংখ্যবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে নাব্য সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ফেরি। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০টি জেলার যানবাহন ও সাধারণ মানুষের ঢাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী রমনা ঘাট দিয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং রৌমারী প্রান্ত দিয়ে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার যানবাহন এ রুট ব্যবহার করে আসছিল। ফেরি সচল থাকলে এ অঞ্চল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২০-১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যায়। ফলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কম হতো। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় পরিবহনগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময়, জ্বালানি ও ভাড়া বেশি লাগছে বলে জানান ট্রাকচালকরা।

ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া বলেন, প্রতিনিয়ত সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। চিলমারীতে ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে অনেক সুবিধা হতো এবং খরচের পাশাপাশি সময়ও কম লাগত।

আরেক ট্রাকচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, চিলমারী-রৌমারী রুটে যখন ফেরি চলাচল করত, তখন দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি থাকত। আমরাও অনেক সাশ্রয়ে পারাপার হতাম। কিন্তু বারবার নাব্য সংকটের কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ফেরি চালু রাখলে অর্থনৈতিকভাবে এই এলাকা অনেক উন্নত হতো।

প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। তবে চলতি মৌসুমে আগাম পলি ভরাটের কারণে চ্যানেল সংকুচিত হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বালুচর জেগে ওঠা এবং বেসিন এলাকায় পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এ রুটে নিয়োজিত দুটি ফেরি ‘কদম’ ও ‘কুঞ্জলতা’ রৌমারী প্রান্তে পন্টুনের সঙ্গে চরাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। বেসিন এলাকায় কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরি দুটি বালুচরে আটকে রয়েছে। এতে ফেরিগুলোর যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকলে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টপিক :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো দেখুন