লেখক: Daily BD Times

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা মামলার ৩ এজাহারনামীয় আসামি গ্রেফতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুকসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

    বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মোছাঃ শিমু আক্তার (৩১)-এর সঙ্গে ১নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০)-এর প্রায় ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর থেকেই আসামি রায়হান রিতু যৌতুকের দাবিতে ভিকটিমের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ভিকটিমের পরিবার যৌতুক দিতে অপারগ হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।

    এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় আসামির নিজ বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা জোরপূর্বক ভিকটিমের মুখে বিষ প্রয়োগ করে এবং তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ০৮:৪৫ ঘটিকায় ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।

    ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২)।

    মর্মান্তিক এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৩ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অভিযান ত্বরান্বিত করে।

    এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর ০২:৩০ ঘটিকায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ রায়হান রিতু (৩০), পিতা—মৃত মোর্শেদ; ৩নং আসামি মোঃ জসিম (৩২), পিতা—মোঃ সেলিম; এবং ৪নং আসামি মোঃ জিতু (৩৪), পিতা—মৃত মোর্শেদুল হক; সর্ব সাং—সৈয়দপুর, জেলা—নীলফামারী—এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, যৌতুক, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এম কে

  • প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এবারে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি অবস্থা। মুকুল আসার সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক গাছের মুকুল ঝড়ে পড়েছে। যেগুলো আটকিয়েছিল তীব্র গরমের প্রভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে অপরিণত লিচুর গুটি। এতে করে লিচু বাগান মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। চাষিদের এ থেকে পরিত্রাণে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দাবি স্থানীয় কৃষি বিভাগের।

    লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা দিনাজপুর জেলা শহরসহ পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে লিচু উৎপাদিত হয় যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। বছরের শুরুতে হিলির বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছিল। এতে করে আশায় বুক বাঁধছিলেন লিচুচাষিরা। কিন্তু এ বছর লিচুর গাছে মুকুল আসার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টির ফলে অনেক মুকুল ঝড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ফলে বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝড়ে পড়ছে। চাষিরা সাধ্যমতো পানি সেচ ও ওষুধ স্প্রে করেও এই ঝরে পড়া রোধ করতে পারছেন না। আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ বজায় থাকলে লিচুর কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন লিচুচাষিরা। ফলে এবারে লিচু চাষে লোকশান গুনতে হবে দাবি তাদের।

    জালালপুর গ্রামের লিচুচাষি আসলাম হোসেন বলেন, বাগানে এবারে লিচু গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল আসছিল। কিন্তু আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মুকুল যেসময়ে গাছে আসছে ঠিক সেসময়ে হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে আমাদের গাছে বেশীরভাগ মুকুল ঝরে যায়। আর যেটুকু গাছে মুকুল টিকেছিল বর্তমানে গুটি পর্যায়ে আসছিল কিন্তু গত কয়েকদিনের গরমে গাছ থেকে সেসব লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। কীটনাশক পানি স্প্রে করেও কোনোভাবেই লিচুর গুটি রোধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে আমাদের যে খরচ সেই টাকাই উঠবে না।

    শ্রমিক ইয়াকুব বলেন, আমি এই লিচু বাগান দেখাশুনা করি কীটনাশক স্প্রে পানি ছিটানো থেকে সবকিছু আমি করে থাকি। অন্যান্যবার যেভাবে গাছে লিচু ধরে সেই হিসেবে এবারে গাছে তেমন লিচু নেই। যার কারণে এবারে মহাজনের লিচু চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। যখন মুকুল বের হবে সেসময়ে বৃষ্টির কারণে মুকুল কম হয়েছে। আবার এখন গাছে যেগুলো লিচুর গুটি হয়েছে কিন্তু কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের কারণে সেই গুটি ছড়ে পড়ছে।

    এম কে

  • কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    ডেস্ক নিউজঃ

    কাউনিয়ার তিস্তা নদীর বালুচরে এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায়  রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা,যশোর,কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়  তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
    সরজমিনে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর তালুক শাহাবাজ, চরগনাই, নিজপাড়া, চর ঢুষমারা,পাঞ্জরভাঙ্গা চরে গিয়ে দেখা যায়  সারি সারি কুমড়া খেতে লাল হলুদ  রঙ ধারন করে অপরুপ শোভা ছড়াচ্ছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু মিষ্টি কুমড়ার খেত।

    নিজপাড়া  গ্রামের কুমড়া চাষী হাফিজুর রহমান জানান তিনি ১হেক্টর জমিতে ৬ শ’ কুমড়ার চারা রোপণ করে ছিলেন। ভালো ফলন ভাল দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশি। খেতেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা কেজি দরে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরানবাজার নিয়ে যাচ্ছে।
    তালুক শাহবাজ গ্রামের কুমড়া চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন তিনি দেড় একর জমিতে ব্যাংকক-০১ ব্লাকস্টোন জাতের কুমড়া চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছে। দাম ও ফলন ভাল পেয়ে তিনিও বেশ খুশি।

    একই চরের কৃষক তুহিন মিয়া বলেন  বর্ষায় নদীর দু’কূল উপচিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমি বসতভিটাসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয় তিস্তা নদী। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও পেটে দু’মুঠো ডাল ভাত জোগাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালুচরে কুমড়া চাষ করে থাকি । চরাঞ্চলের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় এই ফসলে বেশি আগ্রহী ওঠেছেন চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ১৭টি চরে  ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে।  উপজেলার নদীভাঙা ৪টি ইউনিয়নের ১৭ চরে  ২৭৬ জন প্রান্তিক চাষি  ১১৫ হেক্টর বালুচরের জমিতে  মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। ব্যাংকক-০১ ব্যাংকক-০২,ব্লাকস্টোন,

    বারি মিষ্টি কুমড়া,বেতব্রি,সবুজ বাংলা, পাথর কুচি,দেবগ্রী ,বদ্দবাটি,পাতায়া-০১,
    ওয়ান্তর গোল্ড, থাই কুমড়া, স্মল সুইট জাতের কুমড়া চাষ করা হয়েছে তিস্তার বালুচরে। ১ হেক্টর জমিতে কুমড়ার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ মেট্রিকটন,প্রতি ১ হেক্টর  জমিতে খরচ ধরা হয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা,বিক্রি হবে ৪ লাখ  ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতি ১ হেক্টর জমিতে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কাউনিয়ার তিস্তার চরের কুমড়া বিক্রি হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

    অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের   মধ্যে মিষ্টি কুমড়া রোপণ করে তা এপ্রিলের শেষে খেত থেকে তোলা শুরু হয়েছে। চাষিরা তাদের লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করা পাকা মিষ্টি কুমড়া খেত থেকে  তুলে বিক্রির জন্য খেতের কোণায়, নদী পাড়ে স্তূপ করে রেখেছে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে।

    নিজপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন প্রনোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সার,বীজ,সেক্সফেরোমেন ট্রাপ প্রদান করা হয় এবং নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করায় কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই  সাথে কুমড়ার বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হয়েছে।
    কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার  জানান, তিস্তার বালু চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষকপ্রকল্পের আওতায় ২৭৬ জন চাষি ১১৫  হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের প্রশিক্ষণ, বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে। এ উপজেলায় দিন দিন কুমড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমড়া চাষ  করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে।

    এম কে

  • তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    ডেস্ক নিউজঃ

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় দুই কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হতাশা কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

    উপজেলাটির ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ ক্ষেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন।

    তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

    কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এম কে

  • ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ রুবানা তানজিন।অভিযানে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের এসআই মোঃ নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ব্যতীত তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে এবং পাম্পের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। আজ ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পাম্প ম্যানেজার ফুয়েল কার্ড ছাড়া প্রায় ১৫’ শ থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি করছে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এই কারণে আমরা ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা্রেে আদায় করেছি।

    এম কে

  • বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দর

    ডেক্স নিউজ : চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    বুধবার সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধু বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য। তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন, বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।এছাড়া কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কস্থ মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

    মুক্ত

  • তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    তনু হত্যার ১০ বছর পর সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

    বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। গ্রেফতারের পর আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

    এ /আর

  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    আজ বুধবার সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশের মসজিদসমূহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের যথাক্রমে পাঁচ হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, হিন্দু মন্দির, শ্মশান, বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশান, খ্রিস্টান গির্জা ও সেমিট্রিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বর্তমান অর্থবছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়ে বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়। এ অনুদান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। একই সাথে ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকেও বিহার, উপাসনালয় ও শ্মশানের সংস্কার ও মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়।

    তিনি জানান, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেও দেশের চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও তীর্থস্থানগুলোতে প্রতিবছর উৎসবভিত্তিক অনুদান দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের ভিত্তিতে এ অনুদান বিতরণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও কবরস্থানের সংস্কার ও মেরামতের জন্যও অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এ/আর

  • ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    ইরানের ড্রোন যেভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে

    নিউজ ডেস্ক:

    কয়েক বছর আগে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর তৎপরতা সম্পর্কিত সামরিক প্রতিবেদনে প্রথম ইরানের ড্রোনের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে হাউছিদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর উৎস খুজতে গিয়ে তার সাথেও ইরানের সম্পর্ক খুঁজে পান।

    তবে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইরান রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবারহ করে, তখন সারা বিশ্ব অবাক হয়ে যায়।

    এর কিছুদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে জেরেনিয়াম-২ (শাহেদ-১৩৬) ড্রোন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছিল।গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি দেশ কিভাবে আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে খেলার নিয়ম বদলে দিতে সক্ষম হলো? ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর সাফল্যের মূল চালিকাশক্তিগুলো আসলে কী?প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরান তাদের নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে এবং সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে থাকে। তখনকার ইরানের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের প্রকৌশলীদের ওপর আস্থা রাখে এবং তাদেরকেই উদ্ধুদ্ধ করেছিল।নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশে একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে, যাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা বেসামরিক প্রযুক্তিরও সহায়তা নিয়েছে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ইরানিরা সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করেছিল এবং তা ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করে গেছে। যা তাদের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ধরা দেয়।

    ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে যখন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি অস্ত্রের দিক এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রেখে গিয়েছিলেন। সে সময় ইরানের বিমানবাহিনীর কাছে এফ-১৪ টমক্যাটের মতো বিমান ছিল। যা সেই সময়ে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত হতো।তবে এই বিমানগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন মূলত ইরানে নিযুক্ত আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা। যন্ত্রাংশ সরাসরি আমেরিকান কোম্পানি সরবরাহ করত। ফলে, ইরানের বিমান বাহিনী অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।রাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, কেউ আবার গুপ্তহত্যা কিংবা কেউ কেউ কারাবন্দী হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরাও ইরান ত্যাগ করেন এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।তখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানের কেনা শত শত কোটি ডলার মূল্যের বিমানগুলো অকেজো ধাতুতে পরিণত হয়েছিল।

    প্রয়োজনই আবিষ্কারের জনক
    ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকি বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আট বছর ধরে চলে।এই যুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসের নৃশংসতম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রও ছিল। এই দীর্ঘ ও বিভীষিকাময় যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।ইরাকি সেনাবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে গোয়েন্দা বিমান ক্রয় করে এবং ইরানি বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে ও তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করত, যা তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট সুবিধা প্রদান করে।এর বিপরীতে তখন ইরানের সামরিক বাহিনী এমন একটি যুদ্ধ লড়ছিল, যার জন্য তাদের কাছে না ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সামরিক সক্ষমতা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলীরা চলে যাওয়ার পর তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যেমন অকেজো পড়েছিল, তেমনি নিজেদের প্রযুক্তিকেও তখন আর উন্নত করতে পারেনি নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে।ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিশ্ববাজার থেকে সেই প্রযুক্তি কিনতে পারছিল না।যে কারণে ইরানি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় অন্যদের কাছ থেকে প্রযুক্তি নেয়ার বদলে তারা নিজেরাই তা উদ্ভাবন ও তৈরি করবে।ভাবনাটি ছিল একেবারেই সহজ। যদি শত্রুর অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সীমান্ত পেরিয়ে গোয়েন্দা বিমান পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না কেন? এগুলো একদিকে যেমন ছিল সস্তা অন্যদিকে সেগুলোকে শনাক্ত করাও ছিল বেশ কঠিন।

    ১৯৮১ সালের শুরুর দিকেই ইরানিরা এই ছোট ডিভাইসগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। সেগুলোতে ক্যামেরা স্থাপনের কথাও চিন্তা করে। ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যেখানে শিক্ষার্থী ও প্রকৌশলীরা একসাথে এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন।তারা এই যন্ত্রগুলোর নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, পরীক্ষা ও উন্নয়নমূলক পর্যায়গুলো সম্পন্ন করে পরে তা আইআরজিসি বা ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে।ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি সাধারণ ওয়ার্কশপ ছিল। যেখানে দৃঢ় সংকল্পবব্ধ ও উজ্জীবিত তরুণরা কাজ করত। যাদের অনেকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্ভুদ্ধ ছিল।বছরের পর বছর প্রচেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা এবং নিরন্তর সংগ্রামের পর ওই তরুণরা ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওর্য়াকশপে একটি নকশা তৈরি করেন। পরে খুজেস্তানের খোলা মাঠে তা উৎক্ষেপন করে পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।তাদের মধ্যে ছিলেন ফারশিদ নামের একজন বেসামরিক পাইলট, সাঈদ নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র এবং মাসুদ জাহিদী নামের একজন পেশাদার স্বর্ণকার।

    প্রথমবার যখন তারা তাদের প্রাথমিক মডেলটি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিল তখন কোনো কোনো কর্মকর্তা এটি নিয়ে উপহাস করেছিলেন।তারা যে মডেল তৈরি করেছিল তা দেখতে অনেকটা বাচ্চাদের খেলনার মতো ছিল। তাতে জ্বালানি ট্যাঙ্ক হিসেবে যে বস্তুটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মেডিক্যাল আইভি ব্যাগ। আর প্রপেলার বা পাখাটিও ছিল হাতে তৈরি।

    প্রথম ড্রোন যুদ্ধ
    ১৯৮৩ সালে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে থেকে সেই ‘খেলনা বিমান’ বা ড্রোনটি প্রথমবারের মতো ইরাকি সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম হয়।সেখান থেকে খুব পরিস্কার ও ব্যবহারযোগ্য ছবি নিয়ে ফিরে আসে, যেখানে ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এই সাফল্যের পর ‘থান্ডার ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং একটি নিয়মিত ড্রোন কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপে তৈরি এ বিষয়টি পরে আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে আসে। তখন তারা বিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে থাকে।পরে আইআরজিসি দুবাইতে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক স্থাপন করে এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ কিনতে শুরু করে। পরে এই যন্ত্রাংশগুলো ইসফাহানে নেয়া শুরু হয়। সেখানেই যন্ত্রাংশগুলো জোরা দিয়ে ড্রোন তৈরি শুরু হয়

    ২০২২ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে পাঠানো একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ভূপাতিত করে ইউক্রেন। যাতে একটি মার্কিন চিপও পাওয়া গিয়েছিল।ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্কশপের সেই ড্রোনগুলো এক সময় গোয়েন্দা তৎপরতায় নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। ১৯৮৩ সালের পর আইআরজিসি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ইরাকি সেনাদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করে।তবে ১৯৮৭ সাল থেকে ‘রাদ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রকৌশলী ও সামরিক সদস্যরা শুধু নজরদারির জন্য নয়, ড্রোনকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা নিয়েও কাজ শুরু করেন।

    যদি কোনো ড্রোন শত্রুর অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়ে তাদের গতিবিধির ভিডিও ধারণ করতে পারে, তাহলে সেটিতে অস্ত্র যুক্ত করলে তা সরাসরি আঘাত হেনেও শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব, এমন ধারণা থেকে পরবর্তীতে মোহাজের ড্রোন তৈরি করে।১৯৮৮ সালে ইরান ছিল সেই প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা সশস্ত্র ও পাইলটবিহীন আকাশযান বা ইউএভি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু করে। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল ড্রোন উদ্ভাবন ও ব্যবহারে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পরিচিত, বাস্তবে ইরানই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে।

    ১৯৮৮ সালে ইরানি ড্রোনগুলোর নকশা ছিল কিছুটা অপরিপক্ক। যেগুলো সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারের বেশি উড়তে পারতো না। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে ইরান এমন উন্নত ড্রোন তৈরি করেছে যা ইরান থেকে উড়ে একাধিক দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইসরাইলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ইসরাইল সামরিক উদ্দেশ্যে পাইলটবিহীন ড্রোন বা ইউএভি ব্যবহার করা প্রথম দেশ ছিল।১৯৭৩ সালের যুদ্ধে তারা এগুলো ব্যবহার করেছিল মিশরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে। একই সাথে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করে তুলতে পারতো। পরবর্তীতে একই কায়দায় ইরানও ড্রোন কর্মসূচি শুরু করেছিল এবং সেই প্রযুক্তি ছিল আরো উন্নত।একইভাবে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল বেকা উপত্যকায় সিরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানো এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য ‘স্কাউট’ ও ‘ম্যাস্টিফ’ ড্রোন ব্যবহার করেছিল। যেটিকে যুদ্ধের ইতিহাসে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহারের প্রথম ও স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    পরষ্পর বিরোধী ধারণা
    ইরানের বিশেষজ্ঞরা লেবাননের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির ওপর গভীর নজর রাখেন। হিজবুল্লাহর ভেতরে থাকা তাদের মিত্ররা ইসরাইলি ড্রোন সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।পরবর্তীতে সেখানের পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরানি বাহিনী দেখে যে, ইসরাইলি ড্রোনগুলো এতটা জটিল নয় যে তেহরান ও ইসফাহানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সেগুলোর অনুকরণে নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন না।একাধিক সামরিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোন মডেলগুলোতে ইসরাইলি ‘স্কাউট’ ও ‘মাস্টিফ’ ড্রোনের সাথে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তাদের মতে, ইরানি প্রকৌশলীরা এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য ইসরাইলি নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।

    ১৯৭০-এর দশক থেকে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রই সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর।একটি গাইডেড মিসাইল এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, তা শত শত অগাইডেড অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হতো।ইরানিরা এই সামরিক সমীকরণে একটি নতুন ধারণা যুক্ত করে। যদি একটি দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে না পারে, তবে তাকে সংখ্যা ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাই সেই মৌলিক ধারণা, যার ওপর ইরানি ড্রোন কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।যদি একটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ২০ হাজার ডলার খরচ হয়, তবে নির্ভুলতার দিক থেকে এটি ২০ লাখ ডলারের ক্রুজ মিসাইলের সমান কার্যকর হতে পারে না।কিন্তু যদি একসাথে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তাহলে প্রতিপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করতে কমপক্ষে ১০০টি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করতে হবে এবং এই খরচটা কয়েকগুণ বেশি।

    ড্রোন মূলত সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য নয়, বরং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে এবং আর্থিক চাপ বাড়াতেই তৈরি করা হয়।ইরান দীর্ঘক্ষণ ধরে ড্রোন হামলা চালাতে পারে কারণ এগুলোর খরচ শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম।একটি সাধারণ হিসাব দেখায়, ১০০টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে একটি আক্রমণকারী রাষ্ট্রের প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হয়। এর বিপরীতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রকে সেই ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে ২০ কোটি ডলার মূল্যের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।ড্রোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, রাডারের মাধ্যমে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এগুলো কম গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে। এছাড়া একসাথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠালে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে অনেক সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারে না।

    ২০১৯ সালে সৌদি আরব আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা এই সক্ষমতার কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। ওই হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি তৈরি ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যদিও হামলার দায় হাউছিরা স্বীকার করেছিল, তবে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয় যে এসব ড্রোন ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।আরামকো স্থাপনায় হামলার ফলে কয়েক ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, অথচ ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মোট খরচ ছিল মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই খরচের ব্যবধানই আসলে ড্রোন যুদ্ধে বিজয়ী ও পরাজিত নির্ধারণ করে দেয়।

  • আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিমাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি এবং প্রতিদিন ৯টার বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর ২০২৫ সালে এবং তার আগের বছরও তুলনামূলক কম খুন হয়েছে। চলতি বছরের তিন মাসে ডাকাতি হয়েছে ১৩৩টি, ছিনতাই ৪৩৯টি ও চুরির ঘটনা ২ হাজার ৩১৮টি। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯৪৭টি। তিন মাসে পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪৭ বার। এই মাত্রার অপরাধ আসলেই উদ্বেগজনক। এই তিন মাসের দেড়মাস নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে আশা করা হয়েছিলো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আশাব্যাঞ্জক কিছু চোখে পড়ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড। এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনমনে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আইনের দুর্বলতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ । অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, ছয় মাসের মধ্যে জামিনে বের হওয়া যায়। আর কোনো অপরাধীর চূড়ান্ত বিচার এবং তা কার্যকর করার হার এতো কম যে, শাস্তির ভয় অপরাধীদের মনে স্থানই পায় না। ফলে অপরাধ করতে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। এর সাথে রয়েছে আইনের প্রয়োগহীনতা। অপরাধীদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের অনীহা, পাকড়াও করলেও নানাভাবে মামলার ইজহার দুর্বল দেখানো, সাক্ষী উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হয়-ই না। ফলে দেশে খুন, গুম, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলছে।

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    এ/ আর