ক্যাটাগরি স্বাস্থ্য

  • ডেঙ্গুতে  চলতি বছরে ৮১ মৃত্যুর অর্ধেকই জুলাইয়ে

    ডেঙ্গুতে চলতি বছরে ৮১ মৃত্যুর অর্ধেকই জুলাইয়ে

     

    ডেস্ক নিউজ:

    এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলছে। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ছিলেন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৮১ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৩৯ জন) মারা গেছেন জুলাইয়ের ৩০ দিনে।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৬ জন রোগী। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৭০২ জন।

    ৩০ জুলাই বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য দেয়। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হন না।

    অনেকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। ফলে বিভিন্ন ল্যাবরেটরি বা ক্লিনিকে পরীক্ষা করে যাদের ডেঙ্গু পজেটিভ শনাক্ত হচ্ছে, সেই তথ্য দিতে পারছে না সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে দেশে ঠিক কত মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেই তথ্য জানা যায় না।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন রয়েছেন। এ সময় ৩৭৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    চলতি বছরে এ যাবৎ মোট ১৯ হাজার ৩২৯ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ দশমিক সাত শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক তিন শতাংশ নারী রয়েছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবৎ ডেঙ্গুতে মোট ৮১ জন মারা গেছেন।

    ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০২৩ সালে।

    এর পরের বছর ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন, ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন, ২০২০ সালে ১ হাজার ৪০৫ জন এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

    গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৬ হাজার ১৪৪ জন এবং মারা যায় ৫৬ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ২৩৭ শতাংশ বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে ৪৪ শতাংশের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলেছেন, বৃষ্টি-পরবর্তী জমে থাকা পানি এবং বাড়তি তাপমাত্রা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যা ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়িয়ে তুলছে। তাই শুধু সরকারি ব্যবস্থার ওপর না ভরসা করে, ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

  • জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    জনবল সংকটে ১৬ বারের দেশসেরা চৌগাছা মডেল হাসপাতাল

    নিউজ ডেস্ক:
    চিকিৎসাসেবায় ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া যশোরের চৌগাছা মডেল হাসপাতালে জনবল সংকটে ধুকছে সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে ২’শ ১০ টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে প্রায় ১’শ টি পদ। চৌগাছা হাসপাতালে নারী, পুরুষ ও শিশু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫’শ থেকে ৬’শ রোগী উপস্থিত হয়। জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে রোগীদের সেবা কার্যক্রম। যার ফলে মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদের সংখ্যা রয়েছে ২’শ ১০ টি। এর মধ্যে শূণ্য রয়েছে ১’শ টি পদ।

    এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতা কলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১২ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১২ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও ২ জন চিকিৎসক। প্রশিক্ষণে রয়েছে ১ জন। বাকি ৬ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বাকি ৪ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১ জন নাইট ডিউটি করতে হয়। নাইট ডিউটি করলে পরের দিন সেই চিকিৎসকের ডে অফ থাকে। বর্হিঃ বিভাগে রোগী দেখেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বর্তমানে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে দেশসেরা এই মডেল হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন, মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি ২০১৪ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার সায়মা নাহিদ শান্তা এবং (অর্থপেডিক) গোলাম রসুল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাদেরকে বছরের পর বছর চৌগাছায় পদায়ন দেখানো হচ্ছে। তাদের নাম কর্তন না পর্যন্ত এই পদে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা সম্ভব না। স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে বার বার চিঠি দিয়েও অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
    মেডিকেল অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন ও শিশু কনসাল্টটেন্ট আব্দুস সামাদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.আব্দুস সামাদ, মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম, ফারিয়া ইয়াসমিন আগে থেকেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন।
    পক্ষান্তরে হাসপাতালে খাতা-কলমে অত্যন্ত জরুরি অ্যানেসথেসিয়া শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে তারা নেই। এছাড়া ২০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
    এদিকে হাসপাতালটিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ১’শ শয্যার কার্যক্রমের জন্য বিল্ডিং নির্মান কাজ শেষ হলেও সেবার জন্য হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
    প্রধান সহকারী, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, এমএলএসএস, ওয়ার্ড বয় এবং আয়াসহ এসব তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোর মধ্যে ৬৩টি রয়েছে শূন্য। যেকারনে বর্তমানে জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম।

    হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত দিনে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ইমদাদুল হকের চেষ্টায় অন্তঃসত্তাদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। মা ও প্রসূতিসেবায় অবদান রাখার ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এটি উপজেলা পর্যায়ে একটানা দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৮ সালেও হাসপাতালটি অর্জন করে জাতীয় পুরস্কার। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যসেবায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে পায় ‘হেল্থ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’। সর্বশেষ চৌগাছা মডেল হাসপাতাল ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশ সেরার প্রথম পুরস্কার পায়।
    চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া আবু কালাম বুড়িন্দিয়া এলাকার সখি খাতুন সহ অনেকেই জানান, এখানে জরুরি মুহূর্তে সেবা পাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর আড়াইটার পর অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য সমস্যায় রোগীদের ছুটতে হচ্ছে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দেশসেরা হাসপাতালে আগের মতো চিকিৎসাসেবা নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
    হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন ‘লোকবলের শূণ্যতা পুরনের জন্য অনলাইনে সফট কপি এবং হার্ডকপি উভয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোট লোকবল ২১০ জন। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১২০ জন, ফাঁকা রয়েছে ৯০ জন।’

    জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন বলেন, চৌগাছার বিষয়টি আমার নজরে আছে। চেষ্টা চলছে লোকবল বাড়ানোর জন্য।

  • চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    চিকিৎসক-সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, পেশাগত মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭ হাজার চিকিৎসককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সার্জনদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির (ওএসবি) ৫২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    এ সময় নূরজাহান বেগম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগকে আমরা মূল্য দিই। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চিকিৎসক তাঁদের ন্যায্য পদোন্নতি ও বেতনকাঠামো পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, চিকিৎসকেরা উৎসাহ নিয়ে দায়িত্ব পালন করুন।’

    বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

    তিন দিনের এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি চক্ষুবিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।

  • টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    উপকরণ

    টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।

    প্রণালি

    ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।

    আরও পড়ুন