ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

     

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।

    সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো।’’

    অন্য পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লেগেছে।”

    তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।

    এদিকে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, “আমরা বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি।” তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

    বি/ এ

  • শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    ডেস্ক নিউজ:

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সকল প্রতিনিধিসহ বিজয়ী সবাইকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে শুধু শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করা হলেও বিজয়ী সকলের সাফল্য কামনা করেছেন হাসিনা।

    বি/ এ

  • ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ যখন বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে নাভিশ্বাস তুলছে, তখন কিছু বহুজাতিক কোম্পানি এই অস্থিরতাকে পুঁজি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড মুনাফা ঘরে তুলছে।

    বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি, ব্যাংক ও প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভাবনীয় আয় করেছে।

    জ্বালানি খাতে ইউরোপীয় তেল জায়ান্টরা এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, যার সুযোগ নিয়েছে বিপি এবং শেলের মতো কোম্পানিগুলো।

    বছরের প্রথম তিন মাসে বিপি-র মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে শেল ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং টোটাল এনার্জি ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে মার্কিন জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও তারা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে এবং তেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে ভবিষ্যতে আরও বড় মুনাফার আশা করছে।

    আর্থিক খাতেও এই যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। শেয়ার ও বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা এবং নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বড় ব্যাংকগুলোর আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। জেপি মর্গান ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ১১.৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যা ব্যাংকটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রান্তিক আয়।

    গোল্ডম্যান স্যাকস এবং মরগান স্ট্যানলির মতো বড় ছয়টি মার্কিন ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। মূলত বাজারের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ধুম বা ট্রেডিং ভলিউম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এই বিশাল অংকের কমিশন ও মুনাফা পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা বা সমরাস্ত্র খাত বরাবরের মতোই এই যুদ্ধে বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মোকাবিলা প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে। বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের মতো বড় ঠিকাদাররা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নতুন করে পূর্ণ করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। সমরাস্ত্র নির্মাতারা একে তাদের ব্যবসার জন্য একটি সহায়ক প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছে।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যুদ্ধ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল সেক্টরকেও গতিশীল করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ থেকে বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।

    ফ্লোরিডা ভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জি বা ডেনমার্কের ভেস্টাসের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে সৌর প্যানেলের বিক্রি ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং পেট্রোলের উচ্চমূল্যের কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক। সব মিলিয়ে যেখানে সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের উত্তাপ বড় কর্পোরেশনগুলোর সিন্দুকে বিলিয়ন ডলারের জোগান দিচ্ছে।##

    এ/জেড

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

    শুক্রবার (৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে।

    স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে ৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন।

    এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।##

    এ/জেড

  • হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা এবং আগাম ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা ২০১৮ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ ঘাটতি। একই সঙ্গে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

     সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার অর্থনৈতিক অভিঘাত কমাতে সরকার আগেভাগেই অবকাঠামো উন্নয়ন ও খাদ্য আমদানিসংক্রান্ত কিছু ব্যয় এগিয়ে আনে। এই অতিরিক্ত ও ত্বরান্বিত ব্যয়ই মূলত বাজেট ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ।

    সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটি লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি পরিবহন ও লজিস্টিক খাতেও নতুন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করা যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জ্বালানি পরিবহন অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির পথ বেছে নিয়েছে, যদিও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর।##

    এ/ জেড

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দুই দেশ যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটল।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান এই সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হামলার মুখে পড়লেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই প্রণালি পার হয়েছে।

    তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনায়াসেই ধ্বংস করেছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে সই না করলে আরো কঠোর হামলা চালানো হবে। তবে এত কিছুর পরেও যুদ্ধবিরতি এখনো ‘অক্ষত’ আছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে ৩০ দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে মতবিরোধই এই চুক্তির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।##

    এ /জেড

  • বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে চমক দেখিয়েছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা লেবার পার্টি। স্থানীয় নির্বাচনে সফলতায় ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি। তবে দেশটিতে লেবার শাসনের মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজনীতির মাঠের চিত্র পাল্টে গেলো।লেবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বৃটেনের জনগণ। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। ৭ই মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ভোট গণনার প্রাথমিক ফল হতাশ করেছে লেবার পার্টিকে। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে।

    লেবার ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত বিভিন্ন কাউন্সিলে লেবারের আসন কমেছ। অন্যদিকে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেছে অভিবাসী বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজের রিফর্ম রিফর্ম ইউকে।
    অনেকেই মনে করছেন, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকের উত্থান বৃটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রাপ্ত ফলাফলে প্রথম স্থানে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে ও লেবার রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
    নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে স্টারমার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ পরিবর্তন আশা করলেও সেই পরিবর্তন এখনও অনুভব করছে না।
    স্টারমারের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সরকার ও লেবার পার্টির জন্য বড় বার্তা বহন করছে।

    তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। দেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ বাড়ছে এবং এটি জাতীয় ঐক্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এদিকে স্থানীয় নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়া রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, এই ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।

  • শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিকেলে বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করছি।

    নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর অমিত শাহ আরও বলেন, নতুন সরকার সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করব ।তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

  • সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    ডেস্ক নিউজ:

    সিঙ্গাপুরে চালু হয়েছে নতুন স্কুল শৃঙ্খলাবিধি। এই বিধির আওতায় বুলিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ছেলে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নতুন নিয়ম নিয়ে চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলে শিক্ষার্থীদের এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতে পারবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লী বলেছেন, বেত্রাঘাত হবে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হলে’ তখনই এই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং এটি কার্যকর করতে পারবেন শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষকরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা এবং বেত্রাঘাত তাকে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ও তার কাজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে কি না, সেসব বিষয়ও স্কুল বিবেচনায় নেবে।’

    শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে এক বছরের পর্যালোচনার পর এই কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বহুল আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

    মন্ত্রী জানান, এই ব্যবস্থা শুধু উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার চেয়ে বড় ছেলেরা এর আওতায় পড়বে। তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুরের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ‘কল্যাণ ও অগ্রগতি’ পরবর্তী সময়েও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে তাদের কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তা সেবাও দেওয়া হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত গ্রেড কমিয়ে দেওয়া এবং স্কুলভিত্তিক অন্যান্য শাস্তি’ প্রয়োগ করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরে স্কুল ও বৃহত্তর বিচারব্যবস্থায় শারীরিক শাস্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ ঠেকাতে বেত্রাঘাত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

    সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। যদিও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য নিজ দেশেই শারীরিক শাস্তি বাতিল করে। অস্ট্রেলিয়াও কয়েক দশক আগে সরকারি স্কুলগুলোতে বেত্রাঘাত বন্ধ করে দেয়। দেশটির কিছু বেসরকারি স্কুলে অবশ্য ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে গিয়ে এই প্রথার অবসান ঘটে।

    বি/ এ

  • পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারো স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সদ্য প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক নবনির্বাচিত বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিধায়কদের (সংসদ সদস্য) সম্পত্তির পরিমাণও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এডিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৩। সব মিলিয়ে ১৯০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা মোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

    এডিআর জানিয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি মামলা বলতে এমন অপরাধ বোঝানো হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর বা তার বেশি, অথবা যেগুলো অজামিনযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি এবং সরকারি তহবিল সংক্রান্ত অপরাধ।

    রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। ৫৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নারী সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কের সংখ্যা ৬৩। এদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৬ সালের দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্লেষণ করা বিজেপির ২০৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৪১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ২৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩১ শতাংশের বিরুদ্ধে এমন মামলা রয়েছে।

    এডিআর আরো জানিয়েছে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সব জয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধেই গুরুতর মামলা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই জয়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা নেই।

    অপরাধমূলক মামলার পাশাপাশি বিধায়কদের সম্পত্তির পরিমাণও নজর কেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯২ জনের মধ্যে ১৭৮ জন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটির বেশি। বর্তমানে সব বিধায়কের মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। গড় সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ কোটি।

    দল অনুযায়ী সম্পত্তির গড় হিসাবেও পার্থক্য দেখা গেছে। তৃণমূল বিধায়কদের গড় সম্পত্তি ৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজেপির ক্ষেত্রে তা ২ দশমিক ৯ কোটি। অন্যদিকে কংগ্রেসের দুই বিধায়কের গড় সম্পত্তি সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা।

    রিপোর্টে বিজেপি নেতা দিলিপ সাহার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ সম্পত্তির ঘোষণা করেছেন, যার পরিমাণ ৪৩ কোটিরও বেশি। এছাড়া, টিএমসির জাকির হোসেনের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩৩ কোটিরও বেশি বলে অন্য রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    পুনর্নির্বাচিত ১০২ জন বিধায়কের সম্পত্তির হিসাব বিশ্লেষণ করে এডিআর জানিয়েছে, তাদের গড় সম্পত্তি ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে গড় সম্পত্তি ছিল ২ দশমিক ৩ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ কোটি টাকায়।

    নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছবি উঠে আসেনি। ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩৭ জন মহিলা, যা মোটের মাত্র ১৩ শতাংশ। আগের বিধানসভায় এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নানা চিত্র উঠে এসেছে। এডিআর জানিয়েছে, ৬৩ শতাংশ বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার বেশি। ৩২ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। এছাড়া একজন বিধায়ক নিজেকে নিরক্ষর বলে ঘোষণা করেছেন।

    এডিআরের এই রিপোর্ট রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে যেমন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কদের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় আরো কড়াকড়ি আনা এবং অপরাধমূলক পটভূমি থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে ভোটারদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।