ক্যাটাগরি ফিচার

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    বিডি নিউজ ডেস্ক-

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    ‎অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    ‎সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    ‎বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    ‎গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    ‎স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    ‎মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ‎১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    ‎শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

    এ/আর

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

     

     

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ডেস্ক নিউজ

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের 
    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।
    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।

    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।

    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।

    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাঘা শাহী মসজিদ

    ১৫২৩-১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে রয়েছে প্রাচীন এই স্থাপত্যটি।

    পুরো মসজিদজুড়ে অপরূপ কারুকাজ আর টেরাকোটার নকশায় সুসজ্জিত ১০ গম্বুজের মসজিদটিতে রয়েছে পাঁচটি দরজা। মাঝখানের দরজার ওপর ফারসি হরফে একটি শিলালিপি লেখা রয়েছে, যা প্রধান ফটক থেকে অপরূপ নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের ভেতরে টেনে। মসজিদটির চার কোনায় চারটি চৌচালা গম্বুজ, ভেতরে ছয়টি স্তম্ভ। রয়েছে চারটি অপূর্ব কারুকার্যখচিত মিহরাব। মিহরাবের নকশায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আম, গোলাপ ফুলসহ নানা রকম নকশা রয়েছে।

    ১৫২৩-২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলার স্বাধীন সুলতান নুসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সামনে খনন করেছিলেন প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর সুবিশাল দিঘি। রয়েছে আউলিয়াদের মাজার, মূল দরগাহ শরিফ ও জাদুঘর।

    স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন বাঘার এই মসজিদটি দেখতে। মসজিদটি সমতল থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু বেদির ওপরে। মসজিদটির আঙিনা ঘিরে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে দুটি প্রবেশপথ। প্রবেশপথ দুটির দুপাশেই রয়েছে দুটি ফটক। দক্ষিণ পাশের ফটকটি ঠিক থাকলেও উত্তর পাশেরটির অবস্থা আর আগের মতো নেই।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেয়াল চওড়ায় ৮ ফুট। গম্বুজের ব্যাস ২৪ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট। এ ছাড়া সবখানেই টেরাকোটার নকশা। ২০০৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুরূপ নকশা প্রতিস্থাপন করেছে। সিরাজগঞ্জের টেরাকোটা শিল্পী মদন পাল কাজটি করেছিলেন। ৫০১ বছরে পা দেওয়া মসজিদটিকে দেখতে এখনো দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। ইতিহাস খুঁজতে আসেন ইতিহাসবিদেরাও। প্রাচীন অন্যতম এই নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন সবাই।বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে আসা দর্শনার্থী সেকাদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাঘা মসজিদের ছবি দেশের ৫০ টাকার নোটে রয়েছে। একই সঙ্গে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটেও দেখা যায়। প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটি অনেক সুন্দর। না দেখলে বলা যাবে না এটি কত সুন্দর। মসজিদটি ঘিরে যে ধরনের টেরাকোটার নকশা রয়েছে; তা এই যুগের স্থাপনায় দেখা যাবে না। আসলে সেই সময় প্রযুক্তির ছোঁয়া না থাকলেও এত সুন্দর কাজ সত্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

    বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে এসে মেয়ের রোগমুক্তির আশায় আল্লাহর কাছে দোয়া করে মসজিদে মুরগি দিলেন সালমা খাতুন। শুধু সালমা খাতুন নয়, তার মতো অনেকেই মুরগি দিচ্ছেন। এ ছাড়া মসজিদের পূর্বদিকের পুকুর পাড়ে বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে ও বিভিন্ন ইচ্ছা পূরণের আশায় আসা অনেকেই রান্না করে মানুষদের খাওয়ান।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের যানবাহনগুলো মসজিদের দক্ষিণ পাশে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রয়েছে মসজিদ ঘিরে আউলিয়াদের মাজার,
    দরগা শরিফ ও জাদুঘর। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে হজরত শাহ দৌলা (র.) এবং তার পাঁচজন সঙ্গীর মাজার। মাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে হজরত শাহ (র.)-এর পরিবারের সদস্যদের মাজার। মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে দক্ষিণ-পশ্চিমে দুজন বাগদানি দরবেশের মাজার। এ ছাড়া এখানে আসা জহর খাকী পীরসহ আরও অনেক সাধকের মাজার রয়েছে চারপাশে। আর পাশেই রয়েছে নারী মসজিদ। দর্শনার্থীরা বাঘা মসজিদ ছাড়াও আশপাশের আউলিয়াদের মাজার ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সুবিশাল দিঘীর পাড়ে বসে অনেকেই সময় কাটান।

    মসজিদের মুয়াজ্জিন শাফিকুল ইসলাম প্রায় ১০ ধরে আছেন বাঘার শাহী মসজিদে। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বছরের এই সময়টায় প্রচুর মানুষ (দর্শনার্থী) আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে। এ ছাড়া অনেক পুরোনো এই মসজিদে জুমার দিনে নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ আসেন।

    প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের বাঘা জাদুঘর মডেলার (সংযুক্ত) মো. এনায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৫০১ বছর চলছে রাজশাহীর বাঘা মসজিদের বয়স। এখানে একটা জাদুঘর রয়েছে। এটি দেখতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। তবে বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘায়।
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব এবং খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল আলম বলেন, বাঘা শাহী মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। তারাই মসজিদের দেখভাল করেন। এটি প্রাচীনতম একটি মসজিদ। প্রায় ৫০০ বছরের বেশি বয়সের মসজিদ এটি। বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে দেখা যায় প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন শাহী মসজিদটিকে।

    বাঘা শাহী মসজিদের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. নাহিদ সুলতানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৫২৩ থেকে ১৫২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর। প্রতি বছরই প্রচুর দর্শনার্থী আসেন বাঘা শাহী মসজিদ দেখতে।

    বাঘা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মসজিদটির বয়স ৫০১ বছর হয়েছে। ওজুখানাসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আরও কাজ চলমান। মসজিদ থেকে যে টাকা উঠে সেগুলো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়।

    যেভাবে যাবেন

    বাঘা মসজিদ দেখতে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যারা রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের বাসিন্দা তাদের রাজশাহী শহরের বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাঘা উপজেলা সদরে যেতে হবে। এ ছাড়া যারা নাটোর জেলা হয়ে আসতে চান তাদের রাজশাহী শহরে না এলেও হবে। শহরের অদূরে পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার হয়ে দক্ষিণে চারঘাটের রাস্তায় যেতে হবে। চারঘাটের পরের উপজেলা বাঘা।

    এ ছাড়া পুঠিয়া উপজেলা সদর থেকেও

    যেকোনো যানবাহনে সড়কপথে বাঘা শাহী মসজিদে যাওয়া যায়। তবে কেউ চাইলে ট্রেনেও আসতে পারেন মসজিদটি দেখতে। সেক্ষেত্রে দর্শনার্থীকে এমন ট্রেনে উঠতে হবে যে ট্রেন আড়ানী স্টেশনে থামবে। এরপর এই স্টেশন থেকে ভ্যান, অটোরিকশা বা সিএনজিতে যেতে হবে বাঘা উপজেলা সদরে। সেখান থেকে খুবই কাছে বাঘা শাহী মসজিদ।

  • ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    কৃষি ডেস্ক

    কেউ খেতে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কোথাও তোলা হচ্ছে কাঁচা-পাকা টমেটো। চাষিরাও এসব টমেটো বাছাই করে খেতের পাশেই স্তূপ করছেন। সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আমেজ। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নের গ্রামগুলোর বর্তমান চিত্র এটি। এই এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

    অন্য বছর অক্টোবরে টমেটো চাষ শুরু হতো। কারণ, এ সময়টাতে সাধারণত বৃষ্টি হয় না। তবে এবার আগস্টেই শুরু হয়েছে টমেটো চাষ। বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি রোধে চাষিরা রেখেছেন বিশেষ ব্যবস্থাও। পানি জমে যেন টমেটোগাছের ক্ষতি না হয় এ জন্য খেতজুড়ে কেটেছেন সেচের নালা। আর এটিই সাফল্য এনে দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা। অন্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন আর বাজারদর বেশি থাকায় কৃষকের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

    খেত থেকে সংগ্রহ করা টমেটো বিক্রির জন্য বাছাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকায়ছবি: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সৌজন্যে

    গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।সরেজমিন দেখা যায়, সারি সারি লাগানো গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা টমেটো। প্রতিটি খেতের মধ্যেই নালা করেছেন চাষিরা। এ নালা যেমন বর্ষায় পানিনিষ্কাশনের কাজে আসে তেমনটি শুষ্ক মৌসুমে নালা থেকে গাছের গোড়ায় পানিও দেওয়া হয়। অনেকের খেতের টমেটো তোলা শেষ হয়েছে। তাঁরা নতুন করে আবার টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।সম্প্রতি গন্ডামারা ইউনিয়নের কেজি স্কুল এলাকায় কথা হয় চাষি আবদুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচ কানি (৪০ শতাংশে ১ কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় অন্তত চার লাখ টাকা লাভ হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ করতাম। তবে তেমন লাভ হতো না। ভবিষ্যতে এ এলাকায় টমেটো চাষ আরও বাড়বে।’

    ছবিতে একটি টমেটৌ ক্ষেত

    একই এলাকার আরেক চাষি আজগর আলী ৮ কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। চার মাস আগে এসব টমেটো চাষ করা হয়। এ এলাকার জমিতে লবণাক্ততা রয়েছে। এখানে এত টমেটো ফলন হবে ধারণা করতে পারিনি।’

    উপজেলার চরপাড়া এলাকায় গিয়ে কথা হয় দশম শ্রেণির ছাত্র সিফাতুল ইসলামের সঙ্গে। সে বাবার সঙ্গে টমেটো চাষ করেছে। জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমরা এক কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।’

    জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বাঁশখালী উপকূলে টমেটো চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চাষিরা। গ্রামের পর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষ হচ্ছে । প্রতিবছরই চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।’

  • সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    ডেস্ক নিউজ:

    ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আর ৩ কিলোমিটার চওড়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নতুন চরটির নাম ডুবোচর। স্থানীয় মানুষেরা একে ডোবাচর বা ডুবাগা বলে। ডুবাগা শব্দের অর্থ—যে চর প্রবল জোয়ারে ডুবে যায়। চরটিতে এর আগে মাছ চাষের জন্যই কৃষকেরা ধানের আবাদ করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ধানের ফলন কৃষকের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। মাছের পাশাপাশি ধান থেকেও ভালো আয়ের আশা করছেন তাঁরা।

    ডুবোচর ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি রঙের পাকা ধানের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত ধান কাটতে। কেউ মাঠ থেকে ধান তুলে এনে স্তূপ সাজাচ্ছেন। কেউ কেউ ট্রাক্টরে ধান বোঝাইয়ে ব্যস্ত। কৃষকদের মতে, চরের প্রায় ৫০০ কানি (১৬০ শতকে ১ কানি) আবাদি জমিতে এ বছর ধান উঠবে অন্তত ৩০ হাজার মণ বা ১ হাজার ২০০ টন। কৃষকেরা যেটিকে বাম্পার ফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, ডোবাচরে এ বছরই প্রথম এত বেশি পরিমাণে চাষ হলো। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে বাজিমাত হয়েছে বলেই এবার চাষ বেড়েছে বহুগুণে। আগামী মৌসুমগুলোতে চাষ উত্তরোত্তর বাড়বে বলেই তাঁদের ধারণা। আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি বিভাগের কোনো মাঠ

    কর্মকর্তার দেখা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকের। সন্দ্বীপের কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ডুবোচরে তাঁর যাওয়া হয়নি, তবে সেখানকার আমনের ফলন সম্পর্কে তিনি জানেন।

    বাড়ছে ধানের চাষ

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। চরের মধ্যভাগে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন মো. নুরুল ইসলাম (৫৫)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চরের চাষ এক হাজার কানি ছাড়িয়ে যাবে।

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

    জমিতে বিছিয়ে রাখা ধানের ছড়া স্তূপ করছিলেন মো. নুর উদ্দিন (৫০)। নুর উদ্দিন এ বছর ১২ কানি জমিতে চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি ২০ কানি জমিতে আমন লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন। নুর উদ্দিন, নুরুল ইসলামদের মতো প্রায় সব চাষির আশা, তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি আমনের চাষ করবেন।

    ধানে আর মাছে সাফল্য

    ডুবোচরে গিয়ে দেখা গেল, মাঠজুড়ে সোনালি ধান নিয়ে কৃষকের তৎপরতা। তবে কেবল ধান নিয়েই এখানে কৃষকের কারবার থেমে নেই। ধানের জমিতে মাছও চাষ করছেন। অনেক কৃষক মাছ চাষ করবেন বলে ধান লাগিয়েছিলেন। দুটিতেই এসেছে সাফল্য।

    তালিম হোসেন পূর্বপুরুষের জমিতে ফিরে চাষ শুরু করেছেন। ১২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। একই জমিতে মাছও ছেড়েছিলেন। এবার তিনি মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো। ভবিষ্যতে চাষ আরও বাড়াবেন। মাছের বিক্রিও বাড়বে বলে আশা তাঁর।

    ডুবোচরে ফলন বেশি

    জোয়ারের সঙ্গে ডুবোচরে পলি জমা হয় প্রতিবছর। আর এ কারণেই এখানকার জমি উর্বর। পাশের সবুজচর ও স্বর্ণদ্বীপের জমিতে এখন আর নতুন পলি জমে না। যত দিন পলি জমার সুযোগ পাবে, তত দিন উর্বরতা থাকবে অক্ষুণ্ন। ধানের ফলন যেমনি বেশি হবে, তেমনি মাছের আনাগোনাও থাকবে বেশি। এমন তথ্যই দিয়েছেন কৃষকেরা। তালিম হোসেন স্নাতক শেষ করে এখানে চাষে নেমে উপার্জন করছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, পলি জমতে পারে বলেই বাম্পার ফলন হচ্ছে আমনের। ক্রমে চর উঁচু হয়ে জোয়ারে ডুবে যাওয়া বন্ধ হবে। তখন মাছ আহরণ আর ধানের ফলনে ভাটা পড়বে।

    বি / এ

  • যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    যে গোনাহের কারণে ভূমিকম্পে ধ্বংস হয় কোরআনে বর্ণিত সেই জাতিটি

    ডেস্ক নিউজঃ

    শহিদুল ইসলাম কবির
    ইতিহাসের পাতা এবং কোরআনের আদ্যোপান্ত বিবরণে মানবজাতির সামনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বহু জাতির উত্থান-পতনের গল্প। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সঠিক পথের প্রতি আহ্বান করা এবং অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা। এমনই একটি জাতি হলো কওমে সামূদ, যাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রচণ্ড ধ্বনির মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন। কওমে সামূদ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী একটি জাতি। পাহাড় কেটে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করত, উন্নত নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের জন্য তারা প্রসিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাদের কাছে হযরত সালেহ আ:-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদে ডেকে আনলেন, অন্যায়-অবিচার পরিহার করতে বললেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানালেন। কিন্তু এই জাতির অধিকাংশ মানুষ নবীর ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দেয়।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়—মিরাকল উষ্ট্রী। এটিকে কষ্ট দেয়া বা হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী সম্প্রদায় নবীর সতর্কতা অমান্য করে ওই উষ্ট্রীকে হত্যা করে। এটাই ছিল তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাজিল হওয়ার কারণ।

    পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ভূমিকম্প (আর-রজফাহ) এবং আকাশবিদারী প্রচণ্ড ধ্বনি (আস-সাইহাহ)। মুহূর্তের মধ্যেই তারা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের বিলাসী জনপদ এক ভয়াল নিস্তব্ধতায় পরিণত হয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে—

    ‘অতঃপর তাদেরকে ভূমিকম্প গ্রাস করল; ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’ (সূরা আল আ’রাফ, আয়াত : ৭৮)

    ‘ভয়াবহ শব্দ তাদেরকে গ্রাস করল; তারা তাদের ঘরে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।’ (সূরা হুদ, আয়াত : ৬৭)

    কওমে সামূদের এই পরিণতি মানবইতিহাসে সতর্কবার্তা হিসেবে চিরস্মরণীয়। উন্নয়ন, শক্তি কিংবা সম্পদ কাউকে রক্ষা করতে পারে না, যদি ন্যায়-নীতি, সত্য এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে যায়।আজকের পৃথিবীতেও ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যত শক্তিশালীই হোক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছার কাছে সে সর্বদাই অসহায়। কওমে সামূদের ঘটনা তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়; বরং মানুষের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

    সাম্প্রতিক সময়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪টি ভূমিকম্পের ঘটনা আমাদেরকে সতর্ক করিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে মহান আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলতে হবে এবং রাসূলে কারীম সা:-এর দেখানো পথে বাকি জীবন পরিচালনা করতে আবারো অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। অতীতের গুনাহের থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক পরিমাণে তাওবা ইস্তেগফার পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

    লেখক : সম্পাদক, মাসিক মদীনার পয়গাম

  • শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    শীতের রোগ মোকাবিলায় পালংশাক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    বাজারে এখন শীতের নানারকম শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে। এই সময় বিভিন্ন রকম রোগের প্রকোপও বাড়ে। শীতে সুস্থ থাকতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সেক্ষেত্রে ডায়েটে রাখতে পারেন পালং শাক। নিয়মিত এই শাক খেলে নানা ধরনের উপকারিতা মেলে। যেমন-

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। এর ফলে সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। পালং শাকের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট দেহের প্রদাহ মোকাবিলায় বিশেষ উপকারী।

    হজমশক্তি বাড়ায়: পালং শাকের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পালংয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ় এবং উদ্ভিজ্জ এনজ়াইম থাকায় খাবার সহজেই হজম হয়।

    ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: পালং শাকে থাকা ভিটামিন ই এবং আয়রন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই শাকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। পালং শাকে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন চোখের নীচের ফোলা ভাব কমায়। সেই সঙ্গে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

    ক্লান্তি দূর করে: পালং শাকে থাকা আয়রন, ফোলেট এবং ম্যাগনেশিয়াম দেহে শক্তি বাড়ায়। এর ফলে ক্লান্তি দূর হয়।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ করে : শীতের সময়ে বিভিন্ন নিমন্ত্রণ- অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া বেশি হতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে পালং শাক। কম ক্যালোরি এবং ফাইবারে পূর্ণ হওয়ায় এই শাক ওজন বৃদ্ধি করে না।

  • শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    শীতে কিডনিতে পাথর জমা এড়াতে মানতে হবে যে নিয়ম

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শীতের সময় যতই আরামদায়ক মনে হোক, কিডনির জন্য কিন্তু এই মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পাথর বা স্টোন হওয়ার প্রবণতা শীতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো শরীরের ডিহাইড্রেশন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তেষ্টা কম লাগে, ফলে পানি গ্রহণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর ফলেই মূত্রের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে।

    এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ইনসাইট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতার দিকে যায়। এর ফলে মূত্র গাঢ় হয়ে ওঠে, যা কিডনিতে পাথর তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিডনিতে স্টোন হওয়ার হারও ওঠানামা করে।

    চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রাণিজ প্রোটিন এবং ডিহাইড্রেশন— এই তিনটি বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একই কথা বলা হয়েছে ক্লিনিক্যাল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রেও।
    তাহলে কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?

    ১) দিন অন্ততপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। জলের পাশাপাশি, ডিটক্স পানীয়, হার্বাল টি কিংবা ইনফিউসড ওয়াটার খেলেও উপকার মিলবে।

    ২) অতিরিক্ত সোডিয়াম রয়েছে এমন খাবার বা পানীয় খাওয়া চলবে না। কারণ, রক্তে সোডিয়ামের উপস্থিতি কিডনিতে স্টোন হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা-ও বাদ দিতে হবে।

    ৩) কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা রুখতে রোজ সাইট্রাস ফ্রুট বা লেবুজাতীয় ফল খেতে হবে। রক্তে থাকা অতিরিক্ত খনিজ শোষণ করে কিডনি সুরক্ষিত রাখবে ভিটামিন সি। পাশাপাশি মূত্রাশয়ের সংক্রমণও রুখে দিতে পারে।

    ৪) সামগ্রিকভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে হলেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। কারণ, স্থূলত্ব বা দেহের অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য খারাপ। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলেও কিন্তু কিডনির ওপর চাপ পড়ে।

    সূত্র : এই সময় অনলাইন
    বি/এ

  • বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা

    ডেস্ক নিউজ

    বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী। তিনি বলেছেন, ‘বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। এটি তার আগাম বার্তা।’

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেন

    মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ‘সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আশপাশে সবশেষ বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে।’

    সচেতনার বিষয়ে তুলে ধরে মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, ‘বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে, এটিই স্বাভাবিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে যে ভবনগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বেড়েই চলেছে।’

    এদিকে রাজধানীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আকস্মিক একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

    শুক্রবার সকালে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২ শতাধিক আহত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নগরীর বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সার্বিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জরুরি এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ বা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

    ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য আদান-প্রদান ও জরুরি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরগুলো

    মোবাইল : ০১৭০০-৭১৬৬৭৮
    ফোন : ০২-৪১০৫১০৬৫

    বি/এ