ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করার পর জাস্ক দ্বীপের নিকটে এ হামলা ঘটে।

    খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা না মানায় এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সোমবার থেকে “প্রজেক্ট ফ্রিডম” শুরু করা হবে।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, ১০০টির বেশি স্থল ও নৌভিত্তিক বিমান, পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন করা হবে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও রক্তক্ষয়ী পট পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা থেকেই এটা স্পষ্ট যে, দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এক ঐতিহাসিক ও ঝোড়ো জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে, যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৯৭টি আসনে থমকে আছে।

    তবে এই পরিবর্তনের আবহে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত। গেরুয়া শিবির জয়ের গন্ধ পেতেই বিভিন্ন জায়গায় বিজয় উল্লাসের পাশাপাশি শাসকদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এই নির্বাচনি ফলাফলের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই জয় আসলে সুপরিকল্পিত মেরুকরণের ফল। তার দাবি অনুযায়ী, একদিকে যেমন তারা রাজ্যের হিন্দু ভোট এক ছাতার তলায় আনতে সফল হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের চিরাচরিত তুরুপের তাস ‘মুসলিম ভোট ব্যাংক’ এবার পুরোপুরি ধসে গেছে। এই হিন্দু ভোটের অভূতপূর্ব সংহতি উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত বিজেপিকে একতরফা লিড এনে দিয়েছে। সন্দেশখালী ইস্যু থেকে শুরু করে সিএএ কার্যকর হওয়া—সবই হিন্দু ভোটারদের মনে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছিল, যা ব্যালট বাক্সে বিজেপির পক্ষে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেসের ভোট শেয়ার সামান্য বাড়ায় অনেক আসনেই তৃণমূলের ভোট ভাগ হয়ে গেছে, যা পরোক্ষভাবে গেরুয়া শিবিরের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।

    তৃণমূলের এই পরাজয়ের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোহভঙ্গ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতা এবং মুসলিম ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের জেরে লাখ লাখ কর্মপ্রার্থী যুবকের ক্ষোভ শাসকদলের বিরুদ্ধে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ। রাজ্যের মুসলিম ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে আইএসএফ কিংবা বাম-কংগ্রেস জোটের দিকে ঝুঁকেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে এই ভোট বিভাজন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকার সংখ্যালঘুদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করায় এবং তাদের দাবিদাওয়ার চেয়ে দমনমূলক নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এই বিদ্রোহ তৈরি হয়েছে।

    নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও এই ফলাফলে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে যেখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গেছে। এই প্রশাসনিক রদবদল তৃণমূলের ভোটের অঙ্ক গোড়া থেকেই এলোমেলো করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও রেশন বণ্টনের মতো একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি এবং শীর্ষ নেতাদের জেলযাত্রা মানুষের মনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছিল। রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানই প্রমাণ করেছিল যে মানুষ এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে মরিয়া ছিলেন। হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং মুসলিম ভোটের ভাঙন—এ দুই বিপরীতমুখী স্রোতের আবর্তে পড়ে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ আজ ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।

  • ট্রাম্পের সফর সামনে রেখে চালকের আসনে শি জিনপিং

    ট্রাম্পের সফর সামনে রেখে চালকের আসনে শি জিনপিং

     

     

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সময় ঘনিয়ে আসছে। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় পিছিয়ে যাওয়া সফরটি আগামী ১৪-১৫ মে হওয়ার কথা। এই সফরে চালকের আসনে থাকবে চীন এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। দুর্লভ এই মুখোমুখি বৈঠককে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থায়ীভাবে জোরদার করার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বেইজিং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এতে ওয়াশিংটনের দরকষাকষির অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিলো চীনের প্রভাব কমাতে। তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর ইরানে আক্রমণ করে চীনের বলয়কে ছোট করে আনতে চেয়েছিলো।

    কিন্তু ইরান যুদ্ধ এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ যত সহজে শেষ হবে ভেবেছিলেন ট্রাম্প, তা না হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্ত অবরোধ বজায় থাকায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন হচ্ছে। তারা মিত্রদের আস্থা হারাচ্ছে। এতে চীনকে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র নিরাপদ এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে ভাবছে। তবে বেইজিং সতর্ক অবস্থানও বজায় রেখেছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চীনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    বাণিজ্যিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হবার পরও উভয়দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি এই বৈঠকের মূল লক্ষ্যকে জটিল করে তুলেছে। চীন ভ্রমণের পর ট্র্রাম্প ফের ইরানে আক্রমণ করলে তা ভুল বার্তা দিতে পারে চীনের মিত্রদের। এছাড়াও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, যা তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। চীনের জ্বালানি তেল-গ্যাসের এক তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, ট্রাম্পও এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ভোটারদের সামনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সাফল্য দেখাতে আগ্রহী। চীনের কাছে কৃষিপণ্য ও বিমান বিক্রির মতো চুক্তি তার পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে ভোটারদেরকে যা রিপাবলিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    চীন এই সুযোগে নিজেদের স্বার্থ আদায়ে চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন, হাই টেক পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল এবং চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে পারে বেইজিং। চীনে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং ডিজিএ অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপের অংশীদার ইয়র্গ ভুট’কে ইরান যুদ্ধকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জয় ছাড়া লড়াই করছে, চীন লড়াই ছাড়া জিতছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দামের কারণে (চীনারা) অবশ্যই বাজেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে, চীন এই পরিস্থিতি থেকে অনেক লাভবানও হচ্ছে।

    তিনি চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, চীন এমন পরিস্থিতির জন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল। রাজনৈতিকভাবেও চীন আলোচনার রুমে একমাত্র পরিপক্ব পক্ষ হিসেবে হাজির রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে ব্যস্ত করে ফেলেছে, যেখানে চীন নিজেকে স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

    ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীনের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম কেলভিন যিনি এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের চীন সফর আয়োজনে ভূমিকা রেখেছিলো তিনি বলেন, এই সংঘাতের কারণে দুই দেশের শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে উভয় পক্ষের মূল অবস্থান অপরিবর্তীত রয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে অনলাইন সিএনএন। সব মিলিয়ে, আসন্ন শি-ট্রাম্প বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • মমতার পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বদলে দিতে পারে কেন

    মমতার পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বদলে দিতে পারে কেন

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

     

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের গণনায় বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজিপি। শেষপর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যদি পরাজিত হয়, তবে শক্তিশালী তৃণমূলের জন্য এটি হবে একটি বিরাট ধাক্কা। ৭১ বছর বয়সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাগ্মী রাজনীতিবিদ। তাকে দিদি বলে ডাকা হয়, অগ্নিকন্যাও বলা হয়। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। সেটি ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার।

    মমতা পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন।

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা এমন এক লড়াইয়ের মুখোমুখি, যেটিকে অনেকে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলে অভিহিত করছেন। তার লড়াকু মনোভাব এবং তৃণমূলের সব ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে।

    কয়েক দশকের বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২২৭টিতে (এককভাবে ১৮৪টি আসনে) জয়লাভ করে সরকার গঠন করে তৃণমূল। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কিন্তু এবার মমতা বিজেপির পক্ষ থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত প্রচারণার মুখোমুখি হন, যার ফলে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত করে।

    বেশ কয়েকটি এক্সিট পোল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    এদিকে বিজেপির তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী জানিয়ে দিলেন, তিনি বা তার দল পরাজয় মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নন।

    ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কাউন্টিং এজেন্টরা কেউ গণনাকেন্দ্র থেকে সরে আসবেন না। তৃণমূল কংগ্রেস এখনো ৭০ থেকে ১০০ আসনে এগিয়ে আছে, যেগুলো দেখাচ্ছে না। নির্বাচনী ফলাফলের নামে ‘গোটাটাই মিথ্যে জিনিস খাওয়াচ্ছে’ বলেও তিনি দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইচ্ছেমতো খেলছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলছি। ওদেরগুলো (বিজেপি) আগে দেখাবে, পরে আমাদের (তৃণমূলের) জেতা আসনগুলো দেখাবে।’ ‘সূর্যাস্তের পর’ তৃণমূল ঠিকই জিতবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। দলের নেতাকর্মী ও গণনাকেন্দ্রে যে এজেন্টরা আছেন তাদের ‘বাঘের বাচ্চার মতো লড়ে যেতে’ও আহ্বান জানান তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এখন পর্যন্ত ২৯৩ আসনের মধ্যে ২১১টি আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিজেপি ১০৫ আসনে এগিয়ে আছে, আর তৃণমূল এগিয়ে আছে ১০৩টি আসনে।

    শেষপর্যন্ত যদি নির্বাচনে মমতার তৃণমূলের পরাজয় হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। রোববার (৩ মে) গভীর রাতে ফোনালাপে আরাগচি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা ও আন্তরিক মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন।

    এই আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টা এবং আরাগচির দেয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া।ইসহাক দার জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিল আর কূটনীতিই হলো স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র পথ।এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে দেয়া ১৪ দফার এক নতুন শান্তি প্রস্তাবকে ঘিরে। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের এই প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন তেহরান পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে তাদের আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে, যা সবার জন্যই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের আলোচনা একরকম থমকে ছিল। তবে এখন আরাগচির দেয়া এই প্রস্তাব নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের এই প্রস্তাবে এক মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।এই প্রস্তাব তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ৩০ দিনের মধ্যে পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে। এরমধ্যে একটি বড় শর্ত হলো- ইসরাইলসহ কোনো পক্ষই আর কারো ওপর হামলা করবে না বলে অঙ্গীকার করবে।

    প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ সরাতে হবে এবং বিনিময়ে সমুদ্রের মাইন সরানোর দায়িত্ব নেবে তেহরান। পরবর্তী ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও ইরান জানিয়েছে যে, তাদের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস বা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার কোনো প্রশ্নই আসে না। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবশ্যই ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে হবে। একইসাথে ইরানের আটকে রাখা অর্থ বা তহবিলগুলোও ধাপে ধাপে ছেড়ে দিতে হবে।সবশেষ ধাপে আরব দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সংলাপ এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে ইরান। পুরো এই প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের চেয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

  • গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের শঙ্কায় পুতিন

    গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের শঙ্কায় পুতিন

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ক্রেমলিন। সিএনএনের হাতে আসা একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কারণে পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বাড়িতে বসানো হয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে নিয়মিত সফর করলেও তিনি এ বছর এখন পর্যন্ত একটিও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেননি। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পুতিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ উন্নতমানের বাঙ্কারে কাটান।

    যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি এখন সুস্পষ্ট—রাশিয়ার প্রধান শহরগুলোতে নিয়মিত মোবাইল ফোন ডেটা বিভ্রাট এমনকি পুতিনপন্থি বুর্জোয়াদেরও ক্ষুব্ধ করছে। এর মানে, শহুরে অভিজাতরাও এখন যুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নন। প্রতিবেদনটিতে মস্কোর অবনতিশীল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে, ‘ক্রেমলিন এবং স্বয়ং ভ্লাদিমির পুতিন সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য ঝুঁকি, সেই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে কোনো ষড়যন্ত্র বা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দেশটির রাজনৈতিক অভিজাতদের দ্বারা সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টায় ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে।’

    কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়েছে পুতিনের সাবেক বিশ্বস্ত সহযোগী সের্গেই শোইগুকে নিয়ে। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোণঠাসা হয়ে পড়া এই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামরিক উচ্চ কমান্ডের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাকে নিয়েও উদ্বিগ্ন ক্রেমলিন। তিনি অভ্যুত্থানের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত হতে পারেন বলেন মনে করা হচ্ছে। ৫ মার্চ শোইগুয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুসলান সালিকভকে গ্রেপ্তার করা হয়। একে ‘অভিজাতদের মধ্যেকার অলিখিত সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    পুতিন ২০২৩ সালের জুনে হওয়া একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। মস্কোর অভিজাত মহলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রায়শই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার বিষয় হয়ে ওঠে, কিন্তু খুব কমই তা প্রকাশ্যে আসে। ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন যখন কমছে, তখন ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ক্রেমলিনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সন্দেহবাতিকের ইঙ্গিত দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    পুতিনকে ঘিরে বিস্তারিত কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা আগেও প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক দেহ তল্লাশি, ক্রেমলিনের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেসিডেন্টের চলাফেরায় বিধিনিষেধ। পুতিনকে এখনো নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে; এ সপ্তাহে তিনি চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। নতুন নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়ার এটাও একটা কারণ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের সময় চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভের সমালোচনা করেন তার কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘এই উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠক শেষে ভ্লাদিমির পুতিন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান, একটি বিকল্প কার্যপদ্ধতির প্রস্তাব করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।’

    সেই দ্রুত সমাধানের অংশ হিসেবে পুতিন তার নিজস্ব ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিসের (এফএসও) পরিধি আরো সম্প্রসারণ করেন।

  • হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বি/ এ

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য নতুন বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে শুধু নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও পরের ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

    নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত আগের কমিটিকে পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। বেতন কমিশনও একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ সব সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

    বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. এ কে এনামুল হক বলেন, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি জানান, বাজারে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কমিশনও তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল।

    তিনি আরও বলেন, নতুন পে স্কেলের লক্ষ্য কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। একজন কর্মচারী যদি ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে তার কাছ থেকে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন। দারিদ্র্যজনিত চাপ থেকে কর্মচারীদের দূরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

    পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে মোট ব্যয় প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

     

  • বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    অর্থনীতি ডেস্ক:

     

    আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।

    বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘নবম পে স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। এই সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (০২ মে) সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নে সমাবেশ ও আলোচনা সভার কথা জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মে মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৮ মে পটুয়াখালী এবং ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হবে।

    সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি কর্মচারীরা এখনো নতুন কোনো পে স্কেল পাননি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অধিকাংশ কর্মচারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং মাস শেষে ঋণ পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সংগঠনটির মতে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ না রাখা হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। দেশের উন্নয়নে ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে ২২ লাখ কর্মচারী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

    নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি।

    এই কমিটির সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন জুলাই থেকে প্রথম ধাপের সুপারিশ অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধিরে বিষয়টি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/ এ

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল  বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি  বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম  বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

    বি/ এ