ক্যাটাগরি চট্টগ্রাম বিভাগ

  • দেবিদ্বারে মাদক উদ্ধারে গিয়ে সংঘর্ষ; আহত-১২

    দেবিদ্বারে মাদক উদ্ধারে গিয়ে সংঘর্ষ; আহত-১২

    ডেস্ক নিউজ:

    কুমিল্লার দেবিদারে মাদক কারবারিদের সাথে ডিবি পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ১৮ নভেম্বর উপজেলার ভিড়াল্লা গ্রামে এঘটনা ঘটে।

    এঘটনায় কম পক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালায় ভিড়াল্লা গ্রামে।

    এসময় ক্রেতা সেজে মাদক কারবারিদের সাথে যোগাযোগ করে ডিবি পুলিশ। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হাসান আহমেদ (২৫) কে  আটক করে।  তকে  তল্লাশি করে  ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ডিবি।
    এর পরে মাদক কারবারিরা পুলিশের উপরে হামলা করে। এতে ডিবি পুলিশের সাথে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গ্রামবাসির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশসহ মোট ১২ জন আহত হয়।
    এঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।  আটক হাসান ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।
     দেবিদ্বার থানার ওসি ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেন।
    বি/এ
  • রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ:  ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    রাজধানীতে ২১ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: ‌‌’বড়’ ভূমিকম্পের আশঙ্কা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার কী পরিণতি হতে পারে, তারই যেন আভাস দিয়ে গেল সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প না হলেও কম্পনের ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে গতকালের ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ঘনিয়ে আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, গতকালেরটি তার মধ্যে একটি। পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূতত্ত্ব ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

    তারা বলছেন, ঢাকার এত কাছে এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প এর আগে কখনো ঘটেনি। কম্পনের স্থায়িত্ব আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বেশি হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ছিল। ভূমিকম্পে প্রাণক্ষয় কমাতে মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেব জোর দিতে হবে।

    আরো জানেত পড়ুন

    রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নগর সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশিরভাগই নির্মাণ হয়েছে নিয়ম-কানুন না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্প ঢাকা থেকে খুব কাছে ও কয়েক দশকের মধ্যে মাত্রা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ঢাকা এবং পুরান ঢাকা। তিনি বলেন, ‘এখনকার বিল্ডিংগুলো কোড মেনে চললেও রাজউকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রচুর বিল্ডিং হয়ে গেছে যেগুলোর ৯০ শতাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই। এগুলোর কী হবে, যদি এরকম ভূমিকম্প রিপিট (পুনরাবৃত্তি) করতে থাকে?’

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার এক যৌথ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। এ ছাড়া ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি হবে সাত কোটি টন কনক্রিটের স্তূপ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান প্লেটে এবং এই প্লেট উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। সিলেটের উত্তরে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট, যেটি দক্ষিণমুখী। এই দুই প্লেট একটি অন্যটিকে চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পূর্ব দিকে মিয়ানমার সাবপ্লেটেও সাবডাক্ট হয়েছে, উত্তরে ডাউকি ফল্ট আছে এবং পূর্বে মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট, মধুপুর ফল্ট থাকায় ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার একেবারে কাছেই ছিল, ফলে অনুভূত হয়েছে অনেক বেশি। চট্টগ্রামের রাঙামাটি বা খাগড়াছড়িতে যদি ৭ মাত্রার ওপরেও ভূমিকম্প হয়, তাহলে আমরা ঢাকায় এতটা ঝাঁকুনি অনুভব করি না। তবে এই ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল আর ৫-৭ সেকেন্ড বেশি হলেই ঢাকার অনেক ভবনই ধসে পড়ত। এ ধরনের ভূমিকম্পের সম্মুখীন ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আগে কখনো হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে মনে হতে পারে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মাত্র এক পয়েন্ট বেশি; কিন্তু বিষয়টি এমন না। ৫ মাত্রার চেয়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পনের প্রবণতা ১০ গুণ বেশি। এখানে প্রতিটি ভগ্নাংশ মানে এর তীব্রতা তত গুণ বেশি। ফলে এই ভূমিকম্পের প্রবণতা বা তীব্রতা অন্তত ১০০ কিলোমিটার রেডিয়াসে থাকে।’

    ঢাকা ও এর আশপাশে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থাকার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, তবে মাত্রা ছিল কম। এর মধ্যে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ৪ দশমিক ৫ মাত্রা, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪ দশমিক ৮ মাত্রা এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

    ঐতিহাসিকভাবেও এ অঞ্চল বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী। ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ (৮ দশমিক ০ মাত্রা) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এ ছাড়া ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প (৭ দশমিক ৬ মাত্রা) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছিল।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভূমিকম্প হলে হতাহতের সংখ্যাও ভিন্ন হতে পারে: সকালে হলে মৃত্যু হতে পারে ২ দশমিক ১ লাখ থেকে ৩ দশমিক ১ লাখ মানুষের; বিকেলে হলে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ লাখ থেকে ৪ লাখ হতে পারে এবং রাতে হলে নিহতের সংখ্যা ৩ দশমিক ২ লাখ থেকে ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের লিনিয়ামেন্টে (ডাউকি ফল্ট লাইন) ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ হাজার ৯৩৫টি থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ভবন (১ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণও হবে ভয়াবহ। এতে প্রধান সড়কগুলোর ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং শহরের ভেতরের সড়কগুলোর ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ ধসে যেতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো, প্রধান সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শহরের সেতুগুলোর ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির হিসাবে, পরিবহন খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে ৮৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ২৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ২১ দশমিক ৫ লাখের বেশি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৫ দশমিক ১৪ লাখ কনক্রিটের স্থাপনা। সমীক্ষায় ৩ হাজার ২৫২টি ভবন পরীক্ষা করে ৪২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে এবং আরও দেড় লাখ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা বহু পুরোনো ভবন এবং বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা ছয়তলার বেশি উঁচু ভবনগুলোই হবে প্রধান শিকার।

    বিশেষজ্ঞরা ঢাকার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তাগুলো বড় বাধা। অনেক ভবনই ভূমিকম্প সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি, যা এগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটির গঠনগত দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। দেশের বড় অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটির ওপর গঠিত। শক্তিশালী কম্পনে এই মাটি তরলীকৃত হয়ে যেতে পারে, যা ভবন ধসের কারণ হতে পারে।

    জাপান বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা, জরুরি মহড়া এবং কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ঢাকা শহরের ২১ লাখ ভবন এখনই পরীক্ষা করা দরকার। এখানে সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না, রাজউককে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জানান দেবে, সব ভবন চেক করে সার্টিফিকেট দিয়ে দেবে যে বিল্ডিংগুলো বিল্ডিং কোড অনুযায়ী হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের (গতকাল) ভূমিকম্পটা বলতে পারি একটা ফোরশক। অর্থাৎ বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। ১৯৩০ সালের পর এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি; কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা রয়েছে।’

    বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘ভূমিকম্পে ঢাকা শহরের অনেক বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, স্থাপনা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভবন দেবে গেছে, ফাটল হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে ভবন, হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ২-৩ লাখ মানুষ হতাহত হবে, ঢাকা শহরের ৩৫ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়ার শঙ্কা আছে, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

    সামনে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে জানিয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আজকের (গতকাল) এই ভূমিকম্প সেই সতর্কবাণী দিচ্ছে। প্লেট যেটা আটকে ছিল, সেটা আটকানো অবস্থা থেকে খুলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ভূমিকম্প হবে। আমরা সরকারকে বারবার বলে আসছি ভূমিকম্প মোকাবিলায় মহড়ার বিকল্প নেই। সরকার ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে, সেখান থেকে দুর্নীতি করতে পারে; কিন্তু যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’

    আরো পড়ুন

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালবেলাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরে জনসাধারণের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও খোলা জায়গার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যখন হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে একটু নিরাপদ বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন অধিকাংশ এলাকায়ই সেই খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঢাকা শহর এমনভাবে তৈরি ও সম্প্রসারিত হয়েছে যে, অধিকাংশ এলাকাতেই ফাঁকা জায়গা নেই। যেগুলো ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে কনভার্ট (পরিবর্তিত) হয়ে গেছে। ফলে ভূমিকম্প বা বড় কোনো বিপর্যয়ের সময় যেখানে গিয়ে মানুষ দাঁড়াতে পারবে, তেমন জায়গা অধিকাংশ এলাকায়ই অনুপস্থিত।’

    এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘ঢাকায় শত শত খোলা জায়গা তৈরি করা দরকার ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্যোগ না থাকায় বেসরকারি উদ্যোগে কখনোই এটা করা হবে না। এই উদাসীনতা দুর্যোগের সময় ঢাকাবাসীর জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খেলার মাঠগুলোকে শুধু খেলাধুলা নয়, দুর্যোগেও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

    বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেও আমাদের এখানে বড় ভূমিকম্প হওয়ার রেকর্ড আছে। ২০০৭ সাল থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে ঢাকার আশপাশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এটাই সর্বোচ্চ। সাধারণত একটি বড় ভূমিকম্পের পর আফটার শক বা পরাঘাতের শঙ্কা থাকে, যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি।’

    বি/এ

    (বিস্তারিত…)

  • ২৮ জেলেসহ ট্রলার নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড

    ২৮ জেলেসহ ট্রলার নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড

    ডেস্ক নিউজ:

    বঙ্গোপসাগর থেকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার ২৮ জেলে-মাঝিসহ একটি মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ভারতীয় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আটকের বিষয়টি জানতে পারেন।

    এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর রাতে ২৮ মাঝি-মাল্লাসহ ফিশিং ট্রলারটি কুতুবদিয়া উপজেলার মলমচর এলাকা থেকে বঙ্গোপসাগরে রওনা দিলে ঘন কুয়াশায় ফিশিং ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করে। এ সময় তাদেরকে আটক করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

    কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নজরআলী মাতবর পাড়া এলাকার এফ.বি আদিব-২ ফিশিং ট্রলারের মালিক নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভারতে আটক জেলেরা হলেন— দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন, নুরুল বশর, মোহাম্মদ শাহিন, তারেক মুহাম্মদ নওশাদ, আতিকুর রহমান, শাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ রাকিব, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, নুরুল ইসলাম, জোবাইদুল হক, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জকির আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ তুহিন আলম, মোহাম্মদ মোজাহেদ, শাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের হাফিজুর রহমান, লেমশীখালী আবুল বশর, মোহাম্মদ নাজেম উদ্দিন, এনামুল হক, মোহাম্মদ শরীফ, রবিউল হাছান, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ওমর ফারুক, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আকতার হোছাইন ও নজরুল ইসলাম।

    আটক মাঝি-মাল্লা পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আটকরা বর্তমানে ভারতের নারায়নপুর কান্দিব থানা হেফাজতে রয়েছেন।

    ট্রলারটির মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মাঝি-মাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড। এ বিষয়ে লিখিতভাবে কুতুবদিয়া থানায় অবহিত করা হয়েছে।

    কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে কুতুবদিয়া উপজেলার মলমচর এলাকা থেকে ট্রলারটি যাত্রা করে। বৃহস্পতিবার রাতে ২৮ মাঝি-মাল্লাসহ ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটকের বিষয়টি জানতে পারে তাদের পরিবারের সদস্যরা। আটক জেলে ও ট্রলার উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এ বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেন বলেন, বিষয়টি থানায় একটি অবহিতকরণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
    বি/এ

  • বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি বলেছেন, ‘বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। এটি তার আগাম বার্তা।’

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেন

    মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আশপাশে সবশেষ বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে।’

    সচেতনার বিষয়ে তুলে ধরে মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, ‘বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে, এটিই স্বাভাবিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে যে ভবনগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বেড়েই চলেছে।’

    এদিকে রাজধানীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আকস্মিক একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

    শুক্রবার সকালে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২ শতাধিক আহত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নগরীর বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সার্বিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জরুরি এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ বা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য আদান-প্রদান ও জরুরি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো

    মোবাইল : ০১৭০০-৭১৬৬৭৮
    ফোন : ০২-৪১০৫১০৬৫

    বি/এ

  • আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেল মুখোমুখি নিহত- ১

    আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেল মুখোমুখি নিহত- ১

    বিডিনিউজ ডেক্স : আড়াইহাজারে পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে রুহেল (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের নোয়াপাড়া চৌরাস্তার সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থেকে মদনপুরগামী একটি পিকআপ (নং- ঢাকা মেট্রো ন-১৩-৯৩১৪) এবং মারুয়াদী থেকে আড়াইহাজারমুখি অনটেস্ট মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী রুহেল গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রুহেল ছোট ফাউশা দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ হানিফা।

    সংবাদ পেয়ে আড়াইহাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    ডেস্ক নিউজ:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন আগামীকাল (২০ নভেম্বর) বেলা ১২টা থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৭ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হবে।

    ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গেছে, এ বছর ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিট, ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ (মানবিক) ইউনিট ও ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

    আরও জানা যায়, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটে আছে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটে আছে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আছে বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, ফিশারিজ এবং ভেটেরিনারি এ অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ।

    ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী তিন ইউনিটেই আবেদন করতে পারবে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী যে ইউনিটেই আবেদন করুক না কেন সে যে শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সেই শাখার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এইচএসসি বা সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বিএফএ (প্রাক), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় এইচএসসি ভোকেশনাল এবং A লেভেল সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে।

    আবেদনের যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য মানবিক ও বাণিজ্য শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ মোট জিপিএ ৭.০০ এবং বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ ৫.০০ স্কেলে নির্ধারিত হবে। জিসিই O লেভেল পরীক্ষায় ৫টি বিষয়ে এবং A লেভেল পরীক্ষায় অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় লেভেলে মোট ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে কমপক্ষে Bও ৩টি বিষয়ে কমপক্ষে C গ্রেড পেতে হবে। ইংরেজি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে চূড়ান্ত আবেদন-কালে অবশ্যই ইংরেজি প্রশ্নপত্রের জন্য অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়া ইউনিট/বিভাগ/ইনস্টিটিউট কর্তৃক আরোপিত শর্তও প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ-সাপেক্ষে আবেদনকারী সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আবেদন ফি নিয়ে বলা হয়েছে, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা, ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের আবেদন ফি ১,১০০ টাকা ও ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা। সকল ফি ১০% সার্ভিস চার্জসহ।

    MCQ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের এক ঘন্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় প্রতি ইউনিটে ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতি চারটি ভুলের জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাশ নম্বর ৪০। অনলাইনে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কোটায় (মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কন্যা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড় ও বিকেএসপি) ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে।

    ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও প্রযোজ্য শর্ত পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট http://admission.ru.ac.bd থেকে জানা যাবে।
    সূত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

     

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সোয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপে ছয় বিভাগের আবেদন চলছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এতে আবেদন করেছেন ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থী।স্কুল সাপ্লাই

     

    এদিকে, অনলাইনে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এরপর আর আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র।

     

     

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ১০ হাজার ২১৯টি পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শূন্য এসব পদের বিপরীতে গত ৮ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব পদে সফলভাবে আবেদন ও ফি জমা দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার প্রার্থী।

     

    আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এরপর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের ফি পরিশোধের সময় থাকবে। আবেদনের আরও একদিন সময় থাকায় এবং অনেকে ফি জমা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকায় আবেদনকারীর এ সংখ্যা আরও এক লাখ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

     

    জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এসএম মাহবুব আলম বলেন, ৫ লাখ ৭৬ হাজারের মতো প্রার্থী আবেদন করে ফি জমা দিয়েছেন। অনেকে এমন আছেন, যারা আবেদন করেছেন কিন্তু এখনো ফি জমা দেননি। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে আরও প্রায় এক লাখ আবেদন বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মোট আবেদন পৌনে ৭ লাখ অথবা সাড়ে ৭ লাখ হতে পারে।

     

    গত ৫ নভেম্বর প্রথম ধাপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপের বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর। এরপর ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ দুই বিভাগে শূন্যপদ রয়েছে ৪ হাজার ১৬৬টি।

  • ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদন্ডরে রায় প্রকাশ

    ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদন্ডরে রায় প্রকাশ

    ডেস্ক নিউজ:

    মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার দায়ে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এবং বরখাস্তকৃত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

    বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগির হোসেন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে সাক্ষর শেষে তা পাঠিয়েছেন সেকশনে। এখন আসামিদের আপিল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। একইসঙ্গে আরও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে এ রায়ে।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেছেন।

    গত ২ জুন হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও ট্রায়াল কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দণ্ডিতদের আপিল শুনানি শেষে এই রায় দেন।

    কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মেজর (অব.) সিনহাকে হত্যার দায়ে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    এই মামলায় গত ২৯ মে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষ হয়।

    ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান।

    ঘটনার পাঁচদিন পর ২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় র‌্যাব।

    অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    আর খান

  • অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪২৩ প্রাণ: বিআরটিএ

    অক্টোবরে সড়কে ঝরেছে ৪২৩ প্রাণ: বিআরটিএ

    ডেস্ক নিউজ:

    সড়কে প্রাণহানি থামছেই না। গত অক্টোবর মাসে সারাদেশে ৪৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪২৩ জন মানুষ। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন ৫৮৯ জন মানুষ।

    বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিআরটিএ’র বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে সারাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

    এসবের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত ও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮টি দুর্ঘটনায় ৮৯ জন নিহত ও ১৮৮ জন আহত হয়েছেন; রাজশাহী বিভাগে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়েছেন; খুলনা বিভাগে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন; বরিশাল বিভাগে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৫৯ জন আহত হয়েছেন; সিলেট বিভাগে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন; রংপুর বিভাগে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।

    অক্টোবর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত মোটরযানের মধ্যে মোটরকার বা জিপ ১৫টি, বাস বা মিনিবাস ১১৪টি, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান ১২৪টি, পিকআপ ৩১টি, মাইক্রোবাস ২৩টি, মোটরসাইকেল ১৬৪টি, ভ্যান ২২টি, ট্রাক্টর ৫টি, ইজিবাইক ২৭টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ১১টি, অটোরিকশা ৪১টি ও অন্যান্য যান ১১৮টিসহ সর্বমোট ৬৯৫টি যানবাহন রয়েছে।

    এসবের মধ্যে মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ২ জন, বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৬৪ জন, ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৪৮ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ১১ জন, মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৮ জন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩০ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ২১ জন, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় ১ জন, ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১৭ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১১ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৩২ জন ও অন্যান্য যান দুর্ঘটনায় ৯৬ জনসহ সর্বমোট ৪২৩ জন নিহত হয়।

    আর খান

  • সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    সংঘাত বাড়ছে বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে

    ডেস্ক নিউজ:

    বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য।

    বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন।

    গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ আমার দেশকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

    সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

    ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’
    বি/এ