ক্যাটাগরি কৃষি

  • হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজ

    টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

    একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

    উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি:
    যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে আবু তাহের (৪২) নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের মাঠের একটি ধানক্ষেত থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবু তাহের আন্দুলিয়া গ্রামের  আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    নিহতের চাচা ও মাদ্রাসা শিক্ষক বিল্লাল হুসাইন জানান, দুপুরে ঝড়-বৃষ্টির পর তাহের ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর আবারও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ধানক্ষেতের আইল থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবুর রহমান হবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

    এম কে

  • লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারদের গুদামে খুঁজে পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে তা মিলছে দ্বিগুণ দামে। একদিকে সারের কৃত্রিম সংকট, অন্যদিকে ভেজাল সারের রমরমা কারবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

    সরেজমিনে আদিতমারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রবি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মাঝে হাহাকার। আলু ও অন্যান্য ফসল রোপণের জন্য টিএসপি সারের তীব্র প্রয়োজন থাকলেও বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলাররা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন ‘সার নেই’। অথচ পাশের খুচরা দোকানেই সেই সার ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

    চরিতাবাড়ী এলাকার কৃষক সুজন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলু রোপণের সময় টিএসপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩২০০ টাকা দরে কিনেছি। ডিলাররা সার বাইরে বিক্রি করে দেয়, আর আমাদের বলে বরাদ্দ নেই।’

    কৃষকদের প্রধান অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তাদের দেখা মেলা ভার। অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল ডিলারদের রেজিস্টার খাতায় সই করেই দায়িত্ব শেষ করেন। এই সুযোগে ডিলাররা অবৈধভাবে সারের মজুদ সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    অনিয়মের বিষয়ে কোনো কৃষক অভিযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তারা দায় চাপান প্রশাসনের ওপর। তাদের দাবি, ‘এসিল্যান্ড স্যার ছাড়া অভিযান সম্ভব নয়।’

    প্রশাসনের এমন রশি টানাটানির সুযোগে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগ থেকে দুয়েকটি নামমাত্র অভিযান চালানো হলেও তাতে মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাকে সামান্য জরিমানা করেই দায় সারছে প্রশাসন। কৃষকদের মতে, এসব অভিযান কেবল লোক দেখানোর জন্য।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সংকট নেই।’

    এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সংকট না থাকে, তবে কৃষক কেন দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে?

    সার সংকটের আড়ালে ভেজাল সারের কারবারও এখন তুঙ্গে। নকল সার ব্যবহারে ফসলি জমি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লালমনিরহাটের কৃষককূলের একটাই দাবি এই ‘শক্ত সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় ব্যাহত হবে খাদ্য উৎপাদন, পথে বসবে উত্তরের জনপদের হাজারো কৃষক।

    এম কে

     

  • সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় কৃষিবিজ্ঞানে যুক্ত হলো নতুন এক পালক। উচ্চফলন, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে আমন ধানের দুটি নতুন জাত— ‘বিনা ধান ২৭’ ও ‘বিনা ধান ২৮’। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারাদেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮টি। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক দল এই দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উদ্ভিদ প্রজননবিদরা এতে পিআই নাইন  ও পিশ নামক দুটি কার্যকর প্রতিরোধী জিন সংযোজন করেছেন, যা ব্লাস্ট রোগের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বিনা ধান ২৭ সম্পর্কে জানান, ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।’

    ওই বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে জানান, বিনা ধান ২৮ উন্নত সংকরায়ন ও মার্কার এসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল, সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালবিশিষ্ট আমন ধানের জাত। আমরা বিশ্বাস করি, এটি কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও বলেন, এই ধানের জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ৫ টন। চালের অ্যামাইলোজ ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হওয়ায় ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয়। সুগন্ধি হলেও এই জাত চাষে বাড়তি কোনো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন নেই, যা উৎপাদন খরচ কমাবে। বাজারে এই জাতের চাল ‘গরিবের পোলাও’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান ২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ—সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এম কে

  • ইউটিউবই ছিল শিক্ষক, বিটরুট চাষে সফল আজিজুল

    ইউটিউবই ছিল শিক্ষক, বিটরুট চাষে সফল আজিজুল

    ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের পোল্ট্রিপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক প্রতি বছর নিজের জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে সম্প্রতি ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিটরুট চাষের খবর দেখে তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী হন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নিজের জমিতে বিটরুট চাষ করে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। এখন তার এই সাফল্য দেখে এলাকায় আরও অনেক কৃষক এই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    উপজেলা ও স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিটরুট একটি বিদেশি সবজি। এটি সালাদ, সবজি ও জুসের জন্য অভিজাত হোটেলগুলোতে চাহিদাসম্পন্ন। বিভিন্ন ওষুধি গুণসম্পন্ন এই সবজিটিকে সুপারফুড হিসেবে পরিচিতি আছে। যদিও শীতকালে উৎপাদন বেশি হয়, এখন প্রায় সব সময়ই বাজারে এই সবজি পাওয়া যায়। ডিসেম্বর মাস বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। রোপণের পর প্রায় ৭৫-৮০ দিন সময় লাগে বাজারজাত করার জন্য।

    গত বছর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আজিজুল হক তার জমির ৫ শতাংশে বিটরুট চাষ করেছিলেন। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪৬০ টাকা, আর বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রথমবারের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে চলতি বছর তিনি ১৭ শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ শতাংশ জমির উৎপাদিত বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার টাকায়। বাকি ১৫ শতাংশ জমির বিটরুট বিক্রি করে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

    কৃষক আজিজুল হক বলেন, ইউটিউবে বিটরুটের চাষাবাদ দেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই সবজি চাষ করি। ভিনদেশি এই সবজির চাষাবাদের খবর শোনে প্রথম দিকে অনেকেই হাসাহাসি করেছে। পরে সফলতা ও চাহিদা দেখে এখন অনেক কৃষক এই সবজি চাষাবাদের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করছে।

    উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিটরুটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপারসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রথমদিকে এই সবজি কেউ করতে আগ্রহী ছিল না। আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় আশেপাশের অনেক গ্রামের কৃষকও বিটরুট চাষ শুরু করেছেন।

    ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিটরুট চাষ অত্যন্ত সহজ এবং খরচও কম। অনেক লাভ হয়। আগে কৃষকরা এটি জানতো না। এখন অনেকেই এই ফসল চাষে আগ্রহী।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও নিয়মিত তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

    এম কে

  • দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    দিনে কোটি টাকার জলপাই বিক্রি, যাচ্ছে বিদেশেও

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    জলপাইয়ের নাম শুনলে জিহ্বায় জল আসে না-এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া জলপাইয়ের কথা উঠলেই কবি সুকুমার রায়ের সেই বিখ্যাত নাটক অবাক জলপান এর কথাও স্মৃতিতে ভেসে উঠে। ছোটবেলায় জলপাই নিয়ে এমন হাসির নাটক পড়ে আমরা প্রায় সবাই কমবেশি হেসেছিও সমানতালে। আর এই জলপাই এখন পঞ্চগড় তথা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রতিদিন জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরের দেবদারু তলায় বসছে জলপাইয়ের হাট। এটি দেশে জলপাইয়ের সর্ববৃহৎ হাট। এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

    ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দেবীগঞ্জের দেবদারু তলায় শুরু হয় জলপাই কেনাবেচা। বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভর্তি করে বস্তা বোঝাই জলপাই আসে বাজারে। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মানভেদে প্রতি কেজি জলপাইয়ের দাম পড়ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় জলপাই আহরণ। মৌসুমের ৩ মাস ধরে বেচাকেনা চলে জলপাই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, জলপাইয়ের এই হাটটি প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়ে জলপাইয়ের আবাদও বাড়ছে। আমরা চাষিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। জলপাই চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত জলাপাই শুধু দেশের বাজারেই নয়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। অনলাইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় জলপাই পাঠাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে জেলার অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। জলপাই ব্যবসাকে ঘিরে পঞ্চগড় জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ধারায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পঞ্চগড়ে বড় পরিসরে বাগান না থাকলেও জেলায় ছোট ছোট খামার, বাড়ির উঠান, রাস্তার ধার ও জমির আইলে সব মিলিয়ে জলপাই চাষ হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে জলপাই উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার টন। এবার তা আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

    এ/আর

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

    এ/আর

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    ডেস্ক নিউজ:

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

  • কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে সির্জন খলিফা নামে এক কৃষকের ৩০ শতাংশ আলুগাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় সিংজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটুয়াবাড়ি চকে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম সির্জন খলিফা।

    সরেজমিন দেখা যায়, সির্জন খলিফার ৩০ শতাংশ জমির আলুগাছ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলো। গাছে সবেমাত্র আলুর গুঁটি বাঁধতে শুরু করেছিল। সকালে ক্ষেতের এই অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    সির্জন খলিফা বলেন, সকালে মেয়ের জামাইয়ের ফোন পেয়ে আলুক্ষেত দেখতে আসি। এসে দেখি সব শেষ। শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী দোষ। এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও ধারদেনা করে এই আলু চাষ করেছিলাম। দুর্বৃত্তরা আমার প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে এই অমানবিক কাজের সুষ্ঠু বিচার চাই।

    উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, খবর শুনেছি বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাকে সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

    ঘিওর থানার ওসি মীর মাহাবুব  বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।