ক্যাটাগরি ফিচার

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    বি/ এ

  • ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস ক্রমেই বাড়ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকারী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পুরুষদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। এমনকি যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই অভ্যাস হলেও নারীদের শরীরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে মারাত্মক।

    বর্তমানে অনেকেই ধূমপানকে আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে সিগারেটের দিকে ঝুঁকেন। বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব বা আশপাশের পরিবেশও এ অভ্যাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, দ্রুত বলিরেখা পড়ে এবং অকালেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যার কারণে মুখের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে।

    মানসিক দিক থেকেও ধূমপান ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত, অকাল প্রসব কিংবা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। ধূমপান কোনো স্টাইল বা আভিজাত্যের প্রতীক নয় এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

    বি/ এ

  • ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    ই-সিগারেট মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র। এতে থাকা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারী নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। একেই বলা হয় ‘ভ্যাপিং’। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই তরলে সাধারণত নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

    ই–সিগারেট ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রথম ই–সিগারেট আমদানি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরবর্তী কয়েক বছরে এই সিগারেট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তার বড় কারণ, ই-সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়া দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির এবং এর মিষ্টি সুবাস। তার পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিক্রেতারা দাবি করেন, এটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি নিরাপদ।

    তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বাস্তবে অধিকাংশ ই-সিগারেটেই নিকোটিন থাকে এবং এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ।

    জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট ব্যবহারে নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এটি বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মনে করেন তরুণ ও কিশোরেরা সহজেই এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন

    ই–সিগারটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো অজানা, তবে বিগত কয়েক বছরের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পণ্য নিরাপদ নয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব তামাক মহামারি প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের ভবিষ্যতে সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৫ সালে প্রথম আইন (ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে বিএনপি সরকার। ওই আইনের মধ্য দিয়ে তামাকজাত পণ্যের যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সীমিত হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রথমবারের মত আইনে স্বীকৃতি পায়।

    পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে আইনে সংশোধন আনা হয় এবং সিগারেটের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।

    তবে আইনে কড়াকড়ি করেও বন্ধ করা যায়নি সিগারেট সেবন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সিগারেট ফুঁকে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর দেন ধূমপায়ীরা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠানো ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওই চিঠিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে; যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ।

    বি/ এ

  • বদহজম কেন হয়

    বদহজম কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘বদহজম’ বা indigestion খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই এটিকে সামান্য গ্যাসট্রিক বা খাবারের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia), যা কখনো কখনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

    বদহজম আসলে কী

    বদহজম কোনো একক রোগ নয়, বরং ওপরের পেটের (epigastric region) কিছু উপসর্গের সমষ্টি। যেমন—

    * পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।

    * অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া।

    * পেট ফাঁপা।

    * বমি বমি ভাব।

    কেন হয়

    বদহজমের কারণ দুই ধরনের হতে পারে—

    ১. ফাংশনাল (কারণ ধরা যায় না)।

    অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায় না, কিন্তু রোগী উপসর্গ অনুভব করেন।

    ২. অর্গানিক (নির্দিষ্ট রোগের কারণে) যেমন—

    * গ্যাসট্রিক আলসার।

    * গ্যাস্ট্রাইটিস।

    * অ্যাসিড রিফ্লাক্স।

    * বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসার।

    সতর্কসংকেত

    নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

    * অকারণে ওজন কমে যাওয়া।

    * গিলতে সমস্যা।

    * রক্তবমি বা কালো পায়খানা।

    * দীর্ঘদিনের বমি।

    গুরুত্বপূর্ণ কারণ

    একটি বিশেষ জীবাণু Helicobacter pylori—বদহজমের একটি বড় কারণ। এছাড়া—

    * ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল।

    * অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

    * মানসিক চাপ।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

    * নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া।

    * অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

    সবশেষে বলব, বদহজম শব্দটি সহজ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বারবার বদহজম মানেই শুধু গ্যাসট্রিক নয়—সময়ে পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।

    বি/ এ

  • হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি কী? কখন হিপ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্টকে একটি কৃত্রিম কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম ইমপ্লান্ট নামে পরিচিত। অনেক রোগী যারা অস্টিওআর্থারাইটিস বা হিপ জয়েন্টের অন্যান্য অবস্থা, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের বিকৃতি বা আঘাতে ভুগছেন, তাদের চরম নিতম্বের ব্যথা এবং নড়াচড়া করতে অক্ষমতা, ঘুমের সমস্যা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যখন সার্বিক অবস্থা ওষুধ, ফিজিক্যাল থেরাপি বা ইনজেকশন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য হলো শেষ পর্যন্ত একটি বেদনাদায়ক নিতম্বের জয়েন্টকে ব্যথামুক্ত করা এবং হাঁটার জন্য নড়াচড়া সহজ করা।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির সুবিধা এবং ঝুঁকি কী কী?

    উত্তর : সাধারণত হিপ বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন একটি ব্যাপক যত্নের অংশ, যা ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করার পাশাপাশি নড়াচড়া ও কার্যকারিতার উন্নতির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। হিপ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো—ব্যথা থেকে মুক্তি, গতিশীলতা উন্নত হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, স্কোয়াটিং বা হাঁটার মতো প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলো অনুসরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি একটি বড় সার্জারি, যা কিছু ঝুঁকি বা জটিলতাও বহন করে। সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি হলো—পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, যা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামে পরিচিত। এই জমাট রক্ত ফুসফুসে গিয়ে পালমোনারি এমবোলিজম নামের অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের স্থানে বা জয়েন্টের মধ্যে সংক্রমণ, নিতম্বের স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের ঢিলা হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত অস্বস্তি এবং সার্জিক্যাল সাইটের হেমাটোমা বা রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইমপ্লান্ট বসানোর দুর্বলভাবে সঞ্চালিত কৌশলের কারণে এই জটিলতাগুলোর অনেকগুলো দেখা দিতে পারে। তাই অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পর সেরে উঠতে কতক্ষণ লাগে?

    উত্তর : নিতম্ব বা হিপ প্রতিস্থাপনের রোগীদের সুস্থতা হাঁটু প্রতিস্থাপনের রোগীদের তুলনায় সাধারণত দ্রুত হতে দেখা যায়। তবে এটাও দেখা যায় যে, সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হওয়ার সময় রোগীভেদে যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। অনেকগুলো কারণ এই সেরে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন ডায়াবেটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রোগীর ওজনের মতো শারীরিক অবস্থার উপস্থিতি। যদিও কিছু রোগীর সুস্থ হতে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে । কোনো অন্তর্নিহিত জটিলতা নেই এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার জন্য সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির খরচ নির্ভর করে কোন বিষয়গুলোর ওপর?

    উত্তর : অস্ত্রোপচারের খরচ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; যেমন ইমপ্লান্টের ধরন ও ব্র্যান্ড, অর্থোপেডিক সার্জন ও তার দলের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। এছাড়া রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থা যা হাসপাতালে থাকা এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা ও ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপরও খরচ অনেকখানি নির্ভর করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি প্রধান অস্ত্রোপচার যা অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। এছাড়া যে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেখানে প্রি-অপারেটিভ ও পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত দল থাকতে হবে। হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জনের প্রাপ্যতা, যিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন সার্জারি সম্পাদনে দক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে বিশেষায়িত অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, যেমন সিমেন্টের ‘ভ্যাকুয়াম মিক্সিং’, সি-আর্ম, পালস ল্যাভেজ ইত্যাদির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেস্থেটিস্ট, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল স্টাফদের একটি ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত দলের উপস্থিতি জরুরি। ফিজিওথেরাপির জন্য অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে দক্ষ কর্মী এবং হাসপাতাল ছাড়ার পর ব্যায়াম পরিচালনার সঠিক নির্দেশিকা থাকতে হবে। সর্বোপরি ডায়াগনস্টিক, খাদ্যতালিকাগত এবং ফার্মেসির প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক সহায়তা থাকা বাঞ্ছনীয়।

    বি/ এ

  • দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

    ফিচার ডেস্ক:

    রমজানের ঈদের ঠিক ১০ দিন পর কুড়িগ্রামে যাই। সকালে অনেকের কথাবার্তায় ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে কাজ চলছে—নতুন ভবন তৈরি হবে। একই সঙ্গে কয়েকজন নারী ও পুরুষ কাজ করছেন। আমি এগিয়ে গিয়ে কাজ ও মজুরি সম্পর্কে জানতে চাই। দু-তিনজনকে জিজ্ঞেস করলেও তারা এড়িয়ে যান। একজন তো ইশারায় পাশের এক পুরুষকে দেখান। বুঝতে পারি, কথা বললে সমস্যা হতে পারে। আমিও সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।

    অতঃপর মাথায় বোঝা নিয়েই একজন নারী চুপিচুপি বললেন, তাদের (নারীদের) দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা আর পুরুষদের ৫০০। তিনি আবার ইশারা করে বোঝালেন, কথা বললে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেবেন। ভাবলাম, পার্থক্যটা মাত্র ১০০ টাকা। অনেক জায়গায় নারীদের আরো কম মজুরি দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, নারীরা কম কাজ করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কাজের পরিমাণ পুরুষদের চেয়েও বেশি।খালেদা একজন সেবিকা (নার্স)। তিনি কয়েকটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার দুই সন্তান তার কাছেই থাকে। কিছুদিন সন্তানরা গ্রামে নানাবাড়িতে থাকলেও পড়াশোনার কথা চিন্তা করে তিনি তাদের শহরে নিয়ে আসেন।

    খালেদা বর্তমানে একজন সিনিয়র সেবিকা। তিনি একটি নতুন ও নামকরা হাসপাতালে কর্মরত। নতুন হাসপাতাল হওয়ায় সেখানে অনেক সেবিকা নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন তার বেতনের চেয়ে দ্বিগুণ। অথচ খালেদার অভিজ্ঞতাও আছে এবং তিনি সিনিয়র।

    অন্যদের বেতনের পরিমাণ শুনে তিনি অবাক হন। এ বিষয়ে অফিসে কথা বললে তাকে বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। দুই মাস পর তার বেতন বাড়ানো হলেও, সেই নামকরা হাসপাতাল থেকে আসা সেবিকাদের বেতন আরো দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করা হয়।

    পরে অফিসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খালেদা নিজের চাকরি হারান। খালেদার অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের সিভি রয়েছে; তাকে যে বেতন দেওয়া হয়, সেই বেতনে তারা নতুন দুজন কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে।

    নন-এমপিওভুক্ত একটি স্কুলে চার বছর ধরে চাকরি করেন দিলারা। এরই মধ্যে তার বিয়ে হয়। সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে এলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন—ছুটিতে গেলে চাকরিটি থাকবে তো? পরে তিনি জানতে পারেন, স্কুল থেকে তিনি তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। তবে ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে পারলেও সেই সময়ের কোনো বেতন পাবেন না; আগের বেতনে চাকরি চালিয়ে যেতে হবে।

    সব দিক বিবেচনা করে তিনি ভাবলেন, খারাপের মধ্যেও কিছুটা ভালো আছে। সেই অনুযায়ী তিনি ছুটিতে যান এবং তিন মাস পর আবার কাজে যোগ দেন। ঘরে মা থাকায় সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব মায়ের ওপর দিয়ে তিনি চাকরিতে ফিরতে সক্ষম হন।

    তবে দিলারার মতো সুযোগ তামান্না পাননি। তিন মাসের সন্তান রেখে কাজে ফেরার মতো পরিস্থিতি তার ছিল না। ফলে তিনি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। পরে দুই বছর পর নতুন বেতনে (অর্থাৎ, শুরুতে যে বেতন দেওয়া হয়) তিনি একই স্কুলে আবার যোগ দেন।

    একজন নিয়োগদাতার অধীনে যারা শ্রম দেন, তারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত। অথচ আমাদের দেশে বেশির ভাগ নিয়োগদাতাই এই শ্রম আইনের অনেক কিছুই মানেন না। শ্রমিকদের একটি বড় অংশও তাদের শ্রম ও মজুরি-সংক্রান্ত অধিকার সম্পর্কে অবগত নন।

    বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্পবিরোধ সৃষ্টি ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ, চাকরির পরিবেশ এবং শিক্ষানবিসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়—সবই শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত।’

    প্রতিবছর মে দিবস পালিত হয়। তিনশ পঁয়ষট্টি-ছেষট্টি দিনের মধ্যে মাত্র এক দিনই মে দিবস, কিন্তু যাদের দাবি আদায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলতে এই দিবস পালিত হয়, তারা প্রতিদিনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। কারখানার মালিক, বিলাসবহুল কোম্পানির শিল্পপতি এবং রাজনৈতিক নেতারা মে দিবসে সমাবেশে দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণের কথা বলে হাততালি পান; কিন্তু সারা বছর শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য দিতে গিয়ে তারা নানা অজুহাত তুলে ধরেন।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ১৮০০ শতকে বিশ্বে একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। সে সময়ের আগে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিকে দৈনিক ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করাত। এতে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে মালিকরা বিদ্রোহী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে। এই শ্রমিক আন্দোলনে অনেক শ্রমিক প্রাণ হারান। তাদের মূল দাবি ছিল—একজন শ্রমিক দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজ করবেন। মালিকরা এই দাবি উপেক্ষা করায় ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকায় শ্রমজীবী মানুষ ধর্মঘটের ডাক দেয়, যার প্রাণকেন্দ্র ছিল শিকাগো শহর।

    ১৮৮৪-৮৫ সালের দিকে মন্দাভাবের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। শিকাগো শহরের আন্দোলনে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শ্রমিক যোগ দেন। ৩ মে আন্দোলনটি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। সে সময় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে ছয়জন শ্রমিক নিহত হন।

    শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ৪ মে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ওইদিন শিকাগো শহরে আরো চার শ্রমিক নিহত হন এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ৯ অক্টোবর আরো ছয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে শ্রমিকদের আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মালিক পক্ষ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

    ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়, শিকাগোর আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর ১ মে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এরপর থেকেই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।

    শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন শ্রম আইন প্রণয়ন করা হলেও, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তবে শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা তেমনভাবে ঘোরে না।

    বি/ এ

  • কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং কোরবানির সঙ্গে মিশে আছে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাওসার, আয়াত : ২)

    এ থেকে বোঝা যায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো ইখলাস ও আল্লাহভীতি অর্জন।

    হাদিস শরীফেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১২৩)

    অন্য হাদিসে এসেছে , আদম সন্তানের জন্য কোরবানির দিনের আমলসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো কোরবানি করা। (তিরমিজি)

    ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। এখানে সামর্থ্যবান বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।

    কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু

    ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেই প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুকিম মুসলিম নারী ও পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
    নেসাব হল,  স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

    স্বর্ণ বা রুপার কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন-অতিরিক্ত অন্য বস্তুর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাহলে কোরবানী ওয়াজিব হবে।

    স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমি এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র—সবই কোবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল মুহিতুল বুরহানিতেও এই মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া (হাওল) শর্ত নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

    বি/ এ

  • নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নিউজ ডেস্ক :

    নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

    আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

    সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।

    শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।

    তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।

    বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।

  • ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ডেস্ক নিউজঃ

    উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

    শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

    মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

    তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

    ২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

    এম কে

  • বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাশেদুল ইসলাম (২৫) পাটগ্রাম উপজেলা বাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ডাংগাটারী বিওপি ক্যাম্পের অধীন ৮০১/১১ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাশেদুল ইসলাম। এ সময় ভারতীয় ৩০ বিএসএফের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) বর্ডার গার্ড অধিনায়ক সেলিম আল দীন বলেন, আটক বাংলাদেশিকে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এম কে