ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    আট বছর আগে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে ২২ হাজার পাউন্ড বা ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু করার দুই মাস পরেও, ইরানের এই মজুত কোন অবস্থায় আছে, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে।

    ইউরেনিয়াম শহর আলোকিত বা ধ্বংস দুটোই করতে পারে। স্বল্প ঘনত্বের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লি চালাতে পারে। সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যায়।

    ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সমৃদ্ধকরণ ক্রমশ সহজ ও দ্রুত হয়ে ওঠে। ০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছানো যতটা কঠিন, ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে বা এমনকি ৯০ শতাংশে পৌঁছানো ততটা কঠিন নয়—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রা।

    ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে এবং এর উদ্দেশ্যকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, পরবর্তী কয়েক বছরে এই মজুদ বাড়তে থাকে।

    ২০১০ সালে, ইরান ঘোষণা করে যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে, যার উদ্দেশ্য গবেষণা চুল্লির জন্য জ্বালানি তৈরি করা। বেসামরিক এবং সামরিক ব্যবহারের মধ্যে এই স্তরটিই হলো সরকারি বিভাজন রেখা। এই ২০ শতাংশ স্তরটি উদ্বেগজনক।

    মজুত ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, তৎকালীন ওবামা প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনা শুরু করে।

    ২০১৫ সালে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ছয়টি দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে এবং মজুদের পরিমাণ ১৫ বছরের জন্য সীমিত করে।

    এই চুক্তির অধীনে, তেহরান তাদের মজুতের পরিমাণ ৬৬০ পাউন্ডের নিচে সীমাবদ্ধ করে।

    ২০১৮ সালে ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী একটি ইউরেনিয়ামও ছিল না, যখন ট্রাম্প চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় একাধিক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

    এরপর ইরান চুক্তির নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে শুরু করে; প্রথমে পশ্চিমা বিশ্বকে চাপে রাখার জন্য স্বল্প মাত্রায় এবং তারপর ২০২১ সালের শুরুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে, ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

    এরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন পরিত্যক্ত চুক্তিটির কিছু দিক পুনরুদ্ধার করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। আলোচনা চলাকালীন, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে—যা পারমাণবিক বোমার জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রেড থেকে সামান্যই দূরে ছিল।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পায়।

    ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে অবস্থিত ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ইস্পাহানে থাকা ইউরেনিয়াম মজুতের সুড়ঙ্গগুলোতে বোমা হামলা চালায়। এর এক মাস পর, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে, যার ফলে দেশটির সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বন্ধ হয়ে যায়।

    সরাসরি পরিদর্শন না হওয়ায় স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও, ১১ টন ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।

    তেজস্ক্রিয় এবং রাসায়নিকভাবে বিপজ্জনক এই মজুতের কিছু অংশ যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকানো বা চাপা পড়ে আছে, যার ফলে সেগুলোকে নাগালের বাইরে রাখা বা ধ্বংস করা কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি এই ইউরেনিয়াম খনন করে বেরও করে, তবে তা থেকে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতে অনেক মাস—সম্ভবত এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে। তারা আরো বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ইরান কোনো আসন্ন পারমাণবিক হুমকি ছিল না।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছে যে মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো মাটির গভীরে পুঁতে রাখা ইউরেনিয়ামের ওপর নজর রাখছে। সেইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই মজুত তাদের জন্য প্রায় কোনো কাজেই আসবে না।

    তবে বিশ্লেষকরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ইরান গত বছর তার ইস্পাহান কেন্দ্রের সংলগ্ন পাহাড়ি সুড়ঙ্গগুলোতে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে থাকতে পারে। ধারণা করা হয়, তেহরান সেখানে তার ইউরেনিয়াম মজুতের সিংহভাগ মজুত করে রেখেছে। তাদের মতে, যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে ইরানের একটি গোপন কেন্দ্র থাকার সম্ভাবনা বাড়ে, যেখানে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য নতুন করে জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    ডেস্ক নিউজ :

    বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

    বি /এ

     

  • বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গ্রীষ্মকাল ধান কাটার মৌসুম৷ এ সময়ে অতি বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানি বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে৷

    অবিরাম বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং বজ্রসহ ঝড় ও বৃষ্টি সত্ত্বেও কৃষকরা তাই ফসল রক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছেন ক্ষেতে৷ হাঁটু-সমান পানিতে হেঁটে আংশিকভাবে ডুবে যাওয়া ফসল কাটছেন তারা৷

    সুনামগঞ্জের এক কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন ফসল রক্ষার এ লড়াইয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘এখনও যতটুকু দাঁড়িয়ে আছে, সেইটুকুই বাঁচানোর চেষ্টা করছি আমরা৷”

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান৷ হাওর অববাহিকায় বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে৷ বন্যা পরিস্থিতি হাওরসহ আরো কিছু এলাকার গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং জাতীয় খাদ্য সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে৷

    কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চল থেকে আসা পানির প্রবাহ বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আকস্মিকভাবে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷

    স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অনেক এলাকার ফসলের ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে৷ বেশ কিছু জায়গায় পানির স্রোতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে বা বাঁধ উপচে বন্যার পানি ফসলের জমিতে ঢুকে পড়েছে৷ শাকসবজিসহ অনেক ধরনের ফসলের ক্ষতি করেছে ভারী বৃষ্টি৷ এতে খাদ্যের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা বেড়েছে৷

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন আরো বৃষ্টি হতে পারে৷ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উজানের অতিরিক্ত পানির প্রবাহ হাওর অববাহিকা জুড়ে আরো ব্যাপক বন্যার শঙ্কা বাড়াতে পারে৷ কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জলমগ্ন থাকলেও ধানের ফলন অনেক কমতে পারে৷

    ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে৷ রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে৷

    বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে৷ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইনস্টিটিউটের ২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ নদীর পানি বাড়ায় বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে৷

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশটিতে উৎপাদিত চালের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায়৷ বন্যা বা খরার কারণে ঘাটতি দেখা দিলে সেই ঘাটতি ধান আমদানিও করে বাংলাদেশ৷

     

  • মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    নিউজ ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতার জন্য ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এটি প্রমাণিত যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি এবং তাদের আস্তানা গেড়ে থাকাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

    মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার এই পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। সেখানে তারা এই অঞ্চলের তাদের ওপর নির্ভরশীল বা আমেরিকাপন্থীদের নিরাপত্তা দেবে-এমন আশা করা বৃথা।’

    তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপই মূলত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে উসকে দিচ্ছে। মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বার্তা দিতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

  • ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

     

    ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।

    সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস বলছে, সেন্টকম ইরানের ওপর ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ দফায় দফায় হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন অভিযানের পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তা পুনরায় খুলে দেয়ার ওপর কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানে স্থলবাহিনীও জড়িত থাকতে পারে।

    এ ছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানও চালাতে পারে।

    টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে তেহরান।

    ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এবং লেবাননেও ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় হাজার হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে ঘরছাড়া হয়েছে লাখ লাখ বাসিন্দা।

  • হরমুজ প্রণালী নিজের নামে করে নিলেন ট্রাম্প!

    হরমুজ প্রণালী নিজের নামে করে নিলেন ট্রাম্প!

    নিউজ ডেস্ক:

    বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালীকে এবার নিজের নামে নামকরণ করে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালীর নাম ‘স্ট্রেইট অফ ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালী’ লেখা রয়েছে।

    এর আগে এক বক্তৃতায়ও ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। সেখানে উপস্থিত লোকজন তার কথা শুনে হেসে উঠলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “গণমাধ্যম হয়তো প্রথমে এটিকে একটি ‘ভুল’ বলে মনে করতে পারে, কিন্তু সবাই জানে, আমি খুব কমই ভুল করি।” যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’ : ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা আরো বাড়াবে এবং এটি তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে।’ এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো নৌ-অবরোধ বা বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা… ব্যর্থ হতে বাধ্য।’

     তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ব্যর্থই হবে না, বরং বাস্তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার উৎস হয়ে উঠবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করবে।’

  • গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

    বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী সাতটি বিভাগীয় শহরে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা- যা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয়করণ এত বেশি করছে যে, নিয়োগবাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবো।’

    হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরো জনমত তৈরি করতে হবে। আন্দোলনকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরো জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে সাতটি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

    পরে তিনি নতুন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হলো :

    ১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৩ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ

    ১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ

    ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ

    সবশেষ অক্টোবরে মহাসমাবেশ করা হবে।

    নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতিমাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা যাবেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহানগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।’

    ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারো দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলো থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ৫ আগস্টে এসব মুক্ত করেছিল। এখন ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, বিভিন্ন অ্যাজেন্সি ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে- এজন্য ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হবে। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে প্রত্যেক দল গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

    এ, আর

  • একসপ্তাহের মধ্যে সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    একসপ্তাহের মধ্যে সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    আগামী এক সপ্তাহে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।

    আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ কাভার করেছি উল্লেখ করে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকাদানও শেষ হয়েছে।

    টিকা হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ মে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা তা ১৪ দিন এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই শুরু করেছি।

    হাম প্রতিরোধে গত ছয়টা বছর শিশুদের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান শুরু করেছি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি সাহায্য না করত, তাহলে দেশের এই চিত্র আজ ভিন্নরকম হতে পারত। হয়তো আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।

    ওষুধ হস্তান্তরের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে, এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এ সময় সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি।

    বি/ এ

  • সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত বাংলাদেশী যুবক সোবাহান খাঁর (২৯) লাশ ২০ দিন পর দেশে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। নিহত সোবাহান পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের ইউসুফ খাঁর ছেলে।

    এর আগে, একইদিন ভোরে নিহতের লাশ রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নেয়া হয় গ্রামের বাড়ি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী।

    স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ঋণ করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে ডাসার উপজেলার দালাল নান্নুর মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান সোবাহান। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সৌদি যান। এরপর গত ৭ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন সোবাহান। কাজ চলাকালীন সময় অসাবধানবশত নির্মাণাধীন লিফটের মধ্যে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

    এ সময় অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের নাছিম ব্র্যাঞ্চ আল-জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে, সোবাহানের পরিবার তার মৃত্যুর খবর পায় পরদিন ১২ এপ্রিল রাতে। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

    নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

    মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।’

    এ,আর

  • লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৯, আহত ১৩

    লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৯, আহত ১৩

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ১৩ জন। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ১৩ জন। দেশটির গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, জিবচিত শহরে এক হামলায় তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন এবং একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে ।

    তুল শহরে চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন এবং আরো একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।

    সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, হারুফ শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরো দু’জন নিহত হন।

    ইসরাইলি যুদ্ধবিমান সুলতানিয়েহ শহরেও হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে জাওতার আল-শারকিয়া ও মিফাদৌনের উপকণ্ঠে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইল লেবাননের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, এতে কমপক্ষে দুই হাজার ৫৩৪ জন নিহত হয়েছেন এবং সাত হাজার ৮৬৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

    গত ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও ইসরাইল প্রতিদিন তা লঙ্ঘন করছে।

    এ,আর