লেখক: Daily BD Times

  • সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    ডেস্ক নিউজ

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারে পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ১। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

    সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এদিন শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলে, আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবদেন খারিজ করা হলো।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে প্রথমে শুনানি করেন কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরল হকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

    তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ওয়াইড স্প্রেড, সিস্টেমেটিক ও টার্গেটেট অ্যাটাকের বিষয় রয়েছে এখানে এমন কিছু হয়নি। এটি পৃথক একটি ঘটনা। এজন্য আলাদা আইন রয়েছে। এখানে এ মামলা চলতে পারে না। এসআই আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও একই গ্রাউন্ডে তার আসামির অব্যাহতির আবেদন জানান।

    এরপর পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত অধিকারের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময় টার্গেট করে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এমন অসংখ্য ঘটনা সারা দেশে ঘটেছে। যশোরের চৌগাছার ঘটনাটিও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক ও ওয়াইড স্প্রেডের একটি অংশ। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়।

    এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

    বি/ এ

  • কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছে।

    কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কিউসিএএ) আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    কিউসিএএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল জাতীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির একটি ব্যাপক মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক সংকটের কারণে কাতারের আকাশপথ বিদেশি বাহনগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকার পর এই প্রথম তা পুনরায় উন্মুক্ত হলো।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, সকল ফ্লাইট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে পরিচালিত হবে। যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত বাছাইকৃত কিছু বিদেশি এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফ্লাইটগুলো নিয়মিত করা হবে।

    আকাশপথ পুনরায় সচল হওয়াকে কাতারের বিমান চলাচল খাতের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানা গেছে।

  • চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

     

    নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।

    বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলাগুলোর পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘TEE-01B’ স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই স্যাটেলাইটটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

    এই প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানি কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, যেমন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির রিয়েল-টাইম তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারছে। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কোনো হামলার আগে যেমন লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতে পারছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত যাচাই করতে পারছে।

    এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শামিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    এই স্যাটেলাইট কূটনীতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন নজির স্থাপন করছে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৫ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিএনপির

    সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৫ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিএনপির

    ডেস্ক নিউজ:

     

    সংরক্ষিত নারী ৩৫ আসনের পার্টি তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ তালিকা প্রকাশ করেন।

    সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান।

    মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা।

  • সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন । এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষক পরিবারে এখন পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। মাঠে মাঠে আনন্দে মাতুয়ারা সোনালী ধানের শীষ। প্রতিটি শীষে যেন কৃষকের জীবনের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। অন্যদিকে সঠিক সময়ে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলার চাষীরা। প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তার পরেও মাঠে মাঠে ধান কাটার উৎসবের আমেজ। কৃষাণ-কৃষাণীরা মনে বইছে আনন্দের বন্যা।

    উপজেলা জুড়ে ধানের বাম্পার ফলনে বাধ-ভাঙ্গা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষকের মন। দিগন্তজুড়া সোনালী ফসলের মনোরম দৃশ্য এখন গোটা উপজেলা জুড়ে। কোনো এলাকায় দু’একজন চাষী ধান কাটলেও এক সপ্তাহ পরে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ফসল কাটার মহোৎসবে ব্যস্ততম সময় কাটাবেন এখানকার কৃষকরা।

    প্রচন্ড তাপদাহে খুব সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে সোনালী স্বপ্ন ঘরে তোলা সংগ্রাম। উপজেলার পাশাপোল গ্রামের মমিনুর রহমান, রাকৃষ্ণপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, কয়ারপাড়া গ্রামের আবু কালাম জানান , তারা তিন বিঘা করে বোরো ধান চাষ করেছেন। যে খরচ হয়েছে তাতে কম পক্ষে ১৭’শ টাক মন দরে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের জন্য ভালো হবে।
    কৃষকরা জানান, এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শ্রমিক সংকটের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ২০০ টন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, এবছরে ধানের আবহাওয়া ভালো। তাপে ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে দু’একজন কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। উপজেলা অধিদফতরের পক্ষ থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে রোবধান কাটা শুরু করা হবে। এতে শ্রমিক সংকট অনেকটা কমে আসবে। তা ছাড়া যেসব ক্ষেতে ধান নুয়ে পড়েছে সেসব ক্ষেতের ধান দ্রæত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

  • লোডশেডিংয়ে নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা

    লোডশেডিংয়ে নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা

    ডেস্ক নিউজ:

    দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে; জাতীয় সংসদের অধিবিশনে এমনটি বলেছেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আর্কষণ করে তিনি এ কথা বলেন।

    সংসদে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন,  বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আজ হায় হায় করছে। চতুর্দিকে বিদ্যুতের যে সংকট চলছে, তা উত্তরণে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চারদিকে যে সংকট চলছে এটা থেকে উত্তরণে আশু ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

    তিনি পর্যটন মন্ত্রীকে এলাকাটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আমি পর্যটন মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করব, আপনি সুযোগ হলে এলাকাটি সফর করুন এবং সরকারি উদ্যোগে এটিকে বিশেষ পর্যটন আওতায় নিয়ে আসুন।

    বি/ এ

  • বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার তিনশ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    রোববার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা-শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত হতে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

    তিনি বলেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি-তে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। বছরে ১৩-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমদানি করা ক্রুড অয়েলের শতভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৩ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

    সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    সরকার দলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না থাকলেও উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কৃষি-সেচ ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

    বি/ এ

  • চলতি মাসে ১৮ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ১৯৭ কোটি টাকা

    চলতি মাসে ১৮ দিনে রেমিটেন্স এসেছে ১৯৭ কোটি টাকা

    নিউজ ডেস্ক : চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এ সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দৈনিক গড় প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।

    এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

    গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

    এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

    আর আই খান

  • সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ-এ পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি “ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত” চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ এটি গ্রহণ করবে। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, কিছু লক্ষ্যবস্তু খুব দ্রুত ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আর আই খান

  • চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

    চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

     

    চৌগাছা  প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পার হলেও এখনো নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। গত বছরের ১১ জুলাই তৎকালীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়,চৌগাছা শহরে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ৩১ আগষ্ট দরপত্র আহবান করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নির্মাণের জন্য ডিপিপি মুল্য দেওয়া হয় ১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। যশোর উপশহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসআই একেজে পিসি ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণরুপে শেষ করে দিবে। কিন্তু চৌগাছা উপজেলা প্রশাশন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন দীর্ঘদিনেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মসজিদ নির্মাণের জায়গা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণে শুরু থেকেই নানা জটিলতায় পড়ে উপজেলা প্রশাসন। পরে এলাকাবাসীর জোর দাবির মুখে চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে (বর্তমান কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে) মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৮ হাজার ৬’শ ৮৫ বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মসজিদের জায়গা নির্ধারণের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদসহ উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সকল পর্যায়ের গন্যমাণ্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাঁকজমকপূর্ন ভাবে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ৮ মাস পার হলে গেলেও অদৃশ্য কারনে এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
    নির্ধারিত স্থানের দক্ষিণ ও পশ্চিম সাইডের রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা খালি রেখেই মসজিদ নির্মান কাজের স্কেচ তৈরি করা হয়। স্কুলের অব্যবহারিত বিশাল ফাকা জায়গা পড়ে থাকায় ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ততার বিয়টি আমলে নিয়ে রাস্তার পাশে জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাঁকা থাকলে নামাজের সময় শহরে যানজটও হবেনা ।
    নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য স্কুলে প্রবেশ মুখের সড়কের পাশের কিছু দোকান উচ্ছেদের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন মহেশপুর সড়ক ও স্কুলের প্রবেশ পথসংলগ্ন দোকানগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
    স্কুলটির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন স্কুলের জায়গার অভাব নেই। ক্ষমতার পালাবদলে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্কুলের সিংহভাগ জায়গা ভোগ দখল করছে। তারা বলেন, মসজিদটি দক্ষিণ-পশ্চিম রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে নির্মাণ করলে ভালো হবে। তাতে স্কুলেরও কোনো সমস্যা হবেনা। বরং স্কুলে প্রবেশের রাস্তাটি প্রশস্ত হওয়া খুবই জরুরী। কারণ পরীক্ষার সময় এই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তাটি প্রশস্ত হলে শিক্ষার্থীরা নির্বিগ্নে যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাদের দখলীকৃত জায়গা না ছেড়ে নানা টালবাহানা করার কারণে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। অনেকে বলছে একজন রাজনৈতিক নেতা ঐসকল ব্যবসায়িদেরকে জায়গা না ছাড়তে ইন্ধন দিচ্ছেন।
    প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি আবু জাফরসহ বেশকয়েকজন জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে দোকানঘর রেখে নির্মান কাজ মোটেও উচিৎ হবেনা। দোকানগুলো উঠিয়ে রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাকা রেখে নির্মাণ কাজ শুরু করলে খুবই ভালো হবে।

    তবে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার অপতৎপরতার কারণে দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম থেমে আছে। ওই নেতা মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দোকানগুলো না সরিয়েই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয়দের মতে, দোকানগুলো অপসারণ না করে নির্মাণ কাজ শুরু করলে মসজিদের সৌন্দর্য ও পরিকল্পনা ব্যহত হবে। তারা নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের রাস্তার পাশ ঘেঁষে নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

    এদিকে, সকল জটিলতা দ্রুত নিরসন করে মসজিদের নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু করার জন্য উপজেলাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

    বি/ এ