ক্যাটাগরি স্বাস্থ্য

  • হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রোগটি ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১ হাজার ৪৯৪ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ২১২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭১০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৮২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৪৯০ জন।

    এছাড়াও ১৫ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৮৬২ শিশু। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৫২ শিশু।

    বি/ এ

  • হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২ জন ছাড়াও বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বি/ এ

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    বি/ এ

  • ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস ক্রমেই বাড়ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকারী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পুরুষদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। এমনকি যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই অভ্যাস হলেও নারীদের শরীরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে মারাত্মক।

    বর্তমানে অনেকেই ধূমপানকে আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে সিগারেটের দিকে ঝুঁকেন। বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব বা আশপাশের পরিবেশও এ অভ্যাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, দ্রুত বলিরেখা পড়ে এবং অকালেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যার কারণে মুখের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে।

    মানসিক দিক থেকেও ধূমপান ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত, অকাল প্রসব কিংবা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। ধূমপান কোনো স্টাইল বা আভিজাত্যের প্রতীক নয় এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

    বি/ এ

  • ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    ই-সিগারেট মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র। এতে থাকা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারী নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। একেই বলা হয় ‘ভ্যাপিং’। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই তরলে সাধারণত নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

    ই–সিগারেট ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রথম ই–সিগারেট আমদানি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরবর্তী কয়েক বছরে এই সিগারেট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তার বড় কারণ, ই-সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়া দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির এবং এর মিষ্টি সুবাস। তার পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিক্রেতারা দাবি করেন, এটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি নিরাপদ।

    তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বাস্তবে অধিকাংশ ই-সিগারেটেই নিকোটিন থাকে এবং এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ।

    জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট ব্যবহারে নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এটি বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মনে করেন তরুণ ও কিশোরেরা সহজেই এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন

    ই–সিগারটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো অজানা, তবে বিগত কয়েক বছরের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পণ্য নিরাপদ নয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব তামাক মহামারি প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের ভবিষ্যতে সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৫ সালে প্রথম আইন (ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে বিএনপি সরকার। ওই আইনের মধ্য দিয়ে তামাকজাত পণ্যের যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সীমিত হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রথমবারের মত আইনে স্বীকৃতি পায়।

    পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে আইনে সংশোধন আনা হয় এবং সিগারেটের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।

    তবে আইনে কড়াকড়ি করেও বন্ধ করা যায়নি সিগারেট সেবন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সিগারেট ফুঁকে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর দেন ধূমপায়ীরা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠানো ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওই চিঠিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে; যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ।

    বি/ এ

  • বদহজম কেন হয়

    বদহজম কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘বদহজম’ বা indigestion খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই এটিকে সামান্য গ্যাসট্রিক বা খাবারের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia), যা কখনো কখনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

    বদহজম আসলে কী

    বদহজম কোনো একক রোগ নয়, বরং ওপরের পেটের (epigastric region) কিছু উপসর্গের সমষ্টি। যেমন—

    * পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।

    * অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া।

    * পেট ফাঁপা।

    * বমি বমি ভাব।

    কেন হয়

    বদহজমের কারণ দুই ধরনের হতে পারে—

    ১. ফাংশনাল (কারণ ধরা যায় না)।

    অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায় না, কিন্তু রোগী উপসর্গ অনুভব করেন।

    ২. অর্গানিক (নির্দিষ্ট রোগের কারণে) যেমন—

    * গ্যাসট্রিক আলসার।

    * গ্যাস্ট্রাইটিস।

    * অ্যাসিড রিফ্লাক্স।

    * বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসার।

    সতর্কসংকেত

    নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

    * অকারণে ওজন কমে যাওয়া।

    * গিলতে সমস্যা।

    * রক্তবমি বা কালো পায়খানা।

    * দীর্ঘদিনের বমি।

    গুরুত্বপূর্ণ কারণ

    একটি বিশেষ জীবাণু Helicobacter pylori—বদহজমের একটি বড় কারণ। এছাড়া—

    * ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল।

    * অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

    * মানসিক চাপ।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

    * নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া।

    * অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

    সবশেষে বলব, বদহজম শব্দটি সহজ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বারবার বদহজম মানেই শুধু গ্যাসট্রিক নয়—সময়ে পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।

    বি/ এ

  • হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি কী? কখন হিপ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্টকে একটি কৃত্রিম কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম ইমপ্লান্ট নামে পরিচিত। অনেক রোগী যারা অস্টিওআর্থারাইটিস বা হিপ জয়েন্টের অন্যান্য অবস্থা, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের বিকৃতি বা আঘাতে ভুগছেন, তাদের চরম নিতম্বের ব্যথা এবং নড়াচড়া করতে অক্ষমতা, ঘুমের সমস্যা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যখন সার্বিক অবস্থা ওষুধ, ফিজিক্যাল থেরাপি বা ইনজেকশন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য হলো শেষ পর্যন্ত একটি বেদনাদায়ক নিতম্বের জয়েন্টকে ব্যথামুক্ত করা এবং হাঁটার জন্য নড়াচড়া সহজ করা।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির সুবিধা এবং ঝুঁকি কী কী?

    উত্তর : সাধারণত হিপ বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন একটি ব্যাপক যত্নের অংশ, যা ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করার পাশাপাশি নড়াচড়া ও কার্যকারিতার উন্নতির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। হিপ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো—ব্যথা থেকে মুক্তি, গতিশীলতা উন্নত হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, স্কোয়াটিং বা হাঁটার মতো প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলো অনুসরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি একটি বড় সার্জারি, যা কিছু ঝুঁকি বা জটিলতাও বহন করে। সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি হলো—পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, যা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামে পরিচিত। এই জমাট রক্ত ফুসফুসে গিয়ে পালমোনারি এমবোলিজম নামের অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের স্থানে বা জয়েন্টের মধ্যে সংক্রমণ, নিতম্বের স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের ঢিলা হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত অস্বস্তি এবং সার্জিক্যাল সাইটের হেমাটোমা বা রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইমপ্লান্ট বসানোর দুর্বলভাবে সঞ্চালিত কৌশলের কারণে এই জটিলতাগুলোর অনেকগুলো দেখা দিতে পারে। তাই অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পর সেরে উঠতে কতক্ষণ লাগে?

    উত্তর : নিতম্ব বা হিপ প্রতিস্থাপনের রোগীদের সুস্থতা হাঁটু প্রতিস্থাপনের রোগীদের তুলনায় সাধারণত দ্রুত হতে দেখা যায়। তবে এটাও দেখা যায় যে, সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হওয়ার সময় রোগীভেদে যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। অনেকগুলো কারণ এই সেরে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন ডায়াবেটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রোগীর ওজনের মতো শারীরিক অবস্থার উপস্থিতি। যদিও কিছু রোগীর সুস্থ হতে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে । কোনো অন্তর্নিহিত জটিলতা নেই এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার জন্য সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির খরচ নির্ভর করে কোন বিষয়গুলোর ওপর?

    উত্তর : অস্ত্রোপচারের খরচ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; যেমন ইমপ্লান্টের ধরন ও ব্র্যান্ড, অর্থোপেডিক সার্জন ও তার দলের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। এছাড়া রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থা যা হাসপাতালে থাকা এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা ও ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপরও খরচ অনেকখানি নির্ভর করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি প্রধান অস্ত্রোপচার যা অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। এছাড়া যে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেখানে প্রি-অপারেটিভ ও পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত দল থাকতে হবে। হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জনের প্রাপ্যতা, যিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন সার্জারি সম্পাদনে দক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে বিশেষায়িত অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, যেমন সিমেন্টের ‘ভ্যাকুয়াম মিক্সিং’, সি-আর্ম, পালস ল্যাভেজ ইত্যাদির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেস্থেটিস্ট, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল স্টাফদের একটি ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত দলের উপস্থিতি জরুরি। ফিজিওথেরাপির জন্য অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে দক্ষ কর্মী এবং হাসপাতাল ছাড়ার পর ব্যায়াম পরিচালনার সঠিক নির্দেশিকা থাকতে হবে। সর্বোপরি ডায়াগনস্টিক, খাদ্যতালিকাগত এবং ফার্মেসির প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক সহায়তা থাকা বাঞ্ছনীয়।

    বি/ এ

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসময়ে নতুন রোগী সনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন।

    চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪২ হাজার ৯৭৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯ হাজার ৮৩১ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৬ হাজার ৩৬৮ শিশু। আজ নতুন করে সনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ জন রোগীর।

    বি/ এ

  • দেশে পৌঁছেছে ১০ ধরনের টিকা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে।

    হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।

    ৬মে (বুধবার) বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।

    হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও রয়েছে।

    চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামীতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না।

    তিনি আরও বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এসব টিকা দেশে আনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ আরও ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে।

    বি/ এ

  • হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন।

    আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন।

    প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭২৬ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬০ জন।

    বি/ এ