ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    বিডি ডেস্ক:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

    রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

    এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

    বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।

    এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র শনিবার বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সময় সংরক্ষণের কারণে গে

    জেট আকারে প্রকাশ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফলে আজ রাতে জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

    বি/ এ

  • গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    নড়াইল প্রতিনিধি

    অবিলম্বে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে পুরাতন বাসটার্মিনাল চত্বরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু।

    তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোটের পরে গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার। বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় জনসভায় গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বললেও এখন বাস্তবায়নে টালবাহানা করছেন। আমরা আবার কোনো স্বৈরাচার সরকার দেখতে চাই না। জনগণ আর কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না। জনগণ আজ হতাশ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আয়ুব হোসেন খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, জামিরুল হক টুটুল, হেমায়েতুল হক হিমু, ড. খান আব্দুস সোবহান, আকিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আমিন, পৌর আমির জাকির হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আমির মাওলানা হাদিউজ্জামান, কালিয়া উপজেলা আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে রূপগঞ্জসহ শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    এআর/এনআর

  • হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শিশু মো. সানি, বয়স ৯ মাস। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগ ও ফুসকুড়ি। চলছে স্যালাইন। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের জন্য দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এমনকি ক্যানুলা করার জন্য শিশুর মাথার অর্ধেক চুল ফেলে দিতে হয়েছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। শিশুটির মা মারুফা আক্তার নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কান্না থামছে না। পাশেই দাঁড়ানো বাবা শিশুটির কান্না দেখে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনিও কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, তবু থামানো যাচ্ছে না শিশুটিকে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন আমার দেশকে জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে। এক মাস আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর থেকে আমরা এক অন্যরকম যুদ্ধের মধ্যে আছি। এত ছোট বাচ্চা, আবার গুরুতর অসুস্থ। বুকের দুধ পর্যন্ত খাচ্ছে না। যখন কাঁদে, তখন বাবা হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।

    শুধু এ একটি ঘটনা নয়, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১০ শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। এছাড়া আরো অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ শিশু। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুই শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে ১৩০ শিশু এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৮-এ। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

    আক্রান্ত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছয় থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুÑসংখ্যা ১৫৮, যা মোট আক্রান্তের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৯ মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশু ১২৩, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু ১০৭, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু ৫৩ এবং পাঁচ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ শিশু।

    সরেজমিন দেখা যায়, শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘বিশেষায়িত হাম’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) মোট ৮০টি শয্যার একটিও খালি নেই। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। কারো শরীরে স্যালাইন চলছে, কারো নাকে নল, আবার কেউ অক্সিজেন সহায়তায় রয়েছে।

    প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথায় শিশুদের অবিরাম কান্না যেন থামছেই না। পাশে বসে থাকা মা-বাবার চোখে অশ্রু, সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল দুপুরে আইসিইউয়ের সামনে অপেক্ষা করেও অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনকে শয্যা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, বাধ্য হয়ে শিশুদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছে।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, তার সাত মাসের শিশুকে ১৫ দিন আগে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর অবস্থার অবনতি হয়। মনে হচ্ছিল বাচ্চার প্রাণ বের হয়ে যাবে। চিকিৎসক আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সিট খালি ছিল না। অনেক তদবিরের পর তিনদিন পর আইসিইউতে জায়গা পাই। এখনো সেখানে চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    মাদারীপুর থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তার আট মাসের শিশু আবু রায়হান প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশু হাসপাতালে আনা হয়। এখানে ১৫ দিন পর শরীরে লাল র‍্যাশ ওঠে। চিকিৎসকরা জানান, এটা হাম। এরপর থেকেই হামের চিকিৎসা চলছে। এখন কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তার অভিযোগ, অন্য হামের রোগীর সংস্পর্শ থেকেই তার শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, তাই শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টির ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

    অন্যদিকে যেসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, তাদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানো হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসায় চাপ বেড়েছে, ফলে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭২ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ৯৬ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৪। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বি/ এ

  • মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন আর নয়; প্রধানমন্ত্রী

    মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন আর নয়; প্রধানমন্ত্রী

    বিডি ডেস্ক:

    কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে এমনটি আর চলবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ যদি কোন সমস্যায় পড়ে তবে যেনো তার সমস্যার কথা বলতে পারে। অনেক হয়েছে মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন চলতে দেওয়া যাবেনা। মানুষের স্বাধীণতা থাকতে হবে।

    শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একডেমিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, একটা কথা বললো, আর পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলো। ‘নো’- মানুষ এটা চায় না। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা অন্য ব্যাপার।

    তিনি বলেন, আজকে এই রাস্তায় এতো মানুষ ভিড় করলো, তারা তো সবাই বিএনপি করে না, তবু কেনো রাস্তায় নেমে এলো, কারণ মানুষ মনে করে, বিএনপি এখনো সঠিক পথে আছে। তাই মানুষ রাস্তায় নেমে তার সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু এই সমর্থন ধরে রাখতে পরিশ্রম করতে হবে। ছাড় দিতে হবে।

    ছাড় দেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি নেতা-কর্মীদের বলেন, আপনি ক্ষমতাসীন দলে কর্মী এই জিনিসটা মাথায় আনা যাবে না। এটি মাথায় আনলেই বরবাদ হয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সে নির্বাচনে সব জায়গায় একজন ক্যান্ডিডেট দিতে হবে। তার আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেতা-কর্মীদের আচরণে জনগন যাতে অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলারও নির্দেশ দেন তিনি।

    সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

    মতবিনিময় সভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহিদ উদ্দন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ জিকে গৌছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, মিফতাহ সিদ্দিকীসহ সিলেটে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যগণ, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বি/ এ

  • চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসছে বন্য হাতি। এরা কখনো দলবেঁধে আবার কখনো দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

    শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট হয়ে ডুলহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একটি বন্য হাতি। তবে ধানের কোনো ধরনের ক্ষতি করার আগেই হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া, সুরাজপুর, মানিকপুর, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় থেকে বন্য হাতি নেমে আসে। হাতিগুলো পাকা ধান পায়ে পিষ্ট করে ও খেয়ে নষ্ট করে। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

    আবার কৃষকরাও বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ফসলি জমির চারদিকে কাঁটাতারে ঘেরা, বিদ্যুতায়িত করে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে অনেক বন্য হাতিরও মৃত্যু হয়। আবার সেই বিদ্যুতায়িত তারে আটকা পড়ে অনেক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় এক শ্রেণির অবৈধ ব্যবসায়ী বনের গাছপালা কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা বনবিভাগের কর্মীদের সহায়তায় অবাধে বন ধ্বংস করছেন। ফলে বন্য হাতির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। আর এ কারণেই বন্য হাতি বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।

    ডুলাহাজারার স্থানীয় সংবাদকর্মী মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ডুলাহাজারার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট একটি বন্য হাতি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন কৌশলে হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয়। এ সময় হাতিটি এলাকায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি করেনি।

    এ,আর

  • ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি সামরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় এসব স্থাপনা তছনছ হয়ে যায়।

    স্যাটেলাইট চিত্র, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং মার্কিন ও উপসাগরীয় সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে বন্ধ করার মতো অবস্থায়, আবার কিছু কৌশলগত কারণে মেরামতের উপযোগী।  ইরানি হামলাগুলো প্রধানত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

    জর্ডানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার থাড (THAAD)-এর সঙ্গে যুক্ত রাডার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলায় একটি মার্কিন বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    পেন্টাগনের ঘোষিত ব্যয়ের তুলনায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ অনেক বেশি হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট তৃতীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সূত্রগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন যোগ করলে মোট ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    কংগ্রেসের একজন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে শুনানির সময় স্পষ্ট করেননি যে অবকাঠামো মেরামতের খরচ সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না। পরে হার্স্ট স্বীকার করেন, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয় ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এই সংঘাত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে।

    যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরানের বন্দর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।#

  • ইরানের জন্য স্থল পথ খুললো পাকিস্তান

    ইরানের জন্য স্থল পথ খুললো পাকিস্তান

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর বিধিনিষেধের ফলে করাচি বন্দরে আটকা পড়া হাজার হাজার কন্টেইনার গন্তব্যে পৌঁছাতে ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে পাকিস্তান।

    গত ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্য ট্রানজিট আদেশ-২০২৬ জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সড়কপথে পরিবহন করে ইরানে পৌঁছে দেয়া যাবে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এটি সর্বশেষ সংযোজন। এই পদক্ষেপ নিয়ে ইরান প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এর মধ্যে গোয়াদর-গাবদ করিডোরটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, যার মাধ্যমে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সীমান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যেখানে করাচি বন্দর থেকে ইরানের সীমান্তে পৌঁছাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগত। কর্মকর্তাদের মতে, করাচি বন্দরের খরচের তুলনায় গোয়াদার-গাবদ রুটটি ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পরিবহন খরচ কমাতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৮ বিলিয়নের অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

    মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৮ বিলিয়নের অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছে দেশটি।

    শুক্রবার (০১ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর ৯ সপ্তাহ পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এছাড়া বর্তমানে কার্যকর নাজুক যুদ্ধবিরতির তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়েছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ এসব দেশের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র বিক্রি প্রয়োজন। এজন্য কংগ্রেসের পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ঘোষণায় বলা হয়, কাতারের কাছে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের কাছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ইসরায়েলের কাছে ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কাতার, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এপিকেডব্লিউএস বিক্রির প্রধান ঠিকাদার ছিল বিএই সিস্টেমস। অন্যদিকে কুয়েতের কাছে সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবার ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার ছিল আরটিএক্স করপোরেশন ও লকহেড মার্টিন। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুমানও একটি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত ছিল।

    বছরের পর বছর ধরে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটন সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব দেশে সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও শ্রমিকদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও নির্যাতন রয়েছে। তবে এসব দেশ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এতে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং কিছু গবেষক ও জাতিসংঘের একটি তদন্তে এটিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর তারা আত্মরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

  • ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া

    ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইঁদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার সরকার শনিবার জানিয়েছে, ইঁদুরের উৎপাত প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদনে পরতে পারে। সংকট মোকাবিলায় তারা খামারগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চেয়েছে।

    সিডনি থেকে টেলিভিশনে দেওয়া এক মন্তব্যে জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ইঁদুরের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন। এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ার গম কাটার মৌসুম শুরু হয়। এ সময়ে ইঁদুরের উৎপাতও বৃদ্ধি পায়। প্রচুর ফসল নষ্ট করে ফেলে ইঁদুরে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ৪র্থ গম উৎপাদনকারী দেশ।

    এর আগে ১৯৯৩ সালে তারা ইঁদুরের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়। ইঁদুরগুলো ফসলের পাশাপাশি শূকর, মুরগি এমনকি মানুষকেও আক্রমণ করতে শুরু করে। উৎপাত বাড়ায় সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইঁদুর নিধনে আরো শক্তিশালী পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

    সরকার উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইঁদুরের মহামারী সরকারের জন্য, কৃষকের জন্য এবং পুরো শিল্পের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

  • জার্মানি থেকে ৫০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন

    জার্মানি থেকে ৫০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ন্যাটো মিত্র জার্মানি থেকে ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরও বলা হয়, এ সপ্তাহের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎসের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর সেনা কমানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। মের্ৎস বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের কোনো স্পষ্ট প্রস্থান কৌশল তিনি দেখছেন না।

    পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জার্মানির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এই ধরনের প্রতিকূল মন্তব্যের যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পেন্টাগন জানায়, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৫,০০০ সক্রিয় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে- যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপে মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০২২ সালের আগের স্তরে ফিরে যাবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন।

    একই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইউরোপ নিজেই তার নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নিক। তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ট্রাম্পের সেই প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি মিত্রদের অবিশ্বস্ততা মনে করলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখান। গত সপ্তাহে রয়টার্স এক অভ্যন্তরীণ পেন্টাগন ইমেইলের খবর প্রকাশ করে, যেখানে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বৃটেনের দাবির বিষয়ে মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও ছিল।

    আরও সেনা প্রত্যাহার হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর বিষয়টি তিনি সম্ভবত বিবেচনা করছেন। গত মাসে তিনি স্পেনের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন, কারণ দেশটি তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তা হলো রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরন বিমানঘাঁটি।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও ট্রাম্পের বিরোধ তৈরি হয়েছে। একসময় তার সমর্থক হলেও ট্রাম্প বলেন, মেলোনির সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। কারণ তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠিয়ে সহায়তা করছে না। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা ইরান সংঘাতের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মিত্রদের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা না করার বিষয়ে তার হতাশা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন জার্মানি ও ইউরোপকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি তার সংশয় জানিয়ে দেন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমাতে চান।

    জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বিস্ময়কর। কারণ একই দিনে পেন্টাগনে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক বৈঠক হয়েছিল। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে জার্মানি অন্যান্য মিত্রদের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে, যেমন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং আকাশপথ ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া। জার্মানিতে ল্যান্ডস্টুলে একটি বড় সামরিক হাসপাতালও রয়েছে। এদিকে ২০২৭ সালের বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে জার্মান সরকার।##