ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    ডেস্ক নিউজঃ

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার ৮০ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার লেনদেন চলাকালীন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর খবরের প্রভাবেই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

    তবে ঝুঁকি বিশ্লেষণী সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর জ্বালানি ও সম্পদ বিষয়ক প্রধান কাহো ইউ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    তিনি আরো বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও জ্বালানি বাজার এখনই সংকট-পূর্ব অবস্থায় ফিরছে না। চীন ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা উত্তেজনা হ্রাসে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে কি-না, বাজার সেদিকেই নজর রাখছে। আগামী মাসগুলোতে তেলের সরবরাহ ও ট্যাংকার চলাচলের প্রকৃত চিত্রই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরছে কি-না। সূত্র: আলজাজিরা

    এম কে

  • ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

    ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

    অর্থনীতি ডেস্ক:

     

    দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির লোকসান কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) করা ওই আবেদনে বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
    বুধবার বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পিডিবির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি জানান, আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। সেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে।

    এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এই সময় খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা হয়েছিল।

    বর্তমানে পিডিবির আবেদনে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়বে।

    গত ৯ই এপ্রিল বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে।

  • ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

    ইরান প্রস্তাব মেনে নিলে যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরান প্রস্তাবিত শর্ত মেনে নিলে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আজ বুধবার তার মালিকানাধীন সোশাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি না মানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা শুরু করবে। এই হামলা আগের তুলনায় ‘আরও বেশি মাত্রা ও তীব্রতায়’ হবে।

    পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি শর্তগুলো মেনে চলে, তাহলে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে এবং কার্যকর অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, ফলে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।

    তিনি বলেন, ‘যদি তারা রাজি না হয়, তাহলে বোমাবর্ষণ শুরু হবে এবং তা আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা ও তীব্রতায় হবে।’

  • আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ

    আগামী শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শপথ গ্রহণ আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। শপথ অনুষ্ঠানের দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব থাকছে।বুধবার (৬ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আগামী ৯ই মে আমাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ব্রিগেডে সকাল দশটায়।

    ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং নবান্নের পরিবর্তে মহাকরণ থেকেই সরকার চালানোর বিষয়ে নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে কখনো ব্রিগেডে শপথ নিতে দেখা যায়নি রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে। অনেকেই একে নজিরবিহীন বলে আখ্যাও দিয়েছেন।

    বিজেপি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিজেপি ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।

    এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন একজন, যিনি বাঙালি, বাংলায় জন্মেছেন, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সেই মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যান।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

     

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

     

    ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সমঝোতা করবে। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

    বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সমঝোতা স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।

    রয়টার্স জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুতই একটি এক পৃষ্ঠার মেমোতে সমঝোতা হতে পারে। সেই মেমোতে থাকছে ১৪টি দফা। প্রশ্ন হচ্ছে কি আছে ওই খসড়ায়?

    অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং একটি বিস্তারিত চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ওই চুক্তির লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।

    অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই ৩০ দিনের সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।

    সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

    এরআগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে—যাতে দেখা যায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।

    তবে চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু না বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান ‘ন্যায্য ও সমন্বিত একটি চুক্তি’ প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন এই খসড়া যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশমিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে বৈঠকের সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো যুদ্ধটি ‘অবৈধ’। চীন চলমান চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। ওয়াং ই বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ এবং এ অঞ্চলটি একটি ‘সঙ্কটপূর্ণ সময়ে’ রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন।

    আরাগচি চীনের ‘দৃঢ় অবস্থানের’ জন্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিন্দা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বেইজিং ‘ইরানের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবেই থাকবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘একটি নির্লজ্জ আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। আরাগচি আরো বলেন, তেহরান ‘আলোচনায় আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে’ এবং শুধুমাত্র ‘একটি ন্যায্য ও ব্যাপক চুক্তি’ গ্রহণ করবে।

  • ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিকে ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতি (নন-প্রলিফারেশন) তৈরি করা সম্ভব নয়, যদি ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি নীরবতা বজায় রাখা হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হলে, চলমান সংঘাতে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে অস্বচ্ছতা রাখা যৌক্তিক নয়।” আইনপ্রণেতারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক স্বচ্ছতার মানদণ্ডে বিচার করে, ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত।

    বর্তমানে ইসরাইল তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে না। একইভাবে, হোয়াইট হাউসও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক ভারসাম্য, সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা। কিন্তু তারা মনে করেন, এ ধরনের তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।

    চিঠিতে তারা ইসরাইলের সম্ভাব্য ওয়ারহেড সংখ্যা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা, ডিমোনা স্থাপনায় কী উৎপাদিত হয় এবং ইসরাইলের সামরিক নীতিমালা ও ‘রেড লাইন’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কী জানে—এসব তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। আইনপ্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে খোলাখুলি স্বীকার করে। তাই ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।

  • একদলীয় শাসনে ভারত

    একদলীয় শাসনে ভারত

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    এক দশকেরও বেশি সময় আগে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশ পরিচালনার জন্য প্রথম প্রচারণা শুরু করেন, তখন তিনি কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেন। স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠাতা দল কংগ্রেস এরপর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দলটি খুব একটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সেই নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের আসনসংখ্যা ২০৬ থেকে কমে এক ধাক্কায় মাত্র ৪৪-এ নেমে আসে। দলটি রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন মোদির শাসক জোটের দখলে রয়েছে ২১টি রাজ্য। সেখানে কংগ্রেস মাত্র চারটি রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।

    কংগ্রেসের পতনের ফলে ভারতজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলোই মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এসব আঞ্চলিক দলের নেতারা মোদির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী ছিলেন দুজন— একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আরেকজন এম কে স্ট্যালিন, যিনি ২০২১ সাল থেকে ছিলেন তামিলনাড়ুর দায়িত্বে।

    এ সপ্তাহে মমতা ব্যানার্জী ও স্ট্যালিন উভয়েই নির্বাচনে পরাজিত হন। ফলে মোদি নিজেকে এমন এক ভারতের নেতৃত্বের আসনে দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে তার বিরোধীদের কার্যত কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। বিভিন্ন সময়ে পার্লামেন্টে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বেশি ছিল। কিন্তু এখন মোদি ভারতকে একটি একক নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের মতো করে তুলে ধরছেন।

    স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যে ‘ভারত রাষ্ট্রে ধারণা’ তুলে ধরেছিলেন, তা ছিল এই বিশাল দেশের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানবিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বহুত্ববাদের আদর্শ। এখন বিজেপির একটি রক্ষণশীল হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের শতবর্ষী স্বপ্নের কাছে নেহরুর সেই স্বপ্ন এক অদ্ভুত পরাজিত সত্তা বলেই মনে হচ্ছে।

    বিজেপি সব সময় তার সদস্যদের আদর্শগত অঙ্গীকার নিয়ে গর্ববোধ করে। সারা দেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করাই দলটির কৌশল। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দলটি অন্য যেকোনো জাতীয় দলের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে বেশি সুশৃঙ্খল। সেই সঙ্গে একটি ব্যবসাবান্ধব খ্যাতিও লাভ করেছে দলটি।

    সমর্থকদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম করে বিজেপি। সেই পরিশ্রমের ফলেই সাম্প্রতিক রাজ্যস্তরের ধারাবাহিক বিজয়গুলো এসেছে। ২০২৪ সালের জুনে যখন ভোট গণনা করা হয়, তখন তাদের জোট মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কারণ সে সময় বিরোধী দলগুলো দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব এবং বৈষম্য নিয়ে মোদির তীব্র সমালোচনা করে। তবে দুটি আঞ্চলিক দলকে জোট সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে বিজেপি ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়।

    রাজনৈতিক ভাষ্যকার সুগত শ্রীনিবাসরাজু বলেন, ‘২০২৪ সালে মোদি ছিলেন এক আহত বাঘের মতো। এখন তিনি ঠান্ডা মাথায় প্রতিশোধ নিতে নেমেছেন।’ রাজ্যগুলোতে মোদির এই অগ্রযাত্রা একের পর এক চমক নিয়ে আসে, যার প্রতিটিই বিজেপির পক্ষে যায়। দলটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে হরিয়ানায় জয়লাভ করে, যদিও কংগ্রেসের জেতার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। এরপর দলটি মহারাষ্ট্রে বিজয় ছিনিয়ে নেয়।

    পরাজিত দলগুলো কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কংগ্রেস বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলেও বিজেপি তা প্রত্যাখ্যান করে।

    ২০২৫ সালে বিজেপি ২৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে জয়লাভ করে। পরাজিত হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি ২০১৪ সাল থেকে মোদির উত্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানো অল্প কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

  • ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

    ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

     

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।

    ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।

    ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।

  • চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতায় জড়িত একটি পাকিস্তানি সূত্র।

    সূত্রটির দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি একটি এক পাতার নথি হলেও এতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটাই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ের সমঝোতা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে থাকতে পারে: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো বিস্তৃত আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ।

    এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দেশটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তবে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির সময়সীমা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়।