ক্যাটাগরি চট্টগ্রাম বিভাগ

  • চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    চিরকুট লিখে আ.লীগ নেতার আত্মহত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    নোয়াখালীর সেনবাগে ঋণের চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে কামাল উদ্দিন মজুমদার নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

    মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ‌১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    এর আগে সোমবার  দিবাগত রাতে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি।

    নিহত কামাল উদ্দিন মজুমদার উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুয়া দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক হোসেন বলেন, ঋণের চাপে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। চিরকুটে তিনি ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে গেছেন।

    কেশারপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বেলাল ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেছি। মূলত তার পিছনে তার পরিবারে হাল ধরার মতো আর কেউ ছিল না। তার আয়-রোজগারে সংসার চলত। ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কামাল মজুমদার পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের সামনে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার স্বজনদের কাছে ৬ পৃষ্ঠার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তাতে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঋণের চাপ ও অভাব অনটনকে দায়ী করা হয়েছে। তবে চিরকুট নিহত কৃষকের হাতের লেখা কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। আজকে তার এক লাখ টাকারও বেশি ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

    এসআই আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

  • জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

    জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

     

    প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। আমরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই, রাতের ভোট বা কেন্দ্র দখলের নির্বাচন চাই না। জনগণের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ ভোট চাই। কৃষক যেমন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়, তেমনি জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।

    শুক্রবার  বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওলামা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শামীম সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের পতাকা মুছে ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা এটিএম ইউছুফ, মাওলানা আজহার, কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করেছে। তিনি বলেন, যে ট্রাইব্যুনালে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায় বিচার করা হয়েছে, আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই তাদের বিচার হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমার বাবা শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যায় ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি ইসলামী আদর্শে অটল ছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করব।

    এ সময় তিনি ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিনের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনার আহ্বান জানান

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন এবং ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান।

    জেলা মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরশুরাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হালিম, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সামছুল হক, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন এবং ফুলগাজী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম শামীম প্রমুখ।

    সমাবেশে ওলামা, স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গোসল করতে নেমে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    গোসল করতে নেমে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    ডেস্বক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার ধুরং খালে গোসল করতে নেমে রশি কুমার চাকমা (৫০) নামে এক ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে মহিষকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    রশি কুমার চাকমা মহিষকাটা চাকমাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ কুমার চাকমার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খালে নামেন। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করলে কালাপানি স্লুইচ গেট এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

    ক্ষীছড়ি থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ঘটনার খবর পেয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।

     

  • মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ভারতীয় পিস্তল, তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার  ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পলাশপুর জোনের বিজিবি সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে আনুমানিক ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাটিরাঙ্গা থানাধীন গোমতি ইউনিয়নের বেহাদন্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ভারতীয় পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা অ্যামোনিশন এবং তিনটি হাসুয়া (দা) উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র পাচার ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    ডেস্ক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জায়গাজুড়ে চাষ করা গাঁজা বাগানের সন্ধান পেয়েছে যৌথ বাহিনী।মঙ্গলবার  ভোরে উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকায় ওই গাঁজা বাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বাগানের সব গাঁজার গাছ কেটে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাগানটিতে আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার গাঁজা উৎপাদন হতো। গুইমারা সদর ইউনিয়ন হলেও এলাকাটি দুর্গম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। বাগানে দুই হাজারের মতো গাঁজার গাছ ছিল।

    গুইমারা থানার ওসি আরিফুর আমিন জানান, সকল গাছ কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে গাঁজা চাষের সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    ডেস্ক নিউজ:

    রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের লোকালয় থেকে উদ্ধার একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার  সন্ধ্যায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলমসহ বনকর্মীরা বানরটি অবমুক্ত করেন।

    এ সময় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এএসএম ম‌হিউ‌দ্দিন চৌধুরী, অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ বিভাগের নানিয়ারচর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বুড়িঘাট স্টেশন অফিসার মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত হওয়া লজ্জাবতী বানরটি গত সোমবার নানিয়ারচর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় রয়েছে ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির এই লজ্জাবতী বানর।

    বিগত কয়েকমাসে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বেশ কিছু বানর অবমুক্ত করা হয়; যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকালয় থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    ডেস্ক নিউজ:

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

  • কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    কোটিপতি তাহেরীর আয়ের উৎস ব্যাংক আমানতের সুদ

    হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী, আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদ।

    হলফনামায় তাহেরী উল্লেখ করেছেন, তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো ধরনের সম্পদ নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ বা ব্যাংক জমার অস্তিত্বও দেখানো হয়নি। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী গৃহিণী—তবে স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের হিসাবে কৃষি খাত থেকে তাহেরীর বার্ষিক আয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় হয় ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তিনি পান ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা। এছাড়া নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৯২

    স্থাবর সম্পদের মধ্যে তাহেরীর নামে কৃষিজমি রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা।

    হলফনামায় আরও বলা হয়, তাহেরীর স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল অন্য কোনো ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র কিংবা নগদ অর্থ নেই।

    ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উল্লেখ করেন, তার স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। তবে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুরবাড়ি

    থাকায় সেখানকার আসন থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

    আইনি বিষয়ে হলফনামায় তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাহেরীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে।

    শুক্রবার  দুপুরে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ইতোপূর্বে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিলে গ্রামবাসী সালিসে মীমাংসা করেন। কিন্তু দুপুরে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ধারালে সুলফির আঘাতে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া গুরুতর আহত হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জামালগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) জয়নাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের পরিবেশ শান্ত আছে।

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ডেস্ক নিউজ

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের 
    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।
    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।

    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।

    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।

    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।