লেখক: Daily BD Times

  • দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    নিউজ ডেস্ক:

    দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানাল আইআরজিসি

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে। আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি রেড লাইন (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

    এর আগে খবরে বলা হয়েছিল, ইরানের উপকূলে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের, অবরোধও চলবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় মি. ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

    চলতি সপ্তাহেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয়।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন ছাড়েননি এবং হোয়াইট হাউজ এখন বলছে যে তার পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।

    ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।

  • চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করায় ৫০ হাজার টাক জরিমানা

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছার নিয়ামতপুর গ্রামের খালের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে নিয়ামতপুর গ্রামের মৃত চকম আলীর ছেলে দুলাল হোসেন (৩৯) কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    (২২ এপ্রিল) বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম এ সাজা দেন।

    জানাযায়, নিয়ামতপুর গ্রামের মাঠের ফসলি জমি থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তলন করে বিক্রি করে আসছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম অভিযান চালায়। এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তলন করারা অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ী দুলাল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করেন। একইসাথে উত্তলন করা বালু জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যত্যা নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনের এধরণের অবযান অব্যহত থাকবে।

    বি / এ

  • ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    নিউজ ডেস্ক:

     ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনি সংশোধনের পর এই ঘটনা ঘটে। সমালোচকরা এটিকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ ও সংখ্যালঘুদের গণহারে ভোটাধিকার হরণ বলে অভিহিত করেছেন।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মোট ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত বা নকল নাম হলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করছেন, তবে তারপরেও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

    ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে চলছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নামে পরিচিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। এটিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিন্দাসূচক অর্থে ব্যবহৃত অনুপ্রবেশকারীদের ভোটদান ঠেকানোর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেণ। শব্দটি দিয়ে মূলত অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের বোঝায়।

    কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এমনি করেই বহু বিভাজনমূলক পদক্ষেপ সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের আগে অভূতপূর্ব গতিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ বছর ধরেই রাজ্য শাসনকারী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের আশা করছছিল মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।

    তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেছেন, ‘বাংলায় যা ঘটেছে তা একটি সাংবিধানিক অপরাধ। আর এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।’

    ঘোষ আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীতে পর ভারতের ইতিহাসে এটি একটি কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট সংবিধান কর্তৃক ভারতীয় জনগণকে প্রদত্ত একটি মহান অধিকার। আপনি যতই দরিদ্র বা অসহায় হোন না কেন, আপনার ভোট দেওয়ার সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

    বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

    সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার কথা উল্লেখ করে সাবার ইনস্টিটিউটের প্রধান সাবির আহমেদ জানিয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, ধর্মই সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুসলিমরা অসমভাবে এর শিকার হয়েছেন।’

    যদিও বিজেপি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি কারণ হলো, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন তাদের নেই, যারা বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়ে সন্দিহান।

    কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র থাকার পরেও অনেকে বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে নিজে, অথবা তাদের বাবা-মা, ভোটার যোগ্যতার কাট-অফ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০২ সালের যোগ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সবাই মুসলমান

    বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলার শেরপুর গ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী জাবের আলী, যিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নথি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরই একজন ছিলেন।

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আলী ৭০০-র বেশি পরিবার পরিদর্শন করেছেন, নথিপত্র যাচাই করেছেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত রেকর্ড আপলোড করেছেন। তার কাছে কাজটি ছিল অক্লান্ত পরিশ্রমের। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে ১২ ঘণ্টা কাজ করতাম, তারপর বেশিরভাগ রাত কম্পিউটারে কাটাতাম। আমি প্রায় ঘুমাতামই না।’

    কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যখন সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হলো, আলী বলেন, তিনি যাদের নাম যাচাই করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত ছিল, এমনকি তার নিজের নামও। তিনি বলেন, ‘লোকেরা আমাকে ফোন করে বলতে লাগল যে আমি আমার কাজ ঠিকমতো করিনি। তিনি বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো, আমার নিজের নাম এবং আমার ভাইদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    আলী বলেন, গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ নাগরিকরা সারাজীবন যে আশঙ্কা করছেন যে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী গণ্য করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার এলাকায় এই বাদ দেওয়ার ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে যাদেরকে সরানো হয়েছে, তারা সকলেই মুসলমান। মানুষ মনে করছে যে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    সমালোচকরা এসআইআর-কে অসাংবিধানিক বলে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং এটিকে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনি ব্যবস্থায় কারচুপি ও কারচুপির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    রাজনৈতিক বিরোধী দল ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানকারী নির্বাচন কমিশনকে আর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে দেখা যায় না।

    পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর-এর যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী। তিনি বলেন যে এটি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরি সম্পর্কে মন্তব্য করতে আমি খুব অস্বস্তি ও দ্বিধা বোধ করছি, কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি দেখছি কী ঘটছে এবং আমাকে মুখ খুলতেই হবে। তিনি এসআইআর-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এসআইআর সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, এটি হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এটি একটি বিপর্যয় এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য মহৎ নয়।

    তিনি আরো বলেন: ‘তালিকার নিরানব্বই শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করতে আমাদের ৩০ বছর লেগেছিল। আর তারা তিন মাসের মধ্যেই এর থেকে ভালো কিছু আশা করছে। যদি মূল উদ্দেশ্য নির্ভুলতাই হয়, তাহলে এই পাগলাটে তাড়াহুড়োর কারণ কী?

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তথ্যে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নতুন এআই-সহায়ক অ্যালগরিদম প্রয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কুরাইশি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সহ লাখ লাখ বাঙালিকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ২৭ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালগরিদমটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলা নাম ইংরেজিতে লেখার কোনো প্রমিত পদ্ধতি নেই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা পদবিগুলোর পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক নথিপত্রে বানানে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, পুরোনো প্রজন্মগুলোতে প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও, অ্যালগরিদমটি ১৬ বছরের কম বয়সী পিতামাতা এবং পাঁচজনের বেশি ভাইবোনকে একটি ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কুরাইশি বলেন, তার সময়ে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও সংবেদনশীল ছিল। তিনি বলেন, “যদি এই সামান্য অসঙ্গতির ভিত্তিতে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র এবং এই উদ্দেশ্যে ঠিক নয়।”

    যারা নিজেদের জীবন ভারতীয় রাষ্ট্রের সেবায় উৎসর্গ করেছেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ভোটাধিকারচ্যুত হয়েছেন। বাষট্টি বছর বয়সী সেনারুল হক, যিনি ৩৫ বছর চাকরি করার পর দুই বছর আগে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনি দেখেন যে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম উধাও, অথচ তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম তালিকায় রয়ে গেছে।

    হক বলেন, ‘এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি দেশের সবচেয়ে কঠিন কিছু এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর যখন ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ পড়ল, আমি যথাযথভাবে আমার কাগজপত্র জমা দিয়েছি, তারপরেও আমার নাম নেই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সারাদেশে নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলাম। এখন আমাকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এর জন্য কেউ জবাবদিহি করছে না। এটাকে ব্যবস্থার সঙ্গে উপহাস বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে কীভাবে এত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা যায়?’

    যদিও ভোটারদের ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ট্রাইব্যুনাল চলছে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে অল্প কয়েকটি মামলারই মাত্র শুনানি হয়েছে। হাওড়া জেলার সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, ৫৫ বছর বয়সী হিমানি রায় তাদের মধ্যে একজন। তিনি জানান তার মামলার শুনানি সময়মতো হয়নি, অর্থাৎ তিনি তার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারছেন না। আর এটি অত্যান্ত পরিহাসের বিষয় হলো যে পোলিং অফিসার হওয়ার জন্য তার নাম এখনও তালিকায় রয়েছে।

    হিমানি রায় বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং আমার নাম কেন বাদ পড়েছে তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তাদের কাছে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খারতের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের কথা বলি, ব্যাপারটা ঠিক তখন এমনই দেখায়। গণতন্ত্র এবং আমাদের দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুঃসময়।’

    দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বিজেপির এক ডজনেরও বেশি জাতীয় ও রাজ্য মুখপাত্র এই অভিযোগগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

    তবে, অতীতের মন্তব্যে বিজেপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে এসআইআর-কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু দেশের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য।

    ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও লেখক পরাকাল প্রভাকর জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গুরুতর প্রভাব রয়েছে, যা কেবল রাজ্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী।

    প্রভাকর বলেছেন, ‘এটি সম্পন্ন হলে ভারতে দুটি শ্রেণীর তৈরি হবে যেখানে একদল রাজনৈতিক সমাজ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে আর অন্যদল যাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব হত্যা করা। এটি একটি রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা।’

  • চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে ৪০ বোতল ভারতীয় উইনসেরেক্স সিরাপ (একজাতীয় মাদক দ্রব্য) পাচার করার সময় পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) কে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ। বুধবার সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকার চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটকৃত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের মৃত ওমর আলী খাঁর ছেলে।

    থানাসুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার এস.আই ইমরান হোসেন রাজুর নেতেৃত্বে পুলিশের একটি দল চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করছিল। এসময় কাঁঠালের খোসার ভিতরে অভিনব কায়দায় পলিথিনে জড়ানো অবস্থায় মাদক যশোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এস সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ ভারতীয়  মাদক ৪০ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করে। এবং পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচার আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বি / এ

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    নিউজ ডেস্ক:

     

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এই দফার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।

    প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যের মোট ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    তবে প্রচারণার শেষ দিনে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তার গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনায় তৃণমূল-সমর্থিত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

    এদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এক নেতা হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নন্দীগ্রামের মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান।

    প্রথম দফায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন।

    এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন লড়াইয়ে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম), ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)সহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে অধিকাংশ আসনেই মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

    প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ) এবং সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।

    বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না) এবং ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।

    কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) এবং আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। এছাড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভেতরে ও বাইরে অন্তত দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে কর্মকর্তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

    এছাড়া ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৮টি কিউআরটি মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।

  • যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

    যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

     

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১,৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই এর অর্ধেকেরও বেশি স্কুল মেরামত করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৭৭৫টির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও হরমোজগান প্রদেশে।’

    কাজেমি আরও জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর সংস্কার কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। যুদ্ধকালীন সময়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে অথবা অন্যান্য মাধ্যমে, এমনকি ‘ইরানিয়ান টেলিভিশন স্কুলের’ মাধ্যমেও পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হন। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোকানুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।

  • একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

    একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

     

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের একাধিক শহরে বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি প্রধান চত্বরে ‘ঘদর’ নামক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সমাবেশে উপস্থিত জনতা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেয়। পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন কমান্ডার মজিদ মৌসাভিকে তেলআবিবে হামলার আহ্বান জানায়।

    একই সময়ে তেহরানের আরেকটি বড় চত্বরে সমাবেশে ‘খোররামশাহর-৪’ নামের আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে লক্ষ্য হিসেবে কাতারের একটি গ্যাস কোম্পানির ছবি লাগানো ছিল।

    শুধু তেহরানেই নয় ইরানের দক্ষিণের সিরাজ, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং মধ্যাঞ্চলের যানযান শহরেও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই ইরানের বিভিন্ন চত্বরে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে ইরানের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করেন। দেশটির সরকারি ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাধারণ মানুষকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

     

     

    নানা নাটকীয়তা ও হুঙ্কারের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে নতুন করে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
    অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধকে যুদ্ধের শামিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারাও হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিচ্ছে না।

    এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
    এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়ে জানান, ইরান চুক্তি না করলে যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলা হবে। সিএনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ফের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের সেনারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান ফের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরানি বাহিনী নতুন অনেকগুলো চমকের আয়োজন করেছে। তবে ইরানি বাহিনী নতুন সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য তাদের চমকে কী রেখেছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো নতুন যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকান ও ইসরাইলিদের জীবন আবার নারকীয় করতে ইরান প্রস্তুত।

    তথ্যের বরাতে তাসনিম নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানের নতুন করে আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ফের যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
    এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া দুইটি জাহাজকে জব্দ করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বুধবার হরমুজে জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    ইউকেএমটিও বলেছে, প্রথম হামলাটি ওমানের ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। প্রথমে আইআরজিসির গান বোট জাহাজটির কাছে আসে এবং গুলি ছুড়ে। এতে জাহাজটির কমান্ড ডেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজের সকল ক্রু নিরাপদে আছেন।

    আরেক জাহাজে হামলা হয়েছে ইরানের ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। সেখানে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ছোড়া হয়। জাহাজটি এখন জলসীমায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
    ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় এই জাহাজে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরাও নিরাপদে আছেন।
    বিবিসির বিশ্লেষণী রিপোর্ট বলছে, হরমুজ প্রণালিতে একই দিনে তিন জাহাজে হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    এসব হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
    সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের অনুরোধ বিবেচনা করছে তেহরান। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া পোটে তিনি লিখেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান সঠিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

  • উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    উজানের পানিতে পীরগঞ্জে ডুবছে বোরো ধান, স্লুইসগেট খোলার দাবি কৃষকদের

    ডেস্ক নিউজঃ

    হঠাৎ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে মদনখালী ও কুমেদপুর ইউনিয়নের বারুদহ এলাকায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পাকা ও আধা পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন, যাতে সম্পূর্ণ ক্ষতির হাত থেকে অন্তত কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।

    উপজেলার বগের বাড়ি গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, ‘দিন দিন পানি বাড়তেই আছে। আমরা বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছি, না হলে সব পানির নিচে চলে যাবে।’

    একই এলাকার খয়ের বাড়ি গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

    খয়ের বাড়ি গ্রামের আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পীরগঞ্জের স্লুইসগেটের জলকপাট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমাদের ধান পুরো পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, উজানের পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে