ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

     

    ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।’

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

    ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে এই কঠোর বক্তব্য দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।

    গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার যে অধ্যায় শেষ হয়, পাকিস্তান সেটিকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

    এদিনের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশবাসীকে ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তির শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহু-মাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কী হয়েছিল তা নিয়ে খুব বেশি কথা বলব না। বরং ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময় নিয়ে বেশি আলোচনা করব’।

    তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতের ‘কৌশলগত পরিণতি’ তুলে ধরা হবে।

    আইএসপিআর প্রধান বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত পরিণতি রয়েছে। এর প্রথমটি হলো— পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। তার ভাষায়, কোনও প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পেহেলগাম ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি।

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘(পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার) প্রমাণ কোথায়?’। এরপর তিনি বলেন, ‘কেউ এটা বিশ্বাস করে না। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না’। তিনি বলেন, দ্বিতীয় কৌশলগত পরিণতি হলো— পুরো অঞ্চলে পাকিস্তানের ‘নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দূত হলো পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব।’

    তৃতীয় কৌশলগত পরিণতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ’ ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের সামরিক বাহিনী আগে পেশাদার ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তা রাজনীতিকরণ হয়েছে।’

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ভারতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য দেখে মনে হয় তারা ‘যুদ্ধবাজ’। তার মতে, সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং রাজনীতির সামরিকীকরণ ‘বিপজ্জনক’।

    তিনি দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের দমন-পীড়ন। তার ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ ও অহংকার থেকে আসে’। তিনি বলেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করতে চায় না। তাই তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে— দেশটি ভারতে সন্ত্রাসবাদে জড়িত।

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় যে সেখানে জনসংখ্যার চিত্র বদলে দেয়া হবে’। তিনি আবারও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। এমনকি নিজেদের দেশেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর অন্যদের দোষারোপ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে ভারত কীভাবে এসব ভণ্ডামিপূর্ণ কাজ করে। পঞ্চম কৌশলগত পরিণতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমের আসল চেহারা এবং তাদের তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা’ প্রকাশ পেয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গিয়েছিল। এরপর অক্টোবর মাসে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এর পর ঘটনাগুলো কমে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের ভূমিকা রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হকে শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত কাকে ফোন করেছিল, দেখেছেন? আফগান তালেবান সরকারের তথাকথিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।’

  • ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে যেসব মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব মন্তব্য দেখা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আসন্ন শীতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইউরোপ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    ইউরোপের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত নিজেদের বাইরে অন্য দেশের জন্য হরমুজ প্রণালির তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আটকে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।

    এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি মূল্য আরও বাড়তে পারে এবং শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

  • ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে সুযোগ খুজছে ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য সমঝোতা কেবল সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। তালিকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবারও আক্রমণ শুরু করার সুযোগ খুঁজছে।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশ পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। দূষিত পানি, ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকটে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড় ও চামড়াজনিত নানা সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

    এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০-র বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

  • মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, পত্রিকাটির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’।

    ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’। মার্কিন এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসা যেকোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানিয়েছিল।

    এখন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, কর্মকর্তাদের মতে বিমান হামলার হুমকি ‘অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন’।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ‘বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়’, কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে’।সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে আরো বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরো পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একইসাথে তিনি স্বীকার করেন যে এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

  • মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সাগরে আটকে পড়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে। বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ প্রণালী ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে।’

    জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তাদের কয়েকজন জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তে দেখেছেন তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে কবে হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উপসাগরীয় এলাকা ছাড়তে পারবেন, জানেন না জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশী নাবিকদের কেউ।জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো: শফিকুল ইসলাম বুধবার (৬ মে) বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে পড়েছি, ধরে নিতে পারেন এটা একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ প্রণালী। জানি না কবে এখান থেকে বের হতে পারব।’

    জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির অন্তত দুই হাজার ২৭৩টি জাহাজ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজও রয়েছে।এদিকে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজটিকে বের করে আনতে কূটনীতিক চ্যানেলে ইরানের সাথে কয়েক দফায় যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশের জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

    এদিকে, বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘আগ্রাসীদের হুমকি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দেয়া হতে পারে।’উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালী থেকে বের হতে পারেনি। বরং এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

  • বিশ্বজুড়ে  তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইঁদুরবাহিত প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে শত শত মানুষ এসে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে। জাহাজটিতে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল

    এতে বলা হয়, যদিও সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল ও লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো হান্টাভাইরাসের বিরল ‘অ্যান্ডিস’ ধরন। এটিই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    ডব্লিউএইচও চেষ্টা করছে কীভাবে হান্টাভাইরাসটি জাহাজে এল, তা নির্ধারণ করতে। প্রথম মৃত ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল অসুস্থ হন। তিনি ১১ এপ্রিল মারা যান। এ সময় জাহাজটি ট্রিস্টান দা কুনহার দিকে যাচ্ছিল। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, তার মরদেহ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজেই রাখা হয়েছিল। পরে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয় তা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় আরও ২৩ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছিলেন এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন।

    ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী ২৫ এপ্রিল এয়ারলিংক পরিচালিত একটি বিমানে জোহানেসবার্গে যান। ওই বিমানে ৮২ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তিনি গুরুতর উপসর্গ থাকা অবস্থায় জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী আরেকটি বিমানে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে কর্মীরা তাকে নামিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যারা ওই নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন। ২৭ এপ্রিল ক্রুজের এক বৃটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অ্যাসেনশন দ্বীপ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় নেয়া হয়। কয়েক দিন পর আরেক যাত্রী এক জার্মান নাগরিক মারা যান।

    ৩রা মে এমভি হন্ডিয়াস কেপ ভার্দেতে পৌঁছালেও জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা কার্যত সমুদ্রে আটকা পড়েন। এরপর তিনজন রোগীকে নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট হেলেনা থেকে দেশে ফেরা দুই বৃটিশ যাত্রী বর্তমানে বৃটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। বৃটিশ সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাইরাসটির উপসর্গ সাধারণত সংস্পর্শে আসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে দুই দিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুত প্রদেশের এপুয়েন শহরে অ্যান্ডিস ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ২। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও দুজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করা হয়েছে, জাহাজে থাকা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও ২১ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দেশে ফিরে গেছেন।

  • হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া বুধবার গাজা সিটিতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। হামাসের কর্মকর্তা বাসিম নাঈম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    এর আগে খবরে বলা হয়, ইসরাইলি হামলায় আল-হাইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ আল-হাইয়ার নিহতের খবর প্রকাশ করেছে হামাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-হাইয়াকে হত্যার জন্য বহুবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তবে সাত সন্তানের এতদিন বেঁচে থাকলেও ইসরাইলি হামলায় আর তার শেষ রক্ষা হলো না। এর আগে গত বছর দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেইবারও প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন আল-হাইয়া।

  • যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়।

    তদন্তকারীরা জানান, প্রথম ভুয়া নম্বর প্লেটধারী এক গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীমোটরসাইকেলে এসে তিনবার চন্দ্রনাথকে গুলি করে।
    দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি প্রথমে দোলতালার কাছে মধ্যমগ্রামে আটকানো হয়।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি রাস্তার মাঝে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি গুলি চালায় হামলাকারীরা।

    এরপর ওই ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি ফেলে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

    স্থানীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক পিটিআই’কে বলেন, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকে এবং হৃদপিন্ডে গুলি লেগেছিল।

    ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলির আঘাত ছিল, যার একটি হৃৎপিণ্ড ভেদ করে এবং আরেকটি গুলি তার পেটে লাগে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
    একজন প্রতক্ষ্যদর্শী দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা পেশাদার ছিলেন।
    ওই ব্যক্তি এনডিটিভিকে বলেন, চন্দ্রনাথের গাড়িটি কেবল আমাকে অতিক্রম করলো, এরপর রাস্তার মাঝে হুট করে থামলো এবং বাইকে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির বামপাশে গুলি চালালো। হামলাকারীদের দেখে পেশাদার মনে হয়েছে।

    এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে।

    পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, চন্দ্রনাথের গতিরোধ করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল তা ভুয়া। এ ছাড়া মোটরসাইকেলগুলোর নম্বর প্লেটও ভুয়া ছিল।

    হামলায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার
    পুলিশ ধারণা করছে, এই হামলায় হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লোক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ ক্রিমিনালরা ব্যবহার করে না। আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই হামলায় পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কিনা।

    সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। এই মুহূর্তে হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।

    ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল হামলাকারীরা
    চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের জন্য ৪০মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল। তিনি স্করপিও এসইউভি ব্যবহার করতেন। এই গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। তাই তার গাড়ি চিনতে হামলাকারীদের কোনো সমস্যা হয়নি।