লেখক: Daily BD Times

  • বিলুপ্ত হচ্ছে বিডা বেপজা বেজাসহ ছয়টি সংস্থা

    নিউজ ডেস্ক : দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিডা, বেপজা ও বেজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি সংস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থাকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন বৃহৎ দপ্তর গঠন করা হবে।

    বিলুপ্ত হতে যাওয়া সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

    আর আই খান

  • চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আনিচুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল হাদিকে (৪৫)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় ।

    হাদি জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আনিচুর রহমানকে হাদি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২১ তারিখ ৩০/১০/২০২৪ ।

    দীর্ঘ তদন্ত শেষে চৌগাছা থানার এসআই সলিমুল হক আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন এবং ৫ জনকে খালাস দেওয়ার আবেদন করেন । চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল হাদি , ওহিদুল ইসলাম,লেন্টু মিয়া,আমিন উদ্দিন ,কুরবান আলী ও হুজাইফা ইসলাম। আসামিদের মধ্যে সবাই আদালত থেকে জামিন নিলেও হাদি পলাতক থেকে যায় । শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে ।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সলিমুল হক হাদিকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ,আসামিকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

    বি/ এ

  • ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ডেক্স নিউজ : ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যাচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, ত্রিবেদীর জন্য ঢাকায় তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হলেও, ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের প্রতি জবাবদিহিতার একটি বার্তাও বহন করছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ত্রিবেদী ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টার অংশ হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

    দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের মাধ্যমে মোদি সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে কুণ্ঠিত নয় এবং এসব কাঙ্ক্ষিত পদ কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিতও নয়।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবে। এতে বোঝা গেল অন্তত উপমহাদেশে সুখসন্তপ্ত রাষ্ট্রদূতের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

    M

    সুত্র: আমাদের সময় /আরডি

     

  • ইরানের সঙ্গে বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল

    ডেক্স নিউজ : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার উদ্দ্যেশ্যে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের একটি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও পাকিস্তান, ইরান বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনার সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    বিদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে ফেডারেল রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের রেড জোন এবং বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    যাতায়াতের জন্য নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডির জেলা প্রশাসন দুই শহরে সব ধরনের গণপরিবহণ ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শিয়েই জেলা প্রশাসকরা এই নির্দেশ জারি করেছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে ৬০০-এর বেশি বিশেষ পিকেট স্থাপন করা হয়েছে। এলিট কমান্ডো ও স্নাইপাররা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন এবং ডলফিন ফোর্সসহ কুইক রেসপন্স ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। স্পর্শকাতর স্থাপনা ও আবাসন এলাকায় নজরদারির জন্য ‘সেফ সিটি’র সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

    M

  • হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, সেটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং সেটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী।

    এটি সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া যার অবস্থান সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপস চ্যানেল এলাকায়।

    মালাক্কা প্রণালী আবারো আলোচনায় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বৈশ্বিক গুরুত্ব

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা সবচেয়ে ছোট ও কার্যকর সমুদ্রপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এটি অপরিহার্য।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে নেয়া হয়েছে- যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২৯ শতাংশ। এই একই সময়ে প্রতিদিন ২৬ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও পরিবহন হয়েছে এই পথ দিয়ে।

    যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ গোকি বালসি বলেন, এই পথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, ইলেকট্রনিকস, ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি ও গাড়িও পরিবহন হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ গাড়ির বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। এছাড়া শস্য ও সয়াবিনের মতো শুকনো পণ্যও পরিবহন হয় এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে।’বালসি আরো বলেন, ভৌগলিক, জ্বালানি পরিবহন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহনের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালাক্কার ভূমিকা আরো বিস্তৃত।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ মূলত জ্বালানি রুট। কিন্তু মালাক্কা প্রণালী শুধু জ্বালানি নয় বরং বহুবিধ পণ্যের ট্রান্স-শিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ আস্ত্রিনা বলেন, ‘এটা বলা যেতেই পারে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথগুলোর একটি হলো মালাক্কা প্রণালী।’

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক রিক্যাপ তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের মতে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীতে ২০২৫ সালে ১০৮টি জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। তাই এই প্রণালীতে জলদস্যুতা একটি চিরস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।এছাড়াও, এই এলাকাটি সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে এর দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

    কেন এখন উদ্বেগ?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কার গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।বালসি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে সমুদ্র আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে এই পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

    আস্ত্রিনা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।তার গবেষণা মতে, মালাক্কা প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী দেশগুলোর মাঝের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেয়ার জন্য তৈরি নয়। এটি মূলত জলদস্যুতা, চোরাচালান ও সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বড় শক্তি যখন এই অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম ও উপস্থিতি বাড়ায়, তখন এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দেয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাটি তৈরি নয়।’তবে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, ‘এখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে না, কারণ বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থ শক্তিশালী হওয়ায় সবাই সেটি বজায় রাখতে চায়।’তার মতে, বড় ঝুঁকিটি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে।

    তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি চীন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধির অবস্থান হিসেবে দেখে, তাহলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে সেটি সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে নয় বরং এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তা করতে পারে। ঝুঁকিটা সেখানেই। ধীরে ধীরে এমন এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যেখানে সহযোগিতামূলক ও আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে গিয়ে তা রূপ নিতে পারে আরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে।’তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি সংঘাত না হলেও এমন পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব থাকতে পারে।

    তিনি যুক্ত করেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরোক্ষ হলেও শক্তিশালী হবে যেমন বীমা খরচ বাড়বে, ঝুঁকির ধারণা বাড়বে এবং এমন একটি সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হবে যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা সরলভাবে দেখাকে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যেন ইন্দোনেশিয়া কোনো এক পক্ষের সাথে জোট বাঁধছে। ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে। বাস্তবতা হলো মহাজোটগুলোর প্রতিযোগিতা এখন এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য যৌথ ও কার্যকর করিডর হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।’

    ‘মালাক্কা দ্বিধা’

    ২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ‘’মালাক্কা ডিলেমা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝাতে।যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চায়না পাওয়ার প্রোজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তেল আমদানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মোট মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    বালসি বলেন, ‘শুধু চীনই নয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি এটির মধ্য দিয়ে আসে।’তিনি আরো বলেন, এই নৌপথ সিঙ্গাপুরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর এবং এটি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র।চীনের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আস্ত্রিনা। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে চীনের পক্ষে বাস্তব অর্থে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কোনো কার্যকর উপায় নেই। পাইপলাইন বা অন্য কোনো করিডরের মতো বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও তা বৃহৎ পরিসরে মালাক্কার বিকল্প হতে পারবে না।’

    বালসিও এতে একমত। তিনি বলেন, সুন্দা প্রণালী ও লম্বক প্রণালী যে দু’টিই ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসীমায় অবস্থিত তারাই সবচেয়ে কার্যকর দু’টি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।পাপুয়া নিউগিনির নিকটে টরেস প্রণালী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অগভীর ও সংবেদনশীল নৌপথ যেখানে প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে না।আর যদি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ঘুরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে অত্যধিক সময় ও ব্যয় লাগবে বলে তিনি জানান।আস্ত্রিনা মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে চীন এই দুর্বলতা দূর করার চেয়ে বরং তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

    তিনি বলেন, ‘এই দ্বিধার মূল বিষয় নির্ভরতা কমানো নয় বরং চীন কিভাবে সেই নির্ভরতা পরিচালনা করে। এ কারণেই চীন শুধু বিকল্প পথ খোঁজার দিকে নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।’

  • ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান’

    ডেক্স নিউজ : ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান চাইছে।

    খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরানের কাছে এটি একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত।

    তিনি আরও যোগ করেন, ইরান কোনো খণ্ডিত বা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নয় এবং এই সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত।

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবস্থান প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল। যদিও এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তবুও দীর্ঘকাল ধরে এটি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। খাতিবজাদেহর মতে, এই দুই দেশের নেতিবাচক তৎপরতা বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

    সূত্র: আলজাজিরা।

  • হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১১৫

    ডেক্স নিউজ : দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনে। অন্যদিকে, এই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ২৪৩ জন।

    বিগত এক মাসে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৪ জন। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে ৯ হাজার ২৭৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। একই সাথে সংক্রমণ রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    M

  • হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজ

    টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

    একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

    উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ:

    ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাথানগাছি গ্রামে বাড়ির পেছনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রোজিনা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা খাতুন গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    স্বজনরা জানান, দুপুরে নিজের বাড়ির রান্নাঘরের পাশে কাজ করছিলেন রোজিনা খাতুন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করা হয়েছে।

    বি / এ

     

  • শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    ডেস্ক নিউজ:

    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০শে এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এ মামলায় যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন আসামি। এর মধ্যে তিনজন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।

    পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

    প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে গুলি করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

    বি/ এ