লেখক: Daily BD Times

  • রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জনের

    রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন- ওই এলাকার মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়। এ সময় ওই এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন মৎসজীবীরা। তা দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন।  একজন আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

    তাদেরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মৎসজীবী মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিন। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।

    মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয় তখনই আমরা দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাই। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু আছেন। যাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

    মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও যায়। এ ঘটনায় দুইজন মারা গেছে। আহতদের মিঠাপুকুর ও রংপুরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ওই এলাকার সব মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

    এম কে

  • তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

    জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি? বুকভরা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন ‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত তিনদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বেরোবির জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

    ডেস্ক নিউজঃ

    বেরোবি পরিবহন পুলের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজে বা নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলা নামায় শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করার ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেরোবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা আর অমানবিকতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একজন মুমূর্ষু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবার এই যদি হয় অবস্থা, তবে প্রশাসনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অন্যায্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি।

    ‎অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্যান্য গাড়িও চলছে, তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এই অজুহাত কেন? এটা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে।

    ‎বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমিও এর আগে একদিন জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য কল দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক একই (তেল না থাকা) অজুহাত পেয়েছিলাম।

    এ বিষয়ে বেরোবি ‎মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ.এম.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে তো আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন থেকে চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়। সেখানেও তিনদিন যাবৎ তেল নেই।

    পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কে ব্যবহার করবে, না করবে তা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে আজই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।

    এম কে

  • উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

    আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য জানান

    এ/আর

  • জিও জারি  উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ আমার দেশ অনলাইন

    জিও জারি উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ আমার দেশ অনলাইন

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    > জাতীয়

    জিও জারি

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    আমার দেশ অনলাইন

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ
    ছবি: সংগৃহীত

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বিজ্ঞাপন

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

    আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য জানান

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজ

    জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধ ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার সাড়াতলা বাজারের একটি মুদি দোকানে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এজেন্টকে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও স্বচ্ছ ডিজেল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।’

    এ/ আর

  • মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মসূচি ঘোষণা

    মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মসূচি ঘোষণা

    নিউজ ডেস্ক:

    ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান।

    এ সময় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-জেলা, উপজেলা ও থানার উদ্যোগে র‌্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ; জাতীয় ইউনিয়ন সমুহের উদ্যোগে দেশব্যাপী শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা; ক্রাফট ফেডারেশনসমূহের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা; ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ব্যানারে র‌্যালি ও শ্রমিক সমাবেশ; লিফলেট বিতরণ; কেন্দ্র, জেলা, মহানগরী, জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের উদ্যোগে পোস্টারিং; মহানগরী, জেলা, উপজেলা, থানা ও ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের উদ্যোগে শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো।

    আরও কর্মসূচি হলো-পেশা ভিত্তিক শ্রমিক সমাবেশ, র‌্যালি ও সামষ্টিক বনভোজন; বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিয়ম; ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়; অসচ্ছল ও কর্মক্ষম শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান; বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সহায়তা প্রধান; শ্রমিক পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ; সুবিধা বঞ্চিত শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং ইমাম ও খতিবদের মাঝে ‘শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা’ সম্পর্কিত খুতবা বিতরণ।

    কর্মসূচি ঘোষণার পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শ্রমিকের স্বার্থ, অধিকার, কল্যাণ এবং শ্রমিক সমাজের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বিগত সময়ে আমাদের নেতাদেরকে বারবার রাষ্ট্রীয় রোষানলে পড়তে হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘ পথ চলায় শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ সাধনায় এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কখনোই এক বিন্দু পরিমাণ পিছপা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমরা পিছু হটবো না ইনশাআল্লাহ।

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নিউজ ডেস্ক:

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
  • নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :  সেচের অভাবে ইরি-বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। ভলো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধান চাষ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ধান ক্ষেতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কৃষকরা।

    মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এসব ফসলের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    একাধিক কৃষক জানান, ‘ধান ভালোই হয়েছে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে পানি দিতে না পারায় সব শেষ। বাজারে ডিজেল নেই। থাকলেও উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

    নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি”।

    বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন,” ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”

    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    আর আই খান

  • বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    নিউজ ডেস্ক:

    বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় কেবল অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়; বরং কোন রাষ্ট্র নিজেকে কতটা “অপরিহার্য” করে তুলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করে তার প্রকৃত কৌশলগত অবস্থান। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে আসছে—যেখানে সীমাবদ্ধতাকেই সম্পদে রূপান্তর করা হয়। বিপরীতে ভারত, বৃহৎ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্যতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু দশকের নীরব সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও নিশ্চিত করে। এই অঞ্চলে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ—প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, জ্বালানি নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক—থাকা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভারত প্রান্তিকই থেকে গেছে।

    এই কৌশলগত অবস্থানের সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় চলমান পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন ভূমিকা সাধারণত সেই রাষ্ট্রগুলিই পায়, যাদের ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিকল্প কম থাকে। পাকিস্তান সেই অবস্থান তৈরি করেছে তার সামরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুমুখী সম্পর্কের মাধ্যমে—যেখানে একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে এই ধারা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জার-এর গোপন চীন সফরের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই ছিল মূল চালিকা শক্তি, যার মাধ্যমে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন চীন-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ পায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমর্থন আফগান মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এমনকি ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান একসঙ্গে সহযোগী ও চ্যালেঞ্জ—দুই ভূমিকাতেই থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, পাকিস্তানের কৌশল কোনো একক সরকারের নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি।

    পাকিস্তানের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে তার পারমাণবিক সক্ষমতা। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যায়। ভারতের প্রচলিত সামরিক আধিপত্য কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ভারতের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়, যেখানে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েও সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে পারমাণবিক প্রতিরোধ শুধু নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক দরকষাকষিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

    সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্ভাব্য “পারমাণবিক ছাতা”। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রথমে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করেন। তবে এই ঘটনাই দেখায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছে—যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না দিয়েও সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত রাখা হয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, বিশেষত এমন সময়ে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ অনিশ্চিত।

    ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের এই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীন-এর সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এটি একটি প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত হয়েছে। চীনের জন্য এটি অর্থনৈতিক করিডোরের শেষ প্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক নিরাপত্তা অংশীদার, আর সৌদি আরবের জন্য নির্ভরযোগ্য সামরিক সহযোগী। ফলে বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলে যায়—আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাকিস্তান।

    অন্যদিকে ভারতের শক্তিই অনেক ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বৃহৎ অর্থনীতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এর নীতি ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা ভূমিকায় যেতে নিরুৎসাহিত করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক বিস্তার করলেও, সেই সম্পর্কগুলোকে নিরাপত্তা নির্ভরতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে ভারত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কিন্তু অপরিহার্য নয়।

    সবশেষে দেখা যায়, পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, নিরাপত্তা নির্ভরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভারত তার শক্তির কারণে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত, শক্তির প্রতিযোগিতা এবং জোট রাজনীতি নতুনভাবে গড়ে উঠছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থানগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা যায় না—এবং সেখানেই কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

  • চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    চৌগাছায় বিশেষ অভিযানে ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দিঘড়ী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (২৫), পুড়াপাড়ার খালপাড়া গ্রামের লুনু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (৪৪), মাসিলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৩), বল্লভপুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে আমিন তরফদার (২৩), মাধবপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মিল্টন হোসেন (৩০), লষ্করপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে ইকবাল রহমান (২৮), ঝিনাইকুন্ড গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ছাব্বির হোসেন সজিব (২০)।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে বিধি মোতাবেক পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    বি/ এ