ক্যাটাগরি ফিচার

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদ আল হারামে

    ইসলামী ডেস্ক:

    ফুল ফোটার মতই ছাতাগুলোতে ভাঁজ খুলে যায় এবং বন্ধও হয়ে যায়। এ ভাঁজ খোলা ও বন্ধ হওয়ার যথাযথভাবে হয় এবং একটির সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষের ঘটনা এড়িয়ে তা করা হয়।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা তৈরি করছে সৌদি আরব। আগামী বছর মসজিদ আল হারামে স্থাপন করা হবে ওই ছাতা। হাজিদের আরামের জন্য স্থাপন করা হবে ঐ ছাতা। ছাতাটির আয়তন হবে দৈর্ঘ্যে ৫৩ মিটার আর প্রস্থে ৫৩ মিটার। গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে ওই ছাতা পবিত্র হজ পালন করতে আসা লাখো হজযাত্রীকে রক্ষা করবে।

    মসজিদ আল হারামের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আল-আহমাদী বলেন, ‘ছাতাগুলো মসজিদের আঙিনা ও ছাদে স্থাপন করা হবে।’ মসজিদের ভেতরের অংশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকায় ছাতার বাইরের অংশ ঠান্ডা হবে বলে জানান তিনি।

    জানা যায়, প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ২০১৪ সালে মদীনায় মসজিদে নববীর অনুরূপ মক্কায় মসজিদে হারাম আঙিনায় ৩শ’ ছাতা নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। ক’ বছর ধরে মসজিদের পরিবর্ধনের কাজ চলছিল।

    মুসুল্লিরা হারামের বাইরে তপ্ত গরমে সালাত আদায় করে থাকেন। তাই হারামের এলাকা সম্প্রসারণসহ মসজিদের আঙিনায় ৩শ’র বেশি ছাতা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ছাতাগুলো স্হাপন সম্পন্ন হলে মসজিদ চত্বরের ২ লাখ ৭৫ হাজার বর্গমিটার উন্মুক্ত জায়গা ছাতার আওতায় আসবে। এর আগে হাজীদের সুবিধার্থে মসজিদে নববীতে প্রায় আড়াইশ ছাতা স্হাপন করা হয়েছিল।

    ছাতা ভাঁজ হওয়া বা বন্ধ করার স্বয়ংক্রিয় নীরব কর্মসূচির ফলে দৈনন্দিন তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়। প্রতিদিন ভোরে ঈষৎ আলো বিশিষ্ট ছাদ তৈরি করার জন্যে খুলে দেয়া হয় এবং তা’সন্ধ্যায় অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে বন্ধ করা হয়।

    গ্রীষ্মে উন্মুক্ত ছাতাগুলো দিনের বেলায় ছায়া দেয় এবং রাত্রীকালীন সময়ে বন্ধ করা হলে পাথেরের মেঝে কর্তৃক সেগুলোকে বাড়তি তাপ শুঁষে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

    শীতে এই প্রক্রিয়ার উল্টোটা চলে। যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক নিচে নেমে যায়, তখন উষ্ণতার জন্যে শীতকালীন সূর্যের আলো যাতে দিনের বেলায় উন্মুক্ত দেখা যায় সেজন্যে ছাতা বন্ধ রাখা হয়। মসজিদ পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এর ফলে হারাম চত্বরের তাপমাত্রাও নিচে নেমে যায় মসজিদে হারামের চত্বরে এ ছাতার ফলে হাজী ও মুসল্লিদের আরো অধিকতর সুবিধা হবে।
    বি/এ

  • আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    ডেস্ক নিউজ:

    বিপ্লবী ও বিদ্রোহী মীর নাসির আলী বেশি পরিচিত শহীদ তিতুমীর হিসেবে। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি, তিনি বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তার বাঁশের কেল্লা থেকে। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মীর নিসার আলী তিতুমীরের নাম উজ্জল হয়ে আছে। আজ এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি সর্বপ্রথম ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন।গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। কোরান ও হাদিস বিষয়ে অল্প বয়সেই তিনি পাণ্ডিত্য লাভ করেন।পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় অবস্থানকালে তিতুমীর মুক্তি সংগ্রামের পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন।

    তিতুমীর জীবন শুরু করেছিলেন একজন সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারক হিসাবে। তখন মুসলমান সমাজে যেসব বিদআত (এমন রীতি যা ইসলামসম্মত নয়) এবং শিরক্ (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা) ঢুকে গিয়েছিলো, সেগুলোকে দূর করার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন।

    কিন্তু এই ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট পরে একটা অর্থনৈতিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী প্রেক্ষাপটে পরিণত হয়েছিলো।

    তিতুমীর হিন্দু ও মুসলমান কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত করেন। ২৪ পরগণা ও নদীয়ার অনেক কৃষক তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    কৃষকদের নিয়ে তিতুমীরের আন্দোলন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমীরের আন্দোলন, সংগ্রাম, কর্মকাণ্ড এবং জীবনাদর্শ সব কিছুকেই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে ঔপনিবেশিক পটভূমিতে।

    এই বাংলায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশী যুদ্ধে জয়ী হবার সুবাদে প্রথম রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই ক্রমাগত সারা উপমহাদেশে তাদের রাজ্যসীমা সম্প্রসারিত হয়। আবার এই বাংলা থেকেই ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। একাধিক এবং অসংখ্য প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে বাংলায় ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে।

    ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলোর পটভূমিতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে তিতুমীরের সংগ্রাম।

    প্রজাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিকার তিতুমীর করতে চেয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে ও সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বারাসাতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে এটাই ছিলো তার প্রথম বিদ্রোহ।

    তিনি ২৪ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহ ‘বারাসাতের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে ৮৩ হাজার কৃষক সেনা তিতুমীরের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন।

    তার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিলো উপনিবেশ বিরোধিতায়। এবং এই উপনিবেশ বিরোধিতা করতে গিয়ে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজের শক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে, তিনি কখনও ভাবেননি যে তিনি অত্যন্ত অসচ্ছল, ক্ষুদ্র একটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার বিপরীতে আছে বিরাট, বিশাল, শক্তিধর ইংরেজ রাজশক্তি। বারাসাত বিদ্রোহের পর তিতুমীর বুঝতে পারেন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সেখানে অস্ত্র জমা করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।

    তার আন্দোলনের একটি বড় প্রতীকী তাৎপর্য ছিলো অন্যায়, এবং শাসকবর্গের অসঙ্গত শোষণের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা।

    তিতুমীরের আন্দোলনের দ্বিমাত্রিক একটা তাৎপর্য রয়েছে। তিনি শুধু উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন একথা বললে তার অবদানকে কিছুটা সীমিত করা হয়, খণ্ডিত করা হয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন ও সংগঠন- সেসব ব্যাপারে তার যে অবদান ছিলো, ঐটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী ও বন্দুকধারী সৈন্যদের একটি বিশাল বাহিনী পাঠায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি তিতুমীরের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে। নারিকেলবাড়িয়ায় ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ভীষণ যুদ্ধ হয়।

    ব্রিটিশ সৈন্যরা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর তার অনুসারীদের অভয় দিয়ে বলেন মৃত্যুকে ভয় পলে চলবে না। এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ দেশ উদ্ধার করবে। এই লড়াইয়ের পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।

    ইংরেজদের কামানের গোলাবর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর ও তার চল্লিশজন সঙ্গী যুদ্ধরত অবস্থায় সেই বাঁশের কেল্লাতেই প্রাণ হারান।

    তিতুমীরের এই আন্দোলন, দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ সব স্বাধীনতাকামীদের মনে প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
    বি/এ

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে অবস্থিত কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’। এই সংগঠনটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ কাজ করে যাচ্ছে এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

    সংগঠনটির কার্যক্রমে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামের কৃষকদের কাছে, মাঠে গিয়ে তাদের বই পড়ে শুনিয়ে আসেন। জানান চাষের আধুনিকতা, জীবনমান উন্নয়নের গল্প, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপায়, সাহিত্য, ভ্রমণসহ নানাবিধ বিষয়ে। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন; যা জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করছে গ্রামের নিরক্ষর চাষি এবং সাধারণ মানুষদের।

    এছাড়া বর্তমানে তীব্র তাপদাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টি বা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কৃষিতে। আলাদা সেচের ফলে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত খরচ। এ নিয়ে ফসল চাষ করেও ক্ষতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। জলবায়ুর এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করে কৃষকদের উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছে এই সংগঠন। ফসলের মাঠ ঘুরে কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করেন এবং পরামর্শ দেন।

    কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মিরপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক ছামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা এসে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন। বই পড়ে শোনান কিভাবে ফসলের ভালো উৎপাদন করা যাবে। এটা আমাদের কৃষকদের জন্য অনেক বড় উপকার। আমরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। আর জমিতে পার্চিং করা সহ ক্ষেতের আইলে বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এখন ফসলের মাঠ দেখতেও আরও সুন্দর লাগে।

    এদিকে এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এই সংগঠনটি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, নেতৃত্ব শেখানো এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী এবং সদস্যদের। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

    এ বিষয়ে সংগঠনের সদস্য সাদিয়া খাতুন বলেন, আমরা যখন কৃষকদের বই পড়ে শোনায়, তার আগে নিজেরা সেই বইটি ভালো করে পড়ি; তা না হলে তো আমরা সেটি পড়ে কৃষকদের বোঝাতে পারবো না। এদিক থেকে আমাদের উন্নয়নটা অনেক বেশি। আমরা পাঠ্যক্রমের বাইরেও অনেক বিষয়ে জানতে পারছি। আর সব থেকে বড় ব্যাপার হলো এগুলো আমরা শুধু পড়িই না, বরং তা আত্মস্থ করি। কেননা সেগুলো আমাদের আবার কৃষককে বোঝাতে হয়। অনেক সময় একটা বই পড়ার পরেই আমরা তা ভুলে যায়, কিন্তু এভাবে চর্চার ফলে আমরা সহজে ভুলি না। ফলে বিভিন্ন বিষয় খুব ভালোভাবে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অন্যদের তুলনায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারছি। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

    কৃষকের বাতিঘরের স্বেচ্ছাসেবী মো. শোয়েব মল্লিক বলেন, আমি আগে কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি কৃষকের বাতিঘরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর এখানে থেকে আমাকে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমি এখন কম্পিউটারে দক্ষ। এখন নিজে একটা কম্পিউটার কিনে সংগঠনের কাজেও সহায়তা করি, অন্যদেরও কম্পিউটার শিখতে সাহায্য করি।

    কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কৃষি, ব্যবসা, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছে কর্মসংস্থান।

    সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে মিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, কৃষকের বাতিঘর সংগঠন আমাদের উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকশই কৃষিতে উদ্বুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের বাতিঘর সংগঠন এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই কৃষি সম্পর্কে সচেতন করছে। এছাড়াও সংগঠনটি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমি আশা করি, কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের এই উদ্যোগ আমাদের উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    সার্বিক বিষয়ে কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোক্তা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রম কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কৃষকদের ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামে বসবাসকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, এবং কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিশ্বাস করে যে দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। সূত্রঃ দৈনিক আমাদেরসময়

    বিডিটাইমস/এআর/এনই/

  • মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    ডেস্ক নিউজ:

    মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং মধ্যপন্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় ইসলাম।  শক্তি, অর্থ, সময় এবং সুযোগ—এ সব কিছুর মধ্যে মিতব্যয়ী হওয়া, অপব্যয় ও অতিরিক্ততা পরিহার করা শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য মানবতার সেবায় সব সময় মিতব্যয় ও মধ্যপন্থাকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ইসলাম।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের তাৎপর্য

    ইসলাম ধর্মে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তার বান্দাদের হুকুম দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের সম্পদ, সময় ও শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং কোনো কিছুতেই অতিরিক্ততা বা অপচয় না ঘটায়।

    মধ্যপন্থা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে চলতে পারে এবং একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না বরং সমাজের উপকারে আসে। এটি মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক শান্তি, সামাজিক ভারসাম্য ও দুনিয়া এবং পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

    মিতব্যয় শুধু অর্থের সংরক্ষণ নয় বরং এটি ব্যক্তিগত আচরণ ও আধ্যাত্মিক চরিত্রের একটি পরিচায়ক। ইসলামি শিক্ষা অনুসারে, আল্লাহ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয়, কৃপণতা বা অতিরিক্ত খরচের বিপক্ষে সতর্ক করেছেন। কারণ মিতব্যয়ী জীবনই বরকত আনে এবং একে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    وَ لَا تَجۡعَلۡ یَدَكَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِكَ وَ لَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

    ‘আর তুমি বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না; হলে তুমি তিরস্কৃত ও অনুতপ্ত (নিঃস্ব) হয়ে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৯)

    এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর নিয়ামতগুলো যদি তার নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না হয়, তবে মানুষ বিপদ-আপদ, অভাব-অনটনের সম্মুখীন হয় এবং রিজিকের বরকত চলে যায়।  আর যে ব্যক্তি মধ্যপন্থায় থাকে, সে শুধু নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে না বরং তার আশপাশের পরিবেশেও শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে। তাই মানুষের উচিত, আল্লাহর নিয়ামতসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যাতে অপব্যয় ও কৃপণতা পরিহার করা যায় এবং জীবনে শান্তি ও বরকত আসে।

    রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী এবং ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মিতব্যয়ী জীবনযাপন মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এটি আল্লাহর বরকত অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়।  তিনি বলেছেন-

    ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩০৩)।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অতিরিক্ত খরচ, আর্থিক সংকট, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে। উপরন্তু, এটি পরকালেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের পথ সুগম করে।

    অপব্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

    অপব্যয় শুধু আর্থিক দিকেই ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং এর মাধ্যমে মানুষের রিজিকের বরকতও চলে যায়।  আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

    ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর। তবে অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৩১)

    রাসূলুল্লাহ (সা.)ও নিজ জীবনযাপনে অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন।  একবার তিনি সাদ (রা.)-কে অজুর মধ্যে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন-

    مَا هَذَا السَّرَفُ ‏”‏ فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ‏”‏

    ‘হে সাদ! অপচয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বলেছেন, ‘অজুতে কি অপচয় হয়?’ তখন নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৫)

    মিতব্যয়ী জীবন: দারিদ্র্য মুক্তির উপায়

    যারা উপার্জন ও ব্যয়ে পরিমিতবোধের চর্চা করবে, তারা কখনো অভাবগ্রস্ত হবে না। রাসুল (সা.) হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যারা মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন, তারা কখনো দারিদ্র্যের মুখোমুখি হন না।  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন- ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ৭/৩০৩)

    আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ

    অনেক সময় আমরা খরচের ক্ষেত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, লোকদেখানো খরচ করি, যা পরকালে কোনো লাভ বয়ে আনে না।  হাদিসে এসেছে-

    ‘আল্লাহ আমাদের তিনটি বিষয় পছন্দ করেন—তার ইবাদত করা, তার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। অন্যদিকে, তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন— অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা। ’(মুসলিম ১৭১৫)

    অতএব, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বাবা-মা, ভাইবোন ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করা উচিত, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো অনর্থক খরচ না হয়।  কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ كَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا

    ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৭)

    আসুন, আমরা সবাই ইসলামিক আদর্শে মিতব্যয়ী জীবনযাপন করি।  আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।  দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও বরকত অর্জন করি। মিতব্যয়ী হয়ে  পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

    বি/এ

  • বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পানবাড়িয়া গ্রামের যুবক সবুজ শিকদার (৩৪)। জীবিকার খোঁজে ১৭ বছর গ্রামের বাইরে ছিলেন। গত বছর নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজ ঘরের বারান্দায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। এখন সেই মাশরুমই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছহাক আলী শিকদারের ছেলে সবুজ শিকদার। ২০০৭ সালে জীবিকার খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাটিয়েছেন।

    এক সময় ওষুধের ব্যবসা করলেও, গত বছর তিনি নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সবুজ সাভারের মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে ১২ দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। নিজের ঘরের বারান্দার মাত্র ১২ হাত জায়গায় তিনি ‘মেসার্স সাইবা পিও-টি জাতের মাশরুম’ প্রকল্প চালু করেন। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে ৬২২টি মাশরুম ব্যাগে চাষ করছেন এবং প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি মাশরুম উৎপাদন করতে সক্ষম।

    সবুজ স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন, আর মাশরুম গুঁড়া বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা দরে। তিনি দারাজ, পাঠাও, স্কুট এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাশরুম সরবরাহ করছেন। এছাড়াও ৫০০ গ্রাম ইস্পন প্যাক ২৫ টাকায়, ১ কেজি ৫০ টাকায় এবং ২ কেজির প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

    পানবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সবুজ ভাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আগে কেউ ভাবেনি যে ঘরের বারান্দায় বসেই এত কিছু করা যায়। এখন গ্রামের অনেক যুবকই মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শিরিন বেগম বলেন, মাশরুম চাষ করে সবুজ এখন ভালো আয় করছেন। এমন উদ্যোগে যদি সরকারি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এবং স্বাবলম্বী হবে।

    সবুজ শিকদার বলেন, প্রথমে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। যদি সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় আকারে চাষ করতে পারব। আমার স্বপ্ন অনেক বড়। এই বারান্দার ছোট পরিসর থেকে শুরু করে একদিন আমি এই মাশরুম চাষকে অনেক বড় একটি শিল্পে পরিণত করতে চাই।

    তিনি বলেন, আমি চাই আমার মতো আরও অনেক বেকার যুবক এই মাশরুম চাষে আগ্রহী হোক এবং স্বাবলম্বী হোক। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষকে আমি দেশের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে চাই।

    কচুয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ নাইমুর রশিদ লিখন বলেন, মাশরুম চাষ এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। খুব অল্প জায়গায়, অল্প খরচে এটি চাষ করা যায়। সবুজ যা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই আরও যুবক তার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করুক। কৃষি অফিস থেকে আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি।  মাশরুম পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর

    চাহিদাও হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে। সবুজের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, সবুজের মতো কেউ যদি এই উদ্যোগ শুরু করতে চায়,  তাহলে  প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা যে কোনো সহযোগিতায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    ডেস্ক নিউজ:

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন- ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর, সে এই আমার দেশের মাটি, আমার দেশের পথের ধূলা, খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মাটি যেন কবিদের সেই কথার দৃষ্টান্ত। কারণ এই গ্রামের মাটিতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

    জানা গেছে, মুরারীকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এসব টাইলস তৈরি করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পালপাড়ায়। আগের মতোই মাটি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর উঁচু স্তূপ করে রাখতে হয়। তারপর সেখান থেকে মাটি কেটে কুমাররা পায়ের মাধ্যমে কাদা তৈরি করেন মণ্ড বা খামির। মাটি তৈরির পর শিল্পী তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও খাঁচে ফেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সেগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর রঙ ধরানো হয়। রঙ লাগানোর কাজ শেষ হলে রোদে শুকিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পোড়ানোর জন্য সাজানো হয় এই টাইলস।

    ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১৩টি কারখানা। সেখান থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি মতো টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। দেশে আসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রফতানি হচ্ছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,  আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রফতানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।

    টালি কারখানার শ্রমিক রুস্তম শেখ বলেন, আমাদের এই মাটি মাঠের মিষ্টি মাটি। মহাজন এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মাটি কিনে আনে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হয়।

    শ্রমিক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মুরালিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোনার চাইতে খাঁটি। এ কারণে এই মাটিটা বিদেশে রফতানি হয়। মাটি দিয়ে তৈরির এসব কারখানায় আমরা পাঁচ থেকে ছয়টি কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

    প্র-এসও অর্গানিক টাইলস কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি বেলে হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। এই মাটিটা পোড়ানোর পরে যে সৌন্দর্য্যতা হয় সেটি পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর টালি হয়ে ওঠে। যার জন্য এই টালি দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। যারা একবার কলারোয়ার মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করেছে তারা পৃথিবীর অন্য কোনো মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না।

    তিনি বলেন, আমরা এই টালি বিশ্ববাজারে রফতানি করে থাকি। বিশেষ করে এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রফতানি করে থাকি।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, কলারোয়ার মুরালিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

  • বগুড়ার সারিয়াকান্দির ‘চর ধারাবর্ষা’ হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা 

    বগুড়ার সারিয়াকান্দির ‘চর ধারাবর্ষা’ হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা 

     

    নিউজ ডেক্স:

    .বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদীর কোল ঘেঁষে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর চর ধারাবর্ষা। যেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে চরটি। এখানে পা রাখতেই কানে বাজবে শোঁ শোঁ শব্দ। মূলত বাতাসে বিভিন্ন গাছের পাতার নাচনে এমন শব্দ তৈরি হয়।

    মাঝেমধ্যে গর্জন করে বিভিন্ন শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। হালকা শব্দে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে নদীর ঢেউ।

    সেই গর্জনের সঙ্গে পাখির কলকাকলি মিশে অন্যরকম এক আবহ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সকাল বেলায় পূর্বগগনে নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা রক্তলাল সূর্য, বেলা শেষে পশ্চিম আকাশে তার হেলে পড়ার দৃশ্য উপভোগ করারও অতুলনীয় স্থান চর ধারাবর্ষা। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি বোহাইল ইউনিয়নের যমুনা নদীতে বন অধিদপ্তরের তও্বাবধায়নে গাছ লাগিয়ে নদীতে জেগে ওঠা চরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।

    প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন এখানে। যত্নআত্তি করলে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে ধারাবর্ষা। চরটিতে রয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা সংকট। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম চর ধারাবর্ষা পর্যটকের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উওরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এই চর।
  • বন্দরে পণ্য হাতে পেতে অপেক্ষা কমছে

    বন্দরে পণ্য হাতে পেতে অপেক্ষা কমছে

    জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য সপ্তাহখানেক অপেক্ষায় থাকা যেন নিয়মে দাঁড়িয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। তাতে জাহাজ আসার পরও পণ্য হাতে পেতে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে হতো। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অপেক্ষার সময় এখন কমতে শুরু করেছে।

    গত মঙ্গলবার বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবে ক্রেনযুক্ত যে দুটি কনটেইনার জাহাজ ভিড়েছে, সেগুলো বন্দর জলসীমায় আসার দুই-এক দিন পরই জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। তবে ক্রেনবিহীন জাহাজের অপেক্ষার সময় এখন ৭ থেকে ১০ দিনের বদলে ৪ দিনে নেমে এসেছে। আবার জেটিতে ভেড়ানোর জন্য সাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ১৪–১৫ থেকে ৬–এ নেমেছে।

    রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি হয় কনটেইনারে। ফলে পণ্য হাতে পেতে দেরি হলে এসব কারখানার পণ্য উৎপাদনে বাড়তি সময় লাগে। আবার রপ্তানির পুরোটাই পরিবহন করা হয় কনটেইনারে। প্রায় ছয় মাস ধরে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন উদ্যোক্তারা।

  • গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল

    গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল

    গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লাল পদ্ম ফুল। তবে এ সময়ে আশার আলো দেখাচ্ছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর নিউমার্কেটের পাশের পুকুরে ফোটা লাল পদ্মফুল।

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন (১৪ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার এই চুক্তি ছাড়াও দেশটিতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে এসব চুক্তি সইয়ের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে তা বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন (এক হাজার বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে আজ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর দুজন প্রাথমিক বৈঠক করেন। পরে সৌদি-মার্কিন বিনিয়োগ ফোরামে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। হোয়াইট হাউস বলছে, এদিন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি’ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় মোট পাঁচটি খাত রয়েছে। সেগুলো হলো বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও মহাকাশ সক্ষমতা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থলবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অস্ত্র চুক্তি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাস টারবাইন, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের পর মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি ‘চমৎকার জায়গা’। এখানে ‘চমৎকার মানুষ’ বসবাস করেন।

    সৌদি আরব সফর শেষে আগামীকাল বুধবার কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) যাবেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এ সফরের সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইসরায়েল ভ্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই ট্রাম্পের। এমন সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরায়েলে না গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সফরের সময় বৃহস্পতিবার তুরস্কে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত মস্কো ও কিয়েভের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন তিনি। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই এই যুদ্ধ থামাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। কূটনৈতিক এই আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।